ইউজার লগইন

নির্লিপ্তির গভীরে ডুবে যাই

শিশুরা নির্যাতিত হয়। কাগজে বড় বড় অক্ষরে খবর ছাপা হয়। আমি অসীম নির্লিপ্তির সাথে এড়িয়ে যাই। মানুষেরা অমানুষের মত আচরণ করে, আমি নির্লিপ্ত হাতের ইশারায় জানালার পর্দা টেনে দেই। মানুষের দুঃখ-কষ্টগুলো আমাকে আর স্পর্শ করতে পারে না। কেমন যেনো একটা কুয়াশা ঢাকা চোখে তাকিয়ে থাকি। চোখের দরজা পার করে ঘটনাগুলো মনের ঘরে পৌছুতে পারে না।

আমি কি কোন রকমের মানসিক ডিসএ্যাবিলিটিতে ভুগছি? অনেকদিন ধরেই ভেবে চলেছি...
উত্তরের আশায় নিজের স্মৃতির দিকে একটু নজর দেই...

ঘটনা-১:-
‘৮৭/৮৮ সালের কথা, হাফপ্যান্ট পড়ে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে স্কুলে যাই। খুলনার বেশিরভাগ রাস্তার পাশে দিয়েই ২/২.৫ ফুট চওড়া ড্রেন। ওই ড্রেনগুলো লাফিয়ে পার হওয়া আমাদের বয়েসীদের কাছে ছিলো বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ খেলা। যাহোক, স্কুলে যাবার পথেও এমন ড্রেনের পাশ দিয়ে যেতে হত। একেবারে স্কুলের কাছে গিয়ে ড্রেনের পানিতে কচুরীপানা জমে থাকত। মাঝে মাঝে কচুরীপানার ফুল দেখে আনন্দে মনটা ভরে উঠত। কখনো সেই ফুল তুলে স্কুলে নিয়ে যেতাম, কখনো বাসায় নিয়ে আসতাম। একদিন স্কুলে যাবার পথে সবুজ কচুরীপানার ভিতরে হালকা বেগুনী আর হলুদের মিশেল দেয়া ফুল তুলতে এগিয়ে গিয়ে বেশ ধাক্কা খেলাম। সবুজ আর বেগুনীর ব্যাকগ্রাউন্ডে হালকা গোলাপী একটা পুতুলের মত শরীর আধা-ডোবা হয়ে আছে। প্রথমে ভেবেছিলাম আসলেই বুঝি পুতুল। পরে ড্রেনের পাশে পড়ে থাকা গাছের ডাল দিয়ে খোঁচা দিয়ে দেখি শরীরটা ফুটো হয়ে ডাল ঢুকে যায়। আমার আর কচুরীপানার ফুল তোলা হয়না। স্কুল থেকে ফিরে আসার পথে ওই শিশুর শরীরটা দেখিনি। বাসায় এসে অনেককেই জিজ্ঞাসা করায় মোটামুটি যে ধারণা পেলাম, ঐ বয়সের জন্য সেটা খানিকটা ভয়াবহ। শুনেছিলাম ঐ খানে নতুন একটা মা ও শিশু ক্লিনিক হয়েছে। মৃত বাচ্চাগুলোকে ওই ড্রেনে ফেলে দেয়া হয়। এই ব্যাপারটা মাসে দুই-তিনবার দেখতাম। প্রথম দিকে যেমন উত্তেজনা হত, পরে সেটা মিইয়ে গিয়েছিল। এখনও কচুরীপানার ফুল আমি ভালোবাসি। কিন্তু তুলতে যেতে পারি না।

অনেক বড় হয়ে ওঠবার পর জেনেছিলাম, আসলে স্বাভাবিক ভাবে মৃত নবজাতকদের না, ওই ড্রেনটা ছিল এ্যাবর্শন করা শিশুদের ডাম্পিং ড্রেন।

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সাঈদ's picture


আমিও নির্লিপ্ত মন্তব্য করলাম, কেননা এখন চারদিকে এই অমানবিক জিনিস গুলা দেখতে দেখতে কেমন গা সওয়া হয়ে গেছে ।

আর সইতে না পারলেও কিই বা করার আছে ?

রায়েহাত শুভ's picture


কিছুক্ষণ আগে খবর পেলাম আমার মামাতো ভাই উত্তরায় রোড এ্যকসিডেন্টে মারা গেছে।

নজরুল ইসলাম's picture


Sad

টুটুল's picture


তোমার মামাত ভাইয়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি

আরণ্যক's picture


ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা দিলেন।
মন খুব খারাপ হলো।
-----------
কেউ মারা গেলে সান্তনা বাক্য বলতে পারি না। ভনিতা মনে হয়।
শোক কাটিয়ে উঠুন এই কামনা করি।

টুটুল's picture


ভয়াবহ ঘটনা Sad

মামুন ম. আজিজ's picture


আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরছিলাম.
একটা ডাস্টবিনের পাশে.......
বাচ্চা মরে পড়ে আছে................
আরে বাবা ....স্বীকার না করতে পারলে জন্ম দেয়া কেনো?

মামুন ম. আজিজ's picture


আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরছিলাম.
একটা ডাস্টবিনের পাশে.......
বাচ্চা মরে পড়ে আছে................
আরে বাবা ....স্বীকার না করতে পারলে জন্ম দেয়া কেনো?

মুকুল's picture


Sad

১০

আহমেদ রাকিব's picture


ভয়াবহ। বলার মতন কিছু খুজে পাচ্ছি না। Sad আপনার মামাত ভাইয়ের সংবাদে সমব্যাথী। Sad

১১

কাঁকন's picture


কিছু বলার নাই

১২

তানবীরা's picture


কিছু বলার নাই

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

রায়েহাত শুভ's picture

নিজের সম্পর্কে

©
সকল লেখালেখি ও হাবিজাবির সর্বসত্ব সংরক্ষিত...