ইউজার লগইন

হুদাহুদাই (৩)

সেই যে একটা গান আছে না, “পৃথিবী বদলে গেছে যা দেখি নতুন লাগে”, কিবা “... শহর আইসা আমার আশা ফুরাইছে, লাল-লাল নীল-নীল বাত্তি দেইখা পরান জুড়াইছে!” আমার চারপাশের সব পালটে গেলেও, হরেক চোখ ধাঁধাঁনো সব দেখেও কিছুই নতুন চমকদার লাগে না, মনে স্বস্থি আসে না। এখানে আসার পর থেকেই রাজ্যের বিষন্নতা ভর করেছে, প্রায়শই এই বিষন্ন আমিটাকে বিরক্ত লাগছে। যাই দেখি লাগে, এসব তো আমার না, আমি এখানকার না। কোন ভাগ্যদোষে এসে পড়লাম এখানে!

এখানে আসার আগে নানান দেশে ঘুরে বেড়ানো একজন বলেছিলেন যে, সিডনীর আবহাওয়া তার দেখা সবচেয়ে চমৎকার আবহাওয়া। হতাশ হয়েছি এখানকার পরিস্থিতি দেখে। শীতকাল শেষ হয়ে এখন বসন্ত চলছে, বলা যায় সামার টাইমই এখন, কিন্তু আপনি বাসা থেকে বের হবার সময় মুশকিলেই পড়বেন এই ভেবে যে সোয়েটার নাকি ছাতা নিবেন নাকি গরমের কাপড় পরবেন! ধরুন দিন শেষ হলো ৩৯ডিগ্রিতে, পরিকল্পনা করলেন যে কোথাও বেড়াতে বের হবেন, কিন্তু সকালে উঠে দেখবেন ৮ডিগ্রি চলছে সাথে হাড়কাপাঁনো বৃষ্টি তো উপরি পাওনা! গরমে ঘুমাতে গেলেন, মাঝরাতে ঠান্ডার কারনে ঘুম ভেঙ্গে লেপ গায়ে টানতে হবে! মহা বাজে যাচ্ছেতাই আবহাওয়া! এক বন্ধুর মতে, একই দিনে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, বসন্ত -চার ঋতুর দেখা পাওয়া যায় সিডনীতে!

অষ্ট্রেলিয়ার রাস্তাঘাটগুলো কি পাহাড় কেটে বানানো নাকি? এই উচুঁনিচু ঢালু রাস্তা, কিছু কিছু জায়গায়তো বিরাট পাথরই চোখে পড়ে, যাতে গাথুঁনি দিতে বাড়িঘর তৈরী করা হয়েছে। এইসব ঢালু রাস্তায় গাড়িতে চলতে মজা, কিন্তু হেটে চলতে ভালোই কষ্ট। বিচ্ছিরি বৃষ্টি কিবা খটখটে রৌদ্দুরের মাঝে রেলস্টশন কিবা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফেরার পথে রিক্সাওলা মামু’র জন্যে যেই পরিমান মন কাদেঁ তা নিজের মামুর জন্যে সারাজীবনে হয়েছে কিনা সন্দেহ! পথ চলার সময় প্রায় সব্বাই দেখি ফ্লাট জুতা ব্যবহার করে আর নইলে ৩/৪ ইঞ্চির পেন্সিল হিল!! এম্নিতে আমার জুতা ভাগ্য সবসময়ই খারাপ! হয় আমি জুতা ছিড়িঁ নয় জুতা আমাকে ছিড়ে, পা কেটে একাকার হয় আরকি! এইখানে এসে তো আরো বেহাল অবস্থা! ওই পাহাড়ি পথে হাটতে গিয়ে কিছুদিন পরই জুতা নষ্ট করে গেলাম নতুন জুতা কিনতে। চীনারা এইখানে এসে সব ইয়া খাম্বা সাইজের জুতা দেখে নিশ্চয়ই আৎকে উঠে ছিঃ ছিঃ করে! সারা শপিংমল ঘুরেও এদের জুতার তুলনায় লিলিপুট আমার সাইজের জুতার আর দেখা পাই না! এম্নিতেই চলনসই জুতা পাচ্ছি না, এরপর সাথে আসা একজনের কথা শুনে তো পিত্তি আরো জ্বলে গেলো, বলে “বড়দের সেকশন বাদ দিয়ে বাচ্চাদের ঐখানে খুজোঁ পেয়ে যাবা!!”

আমরা কেবল বাসভাড়া বেশি বলে চিৎকার দেই, কিন্তু সিডনীতে বাস আর ট্রেনের ভাড়া এত্তো বেশি তা অন্যান্য দেশের মানুষের কথা বাদ দিলাম সিডনীর বাইরে থেকে আসা অষ্ট্রেলিয়ানরাই বলে! প্রতিদিন ট্রেনে ৮ডলার টিকিট কেটে ক্লাশ করতে যাওয়া কষ্ট সাপেক্ষই বটে, কিন্তু কি আর করা! সারাজীবনে হাতেগোনা কয়েকবার ট্রেনে চড়েছিলাম আর এখন দিনভর ট্রেনে চলি। কিন্তু আমাদের ট্রেনের মজার কাছে এরা কিচ্ছুই না। আরে, ট্রেনের ঝুকঝুক শব্দ, হুইসেল, মানুষে মানুষে গমগম না হলে সেটা আবার কিসের ট্রেন! তবে ট্রেনে কত্তো জাতের মানুষ আর তাদের কাজকারবার দেখা যায়। সক্কালবেলার অফিস টাইমে ট্রেনে বসে মেকাপ করাতে ওস্তাদ অসি মেয়েরা, এটাতো সবখানেই কমন। বেশিরভাগ মানুষই পড়ুয়া, তারা সিট না পেলে দাড়িয়ে হলেও মোটা মোটা ধাচেঁর বই পড়ায় মশগুল থাকে আর চাইনিজ জাতের লোকজন সুডুকু কিবা মোবাইলে গেইম খেলার আশ্চর্যরকমের ব্যস্ত।

এখানে বাস কাহিনীও কম না। আমাদের কতো হরেক রকামারি বাস আছে, কিন্তু এদের সেই একধাচেঁর একঘেয়ে বাস! শুধু আমাদের বাসই দেরি করে আসেনা, সব কড়া নিয়মে চলা এখানকার বাসও প্রায়ই দেরি করে আসে, আবার কিছু কিছু বাস আগে এলেও টাইম না হওয়া পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ড ছেড়ে যায় না। একবার মজা হলো, সকালে বাসে উঠেছি, দেখি ড্রাইভার মহিলা এক যাত্রীকে ডেকে বললো, তুমি আমার পিছনের সিটে বসো তো, আর ডিরেকশন দেও! কথায় কথায় জানা গেলো, ড্রাইভার শহরে নতুন এসেছে তাই রাস্তা চিনে না! কথা ছিলো তাকে ডিরেকশন দেবার লোক আসবে কিন্তু বাসডিপো থেকে নাকি তাকে বলা হয়েছে চালাতে শুরু করো, হারিয়ে গেলে ফোন দিও, কেউ হাজির হয়ে যাবে তোমাকে উদ্ধারে! তো সে ঠিক করেছে যে, কোন না কোন যাত্রীর থেকে সাহায্য নিয়ে বাস চালাবে যতক্ষন পারা যায়, না পারলে সোজা নিজের বাসার কাছের স্টেশনে গিয়ে বাস থামিয়ে ঘরে চলে যাবে, কারন এটা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি! সামনের দিকে বসা সবাই মজা পাচ্ছিলো মহিলার কথা শুনে। ভালো লাগছিলো যে কেউ বাজেভাবে রিএ্যাক্ট করেনি এই কান্ডে, যে রাস্তা না চেনা ড্রাইভার বাস চালাচ্ছে! সারাক্ষনই শুনি গাড়ি পার্কিং-এর উলটাপালটা হলে ফাইন হয়, কিন্তু টিকিটেরও যে এমন কান্ড আছে জানতাম না। জেনেছি, আহা সে কি জানার উপায়! পুরা ঠোলা দ্বারা ঠেলা খেয়ে জানা! নানান জাতের টিকিট আছে, দৈনিক থেকে শুরু করে সপ্তাহিক, কিবা আরো বেশি সময়ের জন্যেও। একেক স্টপেজের জন্যে টিকিট নির্দিষ্টবার পাঞ্চ করতে হয়। আমাকে যেমন টিকিট কিনে দিয়ে বলা হয়েছিল গন্তব্যে যাবার জন্যে একবার পাঞ্চ করতে হবে, তেমনি চলছিলাম। সাধারনত টিকিট চেক করতে দেখা যায় না কাউকে, একদিন দেখি বাসে উঠলো ৩ ষন্ডা মার্কা পুলিশি পোষাকের লোক, পরে জেনেছিলাম ওরা টিকিট চেকার পুলিশ না! তো চেক করার সময় আমারটা দেখে বলে মুখচোখ শক্ত করে বলে, “আইডি দেও”, হাতে দিতেই ঘষঘষ করে ফাইন কাটা শুরু করলো কথাবার্তা ছাড়াই! কারন জিজ্ঞেস করতেই জানালো, তুমি একটা পাঞ্চ চুরি করেছো! বেটা কয় কি! আজই নতুন টিকিট ব্যবহার করছি বলে তর্ক শুরু করতে গেলাম, এইবার পাশের সিটের লোকটা আমাকে বুঝালো যে এই টিকিটে আমাকে ২বার পাঞ্চ করার কথা, এটা সিঙ্গেল টিকিট ‘ট্রাভেল টেন’এর! টিকিটের রকম ফেরের মাঝে এমনও আছে প্রতি স্টপেজের জন্যে টিকিট১, দুইটা স্টপেজের জন্যে ২, আর তিন স্টপেজের জন্যে টিকিট ৩! আজকাল ফ্রিতে কিছুই পাওয়া যায় না, জ্ঞান অর্জন করতেও মূল্য দিতে হয়। ১০০ডলার গচ্চা দিয়ে টিকিট বিষয়ক জ্ঞানার্জন করলাম যার মূল্য কিনা ১.৬ ডলার!

ডলারের কথায় মনে পড়লো, অষ্ট্রেলিয়ার কয়েনগুলো দেখে মজা লেগেছে। মুল্যমান যতো কমে কয়েনের সাইজ ততো বাড়ে! দুইটাকা আর একটাকাকে এরা গোল্ড কয়েন ডাকে রঙের কারনে। দুইটাকা দেখতে আমাদের চারআনা পয়সার মতো যদিও কিছু ভারি কিন্তু আটআনার চেহারা আমাদের পাচঁটাকার কয়েনের চেয়েও অনেক বড়ো আর ভারি! তবে ৫পয়সাটা দেখে মনে পড়ে গেলো আমাদের আদ্দিকালের ১পয়সার কথা। ছোটকালে দেখতাম সরকারী কর্মকর্তাদের বেতনের সাথে খুচরো পয়সা দিতো কিছু ১পয়সায়! আব্বা সেগুলো এনে আমাদের দিয়ে দিতেন, যদিও ততোদিনে ১পয়সার চলও কমে গিয়েছিলো। সেসময় ফুলেল ধাচেঁর ১০পয়সার দিনও যাই যাই করছিলো।

আমার ঢাকার বাড়িটা প্রায় ৩০বছরের পুরানো। ভাবতাম কত্তো পুরানো বাড়িতে থাকি আমরা, কিন্তু এখন যেই বাড়িতে আছি তা নাকি ১০০বছরেরও বেশি পুরানো বাড়ি!! সূর্যঘড়ি, দুইটা ফায়ার প্লেস, দেয়ালজোড়া আদ্দিকালের ঘড়ি, চিমনি, ছাদেঁ ফুলেল ডিজাইন, ঝুলন্ত লাইট যার কিবা সুইচ দড়িটানা, দরজার উপরে ডিজাইন করা গ্লাসের ভেন্টিলেটর, টালির ছাঁদ – পুরানো বাড়িতে যা যা থাকার সব মজুত এখানে। ফেসবুকে ছবি দেখে এক ভাইয়াতো মজা করে বললেন, এমন বাড়িতে কিন্তু ভূত থাকে! সাবধান! ঢালু রাস্তার কথা বলেছিলাম, আমাদের বাড়ির জায়গাওটাও অনেক ঢালু, ঘরগুলো ধাপে ধাপে করা! কাঠের ফ্লোর, দেখতে সুন্দর কিন্তু দৌড় দিলেই ধুমধাম শব্দ হয়! শব্দতেই মজা, তাই ঘরে দুড়দাড় হুটোপুটি লেগেই আছে বাচ্চাদের।

গোপালের সেই কাহিনী মনে আছে তো যে, ত্যাগেই আনন্দ! যে কারুরই আল্টিমেট আরামের জায়গা বাথরুম, ইতিহাসের কতো যুগান্তকারী আইডিয়ার সূত্রপাতের জায়গা এই বাথরুম। আরাম করে গোসল করবেন আর হেড়ে গলায় গান করবেন নইলে আবার মজা কি! শুনেছিলাম আহসান মঞ্জিলে সবকিছু এত্তো এত্তো আছে কিন্তু কোন বাথরুম নাকি খুজেঁ পাওয়া যায় নাই! সেই সময় নাকি রাজরাজারা চিলমচিতে কাজ সারতেন, আর তাদের কর্মচারীরা তা পরিষ্কার করে দিতো! হতেই পারে এমন, রাজরাজাদের ব্যাপারই আলাদা। কিন্তু আমআদমির এই এত্তো বড়ো বাড়িতে একটা মাত্র বাথরুম, তাও কিনা দেখে লাগে যে বাড়ির ডিজাইনের চেয়ে আলাদা, মানে পরে তৈরী করা হয়েছে!! ভাবনার কথা হইলো এই, তার আগে এরা কেম্নে কি করতো!! দিনদুনিয়ার এহেন নানানবিধ চিন্তাভাবনা যে শান্তি মতোন করবো সেই উপায়ও নাই। কারন, আমি গোসলে গেলেই তিন পিচ্চির একেকজনের পর পর লাইন ধরে ফুউউ আর পিইই লাগে (ফুউ আর পিই -পিচ্চিদের দেয়া বড় আর ছোট টয়লেটের নাম! কি যন্ত্রনার কথা, এইদুটা একত্র করে ডাকলে আবার আমাকে ডাকা হয়ে যায়!!) আশার কথা হলো, কাপড় ধোয়ার জায়গাটাকে ছোট করে একটা টুনিট্যাক সাইজের টয়লেট তৈরীর কাজ সমাধা হয়ে গেছে!

কষ্ট করলে নাকি কেষ্ট পাওয়া যায়! কিন্তু জানি শতেক কেষ্ট কিবা রাধার লোভেও বাঙ্গালী বদনার কষ্ট করতে চাইবেন না। আমাদের মুন্যিঋষিরাও কৈলাস পর্বতে ধ্যানে যাবার সময় সংসারের মোহমায়া ছাড়তে পারলেও লোটা/বদনা তাদের নিত্যসঙ্গীই ছিলো। তো এইখানকার বেশিরভাগ বাসায় গিয়ে সেই মায়াময় বদনার জায়গায় যদি দেখেন টয়লেটে শোভা পাচ্ছে ‘ই্নডোর প্ল্যান্টে পানি দেয়ার পাত্র”, কষ্টকে কোন বিএসএফ’র ভয়ও কি কাটাঁতারের বেড়া ডিঙ্গাতে বাধাঁ দিতে পারে?! ঘরময় আয়নাতে অভ্যস্ত, ঘরের সব কোনাকাঞ্চিতে আয়না ঝুলতো আমাদের। আর এই বাসায় সবেধন নীলমনি একখান দেয়ালজোড়া বড়ো আয়না আছে কেবল সেই বাথরুমেই! একদিক দিয়ে ভালোই হয়েছে, নিজেকে ভালো লাগছে না ইদানিং, অহরহ এই ‘রাম গরুরের ছানা’ আমিকে আর দেখতে হয় না!

গড়পড়তা অষ্ট্রেলিয়ান অধিবাসীরা লম্বা, স্বাস্থ্যবান আর ফর্ষা হয়ে থাকে, এই তথ্য সবারই জানা। কিন্তু কেউ কি জানেন এইখানকার উকুনরাও দেখতে তেমনই! অষ্ট্রেলিয়াতে নানান জাতের পোকামাকড় থাকে শুনেছি, কিন্তু এমন সাদাসাদা দেখতে মোটাতাজা ধাচেঁর উকুন এহেন বিকট হারে আছে জানতাম না! ছেলেবুড়ো বাচ্চা সব্বার একই হাল! এদের স্কুলের বাচ্চাদের অরিয়েন্টেশন বইয়ে “হেড লাইস” সংক্রান্ত একটা পাতাই আছে!! উকুন নিধনের কতো পন্থা/ঔষধ দেখা যায় শপিংমলে গেলে! বাসায় থাকলেই না হয় আরাম করে বসে থাকতাম আর আম্মা বেছে দিতেন! কিন্তু এখন যে হাল না পারা যায় সহ্য করতে, তাই - “কাটে না সময় যখন আর কিছুতে, উকুন মারো তুমি একলা হাতে!!” পোকামাকড়ের কথাতে এইখানে জানিয়ে রাখি, মাছি আর তেলাপোকা সিডনীর নিত্যসঙ্গী!

কেবল বাজে কথাই বলছি, কিন্তু সবখানেই ভালো আছে, আসলে মনের উপরই সব নির্ভর। শুনেছি মন থেকে যেমন দেখতে চাই তাই নাকি আমাদের চোখ আমাদের দেখায়। তাইতো বাজে মানুষও আমাদের চোখে ঘোর জাগায়, আশপাশের সবই রঙ্গীন দেখি তখন। আবার পথ চলতে গিয়ে ঠোকর খেয়ে ব্যাথা পেয়ে সব সুন্দরের মাঝেও চোখে পর্দা ফেলে ব্যাথা দেয়া সেই বাজে পাথরকে ঘিরেই আশপাশকে ভাবি! অষ্ট্রেলিয়াতে অনেক অনেক ফুলের সমাহার। ছোট বড়ো ধাচেঁর কতো রকমের যে সেইসবের রঙ! সব বাসাতেই ফুলের গাছ দেখা যায় এখানে। অবহেলায় থাকা এই আমাদের বাড়িতেই মনে হয় ২০রকমেরও বেশি ফুল আছে, কিছু চেনা বেশির ভাগই অচেনা। আর পাশের বাড়িগুলোতে অনেক যত্ন করা হয়, রাস্তা থেকে বাগান দেখলেই মন ভরে যায়! এত্তো এত্তো রঙের ফুল! কিন্তু একটা ব্যাপার, এত্তো যে ফুল দেখা যায়, সুবাস কিন্তু পাওয়া যায় না মোটেও! এটা অনেক অবাক করতো, এত্তো সুন্দর কিন্তু সুবাসহীন ফুল! একদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার সময় খুবই পরিচিত পছন্দের ফুলের গন্ধে প্রচন্ড খুশি হয়েছিলাম। মানুষের বাসায় উকিঁ দিতে নাই জানি, কিন্তু ওই সুবাসে কিচ্ছুই মনে ছিলো না, যেদিকে গন্ধ পেয়েছিলাম ওইদিকে আবার গেলাম। বাসায় ফিরলাম চুরি করা ২টা ফুল নিয়ে, এর আগে কতোক্ষন বেক্কলের মতো হাসি দিয়ে তাকায় ছিলাম গাছ ভর্তি গন্ধরাজ ফুলের দিকে। কাকতালীয়ই দু’দিন পরেই খুজেঁ পেলাম কাঠগোলাপের একটা গাছ! ওই ফুল দেখে আহা, কতো কি মনে পড়ে গেলো ...

সুন্দর কিন্তু মন ভার করা একটা গান শুনেন

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

অনন্যা's picture


আপু আমারো ঠিক এক ই অবস্থা,আমার বাবা,মা,বোন,রিলেটিভ সবাই আমার সাথে থাকে,বাংলাদেশে কেউ নেই বললেই চলে,তারপর ও কিছু ভালো লাগেনা Sad আর আপনার লেখায় +,ভালো লেগেছে Party

জেবীন's picture


সবার কাছে এইসব বললে শুনাইছে, "দুনিয়ার মানুষ পারে থাকতে, কত্তো সুযোগসুবিধা ছাড়াই দিব্যি সবাই মজায় থাকে। আর তোমার হইছে ঘোড়ারোগ! ঢঙ্গী কোথাকার!!" Stare

পড়ার জন্যে ধন্যবাদ অনন্যা, Smile আপনার লেখাও ভালো লেগেছে পড়তে।

অনন্যা's picture


"ঢঙ্গী কোথাকার" হা হা হা Crazy ,আমি মনে হয় আপনার ছোট,আমাকে তুমি করে বললে খুশি হবো Tongue নৃত্য

অনন্যা's picture


ওহ গানটা তো দেখি ই নাই,গানটার জন্য থ্যাংক্স পার্টি

জেবীন's picture


গানটা মৌসুম দিয়েছিলো, বলেছিলো, মেঘদলের গান শুনলে একই সাথে ভালোও লাগে আবার মনভারও হয়ে যায়। কথা একদমই সত্য।

হুট করেই যে তুমি বলতে পারি না, হয়তো একদিন হবে। Smile

রায়েহাত শুভ's picture


“বড়দের সেকশন বাদ দিয়ে বাচ্চাদের ঐখানে খুজোঁ পেয়ে যাবা!!”

খিক খিক Tongue

তুমি এত্ত সুন্দর সাবলীল লেখো, কিন্তু এত্ত কম লেখো কেন?

জেবীন's picture


দুঃক্ষের কথা শুইনা হাসলা, তবে রে, জালিম! Stare জেনে রাখো এট্টুর জন্যে ইজ্জত বাচঁছে, সেই স্কুল জামানার ডিজাইনের আমার মাপের একখানা জুতা খরিদ করতে সক্ষম হইছিলাম আমি! তাই দিয়া চলতেছি! Steve

লেখাটা এত্তো বড়ো হইছিলো, সব প্রসংগ কাটিয়া ছোট করছি! জানোই তো আমি কথা বলা শুরু করলে থামি না! Sad দেখি পরের পর্ব দিমু জলদিই Laughing out loud

রায়েহাত শুভ's picture


স্কুল জমানা মানে? সেই বাটার জুতার মতন Wink

জেবীন's picture


হ! বাটার কোনটা বুঝাইলাম, সোজাকথা সামনে দিয়া আবার একটা আটকানো বেল্ট আছে! টিসু

১০

রায়েহাত শুভ's picture


হ হ... ঐগুলার কথাই কইছি Tongue

১১

সাবেকা's picture


আস্তে আস্তে একদিন সবই সয়ে যাবে । আসলে ঠিকই বলেছেন, মানুষ যেমন চোখ দিয়ে দেখে তেমনই লাগে সবকিছু ।। স্বর্গ ও নরক হয়ে যায় যদি মনে না লাগে Smile

১২

জেবীন's picture


্বালাই ষাট! এইগুলা যেন আমার সহ্য না হয়! এমন বদদোয়া দিয়েন না!! Stare

লেখাটা পড়ার জন্যে ধন্যবাদ সাবেকা। Smile

১৩

একজন মায়াবতী's picture


কি যন্ত্রনার কথা, এইদুটা একত্র করে ডাকলে আবার আমাকে ডাকা হয়ে যায়!!

Rolling On The Floor Rolling On The Floor
পুরা লেখাই খুব মজার হইসে।

১৪

জেবীন's picture


দেখছো কান্ড! Stare যদিও টের পেয়ে এই মিল বাসার কাউরে বলি নাই! Wink

থ্যাঙ্কু থ্যাঙ্কু! Laughing out loud

১৫

একজন মায়াবতী's picture


যাক তাও বাসার কেউ মিল টের পায় নাই।
আমারো আছে এরমই ধারে কাছের এক মিল। সেইটা আমার ভাই বের করসে এবং সবাইরে বইলা দিসে At Wits End

১৬

জেবীন's picture


সব্বাই যখন জানছে, আমরাও বাদ থাকি কেন? টেল টেল, বলো বলো! Laughing out loud

১৭

সাবেকা's picture


আপনার জুতার ব্যাপারে বলছি, এক কাজ করতে পারেন, জুতো পরার দরকার কি বরং ট্রেইনারস পরেন, পায়ে আরাম পাবেন হাটতেও সুবিধা । আমি নিজে পরি তো তাই বললাম আশা করি মনে কিছু নিবেন না Smile

১৮

জেবীন's picture


মনে করার কিছু নাই, থ্যাঙ্কস। কিন্তু যত যাই হোক জুতা তো লাগেই Laughing out loud যদিও সাজগোজের ঢংঢাং অনেক কমাইছি, নাই বললেই প্রায়

১৯

সাবেকা's picture


আমার মনেও কম দুঃখ না । সাজগোজের কোন উপলক্ষ্যই পাই না, সেই কোন আদ্যিকালে সেজেছিলাম মনেই করতে পারিনা । টিভিতে বাংলাদেশে বসবাসরত ললনাদের সাজগোজের বাহার দেখে হিংসায় মরি Sad

২০

জ্যোতি's picture


বিদেশের কতা পড়লে তো বিদেশ যাইতে মঞ্চায়।:(
দারুণ পোষ্ট। কত সুন্দর লিখ তুমি!

২১

জেবীন's picture


যাও গিয়া, জীবনের সব ভালোমন্দ মিশায়ে আনন্দে থাকা যায় যেখানে ওইখনেই যাওয়া উচিত।

সুন্দর আমি (যদিও কেউ কয় নাই, তাই নিজেই কইলাম!!) সুন্দর করে লিখছি বলেই সুন্দর তোমার কাছে পড়তে সুন্দর লাগছে!! Tongue

২২

তানবীরা's picture


লেখা কেটে ছোট করার জন্যে তোমাকে মাইনাস

নিজেকে হারিয়ে যেনো পাই ফিরে ফিরে /// তেলাপোকা ছাড়া বাকি সব ঠিকাছে

Wink Wink Tongue Tongue

ডোন্ট ওয়ারি, বি হ্যাপি, একদিন সব সহ্য হয়ে যাবে Big smile

২৩

জেবীন's picture


আরে, বিশাল লেখা হইছিলো! না ছোট করে উপায় আছে! Stare মিলছে তাহলে!! Wink Tongue

আফা গো, এমনিই আপ্নের বলা এক কথায় খুব আতঙ্কে আছি, ওই যে বলছিলেন, "একবার বৈদেশ আসছো মনা, বাড়ী যামু যামু করে কাইন্দা জীবন পার করবা, যাওয়া আর হবে না!!" এখন আবার মানিয়ে যাবার এমন বদদোয়া দিয়েন না!! Sad(

২৪

লীনা দিলরুবা's picture


ফুলে সুবাস থাকবে কোত্থেকে Puzzled তোরে কে কইছে বিদেশে যাইতে Steve

তোর লেখা পড়তে দারুণ লাগেরে...

২৫

জেবীন's picture


ফুলের সুবাসের ব্যাপারটা কিন্তু একদমই সত্যি! আমি বেশকিছু জায়গা খেয়াল করলাম! আজব কথা হলো এত্তো বিরাট বিরাট গোলাপ তাতেও যেন গন্ধ নাই! খুব কাছে গেলে তখন এটতু পাওয়া যায়! কিন্তু দেখতে দারুন। Stare
মানুষ মাত্রই ভুল করে গো বইন, ম্যান ইজ মর্টাল! Stare আমি জীবনে যাই শিখছি অনেক মূল্য দিয়ে!! সেই খরচের হিসাব আবার আজীবন মনে খচখচাইয়া বিধেঁ!!! Sad

থ্যাঙ্কু থ্যাঙ্কু Big smile কতো কথা যে জমছে! কথা না বলার কষ্ট মারাত্নক!!

২৬

লীনা দিলরুবা's picture


ফুলের এই গল্পটা হুমাযুন আহমেদের কোন একটা বইতে (সম্ভবত মে ফ্লাওয়ার) পড়ছিলাম।

শেখার কোনো শেষ নেই, শেখার চেষ্টা বৃথা তাই Tongue
কথা না বলে থাকার কোনো মানে নাই, চলে আয়

২৭

হাসান রায়হান's picture


টপক্লাস হইছে লেখাটা। পড়তে পড়তে খারাপ লাগতেছিল সব ডলার বাসের টিকিট, ফাইন এইসবের পিছনে চলে যাতেছিল বলে Smile

২৮

জেবীন's picture


ইকনমিক্স ক্লাশে শুনলাম, এইখানে নাকি আর্নিং রেইট গড়পড়তা অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু রোজগার যেমন বেশি খরচও অনেক! টাকা বার হয়ে যায় হু হু করে!! Stare

থ্যাঙ্কু থ্যঙ্কু! Laughing out loud

২৯

লাবণী's picture


“বড়দের সেকশন বাদ দিয়ে বাচ্চাদের ঐখানে খুজোঁ পেয়ে যাবা!!”

হোহোহোহো...
জেবীন আপু, চমৎকার লিখেছেন!
মজা পেলাম, তাই কোক খান

৩০

জেবীন's picture


লেখা পড়ে মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ লাবনী Smile

৩১

কারিমাট's picture


ভালই লাগলো
প্রবাস টা এমনই অনেক মজার সব কান্ডকারখানা

৩২

জেবীন's picture


মজা সবখানেই আছে, প্রবাস আবার স্বদেশ কি? খালি মন যেখানে লাগে আর কি! একজনে বলছিলো, "যখন দেখবা কিছু দেখে মজা পাচ্ছো না, অবাক হচ্ছো না, সে খুবই সামান্য কিছুই হোক না কেন, বুঝবা মন মরে যাচ্ছে, সেটা মোটেই হতে দিবে না!" Smile

৩৩

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


দারুণ...চলুক

~

৩৪

জেবীন's picture


হ! খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে আর কি! Smile

পড়ার জন্যে থ্যাঙ্কস

৩৫

মাহবুব সুমন's picture


Smile

৩৬

জেবীন's picture


কেবল হাসি দিলেন যে! কিছু বললেন না?
আপ্নের অভিজ্ঞতাতো এইখানে বেশিই, ভুল কিছু বলতেই পারি, সংশোধন করে দিয়েন তেমন হলে।

Smile

৩৭

শওকত মাসুম's picture


তুমি জানো তুমি কতো ভাল লেখো?

৩৮

জেবীন's picture


:\ Laughing out loud

৩৯

নাহীদ Hossain's picture


খুবই ফ্যাসাদের মধ্যে আছেন তাইলে
যাক বেশি বেশি দুঃখ কইরেন না Sad(
লেখা অসম্ভব লাইক Big smile

৪০

জেবীন's picture


অসম্ভব লাইক'টার জন্যে সম্ভবপর থ্যঙ্কস! Laughing out loud

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.