ইউজার লগইন

কেন আমরা রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বিরোধী??

চুক্তি!!
২০১০ সালের জানুয়ারিতে রাষ্ট্রীয় এক সফরে ভারতে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেখানে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সঞ্চালনের একটি প্রস্তাবনা ছিল। ওই প্রস্তাবনার ভিত্তিতেই ২০১২ সালে বাংলাদেশের অধীন সুন্দরবনের নিকটবর্তী রামপালের দুটি ৬৬০ ইউনিট মিলে মোট ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি)-এর সঙ্গে ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি)-র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল ২০১৩ ঢাকায় ভারতের সঙ্গে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

!!ভয়!!
২০ এপ্রিল ২০১৩ ভারতের সঙ্গে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সময় কবে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে সে কথা জানানো হয় নি। এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে জাতীয় কমটির লং মার্চের দ্বিতীয় দিন ঘোষণা করলেন ২২ অক্টোবর উদ্বোধন করবেন। হটাৎ করে ৪ অক্টোবর রাত ১০ টায় সংবাদ মাধম্যে জানা যায় ৫ অক্টোবর এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেবন। তাই ৫ অক্টোবর সকাল ১১ টায় জনগনের 'ভয়ে' রামপালে না গিয়ে ২৫০ কিমি দূরে কুষ্টিয়ার ভেরামারায় মনমোহনের উনুপুস্থিতিতে, হাসিনা ও মনমোহন ভিডিও কনফারেঞ্চের মাধম্যে উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্প যদি স্বচ্ছ ও পরিবেশ বান্ধব হত তাহলে কি এত তরিঘরি করার দরকার ছিল??

দূরত্ব ও আইন ??
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটায় বলে সাধারণত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংরক্ষিত বনভূমি ও বসতির ১৫-২৫ কিমি-এর মধ্যে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের অনুমোদন দেওয়া হয় না। ইআইএ রিপোর্ট অনুসারে প্রস্তাবিত ১৩২০ মেগাওয়াট রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সুন্দরবন থেকে মাত্র ১৪ কিমি দূরে, যা সরকার নির্ধারিত সুন্দরবনের চারপাশের ১০ কিমি এনভরয়নমেন্টাল ক্রিটিকাল এরিয়া (ইসিএ) থেকে ৪ কিমি দূরে বলে নিরাপদ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

ভারতের আইন??
.........'১.ওয়াইল্ড লাইফ প্রটেকশান অ্যাক্ট ১৯৭২' অনুযায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৫ কিমি ব্যসার্ধের মধ্যে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ স্থাপন করা যায় না। ২.ভারতের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় প্রণীত পরিবেশ সমীক্ষা বা ইআইএ গাইড লাইন ম্যনুয়াল ২০১০ অনুযায়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৫ কিমি-এর মধ্যে কোন বাঘ,হাতি সংরক্ষন অঞ্চল, বন্য প্রাণীর অভয়ারন্য কিংবা অন্যকোন সংরক্ষিত বনাঞ্চল থাকা চলবে না। ৩.ভারতের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের 'তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত গাইডলাইন ১৯৮৭' অনুসারেও কোন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ২৫ কিমি-এর মধ্যে কোনো কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ স্থাপন করা যায় না।

কত টাকা লাগবে? কে দেবে?
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২০১ কোটি ডলার। এর ৭০ শতাংশ ব্যাংক ঋণ নেয়া হবে,(৭০ ভাগ ঋণের সুদ টানা এবং ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব বাংলাদেশের)। ১৫ শতাংশ অর্থ দেবে পিডিবি এবং বাকি ১৫ শতাংশ দেবে ভারতের এনটিপিসি। ওই প্রকল্পের জন্য পুরো জমি, অবকাঠামোগত বিভিন্ন কিছু, সব সরবরাহ করবে বাংলাদেশ। অথচ শেষ বিচারে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মালিকানা চলে যাবে ভারতের হাতে! মাত্র ১৫ শতাংশ বিনিয়োগ করে তারা হয়ে যাবে হর্তাকর্তা! তাছাড়া এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনতে হবে পিডিবিকে! আর যে নিট লাভ হবে, তার অর্ধেক নিয়ে নেবে ভারত অর্থাৎ লাভ ফিফটি ফিফটি! চুক্তি অনুযায়ী কয়লা আমদানির দায়িত্ব বাংলাদেশের এবং ক্ষয়ক্ষতির দায় বহন করতে হবে কিন্তু বাংলাদেশের!!

প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কত??
আমাদের দেশীয় কোম্পানি ওরিয়ন গ্রুপের সঙ্গে গত ২০ ডিসেম্বর ২০১১ পিডিবির যে ক্রয় চুক্তি হয়েছে,সে অনুযায়ী,কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৫২২ মেগাওয়াটের একটি হবে মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায়। এছাড়া খুলনার লবণচরা ও চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ২৮৩ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে। সেখানে বলা আছে মাওয়া থেকে কিনবে ৪ টাকা প্রতি ইউনিট। আর লবনচরা ও আনোয়ারার কেন্দ্র থেকে কিনবে ৩ টাকা ৮০ পয়সা করে।
কিন্তু রামপালের কেন্দ্র থেকে কিনতে হবে ৮ টাকা ৮৫ পয়সা করে!! কারন এনটিপিসি ও পিডিবি ইতিমধ্যেই প্রতি টন ১৪৫ ডলার করে কয়লা আমদানি চূড়ান্ত করে ফেলেছে।

জমির হিসাব-নিকাশ??
নিয়মানুযায়ী ‘এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ), রিপোর্ট পাওয়ার পরেই কোনো প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা যায়। কিন্তু পিডিবি পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ইআইএ রিপোর্ট পাওয়ার আগেই রামপালে প্রায় ১৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে!(এর বেশির ভাগই কৃষি জমি) রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের জন্য জমি প্রয়োজন সর্বোচ্চ ৭০০ একর। রামপালে প্রতিদিন কয়লা পুড়বে ১৩ হাজার টনেরও বেশি। গবেষণার তথ্যানুসারে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এক মেগাওয়াটের জন্য প্রয়োজন দশমিক ৪২ একর জমি। এ হিসাবে রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াটের জন্য প্রয়োজন ৫৫৫ একর জমি। এর সঙ্গে এমজিআর ও কুলিং টাওয়ারের জায়গা হিসাব করলে জমি প্রয়োজন সর্বোচ্চ ৭০০ একর। অথচ প্রয়োজনের দ্বিগুণেরও বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে!! তার কি জবাব দিবে??

ভারতে না,বাংলাদেশে হা!...... কেন??
এনটিপিসি তার নিজ দেশ ভারতের মধ্যপ্রদেশে ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল (NTPC's coal-based project in MP turned down অর্থাৎ "মধ্যপ্রদেশে এনটিপিসি'র কয়লা ভিত্তিক প্রকল্প বাতিল " দ্য হিন্দু, ৮ অক্টোবর ২০১০)। কৃষি ও পরিবেশগত সমস্যা হবে, সে কারণেই ভারত সরকার এনটিপিসির প্রস্তাব বাতিল করে দেয়। ২০০৭ সালে রাজীব গান্ধী ন্যশনাল পার্ক থেকে ২০ কিমি দূরে ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার পরিকল্পনা করে, কিন্তু জনগনের বিরোধিতার কারনে ২০০৮ সালে এই প্রকল্প বাতিল করতে বাধ্য হয় ভারত সরকার। ঐ বনাঞ্চলটি ছিল সুন্দরবন বাংলাদেশ অংশের মাত্র ১০ ভাগের ১ ভাগ। NTPC ভারতে পারেনি তো সমস্যা কি? বাংলাদেশে পারবে !!

সুন্দরবন কি "আবাসিক ও গ্রাম এলাকা"??
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাই-অক্সাইড (বছরে ৫১ হাজার ৮৩০ টন) এবং ৮৫ টন বিষাক্ত নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (বছরে ৩১ হাজার ২৫ টন) নির্গত হবে। এই বিশাল পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব তখনকার চেয়ে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে। ফলে ভয়ানক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে সুন্দরবনের প্রাণ ও পরিবেশ। ইআইএ রিপোর্টে এই জায়গাটাতে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে! নিয়মানুযায়ী সুন্দরবনের জন্য ‘পরিবেশগত স্পর্শকাতর’ মানদণ্ড উল্লেখ করার কথা। অথচ ইআইএ রিপোর্টে সুন্দরবনের জন্য ‘আবাসিক ও গ্রাম’ এলাকার মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে! সুন্দরবন কবে থেকে ‘আবাসিক ও গ্রাম এলাকা’ হলো?

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা কি বলছে??
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড.আবদুস সাত্তার এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড.আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিবেশবিদদের একটি দল প্রস্তাবিত রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ওপর পৃথক ভাবে গবেষণা করে। তারা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে ন্যূনতম ২৩ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তুলে ধরেন। যেসব বিষয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে কয়েকটা বিসয় তুলে ধরছি।

* সুন্দরবনের স্বাভাবিক চরিত্র নষ্ট হবে, শুরু হবে অবাধে গাছ কাটা, লাগানো হবে বনে আগুন, ধরা পড়বে বাঘ-হরিণ-কুমির।
* কয়লা পোড়া সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, কার্বন মনো অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড,ক্লোরোফ্লোরো কার্বন প্রভৃতি সুন্দরবনের জৈবিক পরিবেশ ও বায়ুমণ্ডলকে খতিগ্রস্থ করবে।
* ঐ এলাকার কৃষিপণ্য খেলে মানবদেহে ছড়িয়ে পড়বে অ্যাজমা, ফুসফুসবাহিত নানা রোগ, এমনকি ক্যন্সারের সম্ভাবনাও থাকবে।
* বায়ু ও শব্দ দূষণ
* তাপমাত্রা বাড়বে,বৃষ্টিপাত কমতে পারে ও এসিড বৃষ্টি হতে পারে।
* ভু-পৃষ্ঠের পরিবর্তন অত্যাদিক মাত্রায় হতে পারে।
* সুন্দরবন ও তার সন্নিহিত গ্রাম অঞ্চলে প্রাণী ও উদ্ভিদ সম্পদ এর মারাত্মক হ্রাস।
* জীব বৈচিত্র হ্রাস ও ধ্বংস হবে।
* বন্য জীব বিনাশ, পালিত মৎস্য সম্পদ এর ক্ষতি

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা কি রায় দিয়েছিলেন??
১. ড.আবদুস সাত্তার বলেছেন...এ সকল কারনে আবাসিক এলাকা কৃষিজমি এবং বনাঞ্চলের আশেপাশে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান করার অনুমতি প্রদান করা হয় না।
২. ড.আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেছেন...অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় সামাজিক-প্রাকৃতিক পরিবেশ বিবেচনায়,কোন ভাবেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য রামপাল সাইটকে সমর্থন করা যায় না।

ডলফিনের অবস্থা!!
বাগেরহাটের মংলা, চাঁদপাই ও শরণখোলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পশুর নদী ও পশুর নদী চ্যানেলের শ্যাওলা নদীতে বিরল প্রজাতির ডলফিন গাঙ্গেয় ও ইরাবতীর বাস। গত ২৯ জানুয়ারি, পরিবেশ অধিদপ্তর ডলফিনের সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধির সঙ্গে ওই অঞ্চলকে বন্যপ্রাণী ‘অভয়ারণ্য’ হিসেবে ঘোষণা দেয়। ঘোষিত ‘অভয়ারণ্য’ এলাকায় সাপমারি এলাকাও রয়েছে; যে এলাকায় প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রয়েছে। আইনানুসারে অভয়ারণ্যের মধ্যে কোনো এলাকায় পানি দূষণ, যাতে জলজ প্রাণী ও ডলফিনের আবাস নষ্ট করে, এমন কিছু করা যাবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে শুধু জলজ উদ্ভিদই নয়, ডলফিনের খাদ্য ও আবাসস্থল সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে কি কোন পরীক্ষা করা হয় নি??
২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের পরিবেশগত সমীক্ষা বা ইআইএ রিপোর্ট পিডিবির ওয়েবসাইটে ঝুলানো হয় জনগনের মতামতের জন্য!! অথচ নিয়মানুযায়ী,কোনো প্রকল্প শুরুর আগেই ইআইএ রিপোর্ট তৈরি করে মতামতের ভিত্তিতে হয় প্রকল্প এগুবে, না হয় বাতিল হবে। কিন্তু রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের ক্ষেত্রে দেখা গেল,সম্পুর্ন উল্টো ব্যপার! ২০১৩ সালের ১২ এপ্রিল পিডিবির বিদ্যুৎ ভবনে তথাকথিত গনশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত প্রত্যেকে বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই সমীক্ষার স্ববিরোধিতার,ভ্রান্তি,জালিয়তি তুলে ধরে সবাই তা প্রত্যাখ্যান করে। এবং তা বাতিল করে পুনরায় ইআইএ করার দাবি জানায়। সে পর্যন্ত সকল কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানায়। উল্লেখ্য,বন অধিদপ্তর ২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর একটি চিঠি দেন সেই চিঠিতে তারা এই প্রকল্পতে আপত্তি জানান। তাছাড়া এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের একাধিক রুল আছে। কোন কিছুকে তোয়াক্কা না করে সরকার একলাচল নীতিতে হাটছে।

যদি সাহস থাকে??
অধ্যাপক ড.আবদুস সাত্তার ও অধ্যাপক ড.আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী এই দুইজন যে রিপোর্ট দিয়েছে, এই রিপোর্ট ভুল! পারলে প্রমান করেন মাননীয় সরকার? এই প্রকল্প হলে কি কি ক্ষতি হবে তার হিসাব দিয়েছে জাতীয় কমিটি পারলে তা ভুল প্রমান করেন মাননীয় সরকার? সাহস থাকলে??

শুধু কি ভারত বিরোধিতা??
অনেকে মনে করছেন NTPC কোম্পানি ভারতের বিদায় এর বিরোধিতা করছে, এই ধারনা ভুল। কারন এর আগে আরও কতগুলো সাম্রাজ্যবাদী বহু জাতিক কোম্পানির বিরোধিতা করেছি সেগুলো তো ভারতের ছিল না। দন্দ দেশ নিয়ে নয়, যখন দেখা যাবে যে,অসম চুক্তির কারনে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী ঠিক তখনই ঐ চুক্তির বিরুদ্ধে কথা বলবো। সেই দেশ ভারত, চিন, জাপান, আমেরিকা, রাশিয়া হোক এমন কি বাংলাদেশেরও কোন কম্পানির হাতে যদি অসম চুক্তির কারনে অল্প কিছু লুটেরাদের জন্য জনগনের স্বার্থের উপর আঘাত হানে তখনও বিরোধিতা করবো।

অন্য উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব কি?? কত সময়ে লাগবে??
(জাতীয় কমটির সুপারিশ)
* পুরনো অদক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদনগুলোকে নবায়ন করে ২০০০ মেগাওয়াট।
* কো-জেনারাশনের মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট।
* নবায়ন যোগ্য জ্বালানির মাধম্যে ১০০০ মেগাওয়াট।
* লোড ব্যবস্থাপনা ও সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধম্যে নুন্যতম ১০০০ মেগাওয়াট সাশ্রয়।
## ৪৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ১ বছরের মত সময় লাগবে। ৩০০০-৪০০০ কোটি টাকা লাগবে।

''আমার চেয়ে কে বেশি দেশপ্রেমিক''??
এই কথাটি আমার না, যিনি বলেছেন তিনি হলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই প্রধানমন্ত্রীকে বলছি আপনি অনেক দেশ প্রেমিক আপনার ভিবিন্ন কাজ কর্মেই তা বুজা যায়, দয়া করে রামপালের প্রকল্পটি বাতিল করেন এবং আপনার দেশপ্রেমের আরেকটি নজির স্থাপন করেন। দেশপ্রেম মহৎ জিনিস, কিন্তু অতিদেশপ্রেম হলে আবার প্রেমটাই মুখ্য হয়ে উঠে দেশের কথা চিন্তা থাকে না।

>>শেষ কথা<<
আমরা দেশের উন্নয়ন বিরোধী না, আমরা এই দেশের মানুষ, আমরা এই দেশকে ভালোবাসি, ভালোবাসি এই দেশের মাটিকে প্রত্যেকটি দুলিকনাকে। আমরা এই দেশকে এমন ভাবে সাজাতে চাই যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সুন্দরপরিবেশে থাকতে পারে। এই দেশের উন্নয়নে বিরোধিতা তো দুরের কথা আমরা উন্নয়নের অংশীদার হতে চাই। বিদ্যুৎ আমরা সবাই চাই, বিদ্যুৎ ছারা কোন দেশের উন্নয়ন সম্ভব না। কিন্তু বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে কেন দেশের বৃহৎ ক্ষতি করা হবে? ক্ষতি ছাড়া কি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়? কেন রাষ্ট্রকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়া হবে? কেন জনগণের অর্থের অপব্যবহার করা হবে? কেন পরিবেশের ওপর আঘাত হানা হবে? জীববৈচিত্র্য কেন ধ্বংস করে দেয়া হবে? প্রাণ প্রতিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হবে কেন? সুন্দরবন বিধ্বংসী প্রকল্প কেনইবা বাস্তবায়ন করতে হবে? কেন আমাদের অহঙ্কার রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্বকে শেষ করে দেয়ার চিন্তা? কেন বিরল প্রজাতির ডলফিন গাঙ্গেয় ও ইরাবতীর আবাসস্থল নষ্ট করে দেয়া হবে? আর সুন্দরবনের পাশেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতেই হবে এ ধরনের একগেয়ামি চিন্তা কেন? কেন রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প অন্য কোন নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হবে না?
প্রাকৃতিক বর্ম, বাংলাদেশের ফুসফুস সুন্দরবনকে ধ্বংস করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কোনো যৌক্তিকতা,বাস্তবতা নেই,থাকতে পারে না,হতে দেওয়া হবে না।

GO BACK-GET OUT
'NTPC'
FROM SUNDARBAN

সুন্দরবন আমার মা ভারত তুই ফিরে যা...............

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আরাফাত শান্ত's picture


সহজ ভাবে আসল কথাগুলো বলে দিয়েছেন!
হ্যাটস অফ টু ইউ!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


টিপ সই

তানবীরা's picture


সহজ ভাবে আসল কথাগুলো বলে দিয়েছেন!
হ্যাটস অফ টু ইউ!

Razibul's picture


কিছু কিছু ব্যপার আছে, আমাদের সবারি এতে একমত হওয়া উচিত। এটা হল তার একটা। Well said.. We should 1st repair the existing ones. then build new one...

সামছা আকিদা জাহান's picture


সহজ ভাবে আসল কথাগুলো বলে দিয়েছেন!
হ্যাটস অফ টু ইউ!

রুম্পা's picture


টিপ সই

টোকাই's picture


সহজ ভাবে আসল কথাগুলো বলে দিয়েছেন!
হ্যাটস অফ টু ইউ!

প্রাগৈতিহাসিক অভী's picture


বিদ্যুতের দরকার নাই।বনের দরকার।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

দুরন্ত পথিক's picture

নিজের সম্পর্কে

শৃঙ্খলা ছাড়া হারানোর কিছুই নেই।