ইউজার লগইন

চড়ুইভাতির সংসার (সেই যে আমার নানা রঙ এর দিন গুলি রইল না)

এই লেখাটা আমার ব্লগ জীবনের শুরুতে সামু ব্লগে লিখেছিলাম। লেখাটা এই ব্লগে কোন ভাবেই মানানসই নহে। তবুও

বাচ্চু

কথাটার উতপত্তি এবঙ বুতপত্তি বোঝাতে গিয়ে লেখাটার একটা পর্ব হুবহু তুলে ধরলাম।

আশা করি আমার বন্ধুরা সবাই নিজ দায়িত্বে পড়বেন। ভালো না লাগলে আমি কোনোমতেই দায়ী নহি।

লেখাটা আমার জিলাপির (আধা রেসিপি দেবার কারণে Angry ) অর্ধেক গুরু রাসেল ভাই এবং আমার নয়া বাচ্চু মীরের সমীপে পেশ করা হইল

বলা নেই কওয়া নেই অল্প দিনের নোটিশে দুম করে বিয়ে করে ফেল্লাম এক ক্যাডেট রে। সে প্রথমে আমারে যেই বাড়িতে নিয়া তুল্লো- সেই বাড়িওয়ালা খালাম্মার - ভয়াবহ ক্যাডেট প্রীতি। তার এক পোলা একটু আউলা টাইপের কিন্তু জিনিয়াস সেও একজন ক্যাডেট। বড় মেয়ের জামাই মাশাল্লা সেও একজন ক্যাডেট।
আমি দোতালায় থাকি। নীচে খালাম্মা। তার পাশের ঘরটা খালি। দেখি কয়টা ভাঙ্গাচোরা ফার্ণিচার, আলমীরা, গাদা গাদা কাগজ। কাহিনী বুঝলাম না। সন্ধ্যা বেলা প্রায় প্রায়ই দুম দুম দ্রিব দ্রিব শব্দ আসে উপরের তালা থেকে। কারা নাকি টেবিল টেনিস খেলে। বর দেখি প্রায় সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরে না। তাকে উদ্ধার করতে হয়, হয় উপরের তালা থেকে নয় একতলার সেই খালি ঘর থেকে।
মুখ ভোঁতা করে বলি, খালাম্মাকে --- খালাম্মা এরা কারা? খালাম্মা আকাশ থেকে পড়লেন, ও আল্লা তুমি জাননা। এরা তো সব ক্যাডেট। ওমুক ক্যাডেট এর পুরানা যারা আছে এই খানে আইসা বাসা বানছে। (খালাম্মা অন্য কাউরে ভরসা পায়না। তাই তার ভাড়াটিয়া মানেই ক্যাডেট ----মানে ওটা ওল্ড---ক্যাডেট এ্যাসোসিয়েশনের অফিস।)
একদিন বররে ধরলাম আজ তোমারে অন্য কোথাও যাইতে দিমু না। তুমি আমারে কোথাও বেড়াইতে নিয়া চলো- সে মহা উৎসাহী।
হ্যাঁ চলো চলো বলে--- এক্কেরে নিয়া তুল্লো তিন তলায়।
তারপর শুরু হইল, অমুক ভাই তমুক ভাই এই যে আমার বউ। "জী ভাবি স্লামালাইকুম" এর ঠেলায় জীবন জেরবার। সিনিয়র রা জুনিয়ররে হুকুম করে, এই অমুক ভাবি রে একটা চেয়ার দাও--- সামরিক কায়দায় অন্যরা চেয়ার নিয়ে ছুটাছুটি করে।
সেই শুরু এরপর আমিও ভিড়ে গেলাম ওদের দলে। আমার জীবন হয়ে গেল ক্যাডেটময়। উপ্রে নীচে এক দঙ্গল ক্যাডেট এর মধ্যে আমি একমাত্র মহিলা ক্যাডেট ( আমার বরের ব্যাচে একটা চাল্লু কথা আছিল, অসুন্দর মাইয়াদের হেরা ক্যাডেট নামে ডাকতো। আমি হইলাম গিয়া ঐ বিশেষ দলের শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট।)
তা যতই অসুন্দর হই না কেন? আমার মুখখান ওদের দেখতেই হত। যেদিন ওদের প্রোগ্রাম বা সপ্তায় সপ্তায় মিটিং থাকতো, সেদিন আমার বাড়ির দরজা কে আটকায়? ভাবি, চেয়ার লাগবে, চামচ লাগবে, ফ্রীজের ঠান্ডা পানি লাগবে--- মিনিটে মিনিটে আমার বাড়ির ভেতর এর তার আনাগোনা।
সিঁড়ির মুখে, অলি গলিতে শুধু ক্যাডেট আর ক্যাডেট।
আমার বরের ব্যাচের ওদের জানে জিগার দোস্ত ছিল প্রায় ১৮ জন (সংখ্যাটা ঐ ভাবে গুনিনি। মানে চান্স পাইনি। তবে কাছাকাছিই হবে।)এরা সব কাজেই মানিক১৮ এর মত ঘুরে বেড়াতো। এদের ছিল ভর্তি দিবস মানে ছন্নছাড়া পেন্সিলের মত দ্বিতীয় জন্মদিবস, ছিল বিদায় দিবস।
তো আমার যখন সংসার শুরু তখন এই মানিক ১৮ এর নব্বই ভাগই জীবিত আর কি? (মানে অবিবাহিত) কাজেই বুঝতেই পারছেন।
প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা এই সবগুলো ক্যাডেট এর সাথে মেতে উঠতাম প্রচন্ড আড্ডায়। এদের আড্ডায় আমি ছিলাম কমন ক্যাডেট। Laughing out loud
আমি সিনিয়র ক্যাডেট দের বেশ ডরাইতাম। এরা এত সিনিয়র ছিলেন যে আর কি বলবো?
তো আমার ভাব হইল গিয়া কিছু জুনিয়র বিচ্ছু গো লগে। এই গুলারে বাচ্চা থেকে বাচ্চু বলে ডাকতাম। এই বাচ্চু গুলা প্রায় প্রত্যেক দিন ইউনিভার্সিটি, বুয়েট শেষ করেই চলে আসতো এখানে। তারপর এক ফাঁকে ভাবি চা খাওয়াও বলে ঢুকে পড়তো।
আমিও ওদের আশায় অপেক্ষা করে থাকতাম। ওরা মানেই তো আড্ডা। আর এদের মানে সব ক্যাডেট দের আড্ডায় ঘুরে ফিরে একবার ক্যাডেট কলেজের কথা আসবেই। তাই শুধু ক্যাডেট দেখতে দেখতে না ক্যাডেট কলেজের কথা শুনতে শুনতে এক্কেরে অন্ধ হাফেজ বইনা গেলাম।
এদের আবার নানান রকমের ভাগ আছিল, কেউ কেউ ছিল হাউস মেট, কেউ আবার দুজন একসঙ্গে একই বিছানা শেয়ার করতো। কারও কারও নানান পদবী ছিল। কেউ প্রথম ক্যাডেট ছিল।
আর একটা মজার ব্যাপার হল ক্যাডেট দের চেনার সহজ উপায় হল নাম্বার। যেমন অমুক ব্যাচের ১১৭৪ বল্লেই যে কেউ উদ্ধার করতে পারবে সে কে?
আজকে ইতি টানার আগে, আরেকটু বলি-- এক বাচ্চু ছিল, আউলা টাইপের কবি কবি চেহারা। সারাক্ষণ ভাবের জগতে থাকতো। হের লগে ছন্নছাড়া পেন্সিলের আলো আঁধারী চেহারার বেশ মিল পাই।
সেইটা একবার রাত তিনটায় দরজায় নক করলো। আমরা তো পুরা ভ্যাবাচ্যাকা এত রাতে কে? পরে দরজা খুলে দেখি, বাচ্চু কাচুমাচু মুখে দাঁড়িয়ে। সিনেমা দেখে বেশী রাত হয়ে গেছে। হলেও যেতে পারছে না- তিনতলার অফিস ও বন্ধ। এত রাতে কই যাবে?
একদিন এক বন্ধু নিয়ে হাজির---- ভাবি বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে,খিচুড়ি খাব।
আমার আরও কিছু আদরের বাচ্চু ওরা কেউ আর দেশে নেই। একে তো জীবন ক্যাডেটময়, তারপর সংসার শুরু করে ছিলাম যখন, তখন একই বাড়িতে থাকতাম, আমার বরের এক ক্যাডেট বন্ধু, তার ভাগ্নে। আমার দেবর, তার এক বন্ধু, আমার ছোট ভাই, মামাতো ভাই এবং ওদের এক বন্ধু।
সব মিলিয়ে এক্কেবারে চাঁদের হাট। ওদের মধ্যে আমার খেলা খেলা সংসার। আমার তখনও ডায়নীং টেবিল হয়নি। পুরো মেস বাড়ির ইমেজ।আমার বাসার বাচ্চুদের (আমার দেবর, ভাই ওদের বন্ধুবান্ধব)কাছে আমার তখন অনেক দাম।
সবাই পাটি বিছিয়ে বসে আর আমি নিয়ে আসি ভাতের হাঁড়ি। বড় আনন্দের ছিল আমার সেই চড়ুইভাতির সংসার।

পোস্টটি ৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মাহবুব সুমন's picture


পুরান পোস্ট রিপোস্ট করা নীতিমালার পরপন্থি , আবু পেনাল কোড "গ" ধারা অনুসারে। Cool Steve

শাপলা's picture


ধন্যবাদ মাহবুব ভাই, সরিয়ে দিয়েছি।

শাপলা's picture


তাই নাকি? সত্যি করে বলুন তো, সরিয়ে ফেলবো?

মাহবুব সুমন's picture


Cool সেইটা পাপিস্ঠ মডু বুঝবে Stare

মেসবাহ য়াযাদ's picture


পুরান পোস্ট হোক আর যাই হোক, সেটা বুঝবো মডুরা। তয় লেখা বিয়াপক সোয়াদ হৈছে...

শাপলা's picture


আমার এই এলেবেলে লেখা পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ মেসবাহ ভাই,

রাসেল আশরাফ's picture


এইটা পুরান পোস্ট কেমনে হইলো?আমি কি সামু আমলে ছিলাম।আমি তো বন্ধু আমলের।

মডু সরায় দেখুক এটা।ওর কালো হাত ভেংগে গুড়া গুড়া কইরে দিমু।জীবনে প্রথমবার আমারে কেও কিছু উতসর্গ করছে।

রাসেল আশরাফ's picture


সাপলা বহিন গো আমাক তুমি বাচ্চু বুইলা ডাইকো।কিছু মুনে করপো নাখো।

শাপলা's picture


সিটা হবি না রাসেল ভাই।

১০

সাঈদ's picture


সেইরাম লেখা যদিও পুরান লেখার পাপে পাপিষ্ঠ।

১১

শাপলা's picture


সমস্যাটা তো ঐটাই আমি হইলাম গিয়া পুরান পাপী। Big smile Big smile

১২

নুশেরা's picture


অপশন যখন আছে, লেখাটা নিজের পাতায় নিয়ে গেলেই ভালো হয়। আমি নিশ্চিত, তোমার লেখা এখানকার পাঠকরা খুঁজে নিয়েই পড়বে।

১৩

শাপলা's picture


থ্যান্কস বন্ধু।
আমি আমি আসলে মাথামোটা একজন মানুষ। সুমন ভাই আওয়াজ দেবার পর ভাবলাম, মুছে ফেলবো। কিন্তু সবার মন্তব্য গুলোকে সম্মান দেখাতে গিয়ে মুছতে পারছিলাম না।
আর দ্বিতীয় অপশনটা আমার মাথাতেই আসেনি।

তুমি বল্লে তারপর, সরালাম। সাধে কি আর মাথামোটা ...........আমি?

১৪

মীর's picture


ভালো ভালো, খুব ভালো। আম্রার কপালে ক্যাডেট ভাবী নাই, আছে আপু। এইটাই একটু সমস্যা। উইসব ক্যাডেট-বাচ্চুগো লিগা প্রচুর হিংসা।

ও একটা ইমো আছে।

:\

১৫

মীর's picture


এবি'র ডেভু'রা আসলে কমপ্লিটলি গন্। কাল্কে একবার ইজ্জতটা খাইসে, আজকে আবার খাইতে চাইতেসে। Angry

ট্রাইং ফর দ্য ইমো এগেইন (ব্লাশিং না আসলেও অন্তত শাই তো আসবে না কি?)

Shy

১৬

শাপলা's picture


পোষ্ট মোছার উপা্য কি? আরেক দিনও এরকম হয়েছিল। মুছে দিন অপশনে চাপ দিয়ে কোন কাজ হচ্ছে না

১৭

মীর's picture


শাপলা'পু এইটা আমার অতি প্রিয় একটা পোস্ট। কেন ডিলিট করতে চান, বুঝলাম না।

অবশ্য আপনার ইচ্ছেই শেষ কথা বা ব্যক্তিই আসলে শেষ কথা।

১৮

আতিয়া বিলকিস মিতু's picture


মুছবেন কেন? অনেক সুন্দর হয়েছে।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

শাপলা's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি ভালোবাসি, মা, মাটি, আমার আত্মজা এবং আমার বন্ধুদের যারা আমাকে প্রকৃতই বুঝতে পারেন।