ইউজার লগইন

তিনটা কবিতা...


পলায়ণ পর্ব

ছেলেটা শৈশবে সহজেই লুকিয়েছে
যেখানে-সেখানে
মায়ের আঁচল, চৌকির তলায়।
বালক বেলার সাথে শহরের পরিচয়
হলে; লুকোতে চাইলেই
শহরের আড়ালে চলে যেতো
ডুবন্ত সুর্যের সাথে
চোখেচোখে, গল্পে গল্পে সময় কাটাতে।
কখনোবা পথরেখা আঁকতে আঁকতে
পাল্টে দিতো শহরের পুরনো চেহারা,
শহরটার শরীরে যতো বাঁক, চড়াই-উৎড়াই,
রূপের তিলক...সবটার ঘ্রাণ নিতো
লুকিয়ে লুকিয়ে।

রোমাঞ্চিত, শিহরিত আর
অনিয়মের কৈশোর থিতু হলে
নানা রঙ – নানা ঘ্রাণ – নানা ঘোরে
ঘোরাঘুরি, ঘুড়ির মতোন
বাউলি কাটতে কাটতে
সুযোগ-সন্ধানী।
লুকোবার জন্য বেছে নিলো অরণ্য, পাহাড়,
সাগরের ঢেউ...
তাকে খুঁজতে গেলে
রহস্যের বেড়া এসে পথ আটকাতো।

তবু,
বয়সের সাথে কীযে হোলো!
ছেলেটা চাইলেই নিজেকে অদৃশ্য করে দেয়ার ক্ষমতা
হারিয়েছে, হারিয়েছে হারিয়ে যাবার
সাধ্য, মায়া জনিত বন্ধনে...

সারাজীবন লুকিয়ে থাকা
ছেলেটা এবার দ্রুত, গোপনীয়তা নিয়েছে শিখে।
তার স্বপ্ন, রুটিনের খাতা, সহনীয়
অথবা অসহনীয় ভালোবাসা সব লুকিয়ে রেখেছে
গোপনীয়তায়,
কখনো –সখনো মিথ্যের ফুলঝুড়িতে।


হিস্ট্রি অফ ম্যাডনেস কিম্বা পাগলামির তত্ত্বকথা

একটা সময় নেশায় আচ্ছন্ন থাকতাম,
দিবালোক কিম্বা রাত্তিরের অন্ধকার,
জনসম্মুখে অথবা নিরালায়, মৌন
কিম্বা সরব শব্দময়তা চারিধারে;
তাদের কেয়ার করাটারে অর্থহীন
সিভিকো চরিত্র মনে হইতো, অতএব
ধীরে ধীরে সমাজের গুষ্টি মেরে মেরে
আমি নেশা করতাম গঞ্জিকা –চরশ
হেরোইন কিম্বা সিডেটিভ ময়তায়।

একটা সময়, বয়স আটকের মন্ত্র
ভুলতে শুরু করলাম ক্রমশঃ। সামাজিক
মানুষেরা ওৎ পাতা ছিলো দেয়ালের
একান্ত আড়ালে; তারা আমার মগজ
আর বুদ্ধিবৃত্তি কেমন দখলে নিলো
অনায়াসে; যেনো তাহাই জরুর ছিলো।

আমি চিন্তা করি বইলাই অস্তিত্বশীল
হইতে শুরু করলাম। নেশার জগতে
ডাকাডাকি ছিলো, কিন্তু তারচে অধিক
ছিলো চক্ষুলজ্জা; যেনো অন্ধকারে আমি
দৃশ্যমান থাকি...অবয়বে ফসফরাস ঠিকরায়।

জীবনে গদ্যের লাইন টানা চলতে থাকলো...

তবে গদ্যের কাব্যরে আজকে সকালে
হঠাৎ কারণ ছাড়াই ঠাহর হইলো।
আমার নেশায় থাকা সময়ের স্মৃতি
হাতরাইতে গিয়া দেখি কোনো মানুষের
মুখ মনে পড়তেছে না, অসহায় আমি
টের পাই, মানুষ মানেই জটিলতা;
কারণ সেইসময় নেশায় নেশায়
ভাসতে ভাসতে আমি নদীর মতোন
সরল ছিলাম। আমার জীবনে কোনো
আড়াল ছিলো না...

আশাবাদী নদীর কবিতা

একটা নদী কেমন কাতর হয় জলে
থমকে থাকা তার পাজরে আগুণ জ্বলে
নীরবতা যেনো বেজেই চলেছে সুরে
নদীটাকে তাই আলতো ডেকেছি দুপুরে।

আড়চোখে দেখি তার শব্দহীন মুখ
থির চোখে তবু আশাটুকু জাগরুক
জলস্রোতধারা হঠাৎ ভাসাবে তারে
আগুণেরা নিভে যাবে উচ্ছ্বল সাতারে।

আমি আর নদী স্বপ্ন দেখেছি জলের
মেলা আর খেলা হবে সুদ ও আসলের
দেনা আর পাওনা বুঝে নদী ভাসবে সুখে
আমি তার পাশে, মুখোমুখি দাঁড়াই্ সমুখে।

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সামছা আকিদা জাহান's picture


পলায়ণ পর্ব

ভাল লাগলো।

হিস্ট্রি অফ ম্যাডনেস কিম্বা পাগলামির তত্ত্বকথা

আমি পাঠককে আকৃষ্ট করতে পারেনি।

আশাবাদী নদীর কবিতা

খুবই ভাল লাগছে। বেশ ভাল। আবৃত্তি করতে বেশ ভাল লাগছে।

রায়েহাত শুভ's picture


শেষেরটাতে কেমন জানি একটা পুরানা পুরানা আমেজ পাইলাম।

বাকি দুইটা খুব সুন্দর লাগলো...

তৌহিদ উল্লাহ শাকিল's picture


টিপ সই আলাদা আলাদা করে দিলে আর ভাল হত ।

একজন মায়াবতী's picture


আশাবাদী নদীর কবিতা বেশী ভালো লাগছে। Smile

তানবীরা's picture


গেছিলেন কই?

দুই নম্বরটা বেশি জোস Big smile

ফিরোজ শাহরিয়ার's picture


মাঝেরটা বেশী ভালো লাগছে।

ভাস্কর's picture


কবিতা পাঠকের এই আকালের দিনে, ভালো লাগার এবং না লাগার অনুভূতি প্রকাশের জন্য সকল মন্তব্যকারী আর পাঠকদের ধন্যবাদ...

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


১ নাম্বারটা
অসাধারণ।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...