তাহের পূত্রের দণ্ড মওকুফ একটা স্বাভাবিক আওয়ামি পদক্ষেপ...
জীবনে একবার আমি লক্ষীপুর গেছিলাম। তখন সক্রিয় রাজনীতি করি। সংগঠনের একটা শিক্ষানীতি বিষয়ক প্রকাশনা বিক্রি ছিলো উদ্দেশ্য। চারদিনের সফরে লক্ষীপুরের চারটা থানায় প্রাক্তন বামদের সাথে দেখা হবে এইরকম উত্তেজনা তৈরী হইতেছিলো। বাংলাদেশের বাম আন্দোলনের ইতিহাসে লক্ষীপুরে জন্ম নেয়া সংগঠকদের বিশাল ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবেই জানা ছিলো। কমরেড তোয়াহা, আ.স.ম আব্দুর রব, দিলীপ বড়ুয়া এমন অনেকেরই রাজনৈতিক সূচনা লক্ষীপুরের মাটিতেই হইছিলো। ফেনী থেইকা দুপুরের দিকে রওনা দিয়া যখন লক্ষীপুরে পৌছাইলাম তখন প্রায় সন্ধ্যা। আমার হাতে কেবল তিনটা যোগাযোগের ঠিকানা, যাদের সাথে দেখা কইরা আমার রাতের থাকা-খাওয়া আর পরবর্তী দিনের পরিকল্পণা করতে হইবো। শহরে ঢোকার মুখেই বাস স্ট্যান্ড। ফেনীর নিখিলদা আমারে ছোট শহরের ম্যাপটা ভালো মতোই বুঝাইয়া দিছেন। আর সেই মতোই হাটতে শুরু করলাম।
প্রথমে লক্ষীপুর কলেজের এক শিক্ষকের সাথে দেখা করার কথা। তিনি একসময় আমাদের সংগঠন করতেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার মেস খুঁইজা বের করার পর জানতে পারলাম দুপুরবেলা তিনি পারিবারিক জরুরী কাজে ঢাকা গেছেন। সুতরাং অপশন এক বাদ দিতে হইলো। ইতোমধ্যে সন্ধ্যা পার হইয়া রাত্তির হওয়ার পথে। অন্ধকার অচেনা শহরে হাটতে শুরু করলাম পাবলিক লাইব্রেরীর পথে। খুব বেশিদূর যাইতে হইলো না। পাবলিক লাইব্রেরীর পাশেই পার্টি অফিস ভাড়া নেয়া আছে। স্বল্প শক্তির বামপন্থী দলের অফিস যেমন হয় ঠিক তেমন একটা অফিস। বাশের বেড়া আর নাড়িকেল পাতায় ছাওয়া একটা ছোট্ট বাজারের মতোন জায়গায় মেইন রোডের উপরেই হাতে লেখা সাইনবোর্ড। কিন্তু অফিসের একমাত্র দরজায় তালা ঝুলতে দেইখা আমি রীতিমতোন শংকায় পড়লাম। পাশের ছাপড়া মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে ছানার আমিত্তি খাইতে খাইতে খবর নেয়ার চেষ্টা করলাম,
: কাকা, এই অফিসের লোকজন আসে না?
: আহে তো বাবা, কহন যে আয় আর কহন যে যায় খেয়াল তো রাখি না। তয় লাইব্রেরীর সিড়িতে বহে দেখছি...
আমিও পাবলিক লাইব্রেরীর তিন-চার ধাপের সিড়িতে গিয়া বইসা থাকি। যদি কারো সাক্ষাত মিলে। কিন্তু রাত আটটার সময়েও দেখি কোনো সাড়াশব্দ নাই কোনো কমরেডের। সেই যূগে মোবাইল যোগাযোগ সম্ভব ছিলো না। মোবাইল ফোন তখনো কেবল বড়লোকের সম্পত্তি, এইটার কোনো নিম্নবর্গীয় বাজার তৈরী হয় নাই। তাই তিনচার দিন আগে পাঠানো চিঠিই ছিলো ভরসা। কিন্তু সেই ভরসায় তখন ঘন বরষা ঝরে। ফেনীগামী শেষ বাসটাও তখন চইলা গেছে।
এমন অনিশ্চয়তার সময়ে হঠাৎ ছায়া ঢাকা ছোট শহরের সুনসান নীরবতায় ছেদ পড়লো। গগনবিদারী জয় বাংলা শ্লোগানে চারপাশ মুখরিত কইরা একটা মিছিলের আগমন ধ্বনি টের পাইলাম। রাতের আঁধারে গুটিকয় স্ট্রিট লাইটের অসহায় উপস্থিতির মাঝে এমন মিছিল ঢাকা শহরেও তেমন একটা দেখা যায় না। মিছিলকারীরা যখন গোচরে আসলো তখন বুঝলাম এমন মিছিল ঢাকা শহরে আমার জন্মাবধি দেখি নাই। শ'খানেক খাকি হাফপ্যান্ট আর স্যান্ডোগেঞ্জি পরা লোক হাতে গজারীর লাঠি আর মাথায় লাল পট্টি বান্ধা। তারা লক্ষীপুরের মাটির আওয়ামি মালিকানা জাহির করতে করতে আগাইতেছে।
ভাবগতিক বুইঝা আমি একটু আড়াল থেইকা তাদের চলে যাওয়া দেখি। তারপর প্ল্যান সি অনুযায়ী এক নামজাদা উকিল, যিনি পার্টির সমর্থক হিসাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন তার বাড়িতে গিয়া ধর্ণা দেই। এসব বড় মানুষদের সাথে যোগাযোগ সাধারণত খুব একটা সুখপ্রদ হয় না। কিন্তু এই লোক আমার চেহারা সুরত দেইখা কোনো এক কারনে পছন্দ কইরা ফেলাতে কাজ শেষ কইরা আমার সাথে আড্ডাবাজি শুরু করেন। আমরা সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়া আলোচনা শুরু করি। তবে উল্লেখযোগ্য লাগে তিনি কিছুতেই লক্ষীপুরের রাজনীতি নিয়া কোনো আগ্রহ দেখান না। আর মজার ব্যাপার হইলো ফেনীতে বেশকিছুদিন থাকবার অভিজ্ঞতায় এই আচরণ আমার কাছে পরিচিত লাগে। তাকে কোনোভাবে হার্ট না কইরা আমি বেশ টেকনিক্যালি জানতে চাই।
: জয়নাল হাজারী কি আপনাদের এই দিকেও খবরদারী চালায়?
তিনি বেশ সহজভাবেই আমার প্রশ্নের উদ্দেশ্য এড়াইয়া যান,
: না তো...আচ্ছা শোন জামান ভাইরে বলবা আমাদের এই এলাকায় নিয়মিত একটা দুইটা সফর দিতে...সংগঠন চাঙ্গা রাখতে নেতাদের উপস্থিতি লাগে।
আমি এইবার সরাসরি জিজ্ঞাসা করি,
: আচ্ছা, আজকে রাতের বেলায় একটা উদ্ভট মিছিল দেখলাম...হাফপ্যান্ট আর লালপট্টি আলা একদল তরুণ...আওয়ামি লীগের শ্লোগান দিতে দিতে গেলো। কোনো উৎসব চলতেছে নাকি?
আমার প্রশ্নের পর দাউদ সাহেবের চোখ খানিকটা বিস্ফোরিত হইলো। সে একবার জানালা দরোজা চেক কইরা আসে। ঠিক ফেনী কলেজের সামাদ স্যার যেমনে পার্টির বই বিক্রি করতে গেছি শুইনা আমার পেছনে কেউ আছে কীনা চেক করছিলেন। তারপর বেশ নীচু গলায় বললেন,
: ঐটা তাহের বাহিনীর মিছিল।
আমি আর দ্বিতীয় কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করি নাই তারে। পরবর্তী দিনেই সকাল সকাল আমি রামগতি থানার দিকে রওনা দেই। সদর থানায় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা ভালো না থাকলেও ঐ থানার অবস্থা ভালো ছিলো সেইসময়ে। আমি বেশ সহজেই পার্টি অফিসের খোঁজ আর দায়িত্বে থাকা সংগঠকদের দেখা পাই। সদর থানার দায়িত্বে থাকা কমরেডও পারিবারিক কারনেই রামগতির বাবার বাড়িতে অবস্থান করতেছিলো। তার সাথেও দেখা হয়।
একরাত রামগতিতে অবস্থান কইরা সদরের আহ্বায়ক মিলন কৃষ্ণ মণ্ডলরে সাথে কইরা ফিরা আইসা বের হই শহরের উল্লেখযোগ্য স্থান দেখতে। সে আমারে পাবলিক লাইব্রেরী, অপরিকল্পিত রাস্তার কারনে মইরা যাওয়া নদী দেখানের সাথে সাথে, তৎকালীন আওয়ামি নেতা তাহেরের বাড়িটাও দেখায়। যেইখানে তাহের সাহেব বিকল্প বিচারালয় বসায়। আর তার বিচার পদ্ধতি ফেনীর জয়নাল হাজারীর চাইতেও ভয়ঙ্কর...অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম হত্যার রায় সেই বিচারালয়েই দেওয়া হইছিলো, লক্ষীপুরের প্রায় সব মানুষেরই তা জানা।
কিছু স্মৃতি আছে যা ভুইলা যাইতে চাই আমরা। লক্ষীপুর শহর নিয়া তাই আমি বেশ ইতিবাচক থাকি। ছিমছাম সুন্দর একটা শহর। বেড়াইতে যাওয়ার জন্য বেশ আদর্শ স্থান। সেই শহরের মানুষরা তাহেরের মতোন খুনি ফ্যাসিস্টের উত্থানে ভীত, এইটা ভাবতে খুব ভালো লাগে না। কিন্তু আমাদের দেশের বাস্তবতায় আমরা কতো সহজে এই সত্য মাইনা নেই। কোনোরকম গণপ্রতিরোধ গইড়া তোলার সামর্থ্য রাখে না আমাদের বামপন্থার ইতিহাসে জাজ্জ্বল্য থাকা এলাকার মানুষেরাও। সদর থানায় নির্যাতনের সনদ হিসাবে বরং দেখি আবু তাহের রাষ্ট্রযন্ত্রের সহযোগিতায় পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত (?) হয়।
আর এইরম তাহেরদের নেতা ঠিক যেমন হওয়ার কথা ঠিক সেইরমই ভূমিকা পালন করেন আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতি। আওয়ামি ফ্যাসিস্ট সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন তিনি ফাসীর দণ্ডপ্রাপ্ত তাহের পূত্র বিপ্লবরে ক্ষমা কইরা দিয়া। জয়নাল হাজারী-শামীম ওসমান-আবু তাহেরদের নেতা হইতে গেলে এমনই তো হইতে হয়। আর আমাদের দায়িত্ব সেইটারেই কোনো প্রতিবাদ ছাড়া মাইনা নেয়া।
আওয়ামি-বিএনপি-জামায়াত-জাতী পার্টি সকল নির্বাচনমূখি দলের খুনি চরিত্র আজ উন্মোচিত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এইসব জনপ্রতিনিধিরা সবাই কোনো না কোনো এক্সটেন্টে আবু তাহের, কোনো না কোনো এক্সপ্রেশনে জিল্লুর রহমান।





কিন্তু এরম নগ্ন পদক্ষেপ নেওনের পিছে কারণটা কি হইবার পারে?
আম্লীগে কি ভাবতেছে যে নেক্সট টার্মেও হেরা সরকারে আসবো, জনগনে এইসব আউল ফাউল কাজকাম দেইখাও হেগোরে ভোট দিবো?
না কি নেক্সট টার্মে ফেল করনের ভয় থিকা রাস্তা ক্লিয়ারের প্রক্রিয়া এখন থিকাই এমনে চালু করতেছে?
তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন নির্বাচন করে তার আগে প্রশাসনে অনেক পরিবর্তন করা হয়...এইটাই নিকট অতীতে দেখা গেছে। আওয়ামিরা সম্ভবতঃ এই কারনেই সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্তে গেছে। আদালতের রায়েও বলা ছিলো আরো এক বা দুই টার্ম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কন্টিনিউ করা যাইতে পারে। কিন্তু তারা এই মুহুর্তেই পরিবর্তনটা করছে সম্ভবতঃ বিএনপি'র সাথে নেগোসিয়েশনে যাওনের পন্থা হিসাবে। শেষ মুহুর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিয়ন্ত্রণেই নির্বাচন হইবো কিন্তু আওয়ামি লীগের পছন্দের কেউ হইবো সেই সরকার প্রধান। যে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করনের একটা ভাব নিবো। কিন্তু প্রশাসনে আওয়ামি কর্মি সমর্থকরাই দায়িত্ব পালন করবো। আর ঐরকম নির্বাচন তো আমরা কম দেখি নাই...
ভাস্করদার এই মতের সাথে একমত।
জিল্লুর রহমানও মনে হয় ইয়েস উদ্দিনের পথে হাটতেছে !!
যাহা লাউ তাহাই কদু
দেখি আমরা যদু মদু
সবাই ঘাটের মড়া জিল্লুর রহমান কে দায়ী করছে দেখে হাসি পাচ্ছে। কালকে দেখলাম শয়ে শয়ে কমেন্ট মাহমান্য দয়াময় ইত্যাদি। হাসিনার ধামাধরা মেরুদন্ডহীন চামচা জিল্লুরের কী নিজস্ব চিন্তাশক্তি আছে ? যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার আগেই হয়ে গেছে তাই মড়া কে দিয়ে করাতে হয়েছে। নাহলে পাচাটা বিচারপতিরাই খালাস করে দিত খুনিকে।
আমারো সেই কথা...জিল্লুর রহমানতো বলির পাঁঠা। শেখ হাসিনা পরশুদিনও সাংবাদিকগো সামনে নাসিমরে ঝারি মারছে। এর আগে ঝারি মাইরা বাপের বয়সী মাল মুহিত আর এ কে খন্দকাররে অফ করাইছিলো...
একটা দল যূগের পর যূগ ধইরা একই নিয়মে দল চালাইতেছে এইটা দেইখা আমি আজকাল বিস্মিত হই। এইরম প্রেডিক্টেবল থাকাটা অনেক কঠিন বর্তমান দুনিয়ায়।
লক্ষ্মীপুর আমার শ্বশুরবাড়ি। তাহের বাহিনীর খবর পত্রিকায় যা পড়তাম, তারচে' ভয়ঙ্কর সব কাহিনি শুনেছি শ্বশুরবাড়ির দিকের বিভিন্নজনের কাছে। বিপ্লবের একেকটা কাহিনি রীতিমত লোমহর্ষক, সেই বিপ্লবের দণ্ডমওকুফের খবরে চমকে উঠেছি।
লক্ষ্মীপুর আমার শ্বশুরবাড়ি। তাহের বাহিনীর খবর পত্রিকায় যা পড়তাম, তারচে' ভয়ঙ্কর সব কাহিনি শুনেছি শ্বশুরবাড়ির দিকের বিভিন্নজনের কাছে। বিপ্লবের একেকটা কাহিনি রীতিমত লোমহর্ষক, সেই বিপ্লবের দণ্ডমওকুফের খবরে চমকে উঠেছি।
জিল্লুর রহমানের কি দোষ।? আশ্চর্য।
দোষ তারো আছে...সে এমন একটা সিদ্ধান্তে কেনো সমথর্ন দিলো!? কিন্তু এই সিদ্ধান্ত জিল্লুর রহমানের মাথা কিম্বা হেডম থেইকা আসে নাই সেইটা নিশ্চিত...
সবই বুঝি ভাই মজা করে প্রচন্ড দুঃখে আর হতাশায় মন্তব্যটা করেছি।
আরে জিল্লুর নানায় তো সিনেমার নায়কগো মতো খালি লিপ্সিং করসে
।
জিল্লুর রহমান কিন্তু সিনেমার ভাড়া খাটা মানুষ না। সে যা করছে তার সম্মতি আছে বইলাই করছে। দেখতে নরমসরম মনে হইলেও জিল্লুর রহমান সাহেব কিন্তু আওয়ামি রাজনীতির এক্কেবারে ভিত্রের মানুষ...আওয়ামি ফ্যাসিজম তার মধ্যেও প্রবল ভাবেই আছে...
আসলে সিনেমার কথাটা বলসি দুষ্টামি করে। এটাকে অন্যভাবে নিয়েন না। তবে আমার মনে হইসে আওয়ামি সরকারের সম্মিলিত সিদ্ধান্তটা শুধু জিল্লুর রহমানরে দিয়া বলানো হইসে।
আপনের দুষ্টামিটা ধরতে পারনের পরেও আমি অন্যদের জন্য জবাবটা দিয়া রাখলাম, কারণ জিল্লুর রহমানের নরমসরম চেহারাতে অনেকেই ডিসিভ্ড হয়...
যাই হোক, আমাদের মুরুব্বী এবার উনার স্ত্রীর বিচারে কি করেন দেখা যাক।
২১ আগস্টের মামলাতে আইভী রহমান হত্যা মনে হয় সেকেন্ডারী ইস্যূ...প্রাইম বিবেচনা হইলো শেখ হাসিনারে হত্যার প্রচেষ্টা। উনার কইলজায় মনে হয় অতো পানি নাই যে সেইখানে ঢালবেন...
এই সুপারিশ নাকি আইন মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে না পাঠিয়ে সরাসরি বঙ্গভবনে পাঠানো হয়েছে। দেশে এখন রাষ্ট্রহীন সরকার না সরকারবিহীন রাষ্ট্র?
আওয়ামী দুঃশাসন
এই জাতীয় কান্ডকারখানা নূন কিছু না। "রাজনৈতিক হয়রানী" মামলা বলেতো খুন-ধর্ষন-জংগি সন্ত্রাসীদের মামলাও তো বিচার শেষ হবার আগেই তুলে নেয়া হচ্ছে। সাজেদা চৌধুরীর ছেলে সায়মনের বিচারে কারাদন্ড হলেও জিল্লুর তথা আওয়ামী লিগ তার মামলা প্রত্যাহার করে নিয়ে ও তার রায় বাদ দিয়ে ক্ষমা করেছে !
এর আগেও বিএনপি-আওয়ামি নেতাদের ছেলেপেলেরা ইচ্ছামতোন জীবনযাপন করছে ক্ষমতার দাপট দেখাইয়া, রাজনৈতিক হয়রানির বিবেচনায় অনেক কারাদণ্ডের আদেশ রাষ্ট্রপতি বাতিল করছে...কিন্তু রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামির ক্ষমা পাইয়া যাওয়ার ঘটনা দ্বিতীয়বার বা তৃতীয়বার ঘটলো। আমার স্মৃতি যদি প্রতারণা না করে তাইলে ঢা.বি'র সেভেন মার্ডারের আসামি শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রত্যাহার করছিলো খন্দকার মোশতাক অথবা জিয়া সরকার। সেইটাই প্রথম উদাহরণ...এরপর স্বৈরাচার এরশাদশাহীর সময় ঝিন্টু নামের একজনের মৃত্যুদণ্ড ক্ষমা করছিলো ৯১'এর বিএনপি সরকার। তবে সন্ত্রাসী তাহেরের ছেলে বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিলের ঘটনাটা আমি বুঝতে পারি; তাহেরের দাপট আমি স্বচক্ষে দেখছি...জয়নাল হাজারীরেও ছাড়াইয়া যাওয়ার স্বপ্ন দেখা এই সন্ত্রাসী কিভাবে জনপ্রতিনিধি হয় সেইটাই বিস্ময়!
এই পোস্ট দেওয়ার পর থেইকাই কেমন খচখচ করতেছিলো বিপ্লবী তাহেরের মৃত্যুদণ্ডের দিনে একজন সন্ত্রাসী তাহের নিয়া শিরোনামটা্এখনো চোখে লাগতেছে নিজের কাছেই...কিন্তু কিছু করার নাই। এইটাই নিয়তি...
নাটোরের গামা হত্যার আসামীদেরও সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করা হয়েছিলো এই সরকারের সময়ে।
এইটার কথা ভুইলা গেছিলাম...ঐ মামলায় ১১ জনরে ক্ষমা করা হইছিলো মনে হয়। এই খুনিরা তো আবার এলাকার চেয়ারম্যানরে মারছে পরে...
মন্তব্য করুন