যে মৃত্যু ভালোবাসাহীনতায়
যে প্রেমিক বলে ঈশ্বর আমাকে ঘুম দাও, অনন্ত ঘুম। সে হয়তো বিশ্বাস করে--একমাত্র মৃত্যুই তার সব দুঃখ ঘোচাতে পারে। আসলে কি তাই? মৃত্যু কি আর শেষ করতে পারে একটা সম্পর্ককে? মৃত্যু তো আরেকটা জীবনের শুরু মাত্র। জীবনে যখন ভালোবাসার মৃত্যু ঘটে, তখন ভালোবাসাহীনতার মৃত্যু একটা নরকের সূচনা করেনা কি? ভালোবাসাহীনতা এমনই এক মৃত্যু-- একবার যে মরে, তার সাথে সহমরনে যায় পৃথিবীর তাবৎ সৌন্দর্য। " এক জীবনের সুখস্মৃতি, গল্প-গান, সাজানো বাগান। স্বপ্নেরা ততদিনে হয়ে যায় মৃত পাখি"।
প্রতিদিন এমনি করে কত প্রেমিক যে মরে! যখন সে একটা সম্পর্কের অনুষঙ্গে থাকে, তখন তার একটা নাম থাকে, পরিচয় থাকে-- যে জীবন ভালোবাসাহীন, তার কোন নাম থাকে না। থাকে না কোন বর্ণ- গন্ধ। নিজের মৃতদেহ নিজেকেই বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় দীর্ঘকাল।
এবং ভালোবাসার মৃত্যুর পরও তাকে মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য বেঁচে থাকতে হয়। তাকে একটা মৃত জীবন গোছাতে হয়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সমগ্র জীবনটাকে তার আবার মেরামত করতে হয়।
ভালবাসাহীন জীবনের কাজ গুলো ভালোবাসাময় জীবনের চেয়ে একেবারেই আলাদা।
জীবনের খানিকটা সময়ের স্বপ্নকে বিদায় জানাতে হয় প্রচন্ড অনিচ্ছা ভরে। বিদায় জানাতে হয়, জমে থাকা সকল স্মৃতি; ভালোবাসাকে। চার দেয়ালের মধ্যে থেকেও, যেটা একদিন তার স্বপ্নের ঘর ছিল, সে ঘর হয়ে যায় অচেনা। সেটা আর ঘর থাকে না, হয়ে যায় আগুন্তুকের বাড়ি।
সেই আগুন্তুকেরা কখনই জানতে পারে না এক জীবনের দুঃখ বেদনা বা আনন্দ-বিলাসের চালচিত্র।
কেবলই গোপনে গুছিয়ে নিতে হয় মৃত্যু পরবর্তী গোটা জীবন।
কোন মৃত প্রেমিক যদি ব্যাক্তিগত দায়িত্বের রোজনামচা দেখায়, তাহলে তার মরনের পর কত কিছু যে দুহাতে সামলাতে হয়, তারে কোন ইয়ত্তা নেই। নিত্যদিনের সেই রোজনামচায় থাকে--
-- জমে থাকা স্মৃতির ধুলো সরানো
--- দুঃখ গুলোকে গোপনা করা
-- স্বাভাবিক জীবন যাপনের একটা নোটিশ বোর্ড ঝোলানো
-- চারপাশের গিজগিজে ভিড় থেকে নিজেকে বাঁচানো
এরকম একটার পর একটা তালিকা বাড়তেই থাকে।
শেষ পর্যন্ত সে জানে, এই গোছানো জীবন নিয়ে তাকে ভালোবাসার পথ থেকে সরে যেতে হবে, অনন্তলোকের দিকে। যার পরিণাম, মৃত প্রেমিকেরা কখনই জানেনা।
সেইসব মৃতেরা লড়াই করে একটা নরক জীবনের সাথে। লড়ে যৌথ জীবনের একাকীত্বের সাথে। সে জীবনে শুরু হয় তার দুঃখ জলে স্নান। তারপর একদিন সেই জীবনেও তাকে জায়গা করে নিতে হয়।
শুরুতে বঞ্চনা আর ঘৃণা নিয়ে আঁকতে হয় অচেনা জীবনের ছবি।
ক্রমশঃ এবং ক্রমাগত লড়াই করতে করতে ঝাঁঝরা বুকের জমিনে কখনও বৃক্ষেরা পল্লবিত হয় ঘন সবুজে।
আবার কখনও সে জমিনে শঙ্খ-চিলেরা আমৃত্যু দাপাদাপি করে। মৃত প্রেমিকেরা আজন্ম ভালোবাসাহীনতায় শেষবারের মত আরও একবার মরে বুভুক্ষু হয়ে। একেবারে নিঃস্ব হয়ে।
এমনি করে রোজ কত প্রাণ যে অকালে ঝরে যায় ? খালি চোখে কখনই আমরা তা দেখতে পাই না।
এ বড় নিষ্ঠুর নিয়তি।





ভালো লাগলো লেখাটা
ধন্যবাদ নজরুল। কেমন আছেন? আপনার উজ্জ্বল হাসি মুখটা দেখলে মনে হয়, আপনি প্রাণ শক্তিতে ভরপুর একজন মানুষ। ভালও লাগে। সব সময় এরকমই থাকুন।
ভালো লাগলো ।
ধন্যবাদ সাইদ। শুভেচ্ছা রইল। ভালো থাকুন সব সময়।
ভাল লাগছে। নিয়মিত থাকেন আমাদের সাথে।
বস। আমি বিনীত।
শুভেচ্ছা সহযোগে শুভকামনা আপনার পেছাপেছি আর গিন্নীর জন্য। গিন্নই না থাকলে আপনি কিন্তু ব্লগে সুপার ফ্লপ হিতেন এতে কোন সন্দেহ নাই।

তুমি সবরকমের লেখাতেই পটু।
এবার একটা রম্য দাও।
নুশেরা তুমি এমন করে বল্লে আমি সত্যি খুব লজ্জিত বোধ করি।
তুমি আছ কেমন? কেমন আছে গো আমার মা'টা? তোমার মেয়েটা মানে আমার মামনিটার জন্য অনেক অনেক আদর।
ভালো লাগল ।
( এবিতে স্বাগতম । )
ধন্যবাদ বোহেমিয়ান।
খুব ভাল লাগলো। আসলে কখনও ভাবি নাই আপনার মত করে......
মৃত্যু কি আর শেষ করতে পারে একটা সম্পর্ককে? মৃত্যু তো আরেকটা জীবনের শুরু
মাত্র।
এটা খুবি একটা এলেবেলে লেখা। যার খুব একটা মানে নেই। তবু আপনাডের ভালো লেগেছে জেনে আমি যথার্থই বিনীত।
হার্ডকোর ডেথ মেটাল। ভাল্লাগলো
ধন্যবাদ মীর।
খুব সুন্দর লিখেছেন আপনি। খুব ভালো লাগলো লেখাটা, প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম
ধন্যবাদ তানবীরা। এ তো আমার পরম সৌভাগ্য।
অনেক ভাল লাগল।
মন্তব্য করুন