ইউজার লগইন

মেহেরজানঃ একাধিক বিয়েপাগলের সমাহার ও একটি প্রেমের ফোক ফ্যান্টাসি (মুক্তিযুদ্ধের গোলমরিচের গুড়া ফ্রি)

পরিচালকের দাবী এইটা একটা ফোক ফ্যান্টাসী।
.
তইলে আমরা সিনেমার ভিত্রে ঢুকনের আগে টিপিকাল ফোক ফ্যান্টাসীগুলানের মোটামুটি টেমপ্লেটটা দেইখা লই-

১. নায়কের বাপ অত্যাচারী সামন্ত প্রভু।
২. নায়কে আদর্শবাদী, প্রজাগো উপ্রে বাপের অত্যাচারে ত্যাক্ত; চান্স পাইলেই বাপের বিরোধীতা করে।
৩. নায়কে নাইকারে বাপের পুষা গুন্ডাগো আক্রমণের থিকা বাঁচায়। ফলশ্রুতিতে নাইকার লগে পেরেম।
৪. নাইকার বাপ/চাচা এলাকার প্রজাগো লিডার টাইপের, যার নায়কের বাপের লগে বনেনা। আবার সেয় অই অত্যাচারের এগেইন্সটেও অ্যাকশনে যাইবার চায় না তার ফলোয়ারগো কথা ভাইবা।
৫. দুই মুরুব্বীরে ফাকি দিয়া বিদ্রোহী নায়কের লগে নাইকার আগানে বাগানে পেরেম চলে। তাতে হেল্প করে এক/দুইজন ভাঁড় টাইপের লোক। যেইটা আবার নাইকার “জেনুইন” প্রেমিকের চউখে ধরা পইরা যায়।
৬. নাইকার সখি টাইপের কেউ একজন থাকে, যার উপ্রে নায়কের বাপের পাইক পেয়াদা কুনো না কুনো ভাবে জবর্দস্তি করে। আর এই জবর্দস্তির লাইগা সেই সখি নায়কের বাপের পাইক পেয়াদার উপ্রে চেইতা ফায়ার, পাইলেই ছিড়া ফেলে এরাম।
৭. এলাকায় গ্যাঞ্জাম বাধে/প্রজারা জাইগা উঠে, নাইকার বাপ/চাচার মিত্যু ঘটে, নায়কে প্রজাদের লগে মিল্যা বাপের বিরুদ্ধে খাড়ায়।
৮. শ্যাষে গিয়া নায়ক নাইকার মিল। নায়কের বাপের মিত্যু/ পরাজয়/ নিজের ভুল স্বীকার।
.
.
.
ব্লগে ব্লগে আলুচনার মাথায় থাকা “মেহেরজান” সিনেমাটা দেখতে গিয়া ৭নং পয়েন্টের অপভ্রংশ আর ৮নং পয়েন্ট পুরাই বাদ দেওয়া একটা সিনেমা দেখলাম।
.
এইখানে পরিচালকে ফোক ফ্যান্টাসীরে একটু উপ্রের লেভেলের দর্শকের কাছে পৌছানির লাইগা অন্য রকম একটা ফ্লেভার এড করছে। সেইটা হইলো আমাদের “মুক্তিযুদ্ধ”। তয় তরকারীতে লবন বেশি হইলে যেরাম বিস্বাদ হয়া যায়, সেরামই পরিচালক ছাগ্লামী টাইপের চউখ দিয়া মুক্তিযুদ্ধের লবন টেস্ট করতে গিয়া বিস্বাদ কৈরা ফেলছে। মুক্তিযুদ্ধের টাইমের কিছুই এই সিনামায় ফুটায়া তুলতে পারে নাই পরিচালকে।
.
আমার নিজের কাছে সবচাইতে ইরিটেটিং পার্ট হৈলো সিনামার নাইকার এক দলত্যাগী পাকি মতান্তরে বেলুচ সৈনিকের প্রেমে নাজেল হওয়া। আরো বড় ব্লান্ডার করছে পাকি সৈন্যরেই সবচাইতে বেশি মানবিক গুনের ধারক হিসাবে আর মুক্তিযোদ্ধাগোরে যুদ্ধবিমুখ বা যুদ্ধের ভিত্রে থাইকা অন্য ফায়দা লুটনের ধান্দায় থাকা মানুষ হিসাবে দেখানির চেষ্টা কৈরা।
.
আমার কথা হইলো হালায় ফ্যান্টাসীই যখন কর্বি তখন ভালা মতই কর। পাকি/বেলুচরে দিয়া মুক্তিযুদ্ধ করা। নায়ক নাইকার হ্যাপি এন্ডিং না দেখাইতে চাস তো হেরে মাইরাও ফালা। তা না কৈরা তার ফ্যান্টাসীর দৌড় থাইমা গেসে নায়কেরে পলাইয়া যাওন আর নাইকার একা জীবন যাপনে। শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের সিনামা নামটারে জায়েজ করনের লাইগা, আর কিছু পাবলিক সিম্প্যাথি ক্রিয়েট করনের লাইগা ফর্নাথিং সিনামার ভিতরে ১৯৭১ আর একজন যুদ্ধশিশুরে আইনা ফালায়া দিসে।। মানি, সিনামায় বাস্তবের বাইরেও অনেক কিছু বানানি জিনিস থাকে। কিন্তু আমাগো মুক্তিযুদ্ধটাতো বানানি কিছু না।
.
পরিচালকের সাক্ষাতকারে পড়লাম সে নাকি এই সিনামা বানানির আগে প্রচুর গবেষণা ইত্যাদি কর্ছে মুক্তিযুদ্ধ, বীরাঙ্গনা, যুদ্ধশিশু লইয়া। কিন্তু সেই গবেষণার প্রডাক্ট যদি হয় এই আইটেম, তাইলে আমাগো গবেষণা ছাড়াই বানানি লুতুপুতু প্রেমের সিনামাগুলা এরচাইতে অনেক গুনে ভালা। আরো একটা জিনিস পড়লাম যে সে নাকি প্রপার প্রমাণ পায় নাই যে ঠিক কত সংখ্যক নারীর উপ্রে পাকিরা নির্যাতন কর্ছে, এই প্রসঙ্গে সে বলছে সে নাকি মাত্র ১১ জনের সাক্ষাতকার পাইছে যারা তাদের উপ্রে যৌন নির্যাতনের কথা সরাসরি বলছে। এই ১১ জনের কথার থিকা তার বিচারে বেশি মূল্যায়ন পাইলো মাত্র একটা রেফারেন্স, যেইখানে আছে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীরে আর্মি ক্যাম্প থিকা পালায়া যাইতে কোন পাকি মেজর সাহায্য কর্ছে সেইটা।
এই রেফারেন্স যদি তার কাছে বেশি মূল্যায়ন না’ই পাইতো তইলে সে এটলিস্ট মুখফুইটা যৌন নির্যাতনের কথা বলা ১১ জন বীরাঙ্গনার একজনরে লইয়াই সিনামা বানানির চেষ্টা কর্তো।
.
ওভারঅল পরিচালকের পয়লা এটেম্পট হিসাবে ফোক ফ্যান্টাসী সিনামাডি কোনোমতে চলে। কিন্তু পরিচালক এই ফ্যান্টাসির লগে মুক্তিযুদ্ধের মতো একটা ইতিহাসের সময়রে জুইড়া দিয়া জিনিস্টারে পুরাই গান্ধা একটা রূপ দিয়া ফেলছে সেই সাথে নিজের গ্রহণযোগ্যতারেও প্রশ্নবিদ্ধ কৈরা ফেলছে।
.
উপসংহারের আগে-
খাজা সাহেবের অভিনয় সবচাইতে ভালো হৈছে। বাকি বয়স্ক যারা আছিলো, তারাও উত্রায়া গেছেন। তরুন লেভেলের যারা আছিলেন তারা বর্তমানে প্রচলিত কথ্যরীতিতে কথা কইছেন। সবচে বিটকেলে লাগছে কথার ভিত্রে ঠুসঠাস ইঞ্জিরি মাইরা দেওন। আমার জানামতে অইটাইমে এরম ব্যাপকহারে ইঞ্জিরি ফুটানি একটু কমই হইতো। এইখানে আমি পরিচালকের ব্যর্থতা দেখি। আরো ব্যার্থতা দেখি চরিত্রগুলার পোশাক চয়েজে, এইখানে একটু সচেতন হইলেই ব্যাপারটা এমনে কাইচা যাইতো না।
.
পুরা সিনামায় আমার সবচাইতে প্রিয় সিন হইতেছে সেইটা, যেইটায় পাকি/বেলুচ ছাগল্ডি আরেকটা জেনুইন ব্লাকবেঙ্গল ছাগলের বাচ্চারে কোলে লইয়া আদর করে।
.
ফাইনালি সব্বাইরে কই, একটু ধৈর্য ধরেন, পাইরেটেড কপি নেটে বা ৩০টাকার ডিভিডিতে আসলে সিনামাটা দেইখেন। সেই খরচটাও বেশি হইয়া যাইবো বইলাই আমার ধারণা।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নুশেরা's picture


আমার কথা হইলো হালায় ফ্যান্টাসীই যখন কর্বি তখন ভালা মতই কর। পাকি/বেলুচরে দিয়া মুক্তিযুদ্ধ করা।

Laughing out loud

পুরা সিনামায় আমার সবচাইতে প্রিয় সিন হইতেছে সেইটা, যেইটায় পাকি/বেলুচ ছাগল্ডি আরেকটা জেনুইন ব্লাকবেঙ্গল ছাগলের বাচ্চারে কোলে লইয়া আদর করে।

Rolling On The Floor

=================================================

মানি, সিনামায় বাস্তবের বাইরেও অনেক কিছু বানানি জিনিস থাকে। কিন্তু আমাগো মুক্তিযুদ্ধটাতো বানানি কিছু না।

কথা সেটাই।
গুড জব কাউয়া।

রায়েহাত শুভ's picture


আর বইলেন্না আন্টি...
একেতো ব্লগে ব্লগে এইটার পাবলিসিটি দেইখা ত্যক্ত, তার উপ্রে সিনামা দেইকহা আরো বেশি ত্যাক্ত Confused

উলটচন্ডাল's picture


পুরা সিনামায় আমার সবচাইতে প্রিয় সিন হইতেছে সেইটা, যেইটায় পাকি/বেলুচ ছাগল্ডি আরেকটা জেনুইন ব্লাকবেঙ্গল ছাগলের বাচ্চারে কোলে লইয়া আদর করে।

Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor

অসাধারণ।

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী নামের ব্যবহারটা বাণিজ্যিক - এটা আমার অভিমত।

পোস্টের ব্যঙ্গ অতি উত্তম হয়েছে।

রায়েহাত শুভ's picture


পুরো সিনেমায় মুক্তিযুদ্ধের ব্যবহারটাই আসলে বানিজ্যিক স্বার্থে করা হয়েছে এটায় দ্বি-মতের কোনৈ কারণ নাই।

আর আসলেই কৈলাম ওরাম একটা সিন আছে Smile)

নুশেরা's picture


সামুর তিঙ্কোণাযুগে ঐ সিনের ফটুক থাক্লে ব্যাপক আমোদ হৈতে পার্তো

রায়েহাত শুভ's picture


Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


নায়িকা শুনলাম ব্যাপক সোন্দর্য Love

রায়েহাত শুভ's picture


হুদা সৌন্দর্যই না, হেয় ব্যফুক ছেসকিও বটেক Tongue

লীনা দিলরুবা's picture


'মেহেরজান' সিনামাটা একটা টিস্যু পেপার। এইটা নিয়া খোঁজ দ্য সার্চের মত ঠাট্টা তামাশা করলেই জুইত পামু। বৃত্ত সুন্দর লিখছেন।

১০

রায়েহাত শুভ's picture


মেহরজান- দ্য ম্যারেজ Tongue Tongue Tongue

১১

শওকত মাসুম's picture


আমার নিজের কাছে সবচাইতে ইরিটেটিং পার্ট হৈলো সিনামার নাইকার এক দলত্যাগী পাকি মতান্তরে বেলুচ সৈনিকের প্রেমে নাজেল হওয়া। আরো বড় ব্লান্ডার করছে পাকি সৈন্যরেই সবচাইতে বেশি মানবিক গুনের ধারক হিসাবে আর মুক্তিযোদ্ধাগোরে যুদ্ধবিমুখ বা যুদ্ধের ভিত্রে থাইকা অন্য ফায়দা লুটনের ধান্দায় থাকা মানুষ হিসাবে দেখানির চেষ্টা কৈরা।

এই পার্টটা আমার কাছে সবচেয়ে আপত্তিকর লাগছে। এই মেধা নিয়া পরিচালকের দু:সাহস দেখানোটা অতি বাড়াবাড়ি মনে হইছে।
এই পরিচালকরে চটকানো উচিৎ।

আর পুরো সিনেমটাই সব দিক থেকে অতিনিম্নমানের।

অফটপিক: বৃত্তের লেখা এই পোস্টটাই আমি একমাত্র পড়ে বুঝতে পারছি

১২

রায়েহাত শুভ's picture


আর পুরো সিনেমটাই সব দিক থেকে অতিনিম্নমানের।

এইটাই হৈতেছে বটম লাইন...

অফটপিক:- যাউক এদ্দিনে একটা লেখা বুঝাইতে পার্ছি Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud

১৩

শাপলা's picture


কিন্তু আমাগো মুক্তিযুদ্ধটাতো বানানি কিছু না।

Stare Stare Stare Stare Stare
জানুয়ারী ২৮, ২০১১ - ৪:১৬ অপরাহ্ন

শওকত মাসুম |(নতুন মন্তব্য)

আমার নিজের কাছে সবচাইতে ইরিটেটিং পার্ট হৈলো সিনামার নাইকার এক দলত্যাগী পাকি মতান্তরে বেলুচ সৈনিকের প্রেমে নাজেল হওয়া। আরো বড় ব্লান্ডার করছে পাকি সৈন্যরেই সবচাইতে বেশি মানবিক গুনের ধারক হিসাবে আর মুক্তিযোদ্ধাগোরে যুদ্ধবিমুখ বা যুদ্ধের ভিত্রে থাইকা অন্য ফায়দা লুটনের ধান্দায় থাকা মানুষ হিসাবে দেখানির চেষ্টা কৈরা।

এই পার্টটা আমার কাছে সবচেয়ে আপত্তিকর লাগছে। এই মেধা নিয়া পরিচালকের দু:সাহস দেখানোটা অতি বাড়াবাড়ি মনে হইছে।
এই পরিচালকরে চটকানো উচিৎ।

আমি মাসুম ভাইয়ের সাথে একমত।

আমি ছবি দেখি নাই। দেখার খুব একটা ইচ্ছাও নাই।
তবে পরিচালকরে পেলে থাপড়ায় তার কয়েকটা দাঁত ফেলে দিতাম, এতই মাথা গরম হয়েছিল-সাক্ষাতকারটা পড়ে।

যে সব নারীরা অসম্মানিত হয়েছেন, তারা আসবেন লাইন দিয়ে ইতিহাসবেত্তাদের বাড়ি, ভাবখানা এরকম-"আস আমারে নি্যা ইতিহাস লেখ...দেখ আমি কত অসম্মানিত..।"
কেউ রীতিমত ইতর না হলে, এভাবে সংখ্যা গুনতে যায় না। দৌঁড় কতদূর বোঝা গেছে। হ্য়তো "আমি বীরাঙ্গনা বলছি" পড়েই...গবেষনা শেষ করেছে এবং হিসেবটা বের করেছে।
পরিচালকের কাছে হিসাব এবং রেফারেন্স চাওয়া উচিত, কয়টা পাকির লগে প্রেম করে বাঙ্গালী নারী দিওয়ানা হয়েছে। যদি একটাও এরকম ঘটনা ঘটে থাকে, সেটা নিয়েই চলচ্চিত্রের মত এত বড় মাত্রার একটা কাজ করে ফেলার সাহস দেখাল?

এতটাই রাগ হয়েছে যে, গুছিয়ে আর কিছু বলতেও পারছি না। প্লীজ এই বিষয়টা আর ব্লগে না আনলেই মাথাটা ঠাণ্ডা থাকে।

১৪

রায়েহাত শুভ's picture


পড়ার জন্য ধন্যবাদ...

১৫

মাইনুল এইচ সিরাজী's picture


ফাইনালি সব্বাইরে কই, একটু ধৈর্য ধরেন, পাইরেটেড কপি নেটে বা ৩০টাকার ডিভিডিতে আসলে সিনামাটা দেইখেন। সেই খরচটাও বেশি হইয়া যাইবো বইলাই আমার ধারণা

দারুণ

১৬

রায়েহাত শুভ's picture


আসলেই এই সিনামা দেইখা টেকা খরচের কোনৈ মানে হয়না।

১৭

অলৌকিক হাসান's picture


মুক্তিযুদ্ধ লইয়া ফ্যান্টাসি করতে হইব ক্যান? মুক্তিযুদ্ধের সময়কার 'জেনুইন' কোনো কাহিনি নাই?

১৮

রায়েহাত শুভ's picture


এই সিনামাটায় মুক্তিযুদ্ধরে ইউজ করা হৈছে পুরাপুরি বানিজ্যের লাইগা।

১৯

অলৌকিক হাসান's picture


খবর পাইলাম। ছবিটির প্রচাররে বিঘ্ন ঘটছে। আশীর্বাদ চলচ্চিত্র পরিবেশনা করবে না। হলমালিক ছবি চালাতে অনীহা প্রকাশ করছে। তাড়াতাড়িই আন্তর্জালে মুক্তি পাইল বইলা। তখন ভালো করে দেখে আরেকটু ঠেসে দোবো ...

২০

রায়েহাত শুভ's picture


স্টার সিনেপ্লেক্সেও কাইল্কা থিকা আর দেখাইবো না...

২১

মানুষ's picture


কেউ একটা লিংক টিংক নাজিল করেন। আমিও এক দুইটা রিভিউ লিখতে চাই।

২২

রায়েহাত শুভ's picture


খিক খিক...
আমি অহন্তরি লিংকের খুজ পাইনাই, পাইলে দিমুনে

২৩

একলব্যের পুনর্জন্ম's picture


মেহেরজান সিনেমার সহপরিচালক বিখ্যাত বামপন্থী নেতা ফারুক ওয়াসিফের ওয়াইফ, এবং ফারুক ওয়াসিফ মেহেরজান কেন একটি অসাধারণ সিনেমা এবং বাঙালির নিম্নশ্রেণীর ন্যাশনালিজম নিয়ে ফেসবুকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রুবাইয়াত এর এখন আমি দোষ কমই দেখতে পাচ্ছি। ফারুক ওয়াসিফরে তো লোকে বুদ্ধিজীবিও কয় ! Wink

২৪

নুশেরা's picture


লুকে তো কতকিছু্ই কয়। লুকজন বদ, পুলাপান আরো বেশি বদ। সামুতে দেইখো Tongue

২৫

মাহবুব সুমন's picture


স্বার্থ , সবই ক্ষুদ্র স্বার্থ।

২৬

রায়েহাত শুভ's picture


রুবাইয়াতের দোষ অবশ্যই আছে। সেইটা হৈতেছে সে পাব্লিক সেন্টিমেন্ট লয়া ছিনিমিনি খেলনের চেষ্টা কর্ছে।
সেই সাথে ফারুক ওয়াসিফ টাইপের যারা এই দোষ ঢাকনের টেরাই দিতেছে তাগোর দোষ আরো অনেক বেশি।

২৭

ভাস্কর's picture


আমরা বন্ধুতে দুইটা রিভিউ পইড়া মনে হইতেছিলো এতোক্ষণে ভালো কিছু দেখলাম। কিন্তু না আমরা আসলেই এক উদ্ভট জাতীয়তাবাদে আটকাইয়া আছি। যেই জাতীয়তাবাদ ভাবতে শিখায় আমাগো মুক্তিযোদ্ধারা সব ফেরেশতা ছিলো আর পাকিস্তানীরা সব কুত্তার বাচ্চা। এই মানসিকতা ধারণ করে বইলাই এই দেশের মধ্যবিত্তরা সারাক্ষণ নিরাপদ থাকতে চাই, আর ভাবি আমরাই সেরা বাকীসব শুয়োরের খোয়ারে বড় হইছে।

রুবাইয়াত একটা সিনেমা বানাইছে, সেইটা দেখতে খারাপ হইতে পারে, তার মধ্যে বাণিজ্যিক ঘরানার আবেদন থাকতে পারে...সেইটা নিয়া আমাগো খুব বেশী আগ্রহ নাই, আমরা চাই হিরো আর ভিলেনের গল্প দেখতে। এই হিরো ভিলেন করতে করতেই আমরা আওয়ামি-বিএনপি এই দুই প্রতিপক্ষে বিভক্ত হই। যেই কারনে আমাগো মুক্তিযোদ্ধারা আওয়ামি লীগ না করলেই জামাতে যোগ দেয়।

অনেক পাকিস্তানী বেলুচ সৈন্য যে আসলেই আমাগো মুক্তিযুদ্ধের সময় পাঞ্জাবীগো বিরুদ্ধে গেছিলো এইটা আমাগো কাছে কোনো তথ্য হিসাবে ধরা দেয় না। পাকিস্তানী বাপের বীর্যে যেহেতু জন্মাইছে সেইটা তাগো অপরাধ। রাসেলের পোস্টে উল্লেখকৃত একটা বিষয় আমার অনেক যথার্থ লাগছে...রুবাইয়াতরে বলাৎকার করার কথা ভাবতে ভাবতেই আমরা তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। অধিকাংশ বিরোধীতাকারীর লেখা পইড়াই আমার মনে হইছে এদের সামনে রুবাইয়াতরে ছাইড়া দিলে তারা ৭১'এ পাকিস্তানীরা যেমনে আমাগো বীরাঙ্গনাদের উলঙ্গ কইরা উল্লাস করছে এরাও তা'ই করবো।

২৮

মাহবুব সুমন's picture


৭১ এর আগে তো আমরাও পাকিস্তান নামক অপরাস্ট্রের অন্তর্গত ছিলাম। সেই হিসাবেতো আমরাও পাকিস্তানী ছিলাম।
বালুচরা যদি আজ পাকিস্তান থাইকা বাহির হয়া স্বাধীন রাস্ট্র গঠন করে তবে !

২৯

রায়েহাত শুভ's picture


ভাস্করদা, আমি কইলাম সব মুক্তিযোদ্ধাগো ভালো ভাবি না। কিছু মুক্তিযোদ্ধা অবশ্যই আছিলো যারা লুটতরাজ-ধর্ষণ এগ্লা কর্ছে। আবার হয়তো (হয়তো কৈতেছি, কারণ আমার পরিচিত কেউই এর স্বপক্ষে কিছু কয়নাই) কিছু পাকি/বেলুচ সৈন্য আছিলো যারা আম্গো প্রতি সহানুভুতিশীল। কিন্তু ভাস্করদা এক্সেপশনরে আমি যদি এক্সাম্পলের চাইতেও বেশি কিছু হিসাবে দেখাইতে গিয়া পুরা সিনামা খাড়া কৈরা ফালাই সেক্ষেত্রে আমার আপত্তি রৈছে।

রুবাইয়াতরে কি করা উচিত বা অনুচিত সেই প্রসঙ্গে যাওন দুরের কথা সেই প্রসঙ্গ লয়া আমি ইভেন ভাবিতও না। রুবাইয়াতে একটা ব্লান্ডার করছে তার এভারেজের চাইতেও লো ক্যাটাগরির মুভিতে মুক্তিযুদ্ধরে হুদা কামে আইনা। আমি বড়জোড় আমার খারাপ লাগাটা বলতে পারি। বাই এনি চান্স আমার লেখা পইড়া রুবাইয়াতে খুসিতে নাচলো কি মনের দুঃখে বনবাস গেলোগা সেইটা আমার কনসার্ন না।

৩০

ভাস্কর's picture


এই কারনেই কইছি এই লেখা আমার ভালো লাগছিলো, কারন আপনের বা শাওন কারো লেখাতেই ছবিটার সমালোচনা বাদে আর কিছু দেখি নাই...

৩১

ভাস্কর's picture


আর অলৌকিকরে কইতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ নিয়া বাস্তব ছবি কইতে কি বুঝাইলেন? তারা যেইসব অপকীর্তি করছে সেইসবের ছবিও? নাকি খালি বীরত্ব গাঁথা?

৩২

অলৌকিক হাসান's picture


বস, রুবাইয়াত কইছে সে ফ্যান্টাসি ছবি বানাইছে। আমার কথা হইল মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে অসংখ্য ঘটনা আছে যেগুলা নিয়া ছবি বানানি যায়। প্রশ্ন হইল এতো এতো ছবি কি বানানি হয়া গেছে যে মুক্তিযুদ্ধের মতো একটা বিশাল পটভূমিতে ছবি বানাইতে ফ্যান্টাসিতে যাইতে হইল?

বাস্তব ছবি কইতে আমি ৭১ এ আসলেই ঘটছে এমন ছবি বানানির ইংগিত দিছি। তো এইসব বাস্তব ঘটনার মইদ্যে পাকি সেনার লগে বাঙালি মাইয়ার প্রেম থাকতেই পারে। ছবিও হইতারে। কিন্তু এরম প্রেম (মেহেরজান টাইপ) আদৌ ঘটছে কিনা সেইটা দশর্ক হিসেবে জানতে চাইতে পারি (এক্ষেত্রে পাকি সেনাগো লগে বীরাংগনাদের পাকিস্তানের চলে যাওয়ার ঘটনা টানবেন না যেন)

বাস্তব ঘটনার মইদ্যে কিছু খারাপ মুক্তিযোদ্ধাগো লুটপাট, ধর্ষণও থাকতারে। মাইণ্ড খাওয়ার কিছু নাই।

কিন্তু বিষয় যদি হয় মুক্তিযুদ্ধ, তাইলে সামগ্রিকভাবে পুরা ৭১ এর একটা চিত্র আমি পাইতে চাই। মুক্তিযুদ্ধ একটি ঐতিহাসিক সত্য, তাই পাকি-বাঙালি প্রেম, মুক্তিযোদ্ধাগো ধর্ষক ভূমিকা, এসবের একটা সত্যাসত্য অনুসন্ধান চাই। সত্য ঘটনা মাইনা নিতে আমি বেজার হমু কেন? কিন্তু ফ্যান্টাসি কয়া তো আপনি আবজাব দেখাইতে পারেন না। ৭১ এ বিলের পানিতে পাকিপ্রেমীকের লগে জলছপছপ (হিমুর ভাষায়) খেলতে আপনি মেহেরজান ছবি মুক্তির আগে ঠিক কতো বছর বয়সে শুনিছেলন বস?

মেহেরজানের প্রদশর্ন বন্ধ হইছে। এখন আন্তর্্জালে জলদি মুক্তি পাইব। সেই পর্যন্ত অপেক্ষায় আছি। পুরো ছবি দেখে তারপর আরো বলতে চাই। এ পর্যন্ত ব্লগে বিভিন্ন রিভিউ পড়ে যে ধারণা হইছে সেটা এখন পর্যন্ত নেগেটিভই আছে।

গল্প বাদে নির্মাণের বিভিন্ন দিক (ভাষা, কস্টিউম, ডিটেইলস) নিয়া যা শুনতাছি তাতে ভাবছি ইশতিয়াক জিকো থাকতে (ছবির পেছনের আর কাউকে তেমন জানিশুনি না) এগুলা ক্যামনে সম্ভব?

৩৩

ভাস্কর's picture


মেহেরজান খারাপ ছবি এইটা কেউ কইলে বরং আমার ভালোই লাগে...তাইলে মনে হয় মানুষ মনোযোগ দিয়া ছবিটা দেখতেছে। কিন্তু রুবাইয়াত তার ছবিতে একজন পক্ষত্যাগী পাকিস্তানীর লগে বাঙালি কন্যার প্রেম দেখাইছে বইলা সেইটারে বর্জন করনের ডাকরে আমার আজবই লাগে। আর দেখলাম অধিকাংশ লোকই ছবি না দেইখাই ফালাইতেছে। একজন তো রুবাইয়াত কোন কালে কোন এক রিসার্চ পেপার লিখছিলো ঐটা লইয়া ফাউলামি শুরু করছে। রুবাইয়াতের ব্যক্তিজীবন ঘাটলে যতোটা নোংরামি পাওন যাইবো তার চাইতে ঢের নোংরামি'র উদাহরণ দেওন যায় নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর জীবনে। দলবাজী কইরা তো এই লোক দেশের থিয়েটাররেই নষ্ট করতে নিছিলো।

আমার মনে হয় না আপনে মুক্তিযোদ্ধাগো ফেরেশতা না বানাইলে এই দেশের মধ্যবিত্ত তরুণ ইন্টেলেকচ্যুয়ালগো মধ্যে সেইটার গ্রহণযোগ্যতা পাইবেন। এরা আওয়ামি বাপের বিদেশী ডিগ্রী ওয়ালা মেয়েরেও রাজাকার বানাইয়া দিছে, যে বাপের ক্ষমতায় ছবির সেন্সর নিছে আরেক মুক্তিযুদ্ধপ্রেমী মফিদুল হকের কাছ থেইকা...

৩৪

অলৌকিক হাসান's picture


রুবাইয়াত তার ছবিতে একজন পক্ষত্যাগী পাকিস্তানীর লগে বাঙালি কন্যার প্রেম দেখাইছে

ক্যান দেখাইল বস? এমন ঘটছে আসলে? মেহেরজানের মতো কইরা? মেহেরজানের মতো না হইলে ঠিক কোন টাইপে পাকিস্তানিগো লগে বাঙালি কন্যার প্রেম হইছিল? তখন পারিপ্বার্শিক অবস্থা ক্যামন আছিল?

বর্জন করনের ডাকরে আমার আজবই লাগে।

আমারও। তয় বর্জনের তরিকা আছে। নিষিদ্ধ করার দাবিই বর্জন নয়। ছবি দেইখা ভালো না লাগলে একদলা থুথু

ফেললেই বর্জন হয়।
একজন তো রুবাইয়াত কোন কালে কোন এক রিসার্চ পেপার লিখছিলো ঐটা লইয়া ফাউলামি শুরু করছে।

বস সিদ্ধান্তে চইলা গেলেন। এখন তো আমি আপনার কাছ থেকে জানতে আগ্রহ পাইতাছি শুভাশীষ কোন জায়গায় ফাউলামি করল?

মুক্তিযোদ্ধাগো ফেরেশতা বানানির দরকার নাই। মুক্তিযুদ্ধ নিয়া ফ্যান্টাসিও করা যায় না।

৩৫

ভাস্কর's picture


ফাউলামি মনে হইছে ক্যান সেইটা আগে কই।

During the nine-month terror, terminated by two-week armed intervention of India, a possible three million persons lost their lives, ten million fled across the border to India, and 200,000, 300,000 or possibly 400,000 women (three sets of statistics have been variously quoted) were raped. (মিলার, ১৯৯৩: ৮০)

এই ছিলো ব্রাউনমিলারের বইয়ের কথা, আর রুবাইয়াত কইছে

The ultimate impossibility of writing a history of the sexually violated women of 1971 is the confusing figures of women who were raped, impregnated, and killed. The number of rape victims range from 40,000 to 250,000,

আমি দেখলাম দুইটার সংখ্যার কোন মিল নাই আর লাফাইতে শুরু করলাম রুবাইয়াত মিথ্যা কইছে। কিন্তু ব্রাউন মিলারের (three sets of statistics have been variously quoted) এই উল্লেখটা পড়লাম না কিম্বা রুবাইয়াতের The ultimate impossibility of writing a history of the sexually violated women of 1971 is the confusing figures of women who were raped, impregnated, and killed. এই বাক্যটাও বাদ দিলাম। এই ধরণটা আমার উদ্দেশ্য প্রনোদিত লাগে। মূল বিষয় যে কনফিউশন আছে পরিসংখ্যানবিদগো অবহেলার কারনে, সেইটা নিয়া কোনো ভাবনা চিন্তা করলাম না। ঐ আর্টিকেল বা পেপারে যে এই বিষয়েই আলোকপাত করা হইছে এইটাও কইলাম না। আশা রাখলাম কেউ আর লিংকে গিয়া পড়বো না কোনো কিছু। এইটারে আমার ফাউলামির বাইরে কিছু লাগে না।

বর্জনের বিষয়ে থুথু দেওনের মতোন কষ্টটাও আমি করতে চাই না। আমি দেখলাম কেউ জিগাইলে কইলাম বাল বানাইছে এতেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাই।

আর ফ্যান্টাসী বিষয়ে কইতে চাই যুদ্ধ নিয়া যদি কেউ কোনো রূপক গল্প চিন্তা করে তাতে আমার কিছু আসে যায় না। ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডতো একটা বাস্তব বিবর্জিত ছবি, আমার তো তাতে কিছু যায় আসে নাই...ছবি দেখতেতো ভালোই লাগছে। মুক্তিযুদ্ধ আমার নিজের দেশের বইলা তারে নিয়া কোনো ফ্যান্টাসীরে আমি ব্লাসফেমি আইন দিয়া দেখতে চাই না। আমি অন্ততঃ মোল্লাগো মতোন মৌলবাদী আচরণ করতে আগ্রহী না।

৩৬

উলটচন্ডাল's picture


ভাস্কর ভাই,

দুটো কথা।

১।

যেই জাতীয়তাবাদ ভাবতে শিখায় আমাগো মুক্তিযোদ্ধারা সব ফেরেশতা ছিলো আর পাকিস্তানীরা সব কুত্তার বাচ্চা

সহমত। বীরপ্রতিক সৈয়দ খান বিহারী ছিলেন। কোন কোন পাকিস্তানী কর্মকর্তা সাহায্য করছেন মুক্তিযোদ্ধাদের পালিয়ে যেতে। কিন্তু এমন উদাহরণ ব্যতিক্রম ও বিচ্ছিন্ন। এই উদাহরণগুলো যুদ্ধকালীন অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না।

আপনি চলচ্চিত্রে / সাহিত্যে এই প্রসঙ্গ টানতে পারেন - কিন্তু টানতে হবে মুন্সীয়ানার সাথে, যাতে করে মুক্তিযুদ্ধের মূল সুর নষ্ট না হয়। আপনি কোন এক মুক্তিযোদ্ধাকেও পরবর্তীতে লুটেরা হিসেবে দেখাতে পারেন - যদি আপনার এই দেখানোর ঢং বিশ্বাসযোগ্যতার ন্যূনতম চৌকাঠ পেরুতে পারে। চলচ্চিত্র তো আদতে একটা শিল্পমাধ্যম - যার নিজস্ব একটা ভাষা আছে। সেকেন্ডে চব্বিশ ফ্রেমে আপনি গল্প বলবেন, ৩৬০ ডিগ্রি দৃষ্টিকোণে ঘুরিয়ে দিবেন চোখ - সংলাপে, চরিত্রায়ণে, পোশাকে, নেপথ্য সংগীতে আপনাকে সেই দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

কী বলছেন ও কীভাবে বলছেন - এই দুইয়ের ভারসাম্য থাকা জরূরী। পরিচালক এক্ষেত্রে ব্যর্থ। পাকি প্রেমের গপ্পো বানাবেন - ঠিকাছে, কিন্তু অন্য চলকগুলো তো ঠিক রাখতে হবে।

ঈশপের গল্পে পশুপাখি কথা কয় - কারণ গল্পের সুরটা সেভাবে পাঠককে প্রস্তুত করে। দ্য রিডারের শক্ত কাঠামো আমাদেরকে কেট উইন্সলেটের যুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে উৎসাহী করে না।

হুমায়ুন আহমেদের ছোটগল্প "পাপ" পড়েছেন আশাকরি। হাতের কাজ দেখেন, সংলাপ দেখেন, শব্দের ব্যবহার দেখেন - পরিবেশনার গুণে গল্প সুখপাঠ্য।

২।

শুভাশীষদা'র লেখা ফাউলামি না। পরিচালক একাধিকবার তার গবেষণার কথা টেনেছেন। সিনেমার সমালোচনার প্রেক্ষিতে এর যৌক্তিকতা যাচাই আবশ্যক। পরিচালক অ্যাকাডেমিক গবেষণার দোহাই দিলেন আর আমরা যাচাই করব না - এটা আব্দারের মত শোনাচ্ছে।

আশা করছি আপনি পেপারটা মন দিয়ে পড়েছেন। “Trauma of the Women, Trauma of the Nation: A Feminist Discourse on Izzat” আর্টিকেলটা শুরুই হয়েছে

The national rhetoric is:our sovereignty or swadhinota has cost us three million lives and two hundred thousand women’s ‘izzat.

এই সংখ্যাজনিত বিতর্কের জের টেনেছেন রুবাইয়্যাত নিজেই। কিন্তু যুক্তি দিতে গিয়ে টেনেছেন ভুল রেফারেন্স। - শুভাশীষদার লেখা এই ভুলটুকুই তুলে ধরছে - এটা ফাউলামি না। অ্যাকাডেমিক আর্টিকেলে ভুল রেফারেন্স গ্রহণযোগ্য নয়।

৩৭

ভাস্কর's picture


যেই লেখাটা শুভাশীষ লিখছে সেইটা যদি রুবাইয়াতের ভুল ধরা নিয়া হইতো তাইলে আমি ফাউলামি শব্দটা ব্যবহার করতাম না নিঃসন্দেহে। সমস্যাটা হইলো এই লেখার শিরোনাম হইলো রুবাইয়াত হোসেনর মিথ্যাচার...আমাগো মুক্তিযুদ্ধের মূল রেটোরিক তো আসলেই আমাগো আর্কাইভাল দূর্বলতা, নাকি? যেই কারনে যুদ্ধাপরাধীরা এখনো বহাল তবিয়তে ঘুরে ফেরে খায় দায়।

আর নারীর ধর্ষিত হওনের বিষয়টা নিয়া সামাজিক কোন গবেষণা হইবো না এইটা কেনো মনে করুম আমরা। যদি এই মুহুর্তে কোনো একাডেমিক রিয়ালিটিতে যাচাই করতে হয়, এই দেশে আসলেই কতোজন নারী ধর্ষিত হইছে তার সেকেন্ডারী কিম্বা প্রাইমারী রেফারেন্স সোর্স কি? এইটার কোন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ কোনো কালে নেয়া হইছে? মূল বিষয়টাই ছিলো ডেটাবেইজের কনফিউশন নিয়া আমার মন্তব্যেও আমি সেইটা বলছি। সোশ্যাল টেন্ডেন্সী নিয়া কারো গবেষণা করনের অধিকার নাই?

আর পাকি প্রেম যেইভাবে কইতেছেন তাতে আপনে সিনেমাটা দেখছেন কীনা সেইটা নিয়া সন্দেহ হইতেছে। এইখানে কি পাকিস্তানী হানাদারের প্রতি প্রেমরে উৎসাহিত করা হইছে? আপনি জাইনা কইতেছেন?

ঠিক আছে রুবাইয়াতের ছবি ভালো হয় নাই, এই পর্যন্ত কইলে তো কোনো সমস্যা নাই আমার বা আপনের। কিন্তু ছবি নিষিদ্ধ করনের দাবী জানাইয়া বা তারে রাজাকার কইয়া আসলে আমরা কি প্রমাণ করতে পারলাম? মুক্তিযুদ্ধের গবেষক মফিদুল হকের সেন্সর বোর্ড যেই ছবিরে সার্টিফিকেট দিছে, তারে? তারমানে এখন থেইকা মফিদুল হকের গবেষণা নিয়া প্রশ্ন তুলন যাইবো?

৩৮

ভাস্কর's picture


ইজ্জত গেছে বইলা আমরা একটা অংশরে আসলে হাইড করনের চেষ্টা করছি কি করি নাই এই বিতর্ক কইরা যদি শুভাশীষ মিথ্যাচারের অভিযোগ আনতো তাইলেও বুঝতাম সে ঠিক কইতে চেষ্টা করতেছে। আমার শুভাশীষের বিষয়টারে মনে হইছে যুদ্ধে জিততে হইবো তাই এখন রুবাইতরে পতিত বানাও!

৩৯

উলটচন্ডাল's picture


ভাস্কর ভাই, অনেকাংশে সহমত। কিন্তু -

# আমি মন্তব্যে ছবি নিষিদ্ধ করার কথা বলি নাই।

# গবেষণা হোক - আপত্তি নাই। কিন্তু রেফারেন্সটা ঠিকমত দিক। উপাত্ত বিশ্লেষণে সাংখ্যমান ও গুণমান দুইটার দিকেই নজর দিক।

# ব্লগে/ ফেইসবুকে ব্যক্তি আক্রমণ হচ্ছে - এটা আসলেই ঠিক না।তাকে রাজাকার বলার কারণ দেখিনা। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত তার চলচ্চিত্রে দুর্বলতা আছে - য মূলত গল্পের কাহিনী বিন্যাসে, চরিত্রায়নে। ভুলে গেলে চলবে না, এই চরিত্রগুলো সম্পর্কে আমাদের মনে জলছাপ আছে আর গল্পটাও নেহাত অজানা নয়। কাজেই দর্শকের সাথে সংযোগ স্থাপনের ব্যর্থতার দায়ভার পরিচালককে নিতেই হবে। সেক্ষেত্রে গালাগালি কোন সমাধান নয় - মানছি।

৪০

ভাস্কর's picture


মুসা ইব্রাহীমের বৌদ্ধ মূর্তির ছবি ছিলো না দেইখা যারা তুলকালাম গবেষণায় রত হয়, তারা একটা সিনেমা না দেইখাই সেইটারে বর্জনের ডাক দিলে বিষয়টারে আরো বেশি উদ্ভট লাগে। আমার লগে না মিললেই আপনে রাজাকার এইরম তো কম দেখি নাই ব্লগ জীবনে। কতোজনরে আমরা রাজাকার বানাইয়া দিলাম তার তো কোনো সীমারেখা নাই। ভাগ্যিস আমার একটা রাজনৈতিক আর মতাদর্শিক পরিচিতি ছিলো নাইলে আমারেও রাজাকার হিসাবে দেখতেন নিশ্চিত...

৪১

অলৌকিক হাসান's picture


মুসা ইব্রাহীমের বৌদ্ধ মূর্তির ছবি ছিলো না দেইখা যারা তুলকালাম গবেষণায় রত হয়

এইটা একটা ফানি বিষয় ছিল। শেষ পর্যন্ত কিন্তু ছবি দেইখাই সিন্ধান্তে যাইতে পারছে, মাইনা নিছে। তাই গবেষণার আগে প্রথম থেকে ছবির জন্য গোঁ ধরে থাকলেই হতো। ছবি পাওনের পর যে হারে ব্যবচ্ছেদ কইরা সিদ্ধান্তে আসা গেছে, ততোক্ষণে কিন্তু পাবলিক বাকি সব গবেষণা ভুইলা গেছিল। মুসা চিটার আছিল না কি আছিল ...

থুথু ফেলা, আর বাল বানাইছে বলা দুইটাই কষ্টের কাম। Smile

মিডিয়ায় তো চুল দাড়ি পাকাইছেন। স্টান্টবাজিও কম বোঝেন না। স্রোতের বিপরীতে খাড়ায়া দুইটা কথা কইয়া বাহবা পাওয়ার আশা রাখতেও কম মানুষরে দ্যাখেন নাই। রুবাইয়াত গংরে আমার তেমনই মনে হইছে।

ছবিটা দেখার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

৪২

ভাস্কর's picture


স্টান্টবাজীটা ভালোই করতে পারছে রুবাইয়াত-আশিক দুইজনেই এইটা সত্য। আর এই স্টান্টবাজীতে ভালোই রসদ দিছে আমাগো ছবি না দেখা প্রবাসী ব্লগাররা। তারা এইটারে তাগো হারজিতের বিষয় হিসাবে নিছে, রুবাইয়াতরা যেইটা খেলছে তাগো ছবির ব্যবসা নিয়া এরা খেলছে হিটের হিসাবে। এই সব বুঝতে বস মিডিয়াতে চুল দাড়ি পাকান লাগে না...লোল।

৪৩

অলৌকিক হাসান's picture


আচ্ছা ছবি তো নামায়া দিল। কীসের প্রভাবে? যারা ছবি পরিবেশনা বা প্রদর্শন করতে চাইছে না তারা কী ব্লগের আওয়াজ শুনতে পেয়েছে? কীসের তাড়নায় তারা ছবি চালাতে চাইছে না? মেহেরজানের বিরুদ্ধে মিছিল মিটিং হইছে এমনও তো শুনি নাই।

৪৪

ভাস্কর's picture


আরে না।

নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু নিজে গেছে গতোকাল বলাকা সিনেমা হলে। তার মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিগ বাজেটের ছবিটা আইতেছে খুব শীগগিরি। গেরিলা...সে নাকি বইলা বেড়াইতেছে ১০ কোটি টাকা খরচ কইরা বানাইছে তার ছবি। রোড্স অ্যান্ড হাইওয়ের কন্ট্রাক্টর বাচ্চু সাহেব কই পাইলেন এতো টাকা?

ইন্টারনেট অ্যাক্সেসে বাচ্চু সাহেবের এতো আগ্রহ থাকলেতো দেশ আসলেই ডিজিটাল হইতো এতোদিনে...

৪৫

রোবোট's picture


আজিজিয়া সাহিত্যিয়া দর্শনিয়া রাজনীতিয়া চলচ্চিত্রিয়া মাদ্রাসার * ফতোয়া অনুযায়ী রিভিউ পইড়া কোন মনতব্য করতে পারিনা। তাছাড়া প্রবাসী/প্রকৌশলী/প্রাক্তন সরকারি কর্মচারি হিসেবে কি নিয়া বলার অধিকার আছে, কি নিয়া নাই সেটাও একটা কথা। সিনেমা দেইখাও কিছু বলা যায়েজ হৈত কিনা কে জানে।

একখান গল্প কৈ। পুরাই অফটপিক। আলোচনা নামে একটা ইয়াহু গ্রুপে লেখতাম। এক ভদ্রলোকে লিখলো "সব ধর্মেই আছে বহুবিবাহের কথা। শুধু ইসলামেই নির্দিষ্ট করে ৪ বিয়াতে লিমিটেড করার কথা বলা হৈসে। তখন পাবলিক বলে আপনি প্রমাণ করেন, আর কোন ধর্মে বহুবিবাহের অনুমতি দেয়া আছে? তখন সেই ভদ্রলোক বলে আপনারা প্রমাণ করেন অন্য ধর্মে বহুবিবাহের অনুমতি নাই। এখন সেই তরিকায় কেউ যদি বলে ৪০ বছর আগে বাংলাদেশের ৩-৪ কোটি মহিলার কেউ আজকালকার বোম্বের নািয়কার স্টাইলে কাপড় পরতোনা, সাজগোজ করতো না এইটা প্রমাণ করেন, তাইলে তো খোমাখাতা, সচু আর এবির মুভিরিভিউয়াররা সব বিরাট বিপদে পৈড়া যাইতো।

*: মূল নামকরণ- নুশেরা তাজরিন, আমি একটু টাইনা লম্বা কর্লাম।

৪৬

ভাস্কর's picture


রিভিউ পইড়া রিভিউয়ের ভাষা নিয়া মন্তব্য করন যায়, ছবি নিয়া কিছু কওন যায় না, ছবি নিয়া কোনো যথার্থ মন্তব্য করতে হইলে ঐ ছবি দেখতে হয়...এইটা হইলো কমনসেন্স।

৪৭

হাসান রায়হান's picture


মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের ঘটনা নিয়া কোনো ফ্যান্টাসি বানানো যাইবনা। ক্যান? কারণ তাইলে মুক্তিযুদ্ধ ভাইঙ্গা চুরমার হইয়া যাইব। স্বাধীনতার পরপর এরম অবস্থা হইছিল। তখন একজন লিখছিল:
ধরা যাবেনা ছোঁয়া যাবেনা
বলা যাবেনা কথা
রক্ত দিয়ে পেলাম হায়
এ কোন স্বাধীনতা!

৪৮

রায়েহাত শুভ's picture


রায়হান ভাই, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে চেন্জ হৈতেছে সেইখানে আমি এখনৈ মুক্তিযুদ্ধরে নিয়া ফ্যান্টাসীর পক্ষপাতি না...

৪৯

জ্যোতি's picture


পুরা সিনামায় আমার সবচাইতে প্রিয় সিন হইতেছে সেইটা, যেইটায় পাকি/বেলুচ ছাগল্ডি আরেকটা জেনুইন ব্লাকবেঙ্গল ছাগলের বাচ্চারে কোলে লইয়া আদর করে।

ঠিক কথা। আমার কিন্তু একটা ডায়লগও পছন্দ হৈছে। Big smile

৫০

রায়েহাত শুভ's picture


কুন্টা কুন্টা??? কৈয়ালান...

৫১

নীড় সন্ধানী's picture


রুবাইয়াত হোসেন ছবিটা বানিয়েছে বক্স অফিস হিট কিংবা কোটি টাকা উসুল করার জন্য না। ছবিটা ঝড় তুলেছে, চরম বিতর্কিত হয়েছে, এটাই ছবিটার প্রাথমিক সাফল্য।

স্রোতের বিপরীতে ছবি বিতর্কিত হওয়া মানে তাকে পুরষ্কারের নমিনেশান পাওয়ার সম্ভাবনার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া। ছবি বানাবার উদ্দেশ্যও সম্ভবতঃ কোন একটা পুরষ্কার অর্জন। আমার ফ্যান্টাসি ধারনা কতোটা সঠিক তা দেখার জন্য আরো কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। আবুল হোসেন নিশ্চয় কিছু দেখাবেন।

[বিশেষ সতর্কতাঃ এই ছবি পুরষ্কার পেলে আগামীতে রাজাকারের মানবতা নিয়ে ছবি বানাবার হিড়িক পড়ে যেতে পারে দেশে।]

৫২

রোবোট's picture


নীড়সন্ধানী
আপনার কমেন্ট ভালো লাগলো।।। ।

৫৩

ভাস্কর's picture


এই ছবি পুরস্কার পাইলে রাজাকারের মানবতা লইয়া সিনেমা বানানের হিড়িক পড়বো আপনের এই অনুমানের ভিত্তি কি?

তারমানে কইতে চান এই দেশে রাজাকারী চেতনার পক্ষের লোক বেশি?

আর আপনি কি জানেন এই ছবিতে আসলে কি দেখাইতে চাইছে পরিচালক? সেইখানে কি হাত মে বিড়ি মু মে পান, লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান এই টাইপ অনুভূতির ছড়াছড়ি?

নাকি আপনের অনুমান এতোই শক্ত যে সিনেমা দেখনের দরকার হয় না?

৫৪

নীড় সন্ধানী's picture


১. সব অনুমানের ভিত্তির দরকার হয় না।
২. কোন পক্ষের লোক বেশী সেটা বিবেচ্য নয়। এই পক্ষের লোকও সেই পক্ষের সিনেমা তৈরী করে দিতে পারে
৩. সেরকম কথা কোথাও বলিনি
৪. ব্লগে যে পরিমান লেখা এসেছে মেহেরজান নিয়ে, তাতে পুরো চিত্রনাট্যই চলে এসেছে। এখানে অনুমানের দরকার নেই। তবু সুযোগ পেলে ছবিটা দেখার ইচ্ছে আছে।
==============

৫৫

হাসান রায়হান's picture


একটা ছবিতে অত্যাচারী, নিষ্ঠুর , বর্বর পাকিস্তানিদের মধ্যে একজন বিবেকবোধ সম্পন্ন পাকিস্তানি কে দেখান হয়েছে। আর তাতেই পাকি প্রেম পাকিমানবতা বোধ হয়ে গেল!

৫৬

ভাস্কর's picture


ভিত্তি ছাড়া যেই অনুমান সেই অনুমান হুদাই আবেগের প্রকাশ...এই গুলি উষ্কানিমূলক হয় বেশীরভাগ সময়।

তো? এই পক্ষের লোক যদি মনে করে সিনেমা বানাইতে হইবো তাইলে সেইটা বানাইবো...সমস্যা কি। আমি নিজেও তো বিশ্বাস করি কিছু রাজাকারের মানবতাও ছিলো...এইটা এই ছবির পুরস্কার না পাইলেও মনে হওনটা জাস্টিফায়েড।

এই ছবিতে একজন পক্ষত্যাগী বেলুচ সৈন্যের সাথে প্রেম দেখানো হইছে, যে মনে করে যুদ্ধটা ঠিক হইতেছে না। এর সাথে আপনে রাজাকার নিয়া ছবি বানানের সম্ভাবনা দেখলেন কেমনে? বেলুচ ম্যুভমেন্টের একটা অংশ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাঞ্জাবীগো বিরোধীতা করছে, এইটাতো বাস্তবতা।

পুরা চিত্রনাট্য যে আসে নাই সেইটা আপনেগো লাফালাফি দেখলেই বুঝন যায়। শাওন কিম্বা বৃত্তবন্দী'র রিভিউ পইড়াও আপনেরা তারমানে বিশ্বাস করতেছেন না যে ছবিতে রাজাকারী বা পাকিস্তানী মতাদর্শের পক্ষে কিছু কওয়া হয় নাই...

৫৭

নীড় সন্ধানী's picture


মেহেরজান বিতর্কে আমার তেমন আগ্রহ নেই।
এই বিতর্কে আপনার আমার কারো অবস্থানই পরিবর্তন হবে না।
যে কয়টা মন্তব্য লিখেছি তা লিখতে বাধ্য হয়েছি দেশে ফরহাদ মজহারীয় মানবতার প্রসার ঘটেছে দেখেই।

৫৮

ভাস্কর's picture


এই ট্যাগিংটাও উদ্ভট লাগে আমার। ফরহাদ মজহারের দর্শনরে আমার ঠিক মনে হয় নাই কখনো শত্র-মিত্র নির্ধারনে তার যুক্তির পরম্পরা নিয়া আমার প্রশ্ন ছিলো আর এখনো আছে, তাই বইলা তার মতাদর্শে মানবতাবাদ খুঁইজা পাই নাই কখনো। আমার মনে হয় আপনে ঐখানেও রিভিউ পইড়া ফরহাদ মজহাররে বুঝনের চেষ্টা করতেছেন।

৫৯

নাজমুল হুদা's picture


ধরা যাবেনা ছোঁয়া যাবেনা
বলা যাবেনা কথা
রক্ত দিয়ে পেলাম হায়
এ কোন স্বাধীনতা!

এখনও এ সত্য বিরাজমান । তবুও এতক্ষণে একটু স্বস্তি পেলাম । ধন্যবাদ হাসান রায়হান ।

৬০

রায়েহাত শুভ's picture


হুদা ভাই রায়হান ভাইরে দেয়া উত্তরটা আপনারেও দিয়া দিলাম।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে চেন্জ হৈতেছে সেইখানে আমি এখনৈ মুক্তিযুদ্ধরে নিয়া ফ্যান্টাসীর পক্ষপাতি না...

৬১

তানবীরা's picture


ভাইরে জিজ্ঞেস করলাম, মেহেরজান দেখছো? সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, মেহেরজান কে? আমার হাসি শুনে কনফিউজ সে ভাবলো গ্রাম থেকে আসা কাজের লোক কিনা। শতাব্দীর গ্রেট জোক হলো এটা আমার জন্যে।

৬২

রায়েহাত শুভ's picture


Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor

কি কৈলেন... আম্মোতো হাস্তে হাস্তে শ্যাষ... Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor

৬৩

ভেবে ভেবে বলি's picture


কই য্যান পড়লাম, এই মহিলা (রুবাইয়াত) নাকি নেক্সট ছবি করবে কবি নজরুলরে নিয়া এবং সেখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করবে মুম্বাইয়ের রাহুল বোস। আল্লায় জানে ঐটাও কি আরেকখান ঘোড়ার আন্ডা হইবো! যাই হোক, আমি চাই এই জাতীয় চিড়িয়া পরিচালকগো থিকা আল্লায় আমগো দ্যাশকে মুক্তি দেক। এমনে ফিলিম লয়া ফাতরামি যত খুশি করে করুক, মুক্তিযুদ্ধ নিয়া ফাতরামি করতে য্যান না আসে। এইগুলা দ্যাখলে মাথার ঠিক রাখা মুশকিল হয়া যায়।

৬৪

রায়েহাত শুভ's picture


যাঃ শ্লা। রুবাইয়াতের প্রেমে পৈড়া যামু কিনা ভাবতেছি, তার মত এরাম দেশপ্রেমিকা পরিচালকৈতো আম্গো দর্কার Drooling Drooling Drooling

৬৫

মুকুল's picture


লেখা ভাল্লাগছে।

৬৬

আহমেদ মারজুক's picture


মেহেরজান' নামের একটা সিনেমা নিয়ে তর্ক,আলোচনা এবং বর্জনের আন্দোলনের ব্যাপারটা আমার কাছে বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে । আমরা আমাদের নিজেদের সামাজিক জীবনে এক একটা হিপোক্রেট বানিয়ে বেঁচে আছি দিব্যি । অস্তিত্বকে অস্বীকার করে ,ইতিহাসকে বিকৃত করে যেগুলো হচ্ছে তাতে কি মেহেরজানই প্রথম না একমাত্র । ছাত্রশিবির বা মুতা নিজামিদের কি কোন জন প্রিয়তা নেই দেশে ? আমরা তাদের কতো শক্ত করে বাধা দিতে পেরাছি ? ভয় হয় ওদের নিয়ে রাজনীতি আর সংবিধাণের কতবার ময়না তদন্ত অপেক্ষা করছে কে জানে । মেহের জানের মতো একটা সামান্য সিনেমা থেকে আমরা প্রতিবাদকারীরা সামনে কি আরো বড় করে প্রতিবাদ করতে পারি না। তবে আমি বিশ্বাস করি মেহের জানের মতো মুভি বানানোর জন্য স্বাধীনতা থাকা দরকার আর পরিবেশনেরও স্বাধীনতা দেয়া দরকার । সব কিছুর মধ্যে আসলটা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এমনিতেই যাবে।

৬৭

নুশেরা's picture


স্রোতের বিপরীতে ছবি বিতর্কিত হওয়া মানে তাকে পুরষ্কারের নমিনেশান পাওয়ার সম্ভাবনার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া। ছবি বানাবার উদ্দেশ্যও সম্ভবতঃ কোন একটা পুরষ্কার অর্জন। আমার ফ্যান্টাসি ধারনা কতোটা সঠিক তা দেখার জন্য আরো কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। আবুল হোসেন নিশ্চয় কিছু দেখাবেন।
[বিশেষ সতর্কতাঃ এই ছবি পুরষ্কার পেলে আগামীতে রাজাকারের মানবতা নিয়ে ছবি বানাবার হিড়িক পড়ে যেতে পারে দেশে।]

নীড়দার মন্তব্যের সতর্কতাটুকু ভাববার মতো।
আশি সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে যে মুসল্লিরা গো্আকে জুতার বাড়ি মেরেছিলো, নিজামী মন্ত্রীর গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে দাবড়াবে-- এমন সম্ভাবনা তাদের কাছে অকল্পনীয় ছিলো।
পটুয়া কামরুল যখন বিশ্ববেহায়ার ছবি আঁকেন, সে সময়টার কথা ধরি। খালেদা-হাসিনাই আবার কোনদিন এরশাদের সঙ্গে ইফতারপার্টির টেবিলে কি জনসভার মঞ্চে উঠে যাবেন, ভাবা সম্ভব ছিলো না।
এই সম্ভাবনাগুলো তখন সেরকম অভাবিত ছিলো, ঠিক যেমন এখন আমরা ভাবতেই পারি না যে স্বাধীনতা দিবসে তিনকোণা বা ধান্দাবাতির পোস্ট স্টিকি হয়ে এবির প্রথমপাতায় ঝুলে আছে।

৬৮

আরাফাত শান্ত's picture


মেহেরজান দেইখা আপনারো কি বিবাহের খায়েশে পাগলামী জাগছে নাকি জাতি তা জানতে চায়!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

রায়েহাত শুভ's picture

নিজের সম্পর্কে

©
সকল লেখালেখি ও হাবিজাবির সর্বসত্ব সংরক্ষিত...