ঢাকা-টু-পাবনা, জর্নি বাই বাস
............................................................................................................................................................................................................................
নতুন বউ সবসময়ই বিভ্রান্তিকর। চেহারা কেমন বুঝা যায় না। সব নতুন বউই দেখতে ভাল। আমার পাশের সিটে নতুন বউ। তাকেও দেখতে ভাল লাগছে। পাশে মেয়েটির নতুন বর।
যাচ্ছিলাম পাবনায়। ৬ ঘন্টার লম্বা রাস্তা। আমার ঠিক পাশের সিটে নতুন এই দম্পতি। মেয়েটি একটা লাল টুকটুকে শাড়ি পড়া। গলায়, কানে, হাতে বড় বড় গহনা। আর বরটির হাতে রেমন্ডের স্যুটের এক কাভার, অতি যত্নে ধরা। আরেক হাতে খাবারের প্যাকেট।
দেখে মনে হচ্ছিল সদ্য হানিমুন ফেরত। এখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। মনে হল বাস ভ্রমন খারাপ হবে না। আর আমার ঠিক পাশেই বলে না চাইলেও দেখতে হবে তাদের। যদি না বাসের দুলুনিতে ঘুমিয়ে পড়ি। দুলুনিতে ঘুমানোর একটা গল্প বলি।
ডাক্তারের কাছে গেছে রোগি।
-ডাক্তার সাহেব, আমার নতুন বউ পাঠিয়েছে আপনার কাছে
-কি হয়েছে আপনার?
-ডাক্তার সাহেব, আমি প্রতিদিন দুই ঘন্টা ট্রেনে করে কাজে যাই, ফিরিও দুই ঘন্টা ট্রেনে করে।
-তাতে সমস্যা কী
-ট্রেনের দুলুনিতে আমার ঘুম এসে যায়, গভীর ঘুম দেই
-ভাল তো, কিন্তু সমস্যাটা কোথায়?
-ডাক্তার সাহেব, অভ্যাসটা বাসায়ও রয়ে গেছে।
এরা নতুন দম্পতি, দুলুনিতে ঘুমানোর অভ্যাস হয় নাই। ফলে পুরোটা রাস্তা তারা কুটুর কুটুর করে কাটিয়ে দিলো। এবার তাদের খাদ্য তালিকার দিকে নজর দেওয়া যায়। ছেলেটি প্রথমেই ফ্রুটিকার একটা বড় বোতলের ছিপি খুলে খেতে শুরু করলো। রস খাওয়ার অভ্যাসটি এখনও রপ্ত করতে পারেনি। তাই দেখলাম রস মুখ বেয়ে পড়ছে, লাগছে জামায়। বউটির হাতে একটা টিস্যুর ছোট্ট প্যাকেট। সেখান থেকে একটা টিস্যু বের করে যত্ন করে বরটির মুখ মুছিয়ে দিল।
নতুন বউটিকে দেখলাম বিচি জাতীয় খাবারের দিকে অসীম আগ্রহ। প্রথমে খেলো বাদাম। কিছুক্ষণ পর দেখি প্রাণ ডাল ভাজা। তারপর খেলো মটর ভাজা। তারপর ছেলেটা আবার একটা টিস্যু বের করলো, নিজের মুখ মুছলো, তারপর সেই একই টিস্যু দিয়ে মেয়েটির মুখ মুছিয়ে দিলো। আহা!
বরটির আবার আরেক সমস্যা আছে। সেই যে বাসে ওঠার পর থেকে বাম দিকে কাত হলো, পুরো রাস্তায় কখনো সোজা হয়ে বসতে দেখলাম না। সমস্যা আছে বাম হাতেও। কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে থাকে না। বার বার বউটির কাছে চলে যায়। কখনো কাঁধে, কখনো এখানে, কখনো সেখানে।
নতুন দম্পতির রোমান্টিক সিনেমা দেখতে দেখতে সময়টা ভালই কাটলো আমার। ওদের ঠিক সামনেই বসা আরেক দম্পতি। হয়তো নতুন দম্পতির ভবিষ্যৎ এরাই।
এই দম্পতি মধ্য বয়স্ক। জাদলের শব্দটির অর্থ যারা জানেন না, তারাও বউটিকে দেখলে বুঝবেন জাদরেল শব্দের কী অর্থ। পুরো রাস্তায় তারা কথা বললো একবারই, শুরুতে। বাস তখনো ছাড়েনি। মধ্য বয়স্ক মানুষটি এক লিটারের এক বোতল স্প্রাইট নিয়ে আসলো। বোতল দেখেই এক ধমক দিল বউটি। বললো, ‘একটা কাজও ঠিকমতো করতে পারো না। বললাম কোক আনতে, আনলা স্প্রাইট।’ জবাবে জামাইটি মিউ মিউ করে কি বললো ঠিক শুনতে পারি নাই। বাকি পুরোটা পথ লোকটি ডানদিকে বসা এক ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলেই কাটিয়ে দিল। বিষয়বস্তু হচ্ছে, এই দেশটির কিছু হচ্ছে না। মির্জাপুরে দীর্ঘ জ্যামের কারণে অনেকক্ষণ বাস একজায়গাতেই দাঁড়িয়ে ছিল। আমরা অনেকেই নীচে নেমেছিলাম। বাস যখন আবার ছাড়লো দেখি লোকটি একটা কোকের বোতল কিনে আনলো আর সেই জাদরেল সেটাই খেলো।
লোকটির অবশ্য একটা কাজ ছিল। ছোট একটা স্যুটকেস, সিটের ডানদিকে রাখা। লোকটির কাজ হচ্ছে সেই স্যুটকেসটি ঠিকঠাক রাখা। বার বার সেটি সরে যায়, আর লোকটি জায়গায় ফিরিয়ে আনে। ভাঙা স্যুটকেসটির প্রতি তার ভালবাসা ছিল দেখার মতো।
সেই গল্পটি আমি আর বলবো না। গল্পটি পুরোনো। সবাই জানেন। তাছাড়া এরকম নারীবিদ্বেষী গল্প বলাটাও ঠিক না। সেই যে, সেই গল্পটা। বুঝতে পারছেন না? সেই যে-‘স্ত্রী হচ্ছে ভাঙা স্যুটকেসের মতো, ফেলেও দেওয়া যায় না, আর বহন করাও মুশকিল।’





বিবাহ বার্ষিকির ২দিন বাদেই নতুনবৌ-পুরানবৌ সংক্রান্ত এই লেখার মাঝে আছে কিনা কুন?
সবে পাবনা যাওয়ার কাহিনি দিলেন, নাটোর ঘুরে ঢাকা পৌছানিতে আরো কি কি জমেছে কথা?
আসার পথে কেবলই দু:খ। রাতে আসছি। পাশের লোক এমন নাক ঢাকা শুরু করছে যে কেডায় ঘুমায়! তারপর সেই লোক গাবতলী নামার সময় আমার দুই কেজি কাচাগোল্লা নিয়া চইলা গেছে। আমার পোলা মিষ্টির পাগল। মনটা খারাপ হইছিল বেজায়
কোনদিকে চাইয়া থাকেন ভাইজান? দুই কেজি কাচাগোল্লা নিয়া চইলা গেলো দেখলেন না!!!!
আর আমি না চাইতেই আমার বাসায় নাটোরের এক বন্ধু ২ কেজি কাচাগোল্লা দিয়া গেলো... সবই কোপাল
সাবলিল লেখা !!

চমৎকার।
অনিদা, এ যে দেখছি আপনার ডুপ্লিকেট!

কাহিনী তেমন জম্পেশ হয় নাই... স্ক্রিপ্ট দুর্বল... পরিচালকের আরো অনেক কিছু দেখার (নাকি বলার) ছিলো... তিনি তার দায়িত্ব ঠিকমত পালন করেন নাই... ধিক্কার
আপনার তো আবার আদিরসাত্মক কিছু না লিখলে দুর্বল বোধ করেন। আমি মাসুম, এসব লিখি না।
আহারে ... ঢাকা টু পাবনা যেতেই মাসুম পুলাটার " া " হারিয়ে গেছে, আসার সময় আরো কতো কি যে হারাবে...
~
নতুন কইরা আর কী হারাবো?
শিরোনামে জার্নি "া" হারিয়ে জর্নি হয়েছে...
~
হাহাহা। একদিন আপনিও ছিলেন নতুন দম্পতির একজন।। বাসে যাওয়ার সময় কি করলেন সেই গল্পও হয়তো কেউ করছে বন্ধুদের সাথে।।
কয়দিন আগে গেছিলাম কক্সবাজার। ফেরার পথে পিছনের সীটে বসা এক আন্টি ফোনে গল্প করে বিরাট বিনোদন দিছে। কেউ কেউ চরম বিরক্ত হইছে আর আমি আন্টি পরের কথাটা কি বলবে সেটা বলে দেখি মিলে যায়, আর মনের ভুলে জোরে জোরে হাসলে আমার পাশের লোকজনও দেখি হাসে।সে এক গল্প।
গল্পটা জমাইয়া লেইখা ফেলো
কাহিনী এত তাড়াতাড়ি শেষ কইরা দেওনের লাইগ্যা লেখকেরে কইষা মাইনাস।

ওরা তো আমারে ওদের বাসায় নেয় নায়, পরের কাহিনী কেমনে জানুম। তাই শেষ হইয়াও হইলো না শ্যাষ
মাসুম ভাই, ইদানীং আপনার ছোট ছোট বিষয়ের ভেতর থেকেও কৌতুক বের করে আনার এই ধরনটা আমার দারুণ লাগে
সহমত..
সেরাম ব্লগ,
সিক্যুয়েল চাই।
সিক্যুয়েল কেমনে হবে? ওরা ঘরের ভিতর কী করছে কেমনে বলবো??
কমন পড়ছে?
দুলুনির জোক্স টা মারাত্মক
আহালে... পুলাপাইন ... সুটকেসই পাইলো না ... তার আবার ভাঙা/ভালো
বিয়ার আগেই ডরে পইরা গেল
পুরাই উরাধুরা!
হাসতেই আছি...সেই যে পোষ্ট পড়ার শুরুতে গাল বেকা হইছে তা আর ঠিক হইতেছে না...

বাপ বেটা জিন্দাবাদ
হেহেহে, ভুল পোস্টে মন্তব্য দিছেন মনে হয়
মন্তব্য করুন