ইউজার লগইন

এক মাহাথিরের সন্ধানে

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় অনুষ্ঠিত ০৫ জানুয়ারীর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটবিহীন একতরফা নির্বা চনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নবগঠিত সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই৤ তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বা চিত হয়েছেন৤ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন ক্রীড়াপ্রেমী৤ ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৮-২০১৩ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন৤ সুযোগ পেলেই তিনি মাঠে গিয়ে লাইভ খেলা দেখেছেন৤ খেলোয়াড়দের উত্সাহ জুগিয়েছেন৤ অনেক অনেক পুরস্কার ও প্রণোদনা দিয়েছেন৤ তারই শাসনামলে বাংলাদেশ সহযোগী আয়োজক হিসাবে সফলভাবে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজন করেছে৤
ক্রিকেট খেলায় একজন ব্যাটস্ ম্যান বিভিন্নভাবে আউট হতে পারে৤ যেমনঃ বোল্ড আউট, কট এন্ড বোল্ড, কট বিহাইন্ড, রান আউট, ক্যাচআউট ইত্যাদি৤ ফিল্ডার কোন ক্যাচ মিস করলে বলা হয়ে থাকে ব্যাটস্ ম্যান লাইফ পেলো৤ ব্যাটস্ ম্যান এই বোনাস লাইফকে কাজে লাগাতে চায়৤ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে লাইফ পাওয়ার পর ব্যাটস্ ম্যান আগের তুলনায় খুব ভালো খেলে৤ কখনো কখনো দলের জয়ের ক্ষেত্রে লাইফ পাওয়া ব্যাটস্ ম্যানের ভূমিকাই বেশী দেখা যায়৤ আমরা জানি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা ক্রিকেট খেলা দেখেন এবং খুব ভালোই বোঝেন৤ সুতরাং ক্রিকেট খেলার এই ক্যাচ মিস হওয়া লাইফ পাওয়া ক্রিকেটারদের পারফরমেন্স সম্পর্কে তার ভালো ধারণা থাকাই স্বাভাবিক৤
আমরা গত প্রায় ১ বছর যাবত্ বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের মধ্যে রাজনৈতিক খেলা দেখেছি৤ তারা কেহই দেশের অর্থ নীতির কথা চিন্তা করেনি৤ সবাই দলের অস্তিত্ব রক্ষায় ব্যস্ত থেকেছে৤ আওয়মীলীগের নির্বা চন অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘৭১ এর স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায় হওয়ার পর থেকেই জামায়াত শিবির সন্ত্রাসী কার্য ক্রমের মাধ্যমে সারাদেশে অরাজকতা শুরু করে৤ বিএনপির মূল দাবী নির্দ লীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক থাকলেও জামায়াতের এই জ্বালাও পোড়াও-কে তারা সমর্থন দিয়ে গেছে৤ বিএনপি জামায়াত ভালোভাবে উপলব্ধি করেছে যে, আওয়ামীলীগের আমলে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানো যাবে না৤ তাই তারা নির্বা চনের পরিবর্তে দেশে এক অরাজক পরিবেশ সৃষ্টি করে অসাংবিধানিক তৃতীয় শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন করানো৤ অপরদিকে আওয়ামীলীগও বুঝতে পেরেছে যে, বিএনপি জামাত ক্ষমতায় আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারতো হবেই না, অধিকন্তু আওয়ামীলীগের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে৤ ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি জামাতের শাসনামলে যেমনিভাবে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে, ২১ আগষ্টে গ্রেনেট হামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, সারাদেশে একযোগে ৫০০ স্থানে সিরিজ বোমা হামলা হয়েছে, তেমনিভাবে বিএনপি জামাত আওয়ামীলীগকে নিশ্চিহ্ন করার এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে ক্ষমতায় আসতো৤ শেষপর্যন্ত বিএনপি জামাতের সেই মনোবাসনা পূরণ হলো না৤ একতরফা হলেও সাংবিধানিকভাবেই বর্ত মান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে৤ ইতোমধ্যে একজন যুদ্ধাপরাধী জামাতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্য কর করা হয়েছে৤ আশা করা যায় আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে বাকী আসামীদের বিচার হবে এবং বিচারের রায়ও কার্য কর হবে ইনশাল্লাহ্ ৤
যাহোক গত প্রায় ১ বছর যাবত্ সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক খেলায় দাবার গুটি কখনো আওয়ামীলীগের কোর্টে কখনো বা বিরোধী জোটের কোর্টে৤ শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ, মতিঝিলের হেফাজতের মহাবেশ, গাজীপুরের তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলন এই সবই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছে৤ কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এইসব খেলায় অধিকাংশ ম্যাচে বিএনপির তুলনায় আওয়ামীলীগই জয়ী হয়েছে৤ তবে গত নভেম্বরে সাধারণ নির্বা চনের তফশীল ঘোষনার পর থেকে সরকার কঠিন সময় পার করেছে৤ বিরোধী জোটের লাগাতার হরতাল ও অবরোধের পাশাপাশি জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসী তান্ডবে দেশ এক মৃত্যুকুপে পরিণত হয়েছিল৤ প্রতিদিনই নিরীহ মানুষ পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়েছে৤ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে৤ জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসী হামলা থেকে গরু বোঝাই ট্রাক, সবজি বোঝাই গাড়ি কেহই রেহাই পায়নি৤ হাজার গাছ কেটে, টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়কগুলোতে বেরিকেট তৈরি করা হয়েছে৤ এসবই করা হয়েছে সাধারণ নির্বা চনকে বানচাল কর এবং সরকারের পতন ঘটানো৤ সর্ব শেষ ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে মার্চ ফর ডেমোক্রাচি কর্ম সূচী ঘোষণা করে সরকারের পতন ঘটানো শেষ চেষ্টা৤ কিন্তু সেটাও সরকার রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করেছে৤ বিএনপির মার্চ ফর ডেমোক্রাচি ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে তারা লাগাতার অবরোধ কর্ম সূচী ঘোষণা করে৤ সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে নির্বা চনের ঠিক আগের রাতে৤ বিএনপি জামাতের কর্মী সমর্থক ভোটকেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত প্রায় ৫৩১টি স্কুলে আগুন দেয় এবং ভাংচুর করে৤ শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্যমতে এর মধ্যে বেশ স্কুল ভোটকেন্দ্রও ছিল না৤ কিন্তু বিএনপি জামাতের শেষ রক্ষা হয়নি৤ বিএনপি জামাত দশম সাধারণ নির্বা চনকে বানচাল করতে পারেনি৤ স্বল্পসংখ্যক ভোটার দিয়ে হলেও সাংবিধানিক ধারা অব্যবহত রয়েছে৤
সরকার ও বিরোধী জোটের এই রাজনৈতিক খেলায় দেশের বারোটা বাজলেও সরকারপক্ষ শেষমেষ জয়ী হয়েছে৤ বিরোধীপক্ষ জয়ী হলে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পতিত হতো৤ মূলতঃ আওয়ামীলীগ ও বিএনপির এই রাজনৈতিক ম্যাচে বিএনপি বেশ কয়েকবার ক্যাচ মিস করেছে৤ গত ১ বছরে ধ্বংসাত্নক রাজনীতির কারণে দেশের যে পরিমাণ ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা পূরণ করার জন্য এখন আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত সরকারের প্রধান কাজ হবে সুপার ব্যাটিং করা৤ তাহলে একতরফা নির্বা চনের কলঙ্ক থেকে নিজেদেরকে বের করতে পারবে৤
বিএনপি জামায়াত আপাতত: কোন ধ্বংসাত্নক কর্ম সূচীতে যাবে না৤ তাদের ঘর গোছাতে ২/৩ মাস সময় লেগে যাবে৤ বেশীও লাগতে পারে৤ সরকার মধ্যবর্তী নির্বা চনের চিন্তা করলেও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌছতে অন্তত: ১ বছর সময় লাগবে৤ এই ১ বছরে জনগণের মন জয় করার জন্য নবগঠিত সরকারকে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে৤ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ইচ্ছা করলে তিনি নিজেকে মালয়িশয়ার সফল রাষ্ট্রনায়ক মাহাথির মুহাম্মদ এর স্থানে অধিষ্ঠিত করতে পারেন৤ তাঁর এখন কোন চাওয়া পাওয়ার নে৤ তিনি এখন শুধু দেশের জন্য কাজ করে যাবেন বলে দেশের সাধারণ জনগণ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে৤ তাঁর ছেলেমেয়ে দুজনেই সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত৤ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কোনপ্রকার পিছুটান নেই৤ সুতরাং তাঁর পক্ষে একজন মাহাথির হওয়া অসম্ভব নয়৤ দেশের আম জনতা আশা করে তিনি একজন মাহাথি মুহাম্মদ এর দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন৤ এজন্য আগামী ১ বছরে নবগঠিত সরকারকে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে কোন কম্প্রোমাইজ করা যাবে না৤
বিএনপির সাথে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য আলাপ আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে৤ এই অন্তবর্তী সময়ের মধ্যে সরকারকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে৤ অন্তত:পক্ষে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করণীয় সেগুলোর প্রতি আন্তরিক মনোনিবেশ করতে হবে৤ বিশেষ করে সরকারের সেবাখাতের দূর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স অনুসরণ করতে হবে৤ যেমন: স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, ভূমি, পুলিশ প্রশাসন, গণপূর্ত, বিচার বিভাগ এইসব ক্ষেত্রে ১০০% সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে৤

নির্বা চন কমিশন এবং দূর্নীতি দমন কমিশনকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন করতে হবে৤ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে৤ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধ করতে হবে৤ মন্ত্রীদের ‘কথা কম কাজ বেশী’ নীতি অনুসরণ করতে হবে৤ সরকারী দলের কোন এমপি মিনিস্টারের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ উঠলে সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে৤ তৃণমুল থেকে দলকে সাংগঠিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে৤ বিরোধী দলের অপরাজনীতি দমনের মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে যে, সরকার ইচ্ছা করলে সব পারে৤ সুতরাং সরকারের জোটের মধ্যে যদি কোন গলধ থাকে সেটা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশোধন করতে হবে৤

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

শুভ্র সরকার's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি রাজনীতি সচেতন মুক্ত চিন্তার মানুষ।