হ্যাঁ, বন্ধুই তো ...
সেই ছোট্টকালে দেখা যেন দিগন্ত বিস্তৃত স্কুল মাঠটা আস্তে আস্তে ছোট হয়ে এসেছিল বড়ো হবার সাথে সাথে, কিন্তু দেখার চোখ কিবা জায়গা বদলে গেলেও বদলায়নি একটা জিনিস। মাঠ জুড়ে শালিক পাখির বিচরন। সারাবছর জুড়ে মাঠ ভর্তি শালিকের আনাগোনা দেখেই চলতাম। স্কুল ছেড়েছি অনেকদিন হলো, তবে আজো এতো বছর পরও একসাথে এতো শালিক দেখার সৌভাগ্য হয়নি। শীতকালে সবুজ ঘাসে মোড়া ঝরে পড়া কৃষ্ণচূড়া, জারুলে লাল, হলুদ, বেগুনী হয়ে থাকা মাঠটায় দলবেধেঁ, কিবা একলা আবার জোড়া বেধেঁও বসতো ওরা। মাঠে বিছিয়ে থেকে আপনমনে খুটখুট করতে থাকা পাখিগুলোর মাঝ দিয়ে দৌড়ে গিয়ে তাদের ত্যক্ত বিরক্ত করে তুলতাম আমরা, ঝাঁক বেধেঁ উড়ে গেলেও আবার ঠিক ঠিক কোথাও গিয়ে জড়ো হতো তারা।
এসেম্বলি শুরুর আগে কিবা টিফিন আওয়ারে সেই শালিক নিয়ে মজার খেলায় মেতে উঠত অনেকে। চোখ বুজেঁ হুট করে কোথাও তাকিয়ে একসাথে কয়টা শালিক দেখতে পেত কে কে, তার উপর নির্ভর করবে দিনের পাওয়া! ! 1 for sorrow, 2 for joy, 3 for letter.... একশালিক দেখবে যে তার দিন যাবে খারাপ, তাই সাথে সাথেই অন্যদিকে তাকানো হতো যেন আবার একের বেশি শালিকের দেখা মেলে, দিন যে খারাপ হতে দেয়া যাবেই না! দুই শালিকে মন মতোন কিছু হওয়া সেটা খুব রাগী টিচারের রাগ থেকে বেচেঁ যাওয়াও হতে পারে, অথবা কারো দেখা পাওয়া, আর সেই প্রিয় মানুষ বেশিরভাগই সময়ই হতো তিনগোয়েন্দা'র কেউ কিবা ফেলুদা কিবা অন্যকোন কাল্পনিক চরিত্র! তিন শালিক দেখলে চিঠি পাওয়া, ক্লাস চলাকালীন বন্ধুরা হঠাৎ মনেপড়া কিছু নিয়ে একে অন্যকে টিচারের চোখের আড়ালে চিরকুট আদানপ্রদানও সেই চিঠির আওতায় এসে যেত! এমনি পর পর চলতো। বন্ধুদের নিয়ে এমনই সব হাস্যকর খেলায় মজে যাবার আনন্দ একান্তই নিজ নিজ। স্মৃতিগুলো এখনো জ্বলজ্বল করে।
প্রায়শই করা মজার আরো একটা ছিলো নামের কাটাকাটি। Flame শব্দটা বেছে নেয়া হতো, F = friend, L= love, A= affaire, M=marriage, E=enemy মানে বুঝাতো। এখন প্রতি দুজনের নামের বানানের সাথে বানান মিলিয়ে দু'টোতে থাকা একই অক্ষর কেটেকুটে যে কত সংখ্যক অক্ষর আসে তা দিয়ে flame কে কাটতে থাকা শুরু। যদি অক্ষর হয় ৮টি, তবে প্রথমে কাটা যাবে "a” , এমনি করে বাদ দিতে দিতে যেটা বাকী থাকবে, সেই অক্ষরের শব্দই নির্দেশ করবে দু'জনার সম্পর্ক!
আগুনে পুড়ে যেমন খাটি সোনা পাওয়া যায়, তেমনি যেন এর সাথে ওর বন্ধুত্বতা, প্রীতি, ভালবাসা, বিয়ে, শত্রুতা এই সব সম্পর্কই flame এ উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে! তবে এখানেও চলতো নিজের সুবিধা মতোন কার্যোদ্ধার পন্থা। একধাচেঁর নামে কাটাকুটি করে মন মতন শব্দ না হলে করা হতো অন্য নাম ধরে! নামের কি কমতি আছে নাকি একেকজনার। তবে ৩বারে যেটা বেশি আসতো ওটা খারাপ হলেও মেনে নিতে হতো। এই ক্ষেত্রে "m” টা আসুক কেউ চাইতো না, বন্ধুদের মাঝে ওটার কোন জায়গা নাই, যদিও বন্ধু বাদে অন্যকারো ক্ষেত্রে ওটা আসাই যেন মুখ্য ছিল। আর যখন নিজেরদের মাঝে "e" এর আসবার তো কোন উপায়ই ছিলোনা।
জীবনের নানান চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে flame খেলার নিয়মনীতি ভুলে কাছের বন্ধুতাকে নয়ে দৃঢ বিশ্বাসের ভিতেই স্বপ্ন গড়েছিল মৌ। মুঠোয় চেপে ধরা বালির মতোই সেই স্বপ্ন রুঢ বাস্তবতার ফাকঁ গলে মিলিয়ে গেছে। ভালোবাসা যেমন মিলায় না, মিলায় না কষ্টের স্মৃতিগুলোও। স্বপ্নভাঙ্গার মূহুর্তটা তেমনি মরে যায়নি, শুধু চাপা পড়ে আছে অনেক হাসি কান্নার আড়ালে। আজ অহেতুকই সেই স্মৃতি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে ছোটবেলার সেই খেলাটায় মেতে উঠতে মন চাইলো। 'মনি'র সাথে "নোমান" আর 'মৌ' এর সাথেও "নোমান" কে কাটাকুটি করে একদম সঠিক সম্পর্ক পেতেই হাসি ফুটে উঠল মুখে। আজ কোন কারচুপি নয়, বাস্তবতাই এটা। "হ্যাঁ, আমি তোর বন্ধুই তো!"
নাই কোন এর অর্থ-মানি,
খুড়েঁই ফিরি হৃদয়খানি,
স্মৃতির বোঝার কানাকানি,
শুধু শুধুই কষ্ট টানি ...





এতো তাড়াতাড়ি শেষ করলা জেবীন
flame কে বদ পুলাপান flames লিখতো
বেশি ছোট হয়ে গেলো?... মাথায় আসছিলো আরো প্যাচানি... কেন জানি করতে মন টানে নাই...
হ! সেই S এর কথা মনে আছে...
নুশেরা'পু পাল্টে দিসি শেষে একটু, দেখেন কিছু হইলো কিনা...
মোগাম্বো খুশ হুয়া
হ্যা , বন্ধুই বটে।
তা তো বটেই...
আর একটা ছিল ২ টা নাম দিয়ে কেটেকুটে love এর % হিসাব করা । কলম এর মুখ টানাটানির একটা আছে - প্রথম বার যেই পা দিছে সেই ফাসছে !
কাটাকুটির টা মনে হয় শুনছিলাম... পুরা মনে নাই... কিন্তু কলমেরটা শুনি নাই... কাহিনী বয়ান করে যাইও প্লীজ...
বলবো ? আচ্ছা বলি
ঘটনা হৈলো যাকে বকরি বানানো হবে তাকে বলতে হবে তোর ইন্টারভিউ নিবো , এখন মাইক তো নাই ,সো কলম তোর সামনে ধরবো মুখ বন্ধ করে , তুই কলমের মুখ খুলে উত্তর দিবি । তারপর প্রথম কিছু হাবিজাবি প্রশ্ন করতে হবে । শেষে প্রশ্ন টা হৈলো "বিয়ের রাতে প্রথম জামাইকে কি বলবি?' এই সময় কলমের মুখটা জোরে আটকে ধরতে হবে , যেন কোনোভাবেই খুলতে না পারে --- তো যখন সে দেখবে খোলা যাচ্ছে না স্বাভাবিকভাবেই যেটা বলবে , ছাড় ! বা ছাড় না কেন --এই টাইপ কিছু । আমার এক ফ্রেন্ড মুখ খুলতে না পেরে রেগে বলেছিলো , খুলতেছিস না ক্যান !
হাহাহাহা ! কী দিন গেছে তখন --- অনেক মজা করতাম আমরা ,এখন একেকজন একেকজায়গায় ।
খুব মজার খেলাত
পড়ে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। দুর্দান্ত। আরেকটু লেখা উচিত ছিলো। থ্যাংকিউ।
আসলে লিখছিলাম আরেকটু কিন্তু কেনো জানি দিতে মন চাইছিলো না, মনে হয়েছিলো লাগুক না একেক পাঠকের কাছে একেক রকম, গড়্গড় করে বর্ণনা না দিয়ে করি না হয় একটু রহস্য। কিন্তু নুশেরা'পু, আপনি যেহেতু বলছেন বেশি ছোট হয়ে গেছে, তাই দিয়ে দিলাম সেটুকু লিখেছিলাম...
গল্পটা পড়ে মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ ...
এইধরনের কাটাকুটির খেলা কখনো খেলি নাই। মেয়েগুলা ছোটবেলা থেইকাই বদের হাড্ডি হয়!
সেটাই মেয়েগুলা পিচ্চিকাল থেকেই বদের হাড্ডি হয়, নইলে বদের বদ ছেলেগুলারে কি করে ঠিক করবে?... যার জন্যে যেই চিকিৎসা আর কি!
এমন খেলা আমরাও খেলছি। অনেক দিন পর আবার খেলাটার কথা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। লেখাটা পড়েও ভালো লেগেছে।
জাকির জাহামজেদ
দারুনতো। ছোটকালে কোন মজা করি নাই। পড়ালেখাও করি নাই। আসলে কিছুই করিনাই এই জীবনে।
মুগ্ধ হলাম, নষ্টালজিক হলাম। স্কুলজীবন মনে পড়ে, সেই শৈশব।খাতার পাতায় কাটাকুটি, ঘাসের উপর হাত ধরাধরি হেঁটে চলা, দারুণ ইচ্ছল, উজ্জল ক-ত স্মৃতি! তোমার লেথা পড়তে পড়তেই চোখের সামনে স্কুল, বিশাল এক মাঠ, বন্ধুরা সব যেনো দেখতে পাচ্ছি।আবার নরসিংদী গেলে স্কুলে যাব। একই স্কুলে আমার বাবা-মা, চাচা-ফুফু, মামা, আমি পড়েছি। বর্তমান প্রজন্ম যারা এখনও নরসিংদীতে থাকে তারাও পড়ছে।
খুড়েঁই ফিরি হৃদয়খানি,
স্মৃতির বোঝার কানাকানি,
শুধু শুধুই কষ্ট টানি ...
দারুণ তো!
দারুনস!!!!
সবাই বুঝতার্ছে আমি বুঝলাম্না ক্যান !!! মাথার উপর দিয়া গ্যাছে
আহা... কত কি মনে পরসে............।
মন্তব্য করুন