তৌহিদ উল্লাহ শাকিল'এর ব্লগ
রসিক রাজ বকুল ভাই (রম্য গল্প )
বকুল এবং তার বাবা বজলুকে নিয়ে গ্রামের সকলের হাসির অন্ত নাই । দু'জনই বেশ রসিক বলিয়া লোকে তাদের নিয়ে হাসতে বিলম্ব করে না । তারা ও চেষ্টা করে গ্রাম বাসির মনোরঞ্জন করতে। পাড়ায় কার কোন অনুষ্ঠান হলে দু'জনের ডাক সবার আগে পড়িবে । প্রথম দুজন একসাথে নানা অনুষ্ঠানে গেলে ও এখন ব্যাস্ততার কারনে আলাদা ভাবে যায়। তবে দু'ই জন বেশ সাহসি লোক ।
দেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে দু'জনের ভালো জ্ঞান আছে। এছাড়া বহিবিশ্ব সম্পর্কে ও তাদের ভাল ধরনা আছে। সেদিন পাড়ায় হাতেম আলীর মেয়ে সখিনার গায়ে হলুদ । সেখানে দাওয়াত পড়িল বকুলের । তার বাবা বজলু তখন পাশের গ্রামে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছে।
আমি শখ করে ফটো তুলি । নিজের সদ্য কেনা ডিজিটাল ক্যামেরায়। আফরিন পাশের বাড়ির চাচার মেয়ে , সকালে এসে বলল
টুটুল ভাই আজকে বিকালে কি ফ্রি আছেন ।
তিন বেলা
" সকাল বেলা "
মা দাওনা কিছু টাকা।
আমার কাছেতো টাকা নাইরে বাপ।
দূর। তোমরা যে কি !কত করে বললাম আমারে কিছু টাকা দেও। তা যখন দিলে না । আমি স্কুলে যাই।
রাহেলার খুব খারাপ লাগে । একমাত্র ছেলে কিছু টাকা চেয়েছে কোথায় যেন খেলতে যেতে বন্ধুদের সাথে। তাও দিতে পারে নি । কি করবে রাহেলা । অভাবের সংসার তার উপর দ্রব্য মুল্যের বৃদ্ধি । তাদের মত মধ্যেবিত্ত পরিবারকে বর্তমান সমাজে চলতে গেলে যথেষ্ট হিমশিম খেতে হয়। একদিকে ছেলের লেখা পড়ার খরচ , অন্যদিকে সংসার।
'বান' নেমেছে জীবনে
বান নেমেছে জীবনে
সন্ধ্যার আকাশে লাল রক্তিম আভা
আলো ছায়ার অন্যরকম মায়া।
নদীর কুলে কাশ বনে কাশফুলের মেলা,
ডিঙ্গী আর কোষা নৌকায় মাঝিদের হাঁকডাক।
দীঘল কাল কেশে ঢেউ খেলে নদীর মত
নীড়ে ফেরা পাখির দল থমকে যায়
তোমার হাসির শব্দে ,ঝর্না ভেবে ভুল করে।
লাজুকতা নিয়ে পাশাপাশি বসে থাক
সৌন্দর্যের এক অনন্য মূর্তি হয়ে ।
তোমার চোখে চোখ রেখে খুঁজে পেতে চাই
জীবনের সুখ প্রতি দিন ।
হায়রে নিয়তি , সব কেড়ে নিলে
বানের জলে ,ঘর-বাড়ী আর ফসলের মাঠ ।
কোথায় পাব ঠাই , স্বার্থপরে ঘেরা এই ধরা'য়
পরিশেষে ছুটে যাই তোমার পানে ।
ওমা একি হল তোমার , পড়নে লাল শাড়ী
হাতে কাঁচের চুড়ি , গলায় মুক্তার মালা।
এখানে ও বুঝি বান নেমেছে
নিঃস্ব করে দিয়ে আমায় নামায় পথের প'রে ।
বান নেমেছে জীবনে আমার এখানে সেখানে
বানের স্রোতে ভাসছি আমি ,জীবন পারাবারে।
প্রবাসের জীবন চিত্র
একাকী প্রতিদিন নির্ঘুম রাত কাটাই
দেশ-মাতা তোমায় হৃদয়ে রেখে,সেকেন্ড,মিনিট
ঘন্টা,দিন মাস বছর।একের পর এক।
বিশাল অট্রালিকায় করি বসবাস,পাচতারা হোটেলে
খাবার খাই,ফাস্টফুড,রসালো-বিদেশী চটকদার রান্না
। কই মাছের ঝোল আর হেলেঞ্চা শাকের স্বাদ
জিভে জল আনে ,তাই বিস্বাদ লাগে এখানে সব।
ব্যাস্ততা আর কোলাহল নিংড়ে ফেলে জীবনের সব ।
আম্রকাননের শীতল পবনের লোভ জাগে।
নাগরিক কোলাহলে পথ হারাই রাতের পর রাত।
হুট করে ঘুম ভেঙ্গে যায় , মনে পড়ে
মা তোমার স্নেহ মাখা সেই মমতার মুখ।
ভুলে থাকতে তোমায় আবার বীয়ারের পেগে
নিজেকে লুকাতে চাই একের পর এক ।রাত শেষে
ভোরের আহবান , নেই পাখির কিচির মিচির
নেই শিশির ভেজা ঘাসের চাদর । ব্যাস্ত আমি
ছুটে চলি । প্রবাস জীবনের ব্যাস্ত কোলাহল আর
চক বাঁধা জীবনের গণ্ডিতে । দিনের পর দিন
মাসের পর মাস, বছরের পর বছর
প্রবাসের জীবন চিত্র
প্রবাসের জীবন চিত্র
তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
একাকী প্রতিদিন নির্ঘুম রাত কাটাই
দেশ-মাতা তোমায় হৃদয়ে রেখে,সেকেন্ড,মিনিট
ঘন্টা,দিন মাস বছর।একের পর এক।
বিশাল অট্রালিকায় করি বসবাস,পাচতারা হোটেলে
খাবার খাই,ফাস্টফুড,রসালো-বিদেশী চটকদার রান্না
। কই মাছের ঝোল আর হেলেঞ্চা শাকের স্বাদ
জিভে জল আনে ,তাই বিস্বাদ লাগে এখানে সব।
ব্যাস্ততা আর কোলাহল নিংড়ে ফেলে জীবনের সব ।
আম্রকাননের শীতল পবনের লোভ জাগে।
নাগরিক কোলাহলে পথ হারাই রাতের পর রাত।
হুট করে ঘুম ভেঙ্গে যায় , মনে পড়ে
মা তোমার স্নেহ মাখা সেই মমতার মুখ।
ভুলে থাকতে তোমায় আবার বীয়ারের পেগে
নিজেকে লুকাতে চাই একের পর এক ।রাত শেষে
ভোরের আহবান , নেই পাখির কিচির মিচির
নেই শিশির ভেজা ঘাসের চাদর । ব্যাস্ত আমি
ছুটে চলি । প্রবাস জীবনের ব্যাস্ত কোলাহল আর
চক বাঁধা জীবনের গণ্ডিতে । দিনের পর দিন
ষ্টেশন মাস্টারের গল্প

ষ্টেশন মাস্টারের গল্প
তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
এক
লাকসাম রেলওয়ে জংশান।বিশাল এলাকা । অনেক রেল লাইন । চারদিকে রেলের রাস্তা। আখাউড়া , ঢাকা থেকে সব ট্রেন এক রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে ষ্টেশনে । এরপর ভাগ হয়ে যায় সেখান থেকে তিনটি লাইনে। একটি লাইন চলে গেছে চট্রগ্রামের দিকে , অন্যটি নোয়াখালীর দিকে আর বাকি'টি চাঁদপুর অভিমুখে। সবসময় কোলাহল লেগেই আছে ষ্টেশনের মাঝে। নিয়মিত বিরতিতে একটার পর একটা ট্রেন আসছে আর ছুটে যায় তার গন্তব্য অভিমুখে।কত রকমের মানুষ ষ্টেশনে থাকে তার হিসেব নাই । অনেক হকার , ফকির, ছদ্দবেশী পুলিশের লোক এবং নানামুখী যাত্রী তো আছেই। সেই সাথে এই ষ্টেশনে অনেক দিন যাবত আছে নুরু পাগলা।
কিছু জীবনের কথা
কিছু জীবনের কথা
তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
একটি মৃতদেহকে ছিঁড়ে খাচ্ছে শেয়াল শকুন
দেখতে কেমন দৃষ্টিকটু, বিশ্রী লাগে বলুন
নাগরিক সমাজে এটা বেমানান সবাই বলে
সকলে এসব ঘৃণা ভরে এড়িয়ে চলে।
রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘরে যে থাকে
জীবন নিয়ে কত কল্পনার ছবি আকে।
প্রতিদিন সভ্য মানুষ তাকে ছিঁড়ে খায়
বিনিময়ে খাবারের জন্য কিছু টাকা পায়।
রাস্তায় পড়ে অনাহারী শিশু জোরে কাঁদে
তাকিয়ে হেথায় মধুবালা জীবনের সপ্ন বাধে
মাতৃত্তের জন্য হৃদয় হাহাকার করে উঠে
অস্পৃশ্য মুখ লুকায় তাকিয়ে শ্যামল মাঠে।
দাশ'বাবু সরকারি আমলা অনেক পয়সা তার
বৌ রেখে বাড়ীতে করেন সমুদ্র বিহার।
স্ত্রী-তার সুখ খোঁজে পায়না বিলাস অট্রালিকায়
পরিশেষে পা বাড়ায় অন্ধকারের অজানা নর্দমায়।
(১৪.০৯.২০১১।অপরাহ্ন ০১.২৮ । রিয়াদ । সৌদি আরব)
আমরা সবাই বাঙ্গালী
উস্কুখুস্কু চুল পরনে ময়লা কাপড় চোপড় নিয়ে
আপিসের সামনে সারিবদ্ধ ভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে।
নির্বিকার অভায়ব ,সুখ বিলীন হয়ে যাওয়া মুখের হাসি
মলিনতায় ছেয়ে আছে ।
থাকার জায়গা নাই, রান্নার কিচেন নেই
প্রতিদিন তবু কর্মের বিরাম নেই।ধুলি-মাখা
দেহ পরিষ্কারের জন্য গোসল খানা নেই,এসব অভিযোগের
দরবার নিয়ে দাড়িয়ে গুটিকয়েক প্রবাসী শ্রমিক।
আমি আপিসের কর্মচারী আমার ক্ষমতার
দৌড় সীমাবদ্ধতার মাঝে, তবু উঠে দাড়াই
তাদের কাছে শুধাই , একে একে সব বলে
কষ্টটা আমার বুকে ও বিধে সরু শলাকার মত।
প্রবাসে কষ্টে থাকে অনেকে এত কষ্টে
তা জানার বাইরে ছিল। ছুটি বড়কর্তার
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে,সব শুনে বলেকি?
কিছু রিয়াল দিয়ে দাও, বল সব হবে ।
বিনিময়ে তোমার সেলারী দ্বিগুণ হবে।
থমকে দাড়াই কিছু সময় , অনেক টাকার লোভ
না এভাবে চলতে দেবনা । এরা তো আমার ভাই
আমার দেশের সন্তান। এদের জন্য কিছু করা
আমার সবচেয়ে বড় কর্তব্য ।
এক জীবনের গল্প
এক জীবনের গল্প
তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
ঘুমের জড়তা নিয়ে হয় নিত্যদিনের প্রভাত
পেটে খুধা নিয়ে একথালা পান্তা ভাত ।
সাতটা'য় মিলে কাজ সীমাহীন অনেক কষ্ট
ধুলোমাখা সেই শার্ট সপ্নগুলো হয় নষ্ট।
প্রতিদিন ঘামে ভেজা কষ্টের বিশ্রী গন্ধ
সমাজপতিরা হেঁটে যায় করে চোখ বন্ধ।
নিত্য দিনের এই খাটুনি বাঁচার জন্য
উপোস থাকলে কেউ দেয়না মোরে অন্ন।
পঙ্গু বাবা আর বোন সাথে মা-ভাই
তাকিয়ে থাকে কখন খাবার নিয়ে যাই।
যৌতূকের দাবি মেটাতে অক্ষম আমার বাবা
বোনের প্রতি নির্যাতনের নামে ভয়াল থাবা।
পঙ্গু বাবার মেলেনি মিলের পাওনা টাকা
লাভ কি শ্রমদিয়ে জীবন করে ফাঁকা ।
সৎভাবে বেঁচে থাকো সবাই চেঁচিয়ে বলে
এই জীবনকে কি বেঁচে থাকা বলে ?
সকাল থেকে সন্ধ্যা কাজে পার দিনটা
সুখ পেতে উসখুস করে বোকা মনটা ।
(০৬.০৯.২০১১ রিয়াদ সৌদি আরব । সকাল ১০টা )