লিজা'এর ব্লগ
কবিতার চলাচল
কবিতার কাছে সব বলা যায়,
প্রিয়জনের শপথের চেয়েও যে বেশী আপন
নিজের সেই একান্ত গোপনীয়তা, সেতো কবিতায় প্রকাশ।
কবিতাই পারে মুখোশ খুলতে,
অতিমানবকে টেনে হিঁচড়ে জনারণ্যে দাঁড় করাতে
কবিতাই পারঙ্গম।
কবিতারা যুদ্ধ করে।
রেসের ময়দানে দাঁড়িয়ে জ্বালাময়ী ভাষন , সে তো কবিতাই।
আবার সীমাহীন আকাশ, সফেন সমুদ্র আর
অবারিত সবুজ
এক একটা নিটোল কবিতা নয় কি?
কবিতা মহাকালের মত, প্রাচীন জনপদের মত।
নরম কোন গানের মত।
আবার ঝরে পড়া বৃষ্টির শব্দ-
জাল বুনে বুনে কখনও
তৈরী করে কবিতা।
কবিতা নারী হতে জানে,
হতে জানে আবেগী যুবক-
তুলতুলে শিশুও হয় কখনও।
আর হয় প্রাচীন, অভিজ্ঞ কোন বৃদ্ধ কবিতা।
ঝুলে পড়া চামরায়
ত্বকের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে জমা হয় যার অশেষ বাণী;
কবিতারা মানুষের মিছিলের মত;
তাদের হাতে প্রজ্জ্বলিত মশালের মত;
কবিতা কেঁপে কেঁপে ওঠা হাওয়ার মত;
কবিতা যুদ্ধ শেষে ঘরে ফেরা কিশোরের মত।
একটুখানি ছোটবেলা
নিচের খানিকটা কংক্রিটের খোলা জায়গা আছে আমাদের বাসার সামনে। সেইখানে গাড়ী রাখাও চলে আবার বাচ্চারা খেলাধুলাও করে। সব হয় ওই একটু জায়গাতেই। ওইখানেই দেখলাম কয়দিন আগে ব্যাডমিন্টন এর কোট কাটা হয়েছে। পিচ্চিরা খেলে দিনে আর রাতে বুড়োগুলো। আজকে কয় পিচ্চি খেলতেছে, আহিয়ানকে চেনা যাচ্ছে । ছেলেটার খেলা ভালো। আমরাও একসময় খেলতাম। মনে হল সে অনেক আগের ঘটনা। আমাদের খেলার জন্য অনেক মাঠ ছিল। বাসার পাশের ছোট মাঠ, পুকুর পাড়ের বড় মাঠ। তাছাড়া উপজেলা পরিষদের মাঠও ছিল। যেখানে ইচ্ছা খেলো। আমরা রাতে বাল্ব জ্বালিয়ে ছোট মাঠে খেলতাম। মেয়েরা আর ছেলেরা। আমাদের মধ্যে মিঠু ভাই আর সুমন ভাই ভালো খেলতো। ওদের সাথে আমরা পারতামনা, তাও ওরা আমাদেরকে খেলতে নিতো। ছোট বোন বলে কথা। ওরা এই খেলায় না নিলে যে সাতচারা খেলায় ওদেরকেও আমরা নেবনা। আমাদের ভিতর বকুল ভাই নামে সবচেয়ে বড় এক ভাইয়া ছিল। সে অনেক বড়। কিন্তু সেইখানে তার কোন সমবয়সী না থাকায়
বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা সবাইকে।
একটা দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে অনেক রক্ত ঝরবে, শহীদ হবে যোদ্ধা আর মানুষ হারাবে তাদের প্রিয়জন, এটাই পৃথিবীর অলিখিত নিয়ম। এটা ঘটবেই আর আমরা স্বাভাবিক বলে মেনে নেব শত কষ্ট হলেও। যারা প্রিয়জন হারায় তারাও একসময় এটা মেনে নেয় কারণ দেশকে মুক্ত করতে গিয়ে জীবন দিয়েছে তাদের বাবা, মা,ভাই, বোন, স্বামী, সন্তান। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রহসন হল সেই সব সূর্য সন্তানদের ইচ্ছা করে ভুলে যাওয়া, তাদের অপমান করা। যারা ছিল স্বাধীনতা বিরোধী তারা আজ মুখোশধারী দেশপ্রেমিক সেজেছে । আর কত মুক্তিযোদ্ধা ন্যূনতম সম্মানটুকুও পায়না। দোষ আসলে আমাদেরই। আমরা জানি কে শয়তান কে ভাল, তারপরও আমরা শয়তানকে মাথায় তুলে নাচি। ৩৮ বছর আগের ইতিহাস হাসিমুখে ভুলে গিয়ে ভন্ডদের মিষ্টি কথায় মাথা ঝাকিয়ে চলি। আমরা সুতো দিয়ে ঝুলানো পুতুলের মত আচরণ করি মাঝে মাঝে।
প্রেম বা ভাঙনের গল্প (অনুগল্প)
কারও হৃদয় কখনও যদি প্রেম শূন্য হয় তখন সে বেঁচে থাকে কিভাবে?
এ প্রশ্নটি করেছিল অনিল, হেমাকে।
বেঁচে থাকে, থাকে মৃত শহরের মতন..........হেমার হালকা জবাব ছিল।
সত্যি......... বলেছ বেশ, মৃত শহরের মত, যা কিনা অন্তসারশূন্য। অনিল কথাটি এমনিই বলেছিল আর হেসেছিল হেমা।
হৃদয় কখনও প্রেমশূন্য হয় তা ছিল অচিন্তনীয়। হেমা হাটত, অনিলও পাশাপাশি। বহুদূর বহুক্ষন ধরে তারা হেটে যেত। বৈশাখের উদাস হাওয়া থেকে বসন্তের কচি ঘাস মাড়িয়ে তারা হাটত।। অনিল কখনও হঠাৎ চমকে উঠত হেমার হাত হারিয়ে। হেমার হাতে তখন হয়তো বকুল বা শিউলী।
সে ফুল একটু পরে অবহেলায় মাটিতে, সে হাত অনিলের হাতে।
এভাবে কত সোনারঙা দিন যে তাদের আবেশে কেটে গেছে। কত কিছু তখন তুচ্ছ মনে হত এই ভাবে দিনযাপনের পাশে। ক্লাশের পড়া, বন্ধুত্বের উষ্ণ আবাহন, জ্বরা ব্যাধি সব, সব কিছুই তুচ্ছ মনে হত তখন। শুধু যেন হেটে চলা, দুজনে পাশাপাশি।
বাজে কথার ঝাপি
আমরা বন্ধুতে আমি নতুন, এই সাইটে আগে ঢুকিনি কখনো। ঠিক জানিনা কত শক্তিশালী ব্লগার এখানে আছে
, তারা কি লেখে। তাই সদস্য হবার পরেও সাহস করে কিছু লিখিনি। হঠাৎ করে আজকে কিছু একটা লিখতে ইচ্ছা করছিল খুব, তাই বসলাম লিখতে। কিন্তু লোডশেডিং মামা শুরুতেই দিল বাগড়া। ওনার মন বোঝা তো মুশকিল। কথায় বলে নারীর মন নাকি দেবতারাও বোঝেননা। কথাটা এখনকার জন্য হবে, বিদ্যুতের মন স্বয়ং দেবতারাও বোঝেননা। এক ঘন্টা পর উনি এলেন আর আমি তাই এখন আমার বুড়ো কম্পিউটারের সামনে।
কিন্তু যা লিখতে চেয়েছিলাম তা লেখার আর মুড নেই। এরকম ফাঁকা মন নিয়ে কিছু লেখা উচিত না। তাই আজ এখানেই শেষ।