ইউজার লগইন

সম্পর্কের টানাপোড়েন

সেদিন রাতে ঘরে ফেরার পর আমার স্ত্রী যখন রাতের খাবারের জন্যে ডাকলো, আমি তার হাত ধরে বললাম, “কিছু বলার ছিলো তোমায়”। ও কিছু না বলে চুপ করে খাবার খাওয়া শেষ করলো। আমি আবারো ওর চোখের কষ্টের ছোয়াঁ লক্ষ্য করলাম। কি ভাবে কি বলবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না, কিন্তু আমাকে যে বলতেই হবে যা আমার মনে চলছে।

“আমি তালাক চাইছি” - মনস্থির করে কথাটা তুললাম। অবাক হলাম যখন দেখলাম রেগে উঠার পরিবর্তে ও মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করলো, “কেন?” প্রশ্নটা না শোনার ভান করে এড়িয়ে যেতে চাইতেই রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে হাতের চামচ ছুড়েঁ চিৎকার করে বলে উঠলো “তুমি মানুষ নও!”

সে রাতে আমরা আর কথা বাড়ালাম না, রাতভর কাদঁল ও। আমি জানতাম, ও কেবল এটাই বুঝে উঠতে চাইছে যে, কি এমন ঘটলো আমাদের সম্পর্কের, আমাদের বিয়েটার। কিন্তু আমার কাছে ওর জন্যে কোন সন্তোষজনক উত্তর ছিলো না। কি করে বলি যে, ওর জন্যে আমার কেবল সহমর্মিতাটুকুই অবশিষ্ট আছে ভালোবাসা নয়; আমি এখন জুনি’তেই মগ্ন আছি।

অনেকটা অনুশোচনায় জর্জরিত হয়েই তালাকনামার খসড়া তৈরী করলাম, যাতে বলা হয়েছে যে তালাকের পর আমাদের বাড়ি, গাড়ি আর কোম্পানির ৩০% শেয়ার পাবে আমার স্ত্রী। ও’কে খসড়াটা দেখাতেই ছিড়েঁ টুকরো টুকরো করে ফেললো। দীর্ঘ দশবছর যার সাথে ঘরে করলাম তাকে সম্পূর্ন অচেনা লাগতে লাগল। যদিও ওর জন্যে খুব মনোবেদনা হচ্ছিল, জীবনের এতোটা মূল্যবান সময়, সামর্থ্য ও আমার জন্য বিলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই জন্যে জুনিকে ছাড়তে পারবো না আমি, যাকে এতোটা আপন করে ভালোবেসেছি। এতোক্ষনে অস্ফুটে শব্দ করে কান্না শুরু করলো আমার স্ত্রী, ঠিক যেমনটা আমি আশা করছিলাম। ওর এই কান্নাটা একটা অন্যরকম স্বস্থি এনে দিলো আমাকে। তালাক চাইতে পারার এই ব্যাপারটা যা আমাকে বেশ কতটা সময় যাবত অসহ্যকর এক আচ্ছন্নতার দোলাচলে ডুবিয়ে রেখেছিল তা এখন দৃঢ়ভাবে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।

পরবর্তী দিন, বেশ রাত করে বাড়ি ফিরে দেখলাম টেবিলে বসে কি যেন লেখায় ব্যস্ত হয়ে আছে ও। খাবার না খেয়েই শুতে চলে গেলাম আর জুনি’র সাথে দারুন একটা দিন কাটিয়ে এসে অনেক ক্লান্ত ছিলাম বলেই বেশ দ্রুতই ঘুমিয়ে পড়লাম। মাঝে একবার ঘুম ভাঙ্গতেই দেখি তখনো লিখেই চলেছে ও। আমি ওসবের থোড়াই কেয়ার করি, তাই পাশ ফিতে শুয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।

সকালবেলা ও নিজের তৈরী করা তালাকের শর্তাবলী পেশ করলো; আমার কোন সহায়-সম্পত্তিই চায় না সে, কেবল তালাকের আগে একমাসের নোটিশ চায়। ওর আর্জি এটুকুই যে সেই একমাসে আমারা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনযাপনে সচেষ্ট হবো। এই চাওয়ার পেছনের সহজ যুক্তি হলো এই যে, মাসখানেকের মাঝে আমাদের ছেলের পরীক্ষা আর ও চায় না আমাদের সম্পর্কের টানাপোড়ন ছেলেটার পরীক্ষার কোনরকমের ক্ষতি করুক। হ্যাঁ, এটুকু মেনে নেয়া যায়। কিন্তু আমার স্ত্রী’র আরো কিছু শর্ত আছে। ও চাইছে এই একমাসের প্রতি সকালে আমি যেন তাকে বেডরুম থেকে সদরদরজা অব্দি কোলে করে নিয়ে যাই, ঠিক যেমন করে বিয়ের দিন বাইরে থেকে ওকে বাসরঘরে নিয়ে গিয়েছিলাম! এটুকু পড়ে মনে হলো, এই মেয়ে কি পাগল হয়ে গেল নাকি! যাক, আমাদের একসাথে থাকার শেষ দিনগুলো সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ওর এই উদ্ভট অনুরোধটুকুও মেনে নিলাম।
আমার স্ত্রী’র শর্তগুলো জুনি’কে জানাতেই খিলখিল করে হাসতে লাগলো, অযৌক্তিক শর্তগুলো শুনে হাসি যেন থামেই না ওর। তাচ্ছিল্যের সাথে বললো, “যতই ছলাকলা তোমার স্ত্রী করুক না কেন, তালাক সে এড়াতেই পারবে না।”

যখন থেকে তালাকের বিষয়টি খোলাখুলি জানিয়েছি তারপর থেকেই আমাদের মাঝে ছোয়াঁছুয়িটুকুও নেই, তাই প্রথম যেদিন শর্ত মোতাবেক ওকে কোলে তুলে ঘর থেকে বের হয়েছিলাম, দেখা গেলো দু’জনের মাঝেই আড়ষ্টভাব প্রকট। প্রায় দশমিটারের মতো জায়গা পার হলাম ওকে কোলে নিয়ে, একে একে বেডরুম থেকে বসারঘর তারপর সদরদরজা। হঠাৎ পেছন থেকে ছেলে সহাস্য ভঙ্গিতে হাততালি দিয়ে বলে উঠল, “আরে, একি কান্ড, বাবা দেখছি মাকে কোলে নিয়ে আছে!” ওর কথাটা কেন যেন বুকের মাঝে শেলের মতো বিধঁলো। আমার স্ত্রী শান্ত স্বরে চোখ বুজেঁ বললো, “তালাকের কথা ওকে বলো না।” বিচলিতভঙ্গিতে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম। ঘরের বাইরে এসে নামিয়ে দিতেই ও রাস্তা পার হয়ে গিয়ে দাড়াঁলো কাজের যাবার জন্যে বাসে অপেক্ষায় আর আমি গাড়ি চালিয়ে অফিসের দিকে রওনা হলাম।

দ্বিতীয়দিনে, দুজনেই অনেকটা সহজভাবে শুরু করলাম, ও আমার বুকের কাছটায় মাথা ঠেকিয়ে রইল। ওর সুবাস আমাকে ছুয়েঁ যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই মাথায় চিন্তা খেলে গেলো, অনেকটা সময়যাবত ঠিকমতো করে এই মেয়েটাকে লক্ষ্যই করিনি আমি। ও আর সেই তরুনীটি নেই, বয়েসের ছাপ পড়েছে ওর মুখে, পাক ধরে এসেছে চুলের খানিকটায়। এক মূহুর্তের জন্যে মনে এলো, “কি বানিয়ে দিয়েছি আমি ওকে!”

চতুর্থদিনের দিন, ওকে কোলে তুলে নিতেই নিজের মাঝে একধরনের আন্তরিকতা অনুভর করলাম। এই সেই মানুষ যে তার জীবনের অমূল্যবান দশটি বছর আমার জন্যে নিরলসভাবে ব্যয় করেছে।
পঞ্চম আর ষষ্ঠদিনের দিন, বুঝতে পারলাম দু’জনের মাঝেই পুরনো অন্তরঙ্গতা, সেই একাত্নতাটা গড়ে উঠেছে আবার। জুনি’কে বলিনি এইসব অনুভূতির কথা, ওর বুঝার ব্যাপার নয় এগুলো।

যতই মাস শেষ হতে লাগলো আমার স্ত্রীকে কোলে তুলে নেয়ার বিষয়টা ততোই সহজসাধ্য হয়ে ঊঠতে লাগলো। মনে হয় প্রতিদিনের এই কসরত আমাকে বলবান করে তুলেছিলো ধীরে ধীরে।

একদিন সকালে, কি পরে বেরুবে বাছাই করছিল ও, বেশক’টা পোশাক দেখেও দেখেও পছন্দসই জামাটা খুজেঁ পাচ্ছিল না। হতাশ হয়ে ও বলে উঠলো, “ ওহ! আমার সব জামাগুলো এত্তো ঢিলেঢালা হয়ে গেছে!” হঠাৎই আমার বুঝে আসলো, কেন ইদানিং অতি সহজেই ওকে কোলে করে বয়ে নিতে পারছি। ও যে বড্ডো শুকিয়ে গেছে! অকস্মাৎ ব্যাপারটা আমাকে খুব নাড়া দিয়ে গেলো, কি প্রচন্ড কষ্ট আর অসহ্য তিক্ততা বুকের মাঝে বয়ে নিয়ে চলছে ও, কোন অভিযোগ করা ছাড়াই। আনমনেই কখন যে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম খেয়ালই করিনি, এসময় আমাদের ছেলেটা ঘরে ঢুকতেই সম্ভিত ফিরে পেলাম। আমাদের এভাবে দেখে ও বলে উঠলো, “বাবা, মাকে কোলে নিয়ে বেরুবার সময় হয়ে এলো তো, কই চলো।” মাকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে বাবা, এটা দেখতে পাওয়া যেন ওর রোজকার জীবনের অত্যাবশ্যকীয় ব্যাপার হয়ে উঠেছে। ইশারায় ওকে কাছে ডেকে এনে কিচ্ছু না বলে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে থাকলো আমার স্ত্রী। কেন যেন বেশিক্ষন এই দৃশ্যটা সহ্য করতে পারছিলাম না বলে মুখ ফিরিতে রইলাম আমি। কারন এই শেষের দিকে এসে মত পরিবর্তন করে ফেলার ভয় জাঁকিয়ে বসছিলো যেন আমার মাঝে। আর সময় না বাড়িতে ওকে কোলে তুলে নিলাম, বেডরুম থকে বেরিয়ে বসারঘর পার হয়ে করিডোরের দিকে হেটেঁ যাচ্ছিলাম, খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই আলতো করে হাত দিয়ে ও আমার গলা জড়িয়ে ছিলো। আর আমি খুব নিবিড় করে আকঁড়ে ধরে থাকলাম ওকে, ঠিক আমাদের বিয়ের দিনটার মতোই।

দিনকে দিন ওর ওজনহীনতা খুব উদ্বিগ্ন আর মনভার করে দিচ্ছিল আমার।

শেষেরদিন, ওকে কোলে নেয়ার পর আমার পা যেন আর চলছে না। আমাদের ছেলে আজ স্কুলে চলে গেছে আগেই। আমার স্ত্রীকে শক্ত করে ধরে বুকের কাছে এনে বললাম, “আমাদের জীবনের অন্তরঙ্গতার ঘাটতি আমি খেয়ালই করে উঠতে পারিনি।”

গাড়ি চালিয়ে অফিসে পৌছেঁ দ্রুত লাফিয়ে নেমে গাড়ি লক না করেই ছুটলাম। এক মূহুর্তের দেরি যেন সহ্য হচ্ছিল না, ভয় পাচ্ছিলাম এতটুকু সময়ের অপচয় যদি আমার মন পালটে দেয়! ওপরে উঠতেই দরজা খুলে এগিয়ে এলো জুনি, ওকে কাছে পেয়েই বললাম, “দুঃখিত, জুনি, আমি আর তালাক চাইছি না।” অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকলো ও, কিছুক্ষন পরে আমার কপাল ছুয়েঁ জিজ্ঞেস করলো, “কি জ্বরটর হয়নি তো তোমার, এলোমেলো বকছো যে!” হাতটা সরিয়ে দিয়ে আবারো বললাম, “দুঃখিত, আমি আসলেই তালাক চাই না। এমন না যে আমাদের মাঝের ভালোবাসা মরে গেছ কিন্তু আমরা দু’জনেই আমাদের দাম্পত্যজীবনের ছোট্ট ছোট্ট বিষয়গুলোকে মূল্য দেইনি বলেই, নিজেদের অবহেলার কারনেই অনাকর্ষনীয় করে তুলেছিলাম দাম্পত্যজীবনকে। এখন আমি ঐসব উপলব্ধি করতে পারছি, বুঝতে পারছি যে, যেদিন বিয়ে করে ঘরে তুলেছিলাম সেদিন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওকে আমার জড়িয়ে থাকার কথা দিয়েছিলাম।”

যেন হঠাৎই সম্ভিত ফিরে পেয়ে জুনি আমাকে কষে চড় মেরে কাদঁতে কাদঁতে চলে গেলো দরজা আছড়ে। নিচে নেমে গাড়ি করে ফুলের দোকানে পৌছেঁ একটা বড় ফুলের তোড়ার অর্ডার দিলাম আমার স্ত্রীর জন্যে। কার্ডে কি লিখতে হবে দোকানি জিজ্ঞেস করতেই হেসে উঠে আমি লিখলাম, “মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রতিটি সকাল আমি তোমায় বাইরে বয়ে আনবো।”

ওইদিন সন্ধ্যায় হাতে ফুল আর আকর্ণ হাসি নিয়ে বাড়ি পৌছেঁ লাফিয়ে সিড়িঁ পেরিয়ে ঘরে এসে আমার স্ত্রীকে বিছানায় পেলাম -স্থির হয়ে আছে ও, মৃত।

জুনি’কে নিয়ে এতোই মজে ছিলাম আমি, গোচরেই আসেনি যে আমার স্ত্রী মরনব্যাধী ক্যান্সারের সাথে পাঞ্জা লড়ে চলছে দিনকে দিন। ও জানতো বেশিদিন বাকি নেই ওর, তাই তালাক হলে পরে সারাজীবন আমাদের ছেলের দোষারোপের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে বাচাঁতে চাইছিলো আমাকে। আর যাই হই না কেন, অন্তত ছেলের দৃষ্টিতে আমি যেন থাকি - ‘একজন প্রেমস্পদ স্বামী’।

জীবনের ছোট ছোট চাওয়া পাওয়াগুলোই মূল চালিকাশক্তি যেকোন সম্পর্কের। প্রাসাদোপম বাড়ি, গাড়ি, অর্থসম্পদ, আকর্ষনীয় দেহবল্লরির সঙ্গী -এগুলো জীবনের খুশির পরিবেশ তৈরী করে বটে কিন্তু সুখের তৃপ্তি এনে দিতে পারে না। তাই একটু সময় করে নিজের কাছের মানুষটার বন্ধু হয়ে উঠুন আর নিজেদের মাঝের ভালবাসাটাকে জিইয়ে রাখতে একে অপরের জন্যে ছোট ছোট সেসব কাজ করতে থাকুন যা আপনাদের অন্তরঙ্গতা বাড়িয়ে তোলে -কাটুক সময় আনন্দময়।

--------------------------------------------------------------------------------------------------------

অনুবাদ, শুধু শিরোনামটা পালটে দেয়া।

পোস্টটি ২৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মাহবুব সুমন's picture


Sad

দারুন অনুবাদ

তবে মন খারাপ করা Sad

হুমম

জেবীন's picture


হুম মন খারাপ করে দেয় গল্পটা।
পড়ার জন্যে ধন্যবাদ Laughing out loud

শাওন৩৫০৪'s picture


ওহ!

জেবীন's picture


শাওনের লেখা মিস করি, একটু সময় করে দেও না লেখা Stare

নিশ্চুপ প্রকৃতি's picture


অন্যরকম আচ্ছন্নতায়ে ডুবে গিয়েছিলাম......... কেন মারা গেল......।? Crying

জেবীন's picture


সহজ একটা গল্প এটা, একবন্ধু লিঙ্ক দিয়েছিলো পড়তে। শুরুটা করেছিলাম, হবে আর কি সম্পর্ক নিয়ে কিছু প্যাচানি ধাচেঁর কথা এমনটা ভেবে, মাঝে এসে মেয়েটার শর্তগুলো পড়ে মজা পেতে লাগলাম, ছেলেটার অনুভূতিগুলো পড়ে মনে হচ্ছিল জানি শেষে মানাই করবে ও, কিন্তু মেয়েটা কষ্ট পেয়ে মারা যাবার অংশটুকু পড়ে শুধু মন খারাপ না, চোখ ভর্তি পানিও চলে এসেছিল! Sad

otithi's picture


Amaro Apu....Sad(

বিষাক্ত মানুষ's picture


ভাল্লাগছে

জেবীন's picture


Big smile মতামতের জন্যে থ্যাঙ্কু স্যার!

১০

kajol keya's picture


kachher manustake aro beshi kore valobashte ichhe korchhe.
jeno pore ak muhurter jonno afsos na hoy.
golpota khub mon kharap kore dilo.

১১

জেবীন's picture


এটাই যেন নিয়তি, কাছের মানুষটা যখন কাছে থাকে "ও তো আমারই আছে, আর কেন আল্লাদি করতে হবে, আবার ওমন করলে ও কি ন্যাকা মনে করবে" এই সব ছাইপাশ ভেবে অনেক কিছুই করে ওঠা হয় না প্রিয়মানুষটার জন্যে, পরে অনুশোচনা হয়, কেন করলাম না! Sad

মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ কাজল কেয়া Smile

১২

প্রিয়'s picture


অনুবাদ হলেও সেটা আপনি খুউব সুন্দর ভাবে করেছেন। এজন্য আপনাকে অজস্র ধন্যবাদ। আর গল্পটাতো চ্রম। মন ছুঁয়ে গেল।

১৩

জেবীন's picture


গল্পটাই দারুন মন ছোয়াঁ!
ধন্যবাদ প্রিয় Smile

১৪

জ্যোতি's picture


দারুণ অনুবাদ। এসব পড়লে আজকাল খুব শূণ্য লাগে ভেতরটা।

১৫

জেবীন's picture


শূন্য লাগে কথাটায় অনেক আগের একটা কথা মনে পড়লো, একবান্ধবী বলছিলো, এমন্নি শূন্য লাগে যেন তুলার মতো বাতাসে ভাসছি, আর নীচে আরো আরো নীচে কেবল পড়েই যাচ্ছি!! কথাটা পুরা উল্টা হলো না? একেতো নিজের ভর খুজেঁ পাচ্ছে না ও আবার নিচে পড়ে যাবার অনুভূতি হচ্ছে তার!! Smile

বন্ধুরা এম্নে করে বললে আসলেই লাগে পারছি, অনুবাদ আমার কাজ না জানি, তাও ভালোলাগাটা কাজে লাগিয়েই করে ফেল্ললাম Laughing out loud

১৬

অতিথি's picture


english ta porechilam...besh chomotker ekta story ...toobe character er kono naam chilo bole mone hoi na...
onek dhonnobad....onubad kore debar jonno

sorry Banglish e comment type korar jonno....Banglai type korte giye letter okkhor khuze paitesilam na 

১৭

জেবীন's picture


৩য় পক্ষটার নাম ছিলো গল্পে "জেন", ওটাকে জুনি করে দিয়েছি, আর শিরোনাম ছিলো "বিয়ে" ওটাও পালটে দিয়েছি! এটুকু করেছি নিজের মনে হয়েছে তাই। Smile
হ্যাঁ, মূল চরিত্রগুলোর কোন নাম ছিলো না কিন্তু দেখেন ৩য়পক্ষের ঠিকই নাম আছে! যেন একটা ইঙ্গিত যে ওরা দু'জন এতোই মূল্যবান এখানে যে ওদের নাম দেয়া জরুরী নয়, স্বমহিমায় নিজেরাই উদ্ভাসিত ওরা! যদুমধুদেরই নাম দিয়ে পরিচয় করাতে হয়!
এই লেখাতেও ওদের দু'জনের নাম নেই।

অভ্র, বা যেকোন পদ্ধতিতেই লিখে পেষ্ট করে দিলেই হবে, আর বাংলা অক্ষরতো এই কমেন্টবক্সের উপরের দিকেই আছে।
মতামতের জন্যে ধন্যবাদ!

১৮

একজন মায়াবতী's picture


Sad Puzzled

১৯

জেবীন's picture


Sad

২০

রাসেল আশরাফ's picture


জীবনের ছোট ছোট চাওয়া পাওয়াগুলোই মূল চালিকাশক্তি যেকোন সম্পর্কের। প্রাসাদোপম বাড়ি, গাড়ি, অর্থসম্পদ, আকর্ষনীয় দেহবল্লরির সঙ্গী -এগুলো জীবনের খুশির পরিবেশ তৈরী করে বটে কিন্তু সুখের তৃপ্তি এনে দিতে পারে না। তাই একটু সময় করে নিজের কাছের মানুষটার বন্ধু হয়ে উঠুন আর নিজেদের মাঝের ভালবাসাটাকে জিইয়ে রাখতে একে অপরের জন্যে ছোট ছোট সেসব কাজ করতে থাকুন যা আপনাদের অন্তরঙ্গতা বাড়িয়ে তোলে -কাটুক সময় আনন্দময়।

অসাধারণ।

পোস্ট প্রিয়তে নিলাম।

২১

জেবীন's picture


আপ্নের ইমোগুলা সব দারুন দারুন! Laughing out loud
ধন্যবাদ রাসেল!

২২

নরাধম's picture


ইংরেজীটা পড়েছিলাম, মনে হয় মাস-ইমেইলে কেউ পাঠোয়েছিল। তোমার অনুবাদের হাত স্বতঃস্ফুর্ত, চালিয়ে যাও।

২৩

জেবীন's picture


আমি সেইদিন মাত্র একজনে দেয়াতে পড়লাম! Smile

থ্যাঙ্কু থ্যঙ্কু! Big smile

২৪

রায়েহাত শুভ's picture


অনুবাদ দারুন হইছে...
তয় জুনি নামটা পইড়া, আমার পরিচিত এক জুনির কথা মনে পইড়া গেল... Sad

২৫

জেবীন's picture


আমার পরিচিত আছে রুনি নামের।
জুনি'রা থাকুক মনের মাঝেই হয়ে চাপা আলো, হঠাৎ হঠাৎ করে দিক তার কথা মন ভালো! Wink

মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ Big smile

২৬

আপন_আধার's picture


অসাধারন এই লেখাটায় কমেন্টস করার জন্য বহুত দিন পর লগইন করলাম
মন ছুয়ে গেছে ... Smile

২৭

জেবীন's picture


বহুতদিন পরে কেন? নিজেদের ব্লগে নিজেরাই না লগইন হইলে কেম্নে কি? য়ার স্ময় সুযোগ মতো লেখা দিয়েন Smile

ধন্যবাদ মন্তব্য দেয়ার জন্যে

২৮

আপন_আধার's picture


এই'যে লেখা চাইবেন, এই ডরে লগইন করিনা Laughing out loud

আমি'তো ব্লগে প্রতিদিন'ই আসি।, নিজের ব্লগে নিজেরা না আইলে চলে .. ? ? Smile

২৯

জেবীন's picture


ডরাইয়েন না, এখানের এরা না আপনের বন্ধু লাগে? Smile
শেষের কথাটা এক্কেবারে খাঁটিকথা! Laughing out loud

৩০

Fariha 's picture


কাছের মানুষটাকে যদি একটু কাছে পেটাম.. Sad

৩১

জেবীন's picture


Smile দূরে আছেন উনি? তো কি এই যে আপনি উনাকে মনে ধরে আছেন সারাক্ষন, এটাই সময় সুযোগ মতোন জানিয়ে দিন, হয়তো ভাব দেখাবে আদিখ্যেতা ভালো লাগে না, কিন্তু নিশ্চিত থাকেন মনে মনে খুশি হবেনই! ভালোবাসা, মায়া-মমতা বিফল হয়না, অপচয়তো না মোটেই! আমার বিশ্বাস এটা!

আপনার কমেন্টটা পেয়ে প্রথমে পড়লাম মনে হয় টাইপোর কারনে আসল কথাটা আসে নাই, মনে হয় আপ্নে বলেছিলেন " কাছের মানুষটাকে যদি একটু কাছে পেয়ে পেটাতাম.. " Tongue

৩২

শওকত মাসুম's picture


প্রাকটিশ করবো নাকি? Tongue

৩৩

জেবীন's picture


করতে পারেন, রাইয়ান পাকনা কি মন্তব্য দেয় জানাইয়েন প্লীজ! Big smile কিন্তু ভাবী না আবার সন্দ করে বসে আৎকা এতো মহব্বতের কাহিনী কি! Wink

৩৪

ওমর হাসান আল জাহিদ's picture


আগেই কয়েকবার পড়েছি। তারপরও আপনার অনুবাদ ভালো লেগেছে। গল্পটি সত্যিই সুন্দর। ধন্যবাদ।

৩৫

জেবীন's picture


মূল গল্পটার সহজ ভঙ্গিটার কারনেই সবার এতো ভালো লাগছে।
মতামতের জন্যে আপনাকেও ধন্যবাদ Smile

৩৬

আরিশ ময়ূখ রিশাদ's picture


ভালো হইসে

৩৭

জেবীন's picture


ধন্যবাদ Smile

৩৮

অতিথি's picture


R aktu holey Chok theke bristi namto ...darun...oshadaron onubad

৩৯

জেবীন's picture


আমারতো বৃষ্টি নেমেছিলো! নিজেই অবাক নিজের চোখের পানি আসা দেখে! Smile

৪০

তানবীরা's picture


দারুন দারুন দারুন। আমি ভয় পেয়েছিলাম সত্যি তুই লিখেছিস নাকি? এতো বাস্তব। ভাষা নেই অসাধারণ। প্রিয়তে রাখলাম।

৪১

জেবীন's picture


আসলেই অনেক বাস্তব, ছেলেটা যখন মেয়েটাকে কোলে নিয়ে একটু একটু করে ঘর পার হয়, আমি যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম দৃশ্যটা! Smile
হায়! যদি লেখতে পারতাম এমন করে! Sad

৪২

অতিথি : অনার্য's picture


আমার এক বন্ধুর কল্যাণে পড়লাম । আমার ছেলে অনিন্দ্য তার ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিতে আমি নিয়মিত বাংলা সিনেমা দেখি । খারাপ লাগে না । আজও লাগে নি । তবে কী কর্পোরেট লোকটার স্ত্রী সত্যি মহৎ- এককথায় বাঙালী পুরুষরা যেমন ডমিনেটেড বউ চায় ঠিক তেমন । আহা ! বাঙালী মুসলমানদের ঘরে ঘরে যদি ওমন স্ত্রী থাকত ! "সাবধানে থাকিও নারী পর্দার আড়ালে টাইপ স্ত্রী" দিন দিন কমে যাচ্ছে !

৪৩

জেবীন's picture


স্ত্রী কিবা সন্তানের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিয়ে কিছু করাতেও নিজেরই আনন্দ আসতে পারে, এটা আপনার কথাতেই এলো! তো আপনার জন্যে ওরাও কিছু না কিছু করছে/করে, এইতো জীবনের সুখ। Smile

অতিথি ছিলেন বলেই হয়তো মন্তব্যটা দেখিনি আগে তাই দেরি হলো উত্তর দিতে!

৪৪

টুটুল's picture


সেইরম

৪৫

জেবীন's picture


Cool ধন্যবাদ!
মশাই ভেবে নিয়েন না যে লেখা পড়ে মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ দিলাম, দিসি দেই কালজয়ী কপিপেষ্ট কমেন্ট দেন নাই বলে! Big smile

৪৬

টুটুল's picture


সরি মনে ছিল না Smile

৪৭

জেবীন's picture


হুম, চলচিত্র নিয়া বলা কমেন্টটা মিসই করতেছি! Tongue

৪৮

মেসবাহ য়াযাদ's picture


অনেক ভাল, সুন্দর আর মন খারাপ করা কাহিনী...
থ্যাংকু জেবীন

৪৯

জেবীন's picture


হ! কথা সত্য ......
থ্যাঙ্কু ভাইজান Smile

৫০

রশীদা আফরোজ's picture


চোখ ভিজে গেছে। ধন্যবাদ জেবীন।

৫১

জেবীন's picture


Smile মন্তব্যের জন্যে আপ্নাকেও ধন্যবাদ

৫২

নাহীদ Hossain's picture


FrownFrown

"জীবনের ছোট ছোট চাওয়া পাওয়াগুলোই মূল চালিকাশক্তি যেকোন সম্পর্কের।
প্রাসাদোপম বাড়ি, গাড়ি, অর্থসম্পদ, আকর্ষনীয় দেহবল্লরির সঙ্গী -এগুলো
জীবনের খুশির পরিবেশ তৈরী করে বটে কিন্তু সুখের তৃপ্তি এনে দিতে পারে না।
তাই একটু সময় করে নিজের কাছের মানুষটার বন্ধু হয়ে উঠুন আর নিজেদের মাঝের
ভালবাসাটাকে জিইয়ে রাখতে একে অপরের জন্যে ছোট ছোট সেসব কাজ করতে থাকুন যা
আপনাদের অন্তরঙ্গতা বাড়িয়ে তোলে"

৫৩

জেবীন's picture


Smile

৫৪

মিতুল's picture


মৃত্যুটাই গল্পের ফাঁদ।এই ফাঁদ এড়িয়ে বের হওয়ার কোন সুযোগই নেই। শেষটা ভেঙ্গে পরতে পারতো এটা না ঘটলে। WB Yeats এর একটা কবিতা পড়েছিলাম অনেকদিন আগে, অনুবাদ করলে দাড়াবে,
”ওহে মানুষ,
সুদীর্ঘকাল কাউকে ভালবেসনা,
আমি বেসেছিলাম এবং
পুরনো সংগীতের মত কালোত্তীর্ণ হয়েছি
যা শুধু অবসর সময়ের জন্যই ।”

কথাটা গল্পের সাথে যায়নি। যায়নি জেনে ভাল লাগছে।
আচ্ছা, কথাগুলো গল্পের সাথে আসলেই যায়নি ?

৫৫

জেবীন's picture


Laughing out loud

৫৬

মাফরুহা অদ্বিতী's picture


ব্যাথা মন ছুঁয়ে দিয়ে গেল

৫৭

জেবীন's picture


ধন্যবাদ পড়ার জন্যে Smile

৫৮

লীনা দিলরুবা's picture


প্রিয়তে।

৫৯

জেবীন's picture


Smile থ্যাঙ্কস আপু

৬০

Clive's picture


মন খারাপ করা..... chapa akta kosto.......jabin...thanx

৬১

জেবীন's picture


ওররে! ক্লাইভ! Smile নিজের ব্লগও চেক করি না! ধুর! সেই কবে কমেন্ট করে গেলে!! দেশে না এখন? থ্যাঙ্কস আমার ব্লগে আসার জন্যে! Laughing out loud

৬২

অতিথি's picture


অনুবাদ দারুন হইছে Smile

৬৩

জেবীন's picture


পড়ে মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ! Smile

৬৪

অতিথি's picture


ইংরেজি গল্পটা পড়েছিলাম বেশ অনেকদিন আগে । আপনার অনুবাদটাও ভাল লেগেছে ।

৬৫

জেবীন's picture


ইংরেজী গল্পটা পুরা মনে লাগে! কি অল্পকথায় পরিস্থিতি তুলে ধরেছিলেন লেখক!
ধন্যবাদ পড়ার জন্যে। Smile

৬৬

নিকোলাস's picture


ভালো লাগলো...।।

৬৭

জেবীন's picture


আপনার কমেন্ট পড়ে সামু ব্লগের একজনের কমেন্ট রিপ্লাইএর কথা মনে পড়লো! Big smile
পাঠকঃ ভালো লাগ্লো!
লেখকঃ আদরটা করলো কেডা?
Tongue

পুরানা লেখা আর কি কি পড়লেন শুনি? Smile

৬৮

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


চমত্‍কার একটা গল্প। খুব মন খারাপ করে দেওয়া একটা লেখা।

অনুবাদ অনেক ভালো হইছে, এমন আরো কিছু গল্প পড়তে পেলে ভালো লাগতো অনেক।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.