ফ্রেমবন্দী অনুভব: ১
ক. নিজের চোখের চেয়ে বড় কোনো ক্যামেরা আছে কিনা জানা নেই। এই তত্ত্ব ধারণ করে বহুদিন ক্যামেরা কেনা হয় নি। ক্যামেরা ফ্রেমের বাইরে যায় না, চোখ দেখে কোনা দিয়েও। যে কাদা-ময়লা-মাখা-জীবন চোখ সহ্য করতে পারে না, ক্যামেরা তাকে ফুটিয়ে তুলতে পারে নিপুণ শিল্পে! আকাশে বয়ে যাওয়া সাদা মেঘ চোখে তাই বাড়তি আলোড়ন না তুললেও ক্যামেরা এবং এইচডিআর মুখ দিয়ে বের করে নেয়- ওয়াও!
খ. জানতে চেয়েছিলাম, পড়ালেখা শিখে তোমরা কী করতে চাও?

ওরা থাকে বেড়িবাঁধে, শহরের ও প্রান্তে- ভদ্রবাবুদের উচ্ছিষ্ট জীবন যেখানে গিয়ে নদীর সাথে মেশে। ওরা উত্তর দিয়েছে মুখে, ছবি এঁকে, সাজিয়ে-গুছিয়ে এবং আরো গুরুত্বপূর্ণভাবে- মনের ইচ্ছা চেপে না রেখে। ওদের চোখের দীপ্তি সেই সততার সাক্ষ্য দেয়; হয়তো অনেকেই পারবে না, কিন্তু নিরন্তর ইচ্ছার সাক্ষ্য দেয়!
গ. ওরা থাকে এখানে। নিচে গন্ধযুক্ত নর্দমার পানি, পলিথিন এবং বাঁশের বেড়ার আশ্রয়ে।

শিশুদের মুখে হাসির সাথে সম্ভবত বাস্তবজীবন কোনো বিরোধ ঘটায় না- কারণ ওখানে আমরা থাকতে পারি নি বেশিক্ষণ! দুটো হাসির মাঝখানে নাগরিক সভ্যতাকে পশ্চাৎদ্দেশ দেখানোটা বোধহয় প্রতীকীই- কারণ বাস্তবতা এর অনুমোদন দেয় না।
ঘ. এই ছবি আদৌ কোনো তাৎপর্য বহন করে কিনা জানি না।

রুগ্ন-শীর্ণ-ছেঁড়া ও ভাঙ্গা জীবনের মাঝে একটুকরো সবুজ! কিংবা একটুকরো সবুজ-মানুষ-জীবিকার মাঝে একটুখানি রাজনীতি! কিংবা আপাতনীরব-চলৎশক্তিহীন-জড় উপাদানের মাঝে শীর্ণ হাতে জীবনের সরব উপস্থিতি! কিংবা হয়তো সবকিছুর আগে জীবনধারণের দুটো হাতিয়ার!
ঙ. ছবির মালিকানা কার থাকে? ক্যামেরা-মালিকের, নাকি যে তোলে তার? প্রথমটা হলে এই ছবিগুলোর মালিক ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাঙলিয়ার শিক্ষক ব্রায়ান ম্যাডক্সের। তাঁর সহকারী হিসেবে একটা কাজে গিয়েছিলাম, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে। সেখানেই তোলা এগুলো। ক্যামেরাটা তাঁর, তবে এই ছবিগুলোতে শাটার চাপ দেয়ার আগ্রহ ও দায়িত্বটুকু ছিল আমারই।





দূর্দান্ত ছবি তোলার হাত আপনার দাদা। খুব ভীষণ ভালো পাইলাম ছবি পোস্ট, পেছনের ভাবনা, বক্তব্য সবই।
ডরাইসি! এবিতে তুখোড় ফটোগ্রাফাররা দেখলে পিটান দিবো।
আমার কিন্তু মনে হয় তুখোড়েরা আমার কথার সঙ্গে একমতই হবেন।
অসম্ভব ভাল লাগলো ছবিগুলো । বিশেষ করে লাউয়ের ডগা।
আরো ছবি ব্লগ প্রত্যাশা করছি আপনার কাছ থেকে।
ধন্যবাদ। চেষ্টা করবো।
তাইলে আকাশে উঠার সময় দয়া করে একটু টেনে নামায়েন। উপরে অক্সিজেন নাই।
টেনে নামানোর কী দরকার?
আপনার সাথে সহকারী হিসেবে না হয় আমিই গেলাম অক্সিজেন এর সিলিন্ডার নিয়ে!!!
লাভ নাই! উঁচু জায়গায় উঠার পর মানুষরা স্বার্থপর হয়ে যায়। তখন দেখা যাবে সিলিন্ডারের লোভে আপনাকেই হয়তো ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছি।
ভিউ পয়েন্ট গুলা দারুণ...
ধন্যবাদ শুভ ভাই।
রায়েহাত শুভ বলেছেন-
তারমানে একজন তুখোড়ের ভোট পাওয়া গেলো।
অন্য তুখোড়রাও অতি শীঘ্রই মতামত দিবে।
এই তুখোড় সম্ভবত আমাকে চোখকানবুঁজে পছন্দ করেন।
ছবিগুলোর সাথে লেখাগুলো অসাধারণ লাগলো। তিনটে ছবিই চমৎকার। প্রথম ছবিতে চোখগুলো - ঝকঝকে, তীব্র, ভাষাময় - এরকম চোখ দেখতেও ভালো লাগে। দ্বিতীয় ছবিতে আপনার ব্যাখ্যাটা দারুণ লেগেছে - 'পশ্চাৎদেশ'.., আর তৃতীয় ছবিতে লাউয়ের ডগা - যেন জীবনের প্রতীক। জীবন আসলে থামে না কোথাও, কোনোভাবেই...
এটাই মূল কথা!
সুন্দর লেখা, পেছনের কথা সহ ছবিব্লগ ভাল লাগলো।
আরও চাই। ভাল থাকুন।
আসকারার ফল কিন্তু ভালো হয় না। মনে রাখবেন কথাটা।
ছবিগুলা দারুণ। তার চেয়েও ভালো লাগলো কথাগুলো। অসাধারণ।
ধন্যবাদ জ্যোতি আপা।
চোখের উপরে কিছু নাই আসলে... একটা চোখ যতটা কভার করতে পারে একটা ক্যামেরা তা পারে না। একটা ক্যামেরা চোখের দেখা কিছু অংশকে ধারণ করে ...
সো দেখার চোখ থাকাটাই জরুরী... ক্যামেরা না ...
আপনার তো চোখ আছেই, আপনার ক্যামেরাটা আমাকে দিয়ে দেন।
দেখার চোখ থাকলে ক্যামেরার চোখ সুন্দর হয়
পরিচিত দুয়েকজনকে জানি যাদের ক্ষেত্রে এটা সত্য না বোধহয়!
ক্যামেরা জিনিষটাকে একটা বোকা যন্ত্রের বেশি ভাবতে রাজি না...পিছনের মানুষটাই আসল
ছবি-লেখা দারুন..
~
অনেক ধন্যবাদ।
ছবি লেখা দুইটাই ভলো হইছে
ধন্যবাদ
ছবিগুলো দেখে কষট লাগলো। আমরা কেনো মন খারাপ করি? ওরা কিভাবে হাসে। ওদের থেকে বেচে থাকা শেখার আছে
এইরকম অবস্থায় থেকে হাসতে পারা কৃতিত্বের ব্যাপার। আমি পারি না।
এরকম দারুন একটা পোস্ট আমি মিস করার জন্য আমারে মাইনাস।

আপনেরে যতটা 'বাদাইম্মা' মনে করছিলাম, আপনি ততটা বাদাইম্মা না।
আপনের মধ্যে অনেক গুন
ভাই, আপনে কী খাইতে চান খালি কন একবার!
উত্তম আলোকচিত্র গুচ্ছ!
অনেক ধন্যবাদ শান্ত ভাই।
মন্তব্য করুন