ইউজার লগইন

আপনার কি মনে হয়?

বহুদিন থেকে একটা বিষয় মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সেটা হলো বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ঠিক কোন বিষয়টি নিয়ে ভাবে। ঠিক কোন বিষয়ে তাদের ইন্টারেস্ট গড়ে ওঠেছে। উত্তরটা খুব সহজ আবার উত্তরটা খুব কঠিন। একটা সময় গেছে যখন তরুণদের সময় গেছে বিপ্লব করে করে। আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে অনেকগুলো দশক পার হয়ে গেছে। সেটা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত গড়িয়েছে। এরপর আবার স্বৈচার বিরোধী আন্দোলনে সময়েও ছিল তরুণেরা।

তাই প্রশ্নটা এলো। বর্তমান প্রজন্ম কি নিয়ে ভাবে? আমি এমন অনেককে চিনি যারা দেশকে গালি দিয়ে মোটামুটি গোষ্ঠী উদ্ধার করে। কেউ কেউ দেশের রাজনীতি নিয়ে তর্ক বিতর্ক শেষে একমত হয় যে, ‘এই দেশের খুব কিছু উন্নতি হওয়ার নয়। কারণ রাজনীতি আমাদের বারবার ১০০ পা পেছনে নিয়ে যাচ্ছে। ’

তবে ছোট ছোট উন্নতি হচ্ছে দেশের। ছোট ছোট উন্নতি আমরা ফলাও করে দেখাই আর বলি, ‌"কই দেশের উন্নতি হচ্ছে না। এই যে হচ্ছে। দেশ ঠিকই এগিয়ে যাচ্ছে।"

একবার তরুণ রাজনীতিবিদ মাহী বি চৌধুরীর সাথে কথা বলার সময়ে তিনি আমাকে বলছিলেন, ‌"এ দেশটা তরুণরা পাল্টে দেবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি দেখিছেন, বিশ্বকাপ খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বাংলাদেশের পরাজয়ের পর কিছু দর্শক ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের গাড়িতে জুতা ছুড়ে মারে। আর সেই অপরাধের ক্ষমা চেয়ে নিতে দর্শকরা সময় নিয়েছে মাত্র একটি রাত। পরদিন ভোর হতেই একগাদা তরুণ ছেলেপেলে ‘উই আর সরি’ লিখে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাড়িয়ে গেছে হোটেলের সামনে।"

মাহী বি চৌধুরী এটাকেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন। তার কাছে যে ছেলেমেয়েরা নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে শিখে গেছে তারা যে দেশকে নতুন কিছু দিবে সেটা নিশ্চিত। আবার ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন কোন উদারহণ না দেখাতে পারলেও মনে করেন দেশ এগিয়ে যাবে। আর এগিয়ে নিয়ে যাবে এ প্রজন্মই। কারণ হিসেবে তিনি অতীত উদাহরণ দেখিয়েছেন।

এতো কিছুর পরও দেশ সত্যিই এগিয়ে যাচ্ছে কিনা এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যাচ্ছে। তবে তরুণ প্রজন্ম বিতর্কের সৃষ্টি করে দিচ্ছে। এটা নিঃসন্দেহে বলে দেওয়া যায়। তরুণ প্রজন্ম বির্তক তৈরি করে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করে দিচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিবিদদের অহেতুক ভালো মানুষীর অভিনয়টা ধরে ফেলেছেন। সে ব্যপারে সন্দেহ নেই। তবে প্রশ্ন হচ্ছে দেশ পবিরর্তন হতে হলে রাজনীতিবিদ পরিবর্তন হওয়া দরকার? নাকি দেশের মানুষের পরিবর্তন দরকার?

যে দেশের মানুষ অনিয়মকে নিয়মে রূপ দিতে সবচাইতে বেশী ভালোবাসে। আমি মনে করি আমি কোন দিক দিয়ে ভালো?

আমি কি রাস্তা পারাপারের সময় ওভারব্রিজ ব্যবহার করি? আমি পথে ঘাটে কোন অনিয়ম দেখলে প্রতিবাদ করে উঠি? আমি কি সিএনজির মিটার ছাড়া ভাড়া নেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে উঠি? আমি কি সিটিং সার্ভিস বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে দূর্ভোগের বিরুদ্ধে কথা বলি? আমি কি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জন্য নিজের ঘরে অযথা লাইট ফ্যান বন্ধ করে রাখি? আমি কি উন্মুক্ত স্থানে সিগারেট খাওয়া বন্ধ করেছি? আমি কি অশ্লীল প্রেমের বিরুদ্ধে কথা বলি? আমি কি সরকারি অফিসে ঘুষ না নিয়ে ঘুষের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কথা বলি?

আরও আছে। কিন্তু এগুলোর উত্তরটাই আগে দেই।

১. ওভারব্রিজে উঠতে অনেক কষ্ট। সময় সাপেক্ষ। তার চেয়ে একটু দৌড় দিয়ে রাস্তাটা পার হয়ে যাই। সময়টা বেচে যাবে।

২. রাস্তার অনিয়ম দেখার আমি কে? হুদাই পরে কোন প্যাচে পড়ে যাই। আর এতো সময় কোথায়?

৩. সিএনজির মিটারিং পদ্ধতি চালকরা মানে না। আমি একা মিটার নিয়ে চিৎকার করে কি হবে? ড্রাইভার তো মানবে না। আমি না গেলে অন্য যাত্রী যাবে। আমি একা এর বিরুদ্ধে গিয়ে গন্তব্যে পৌছাতে পরে দেরী হয়ে যাবে।

৪. সিটিং সার্ভিস বাস হলেও যাত্রী বেশী। একটা বাস ২০ মিনিট পর পর আসে। আমি যদি বসে যাওয়ার পরিকল্পনা করি তাহলে তো ২ ঘণ্টা সময় হাতে রেখে বাস স্ট্যান্ডে দাড়িয়ে থাকতে হবে। তারপর যানজটে আরও দুই ঘণ্টা। সময় লাগবে চারঘণ্টা। এতো সময় আমার নাই।

৫. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা চিন্তা করে আমার কি হবে। বিল বেশী আসলে বিল দেবো।

৬. উন্মুক্ত স্থানে সিগারেট খাবো না তো কোথায় খাবো? তাছাড়া অন্য সবাই তো খাচ্ছে।

৭. আজকাল প্রেম মানেই একটু আকটু চুমোচুমি হবেই। এটা সবাই মেনে নিয়েছে। আমার মেনে নিতে সমস্যা কোথায়?

৮. সরকারি কাজ ঘুষ ছাড়া হয় না। এটাই নিয়ম। আমি ঘুষ না দিলে আমার কাজ হবে না। তাই শুধুশুধু বিপ্লবীর ভান করে লাভ নেই। এদেশে কিছুই পরিবর্তন হওয়ার না। তারচে সরকারি নিয়মটা মেনে নেয়াই ভালো।

আটটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলাম। এগুলো জীবনের খুব ছোটছোট ঘটনা। বড় ঘটনাগুলোর কথা বাদই দিলাম। তরুণরা আজকাল নানান ফোরাম তৈরি করে নানান দাবি উত্থাপন করে। সম্প্রতি যোগাযোগ মন্ত্রীর পদত্যাগ শহীদ মিনারে দাবি করে যে সাহস দেখিয়েছে এতে কিন্তু আমি আশাবাদি। হয়ত তরুণদের সংখ্যা খুব কম ছিল। অনেকে হয়তো হেসেছে। সরকার হেসেছে। প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেন," তারা বাড়ি না গিয়ে শহীদ মিনারে বসে থেকে যোগাযোগ অবস্থার অবনতির কথা বললে তো হবে না। তারা বাড়ি যাক। রাস্তা খারাপ হলে তারপর কথা বলুক।"

যে সরকার জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন সে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেও লাভ নাই। আর যে বিরোধী দল জনগণের দূর্ভোগ নিয়ে কথা না বলে। জনগণের অধিকার আদায় না করে শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলে তখন আমরা খুব বুঝতে পারি ধান্দাটা কোন জায়গায়। সেই বিরোধী দল যে দেশকে বেহেস্ত বানিয়ে দিবে না সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত।

তবে কথা হচ্ছিল তরুণদের ইন্টারেস্ট নিয়ে। ইন্টারেস্টের কোন সীমা নাই। তারা বহুবিধ কাজ করে যাচ্ছে। যাবে। দেশ হয়তো সত্যি সত্যিই প্রজন্ম পাল্টে দিবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, কারা পাল্টাবে? প্রজন্মের পক্ষে শুধু দাবি তোলা সম্ভব। পুলিশের মার খেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা সম্ভব। দেশটা তো পাল্টাতে হবে রাজনীতিবিদদের। রাজনীতিবিদরা কি দেশ পাল্টাতে পারবে?

ধরলাম রাজনীতিবিদরা হুট করে ম্যাজিকের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ হয়ে উঠল। দেশ সোনায় সোহাগে গড়ার সুযোগ আসলো। তখন আমি কি ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হবো? অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করবো? সিএনজি চালক মিটারের বেশী ভাড়া চাইলে তার সিএনজিতে উঠবো না? ঘরে অহেতুক বিদ্যুৎ ব্যবহার করবো না? সিটিং বাসে বেশী যাত্রী না উঠতে পারে সে বিষয়ে কঠোর হবো? বাকিগুলো নিজেরাই মিলিয়ে দেখুন।

আমরা কি প্রস্তুত পরিবর্তনের জন্য? আমরা কি সিস্টেমের শুদ্ধতার সাথে সাথে নিজেরাও শুদ্ধ হয়ে যেতে পারবো?

আপনার কি মনে হয়?

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

Dreamer's picture


hi,

I was really nice writing by you. I believe you are young and you are concern about current situation of Bangladesh. But have you asked you the same question yourself. Why don't you start those things. Try to find alternatives for solve the problems that you have mentioned.

আপন_আধার's picture


পড়লাম । ভাল লাগলো লেখাটি ।

তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও অনেক ভেদাভেদ আছে যার কারনে সবাই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে অথবা নিবে, এটা আশা করা যাচ্ছেনা । আর সিস্টেম পরিবর্তন'টা একটা শক্ত হাত ধরে হতে হবে, এখন যারা আছে, তাদের পরিবর্তন হবে একটা গোজামিল টাইপ, কোনো কাজের না ।

আমি তাই সিস্টেম পরিবর্তন বলতে বুঝি, মিরাকল টাইপ কিছু একটা Smile

আবারো ধন্যবাদ লেখাটির জন্য

তানবীরা's picture


আমরা কি প্রস্তুত পরিবর্তনের জন্য? আমরা কি সিস্টেমের শুদ্ধতার সাথে সাথে নিজেরাও শুদ্ধ হয়ে যেতে পারবো?

মানুষের চরিত্র কমবেশি সব জায়গায়ই এক। সিষ্টেমের চিপা না থাকলে কোন মানুষই নিয়ম মানতে চান না। Sad

রন্টি চৌধুরী's picture


এই বিষয়টা নিয়ে বিষদ আলোচনার ব্যাপার আছে। চমতকার টপিক।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.