ইউজার লগইন

দিবস ধরে না, মা ভালোবাসি, ভালোবাসবো, ভালোবাসছি জন্মাবধি ...

শবেবরাত খুব করে মানি, ছোটকাল থেকেই যত্ন করে নামায-কোরান পড়তাম। সাধারনত শীতকালেই শবেবরাত হতো। খুব হিম থাকলেও গোসল করে নামায পড়তাম পাল্লা দিয়ে ভাইবোনেরা, কে কতদূর কোরানশরীফ পড়বো তাও ঠিক করতাম, একজন ঝিমানো শুরু করলে অন্যে গিয়ে চা বানিয়ে এনে ঘুম তাড়াতাম। মন মতোন সব হলে, পরেরদিন অন্যরকম এক মজা পেতাম, সারা বছরের জন্যে বরাতে অবশ্যই ভালোকিছু হবে ভেবে! ভবিষ্যতের চিন্তা কি ধীরে ধীরে ছেড়ে দিয়েছিলাম, নয়তো ইদানিং আগের মতোন সেই উদ্যোমে শবেবরাত পালন করি না কেন যে। অন্যকিছুর জন্যে একটুও আফসোস নাই, কিন্তু গত প্রায় দু’বছর সে এক ভীষন না পাওয়া এই ভাবনাটা এনে দিয়েছে, কোন পাপে আল্লাহ বরাতে এই শাস্তি দিলেন!

আমাদের সব ভাইবোনদের এই বুড়াকালেও মায়ের জুড়িদার খাটেই ভালো ঘুম আসে! নিজেরাই মাঝে মাঝে অবাক হই আমরা, যে কি করে এই বিছানাটাতে শুলেই রাজ্যের ঘুম নামে চোখে! মা ন্যেওটা যাকে বলে কাটাঁয় কাটাঁয় তাই আমি। দিনভর তো তার পেছন পেছনই থাকতাম, একবিন্দু নিঃশ্বাস ফেলার জো ছিলো না তার একলার। একবার কোথায় জানি যাবার সময় আমাকে নেয়ার ইচ্ছে ছিলো না আম্মার, তাই নিজেই রেডি হলাম, দেখা গেছে ছবিতে যে পায়ে এক মোজা বড়ো আর অন্যটা ছোট্ট! আরেকবার, ভাইদের কাছে রেখে গিয়েছিলো, এত্তো চিৎকার আর জ্বালাচ্ছিলাম যে ওরা বাসার উঠানের পেয়ারা গাছের সাথে বেধেঁ রেখেছিলো! সেই অনেক কান্ড এমনিতর আছে। অনেক বড়বেলা অব্দি মায়ের সাথে ঘুমাতাম, আম্মার আচঁলে আঙ্গুল বেধেঁ! ঘুম ভেঙ্গে যখন দেখতাম সকালে আছি আপুর বিছানায় চিল্লাপাল্লা চলতো আমার অনেকক্ষন। আমাকে কাছ ছাড়া করতে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়েছে আম্মাকে। অনেক কিছুকে পাত্তা দিলেও, দূরদর্শী মা আমার, কখনোই অযাচিত আবদারকে পাত্তা দেন নাই, তখন লাগতো মা কি ভীষন খারাপ! কেন এমন রূঢ় আচরন করে!

আমার জন্যে সেই জন্মাব্দি মা কষ্টই পেয়ে আসছেন, এখনো পাচ্ছেন, আরো পাবেন! আমি কিছু অকান্ড করলে কেউ আমাকে কিচ্ছু বলে না, আম্মাকে ঝাড়ি দিয়ে বলে, “আপ্নের কারনেই এই মেয়ে এত্তো ঘাড়ত্যাড়া, আজীবন ওর দোষগুলোকে লাই দিয়ে আসছেন! এখন দেখেন এ কি হইছে দিন কে দিন! আপ্নিও পারেন না ওকে সামলাতে!”

সবকথা, সবটাই বলি, বলেছি আম্মাকে, সেটা কান্ড-অকান্ড যাই করি না কেন, হ্যা সময় নিয়েই বলি যদিও। একদিন ঝোকেঁর বশেই সক্কালে উঠে ঘুমভাঙ্গা চোখেই বলা শুরু করলাম, সিম্পল করে এক লুকানো কথা! চুপ করে কিছুক্ষন শুনে, বুঝে নাকি এড়িয়ে যেতেই বললেন, “অনেক ফাইজলামি হইছে! বাজে কথা বাদ দে! উঠে গিয়ে ফ্রেশ হ!” এরপর একবারও এই নিয়ে কথা বলেন নাই দেখে অবাক হয়েছি। কোনদিন বলি নাই, “মা অনেক ভালবাসি, সবচেয়ে ভালোবাসি তোমাকে। কারনে অকারনে গায়ে গা না ঘষলে, এমনি এমনি গায়ের সুবাস না নিলে, সারাক্ষন চোখে না রাখলে আমার বুক ভরে না, অহেতুক ঘ্যানঘ্যান না করলে আমার দিন যায় না”।

হ্যা, মা’কে ছেড়ে আমি কোথাও থাকিনি, ক্যাডেটে যাইনি কেবল মা ছাড়া থাকতে হবে বলে, খালাতোভাই এডজুটেন্ট ছিলেন সেসময় উনার ঝাড়ি খেলাম। ইন্টার্নি করেই গ্ল্যাক্সোতে চাকরী হলো চট্টগ্রামে সবরকমের সুবিধা নিয়ে, ভাইয়ার অনেক বকুনিতেও যাইনি। সেই শবেবরাতের কথাতেই ফিরে আসি। আল্লাহ বরাতে এতোই মন্দ লিখলেন যে, মা’কে দেখি না এত্তো এত্তোদিন। টেকনোলজির বদৌলতে এটা হয়তো কোন ব্যাপারই না। কিন্তু আমার জেদ, নিজের দোষের কারনেই তো কপালে এই কষ্ট জুটেছে, তো এই কষ্টটাও নিজেকে পেতে দিবো, প্রায়শ্চিত্ত করেই না হয় বাড়ি গিয়ে মা’কে দেখবো।

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মেসবাহ য়াযাদ's picture


মা'র কাছে ফিরে আসার মত 'সুখ' এই জীবনে আর নেই জেবীন

রায়েহাত শুভ's picture


মা এর জন্য ভালোবাসা...

শওকত মাসুম's picture


চলে আসো তাইলে দেশে Smile

লিজা's picture


তুমি দেশে চলে আসো । যত কষ্টই তোমার থাক । মা সব দূর করে দেবে ।

নিকোলাস's picture


হুম....... ঠিক কথা। চইলা আসেন............

সাঈদ's picture


Sad

রাসেল আশরাফ's picture


প্রায়শ্চিত্ত করেই না হয় বাড়ি গিয়ে মা’কে দেখবো।

হুম কথা সেটাই। Sad

হাসান আদনান's picture


ভবিষ্যতের কথা তো ভবিতব্য জানে - আজ দিনটাই যে বঞ্চনার - বিলম্বে ভাগ্য বিরূপ হয় - কালক্ষেপণের প্রয়োজনটাই বা কি - কন্যা - তুমি ফিরে যাও - ফিরে যাও মায়ের কোলে.

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


:'(

টিপ সই

আইসা পড়েন, মায়েরা এত প্রায়শ্চিৎ এর ধার ধারেন না।

১০

তানবীরা's picture


হুম Big smile

১১

লাবণী's picture


চলে আসেন--জলদি জলদি Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.