সবিনয় নিবেদন
আমি ভূতের গলি থেকে বুদ্ধদেব গুহের ভূত বলছি.......
হ্যালো হ্যালো.......আহারে কেউ কোথাও নেই...হ্যালো
প্ল্যান করেছিলাম, গভীর রাতে ঢাকায় ঢুকবো। তাতে কিছুটা হলেও ট্রাফিক জ্যাম এড়ানো যাবে। কিন্তু বিধিবাম। ৫ ঘন্টার লম্বা জার্নি করে রাত ১০ উত্তরায় এসে ছোট্ট যাত্রা বিরতি নিয়ে-১০:৩০ টায় রওনা হলাম, এলিফেন্ট রোড এর উদ্দেশে। ১:৩০ ঘন্টা লাগলো।
আমার বাসা থেকে আজিজ পায়ে হাঁটা পথ। সব ঠেঙ্গিয়ে যেহেতু আজিজের কাছে এসেছি, সেহেতু আজিজে তো একবার যাবই। আর আজিজে যাব ভাবতেই, আজিজের আড্ডার কথা মনে হল, আড্ডাটা দেব কার সঙ্গে? আড্ডা তো আর ভুতের সঙ্গে দেয়া যাবেনা, ভূতের সঙ্গে আড্ডা দিলে তো ভুতের গলিতেই যেতাম। মনে পড়লো আমার বন্ধুদের কথা। "আমরা বন্ধু"দের কথা।
কিন্তু বন্ধুদের সাথে দেখা করা নিয়ে একটা মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে। খুব দেখা করতে ইচ্ছা করছে আবার করছেও না। অচেনা জিনিষের প্রতি মানুষের অদম্য আগ্রহ থাকে, তেমনি আমারও আছে। আর সে জন্যই অচেনা সম্পর্কের প্রতিও আছে আমার দূর্দান্ত মোহ। অচেনা মানুষগুলোর সুখে দুঃখে আন্দোলিত হচ্ছি। অকারণে কত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছি। কত কপট রাগে অকপট নিজের অভিমান প্রকাশ করছি। কত মতে একমত হচ্ছি, অবলীলায় প্রকাশ করছি দ্বিমত। এ অনুভবের মাধুর্যই আলাদা। এ রোমাঞ্চের স্বাদই অন্যরকম।
দেখা হলে মনে হয়, সব কিছুই কেমন বুঝি সিমীত হয়ে যাবে ! সম্পর্কটা একটু হলেও বেআব্রু.হয়ে পড়বে। চলে আসবে পক্ষপাতিত্ব.......আবার দেখা না হোক, আমি এসেছিলাম সেটা জানান না দিয়ে চলে যেতেও মন সরছে না।
আমার ঠিক কি করা উচিত বুঝতে পারছিনা।
এসব নিতান্তই আবেগের কথা, আর বেগের (বাস্তব)কথা হল, এ শহরে সবাই বেগবান (ব্যাস্ত)। গাড়ি-ঘোড়াও ভীষন বেগবান (গতি এবং ট্রাফিক জ্যাম)। ধা ধা করে দৈর্ঘে বেগবান হয় গাড়ির মিছিল।
এসব ঠেলে আমার মত এই কুতুবের সাথে আড্ডা দিতে বলার স্পর্ধা এই কুতুবের খুব একটা বেশী নেই। তবু সবিনয় নিবেদন এই যে,
কোন দয়াবান বন্ধু যদি শেষ মুহুর্তে মনে করেন, লসের খাতায় নাম লিখালে বিশেষ কোন লস নেই, তাহলে কালকে বিকেল ২:৩০ টা থেকে ৪:৩০ পর্যন্ত তাদের জন্য সশরীরে আজিজে হাজিরা দিতে রাজী আছি।
স্থান, কাল-পাত্র নির্বাচনের দায়িত্ব নেয়ার সাহস আমার নেই কারণ কাহারেও চিনিনা।কিছু চিনি না।
আর পরিতাপের বিষয় হল, আমার হাতে কোন বিদেশী চকোলেট নাই। দেশে নামিয়া আত্মী্য পরিজনের মধ্যেই এ যাত্রায় উহারা ধুন্ধুমার হইয়াছে।
দেশে আসিয়া বিশেষ দর্শনঃ দেশে আসিয়া দেখি পোলাপান মহা স্মার্ট। আর আমি মহা খ্যাতের খাতায় নাম লিখাইয়া দীন-হীন দরিদ্রের ন্যায় জীবন-যাপন করিতেছি।
দুরালাপন দিয়ে লজ্জিত হতে চাই না, কারণ কেহ না যোগাযোগ করার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
যাইবার প্রাক্কালে কে আর ভগ্ন হ্রিদয়া হইতে চায়!
সনির্বন্ধ অনুরোধঃ মহানুভবতা দেখাইবার পূর্বে অবশ্যই চৌদ্দবার ভাবিয়া লইবেন।
নিবেদক
...........





চকলেট না থাকলেও সমস্যা নাই। কয়েকটা বঙ্গবন্ধু হলেই চলবে।
এম্নি কি বললাম যে দেশের পোলাপান মহা স্মার্ট! চকোলেট না হইলে বঙ্গবন্ধু হলেও চলবে.....বাপরে কি ডায়ালগ, একদম এন্টেনার উপর দিয়ে গেল, কিছুতেই ধরতে পারলাম না।

আমার দিকে অমন তীর্যক ভঙ্গিতে কেন তাকালেন, ব্রা? আমি কি কোন অন্যায় করেছি?
বিদেশী চকোলেট কোথায় পাওয়া যায় আড্ডায় এসে বলে দেবো..........ঐ ঢাকাবাসী সুন্দর দেখে একটা বিদেশী চকোলেটের দোকানের নাম বলেন.........আমিও বিদেশী মানুষ।

হন্তনি আরিগাতো নীড় দা।
চকলেট না আনলে আমি নাই
রায়হান ভাই বলে ললিপপ খাইতে খুব পছন্দ করেন।

চকোলেট দিতে না পারার জন্য আমিও নাই। গোমেন্নে।
চকোলেট দিতে পারছি না বলে, আমিও নাই।
আপনে যতশীঘ্র বা তাড়াতাড়ি এই নাম্বারে ফোন করেন। এইটা টুটুলের নাম্বার: ০১৭১৩০৪৫৪৯১
টুটুল ভাইয়ের সাথে কথা হল, সবার জন্য বিদেশী চকোলেট দেই নাই, বরং দেশী এবং আন্তরিক শুভেচ্ছা পাঠালাম।
কেহই কাহাকেও চেনেনা । আজিজে যেয়ে বন্ধুকে বন্ধুরা চিনবে কেমন করে ! তবে এ ব্যাপারে দাদাভাই মেসবাহ য়াযাদ, ভদ্রলোক শওকত মাসুম, রসভাণ্ডার সাহাদাত উদরাজী অথবা অন্য কেহ উদ্যোগী হতে পারেন । শাপলার সাথে পরিচিত হতে আগ্রহী ।
আমিও সবার সাথে পরিচিত হতে আগ্রহী।
আড্ডাবাজী বুঝার আগেই মনে হয় আড্ডা শেষ হয়ে গেল।
পোষ্ট আমার চোখে পড়ে নাই। বৃহস্পতিবার আমার অফ ডে!
আজ শুক্রবার আমি অফিস করছি।
আশার গুড়ে বালি ।
বুদ্ধদেব গুহ না মরেও ভূত হলেন? নাকি আপনি ওনার এতো ভক্ত যে ভূত হয়ে গেছেন। বুঝলামনা । নাকি আপনি ওনার মত লেখেন তাই বললেন ভূত।
।
যতযাইহোক আপনার লেখা কিন্তু সুন্দর
না আসলে, সবিনয় নিবেদন বুদ্ধদেবের একটা বিখ্যাত বই, জানেন নিশ্চই। তো নামটা ধার করলাম, এত বড় লেখকের পারমিশন ছাড়া। আর পারমিশন নেয়া সম্ভবও না। তাই ফান করে লিখেছি। আর বুদ্ধদেব এর মত এতবড় জ্ঞানী মানুষের সাথে আমার তুলনা......ছিঃ ছিঃ
হার্টে বড়ই বেদনা অনুভব করলাম।
দোকানে গিয়ে কয়েকটা বঙ্গবন্ধু দিলেই বৈদেশী চকোলেট দিয়ে দেবে ।
আমরা আবার বৈদেশী চকোলেট ছাড়া বৈদেশী বন্ধু দের সাথে দেখা করি না, সে চকোলেট গলা হলেও চলপে
আরে, কবে আসছেন?
আড্ডা বিয়াপুক বিষয়। ভালু পাই।

শাপলা'পুর কি অবস্থা? কিরাম আছেন? বাড়ি গেসিলেন? দেশে এসে কুথায় কুথায় ঘুরলেন? ছবিপুস্ট দেন।
আড্ডায় যাওয়ার কথা কেউ বলে না কেনু? শুক্রবার দিন, নতুন বছরের একটা গেট-টুগেদার, বিদেশিনী বন্ধুর আগমন, উপলক্ষ তো দেখি ম্যলা।
শাপলা , আপনার সংগে দেখা করতে ইচ্ছুক। মুশকিল হলে আজিজে গিয়ে আপনাকে খুঁজে বের করার উপায় কি ! তবুও যাওয়ার চেষ্টা থাকবে।
মহানুভবতা দেখাইবার পূর্বে অবশ্যই চৌদ্দবার ভাবিয়া লইবেন।

১০ বছর পর সামারের ছুটিতে দেশে গিয়ে ঠিক একই অনুভূতি নিয়ে আমাকেও ফেরত আসতে হয়েছে ...
হা হা হা
মন্তব্য করুন