ইউজার লগইন

চন্দ্রালোকের ছায়া- ১ (ব্যানানা ইয়োশিমোতো)

Eureka7_movie[1].png

হিতোশি যখন যেখানেই যাক না কেন, আমার দেওয়া ছোট্ট ঘন্টাটা সব সময়ই ওর কাছেই থাকতো মানে ওর ওয়ালেটেই রাখা থকত । এই ছোট্ট তুচ্ছ জিনিষটা আমি ওকে দিয়েছিলাম, আমাদের সম্পর্কটা হবার আগে।
ছোট্ট ঘন্টাটা শেষ পর্যন্ত হিতোশির সঙ্গে থাকবে, এটাই যেন ওর নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আমরা দুজন এক ক্লাসে পড়লেও, আমাদের সেকশন ছিল আলাদ.। আমাদের দেখা বা কথাবার্তা হত খুব কম।
আমি প্রথম ওকে ভালো করে দেখি, আমাদের "শিক্ষাসফর পরিচালনা" কমিটিতে। ঐ কমিটিতে অনেকের সাথে আমরা দুজন এক সঙ্গে কাজ করেছিলাম। এছাড়া আমাদের কখনই বিশেষ কথা এবং দেখা হয়নি।
হাই স্কুলের এই ট্রিপটাতে আমাদের আসলে অনেক জায়গায় যাবার প্ল্যান ছিল, তাই আমরা সেকেন্ড গ্রেডের ছাত্রছাত্রীরা সবাই ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে গিয়েছিলাম আগেই। কিন্তু যাবার দিন আবার আমি হিতোশিকে পেয়ে গেলাম, বুলেট ট্রেনে। দুজন একই ট্রেনে ছিলাম কিন্তু আমাদের কথা বিশেষ হয়নি। পৌঁছাবার পরে, ট্রেন থেকে নেমে ও এগিয়ে এল আমার দিকে।
আমি হাত বাড়ালাম, সেও আলতো করে আমার হাতটা ঝাঁকিয়ে নিল। তখনও কোন কথা হয়নি আমাদের কিন্তু ওকে দেখেই বুঝতে পারি, যেন বলতে চাইছে; জার্নিটাতে বেশ একসঙ্গে থাকা হল- এবার বিদায় নেবার পালা।"

আমার কি হল আমি নিজেও জানিনা। হঠাৎই আমার মনে হল, ওকে কিছু একটা দিতে হবে। আমি আমার স্কুল ইউনিফর্ম এর পকেট হাতড়ে ছোট্ট ঘন্টাটা বের করলাম। ছোট্ট সুন্দর ঘন্টাটা আসলে আমার পোষা বেড়ালের গলা থেকে খুলে পড়ে গিয়েছিল। সেই থেকে ওটা আমার সঙ্গে আছে।
ওটা ওর হাতে দিয়ে বল্লাম, "এটা রাখ।"
-ও হেসে বল্লো, এটা কি?
-আমি বলি, বিদায় উপহার। তেমন কিছু না। খুব সামান্য একটা উপহার।
-ও কিছু না বলে, ঝুঁকে আমার হাতের তালু থেকে উপহারটা নিয়ে খুব সাবধানে ওর রুমাল দিয়ে পেঁচিয়ে রাখলো যাতে পড়ে না যায়। যেন, খুবই মূল্যবান কিছু নিল সে।
আমি খুব অবাক হলাম। ও যেটা করলো, সেটা এ বয়সের ছেলেদের মধ্যে একদম দেখা যায়না। আমি বুঝে গেলাম, ও একটু অন্যরকম।
ওর এই আচরণটাই আমাকে ভাবিয়ে তুল্লো।
আচ্ছা, আমি গিফটটা দিয়েছি বলেই কি ও এত যত্ন করে রাখলো ওটাকে, নাকি আসলেই ও এতটাই ভালো যে, আমার ঐ সামান্য উপহারটাকেও এত মূল্যবান ভাবলো?
এসব সাত-পাঁচ ভাবনাই আমাকে ওর প্রতি দূর্বল করে তুললো।

ঘন্টাটা হিতোশিকে দিলেও ফল হল উল্টো। ঘন্টা বাজতে লাগলো আমাদের দুজনের হৃদয়েই। এ এক অমোঘ টান। সারা স্কুল ট্রিপে আমরা আলাদা আলাদাই রইলাম। কিন্তু যখনই ওর কিম্বা আমার মনের ঘন্টাটা বেজে উঠতো। আমরা পরষ্পরকে দেখবার জন্য ছুটে যেতাম। তারপর আমরা দুজন মিলে সময় কাটাতাম।
ফিরে আসার সময়ও মনে হচ্ছিল, আকাশে বাতাসে টিন টিন করে শুধু ঘন্টাটাই বাজছে। মনে হচ্ছিল, একজনের কাছে আমার মনের ঘন্টাটা বাঁধা পড়েছে।
ফিরে আসার পর আমরা দুজন দুজনকে গভীর ভালোবেসে ফেল্লাম।

এরপর প্রায় চারটা বছর ঘন্টাটা আমাদের সঙ্গেই ছিল। আমাদের প্রত্যেকটা সকাল-সন্ধ্যা, প্রতিটা মুহূর্তই ওটা ছিল আমাদের সঙ্গে। আমরা যাই করেছি, সব কিছুর নীরব সাক্ষী ছিল ওটা।

প্রেমে পড়ার পর, আমাদের প্রথম চুম্বন, আমাদের তুমুল ঝগড়া, প্রথম বৃষ্টি কিম্বা ঝগড়া শেষের ঝকঝকে আলো ভরা দিনে, প্রথম তুষারপাত, সব সময়ই ওটা ছিল।
আমরা যেদিন একসঙ্গে রাত কাটালাম, আমাদের অসংখ্য হাসি কান্না, এক সঙ্গে আড্ডা, টিভি দেখা, গান শোনা সব কিছতেই প্রিয় ঘন্টাটা একান্ত অনুষঙ্গ হয়েই ছিল।
হিতোশি যখনই ওর ওয়ালেটটা বের করত, আমি পরিষ্কার অথচ মৃদু টুংটাং শব্দটা সব সময়ই শুনতে পেতাম।
এমনকি হিতোশি আমার সঙ্গে না থাকলেও আমি শব্দটা পেতাম।
আমি জানি, যে কেউ শুনলেই বলবে এটা একটা বাচ্চা মেয়ের পাগলামি।
কিন্তু সত্যি সত্যিই শব্দটা যখন তখন শুনতাম। আমি তখনকার অনুভূতিটা কিছুতেই বোঝাতে পারবো না।
আমাদের এই গভীর ভালোবাসায়, একটা জিনিষই আমাকে মাঝে মাঝেই বিরক্ত করত, সেটা হল- হঠাৎই আমার মনে হত, 'হিতোশি যদি না থাকে, হিতোশি যদি হারিয়ে যায়---------'
মাঝে মাধ্যেই আমি হিতোশির দিকে পাগলের মত তাকিয়ে থাকতাম, আমার মনে হত আর যদি আমি ওকে দেখতে না পাই।
ও ঘুমালে মাঝে মাঝেই আমি ওর বুকে হাত দিয়ে দেখতাম, হৃদস্পন্দন
ঠিক আছে কিনা!
ও হাসলেও আমি ওর দিকে তাকিয়ে থাকতাম। ও যখন হাসতো, তখনও ওর চারপাশটা স্ফটিকের মত ঝকঝক করতো।
কিন্তু যতক্ষণ ওর পাশে থাকতাম এক ধরণের ভয়, অনিশ্চিয়তা বারবারই মাথা চাড়া দিয়ে উঠতো। মনে হত-- হিতোশি যদি না থাকে, তাহলে আমি কি করবো? আমার কি হবে?

চলবে--------------------
এটা আমার প্রথম অনুবাদ। বানানা ইয়োশিমোতো জাপানে একজন প্রথিতযশা লেখক। গল্পটি তার মুনলাইট শ্যাডো থেকে অনুদিত।

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

দুরের পাখি's picture


ডুয়েল পোস্ট

শওকত মাসুম's picture


এবির প্রথম পাতায় ডুয়েল পোস্ট নিষিদ্ধ কিন্তু।

শাপলা's picture


আমি বিষয়টা জানতাম না বলে দুঃখিত।
আর তাছাড়া আমি আসলে ফোনেটিক এ তাড়াতাড়ি টাইপ করতে পারিনা। সব টাইপ আমি সামুতে বিজয় এ করি, তারপর এখানে এসে পেসট করি।
তখন মনে হয় আহা! এত কষট করে লিখলাম অথচ মুছে ফেলব?
তাই ওখানেও দিয়ে দেই।
আজ এ লেখাটা এ বলগে দেব বলেই লিখেছি, তাই ওখান থেকে সরিয়ে নিলাম।

মীর's picture


অনুবাদ ঝরঝরে হয়েছে। নিয়মিত পাঠক হিসেবে নাম লেখালাম

শাপলা's picture


আরিগাতো গোজাইমাসু। মানে ধন্যবাদ।

সাঈদ's picture


ঘন্টা প্রেম ।

শাপলা's picture


হা হা হা

সে না হয় বুঝলাম কিনতু কেমন লাগলো, সেটা জানালেন না কিনতু।

জ্যোতি's picture


পুরোটা পরব বলে টিকেট কেটে গ্যালারীতে বসলাম। দারুণ লাগলো। পাঠকের ধৈর্যের পরীক্ষা না নিয়ে পরের পর্ব তাড়াতাড়ি দেন।

শাপলা's picture


ধন্যবাদ জয়িতা, শুনে রিতীমত বিনীত বোধ করছি।

১০

শওকত মাসুম's picture


বাহ। দারুণ স্বচ্ছন্দ একটা লেখা।

১১

শাপলা's picture


ধন্যবাদ মানুম ভাই।

১২

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


দারুণ, তাড়াতাড়ি বাকিটা ছাড়েন

১৩

শাপলা's picture


গলপটা অনেক বড় ভাঙগা। মনে হচছে কি কঠিন কাজেই না হাত দিলাম। একদিকে আমার ডেসকটপটা নষট। অন্যদিকে ল্যাপটপে কমেনটের সময় কোনোভাবেই যুকত শবদ লিখতে পারছি না।
আর তাছাড়া সময়ের সাথে ভীষন কুসতি করতে হচছে।
বাজে লাগছে।
লেখা দিতে সেই জন্যই দেরী হচছে।

১৪

নজরুল ইসলাম's picture


দারুণ লাগলো...
অপেক্ষায় থাকলাম পরের পর্বের জন্য

১৫

শাপলা's picture


ধন্যবাদ নজরুল ভাই। বানানের ভয়ে বেশী কিছু লিখতে পারছি না।

১৬

জ্বিনের বাদশা's picture


বেশ ঝরঝরে অনুবাদ ... ভালো লাগছে

১৭

শাপলা's picture


ধন্যবাদ মুকিত ভাই।

১৮

শাওন৩৫০৪'s picture


জাপানীজ টিনেজ/হাই স্কুল প্রেমের ম্যুভি আমার ভালো লাগে। চিক ফ্লিক দেখার মুডে থাকলে জাপানীজ দেইখা নিতাম মাঝে মাঝে একটা---
এই অনুবাদ টাও ভালো লাগা শুরু হৈছে, আমিই এ্যন্ট্রি নিলাম, তাড়াতাড়ি পর্বগুলা দিয়েন...

১৯

শাপলা's picture


হুম আমারও ভালো লাগে। ধন্যবাদ শাওন।

২০

তানবীরা's picture


এটা অনুবাদ!!!! আমারতো মনে হচ্ছিলো বিদেশী পটভূমিতে লেখা গল্প। দারুন

২১

শাপলা's picture


জানিনা অনুবাদ হছছে কিনা.। চেষটা করছি যথাসাধ্য। সরাসরি হুবহু অনুবাদ করলে, গলপের ভাবটা আসে না। তাই পরতিটা লাইন মাথায় রেখে, সব অখুনন রেখে.নিজের মত করে----
উফ লিখতে ইচছা করছে না। বানানের কি হাল-----

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

শাপলা's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি ভালোবাসি, মা, মাটি, আমার আত্মজা এবং আমার বন্ধুদের যারা আমাকে প্রকৃতই বুঝতে পারেন।