শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের .....“ষোল নম্বর ফটিক ঘোষ”
এ্যাডভেঞ্চার, রোমাঞ্চকর, ভূতুড়ে নাকি রহস্য ভরা গল্প কি বলবো ভেবেই পাচ্ছি না, একদম সঠিক নামই দেয়া হয়েছে এর “অদ্ভুতুড়ে সিরিজ”! এই সিরিজেরই এক গল্প “ষোল নম্বর ফটিক ঘোষ”। ফটিক নামটা পড়লেই লাগে কিশোরোপযোগী কোন গল্প! হ্যাঁ, তাইই, তবে মূলত গ্রামের পটভূমিতে লেখা এই সিরিজের গল্পগুলোর মজায় ডুবে যেতে আপনার বয়েস কোন বাধাই হবে না, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা এই গল্পগুলো এমনই।
ফটিক আর নিতাই দু’বন্ধুর দোগাছা গ্রামের উদ্দেশ্য যাত্রা আর সেখানে পৌছে নানান কান্ড নিয়েই এই গল্প। সেই যে সুকুমার রায়ের 'খিচুড়ি' ছড়াটা আছে না, “হাসঁ ছিলো,সজারুও, (ব্যাকরন মানি না), হয়ে গেলো 'হাসঁজারু' কেমনে তা জানি না”। তেমনি কাহিনীর পরবর্তীতে কি আসছে তা কল্পনা করাও যেন কল্পনাতীত! কুমির টিকটিকি হয়ে গেলো, ভূতেরা ঘাড়মটকানো বাদ দিয়ে দাবা খেলছে, কাপালিক বলি দেয়ার বদলে দু’ফোটা রক্তেই খুশি, ডাইনিবুড়ি মন্তর ভুলে যাচ্ছে –আরো কত কি! আর বইটা নামেই তো আগ্রহ জাগানিয়া, ফটিক ঘোষ সে আবার নম্বরে গোনা হচ্ছে কেন!
ঘটনার ঘনঘটায় ধুনদ্ধুমার সব কান্ড ঘটছে, কিন্তু সব পরিস্থিতিতেই একটা সুখকর ফলাফল এসে যাচ্ছে, ঠিক ছোট্টবেলায় শোনা গল্পগুলোর সমাপ্তিতে যেমন থাকে, “তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো” তেমনি কিছু। এতে করে পাঠকের নিজের মাঝেই যেন এক আশাজাগানিয়া শক্তি পেয়ে যাই, যে এই বাধাঁতো কিছুই না ওদের জন্যে ঠিকই পেরিয়ে যাবে। আবার নিজেই কল্পনা করতে বসে যাই, যে ওমন কাজ করেই হয়তো কার্যোদ্ধার করে ফেলবে ছোকরা দু’টা। যতই পড়তে থাকি মজা বাড়তে থাকে।
নানান মজার কথোপকথণ আছে, এক আলসে পুলিশের অংশটুকু তুলে দিচ্ছি,
- তাহলে দু’জন নিরীহ ছেলে কি আপনার চোখের সামনে মরবে?
- না না, চোখের সামনে মরবে কেন? চোখের সামনে তো মরছে না! আমিতো কিছু দেখতেই পাচ্ছি না। যা হচ্ছে চোখের আড়ালেই তো হচ্ছে!
তবে যে যেমনই বলুক না কেন, আমাদের পুলিশের লিডার সাহারা খাতুনের বানীসমূহ যে দিন দিন কালোত্তীর্ন হচ্ছে, অস্বীকার করার জো কারুরই নাই এতে।
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের “ষোল নম্বর ফটিক ঘোষ” বইটা পড়তে গিয়ে যা লেগেছে তা হলো যে, এত্তো দারুন বই ঝুপ করেই শেষ করে দেয়া অন্যায়! বড়োই অন্যায়! তবে, ছোট্ট হলেও বইটার স্বাদ দারুন মনরোচক! (বইকে কি আর মুখরোচক বলা চলে!)
এমনিই দারুন মজার আরেকটা বই হলো “পটাশগড়ের জঙ্গল”, একই লেখকেরই। এই সিরিজেরই কি? মনে করতে পারছি না। কিন্তু এ্যাডভেঞ্চার, রোমাঞ্চকর, ভূতুড়ে এবং রহস্যময় কাহিনীর এমন উলোটপুরান কান্ড “পটাশগড়ের জঙ্গল” বইয়ে আরো বেশিই আছে। অনেকদিন আগে পড়া, কিন্তু ওটা পড়ে দারুন মজা পেয়েছিলাম।
“ষোল নম্বর ফটিক ঘোষ” বইটা পড়তে পারলাম বন্ধুব্লগার “মানুষ” এর সৌজন্যে, যে কিনা রম্য, কবিতা, গল্প লেখাতে সমান সিদ্ধহস্ত, ধন্যবাদ নাই বা দিলাম আমরা আমরাই তো! বইটার পিডিএফ পাবেন এখানে। পড়ে দেখুন, কিছুক্ষনের জন্যে হলেও মজার এক জগত থেকে ঘুরে আসবেন অবশ্যই।





শীর্ষেন্দু'র অদ্ভুতুরে সিরিজ এখনো পাইলে গোগ্রাসে গিলি...এক একটা বই হাজার বার। "মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি" তো আমার সর্বকালে সেরা পাঁচ বইয়ের লিস্টে আছে। তার রাজনৈতিক স্যাটায়ারের জায়গাটা অসাধারণ। আপনার লেখাটা আবারো পড়ার ইচ্ছাটা জাগাইয়া দিলো...
মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি - পড়িনি, খুজেঁ দেখি ই-বুক আছে কিনা কোন। আর তার স্যটায়ারের কথাগুলার সাথে একমত।
শীর্ষেন্দু আমার প্রিয় লেখকদের একজন।
আমারো
লেখা পড়ে গল্পটা পড়ার আগ্রহ হলো। লেখা এবং লিংকুর জন্য
আগ্রহ জাগাইতে পারলাম তাইলে!
প্রিয় লেখকের একটি ভালো বইয়ে লিংক। ধন্যবাদ
ডাউনলোডাইয়া পইড়াও ফেললাম। মজা লাগছে
বই পড়ে তো মজা পাবারই কথা, রিভিয় মিলছে কেমন?
রমজান লিংক দিছিলো, নামাইছি অনেক আগে এখনো পড়ি নাই.... এইবার পড়ুম
'পটাসগড়ের জঙ্গলে' ও কিশোর উপন্যাস কিন্তু অদ্ভুতুরে সিরিজের নয়।
অসংখ্য ধন্যবাদ এই লেখাটার জন্য।
শীর্ষেন্দুর ছোটদের লেখার অসাধারণ স্বাদ অনেকেরই চাখা হয়না!
গোগ্রাসে গিলি শীর্ষেন্দুর এইসব অদ্ভুতুরে কাহিনী যত।
আমার সবচাইতে প্রিয় গুলো হল :
পাতালঘর,
গোঁসাইবাগানের ভুত,
ভুতুরে ঘড়ি,
গৌরের কবচ। আরও অনেক..
্পটাশগড়ের জঙ্গল - অদ্ভুতুড়ে সিরিজেরই, ই-বুক পাইছি, লিঙ্ক বানানো নাই বলে দিতে পারলাম না এখানে। ফটিক'টার লিঙ্ক আমাদের রন করে দিয়েছিলো, তাই দিয়েছিলাম।
সবগুলা পড়া হয় নাই
ডাউনলোড করে রাখলা্ম,২ পাতা পড়লাম, বাকি অংশ সময় বের করে পড়ে নিব। একসাথে পড়ে মজা নষ্ট করতে চাইনা।
শীর্ষেন্দু আমার প্রিয় লেখকদের একজন ছিলেন। উনি আজকাল এতো ধার্মিক হয়েছেন যে উপন্যাসের মাঝেও ধর্ম প্রচার শুরু করেন অনুভব হয়।
সময় পেলে পড়ে দেখবো নে কিন্তু বইয়ের চেয়েও মনে হচ্ছে রিভিউ দারুন হয়েছে। আপু আপনার নাম আরো ঘন ঘন ব্লগ পাতায় দেখতে চাইইইইই
শীর্ষেন্দু'র এই ধার্মিকতার কথা আরো কে যেন বলেছিলেন, খেয়াল করি নাই।
রিভিঊ কিছু হইছে কিনা তা বই না পড়লে কেম্নে বুঝবেন।
আরো ঘনঘন পোষ্ট দিতে বলতেছেন! এই মাসে কত্তোগুলা দিলাম! 
মন্তব্য করুন