ইউজার লগইন

"খত মাল্লাহু আলা কুলুবেহিম"

"খতমাল্লাহু আলা কুলুবেহিম”
এ টি এম কাদের

- পবিত্র ক্বোরানের বাণী । আল্লাহ কিছু মানুষের হৃদয় ও কান সীল গালা করে দিয়েছেন । ভাল কোন কিছু ওদের কানে প্রবেশ করবেনা । শুভ কিছুর জন্য জায়গা নাই ওদের হৃদয়ে । তারা সৎ্পথে ফিরবেনা কখনো । অবিশ্বাসী, বেঈমান-মোনাফেকদের উদ্দেশ্যে এই পবিত্র বাণী নায্বেল হলেও বাংলাদেশের রাজনীতিবাজ আর তাদের তল্পিবাহকরা ও যে এই একই শ্রেণীভুক্ত তাতে কোন সন্দেহ নাই । গত চার দশকের রাজনীতির কান্ডকারখানা দেখলে তাই মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক !
- সত্তর দশকের শেষ দিকে বিদেশ চলে আসি । রাজনীতির অস্থিরতা, নেতৃত্বের ভুল, একগুঁয়েমী, রাজনীতিকদের অত্যাধিক লোভ, আদর্শহীণতা, লুঠপাট, অবিচার, অনাচার তৎকালীন তারুণ্যকে দারুণ বিভ্রান্ত করে । পঙ্কিলতার পথে টলে গিয়েছিল অনেকে । নিরীহরা পালিয়েছিল দেশ ছেড়ে । হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলাম আমিও । সেই থেকে বিদেশে আছি । চোখের সামনে ইউ এ ই এবং ওমানের গড়ে উঠা দেখেছি । ধুধু বালুকাময় মরুভুমি সবুজে ভরে উঠতে দেখছি । দেখেছি প্রবাসী বাংগালীরা কি কঠোর পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে এ দেশ গড়তে সহায়তা করছে । দেখেছি সারা দিনের হাঁড়ভাঙ্গা খাটুনির পর সন্ধ্যায় স্বদেশের খবরের জন্য কি প্রচন্ড আগ্রহ মানুষ গুলোর ! তখন টিভিতে বাংলাদেশ দেখা যেতনা । বিবিসি বা ভোয়া শোনার জন্য ধৈর্য ধরে বসে থাকতো প্রবাসীরা ।
- এখন দিন পাল্টেছে । বাংলা দেশের অনেক চ্যানেল সরাসরি দেখা যায় আজ । মোবাইল আছে সবার । যখন খুশি প্রিয়জনের সাথে, প্রিয় দেশর সাথে কথা বলা যায় । প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানূষ জানার আগে প্রবাসীরা জেনে যায় ব্র্যাকিং নিউজ / গুরুত্ব পূর্ণ খবর । শুনতে পায় রাজনীতিবাজদের গলাবাজি, ভাত-ভোট আর গণতন্ত্র ফাঁফানো বুলি । সরাসরি দেখতে পায় তাদের কুকর্ম, ভাঙ্চুর, বোমাবাজি আর মানূষ হত্যা । প্রবাসেও দেশ নিয়ে উৎকন্টার শেষ থাকেনা প্রবাসীর ।
- অদ্যাপক ইউনূসের নোবেল প্রাপ্তিতে বিপুল আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছিল প্রবাসীরা । বাংলা দেশকে একটা গৌরাবান্বিত নূতন পরিচয়, নূতন মুখ উপহার দিয়েছিলেন আদ্যাপক । সে গৌরাবান্বিত উজ্জ্বল মুখে রাজনীতির কলঙ্ক-তিলক সাঁটতে কিন্তু দেরী হয়নি দেশপ্রেমের টিকাদারদের । ২৮’শে অক্টোবর ২০০৬ পুরো বিশ্ব দেখল বাংলাদেশের রাজনীতি কত কদর্য, কত বর্বর ! মত পার্থক্যের কারণে কিভাবে লগি-বৈঠা দিয়ে সাপ-ব্যাঙ মারার মতো মানূষ মারা হয় ! বাংলার এত ভয়ংকর মুখ কি কেউ কখনো দেখেছে ইতিপূর্বে ? ভিনদেশীদের সাথে কাজ করতে হয় প্রবাসীর । রাজনীতিকদের অর্বাচীনতা, হঠকারিতা আর বাচালতার জন্য বিদেশীদের সামনে শির নত হয় বাংগালীর ।

- এখন খবর শুনতে বা টি ভি দেখতে ঘৃণা হয় । নিরীহরা দেখেওনা শুনেওনা । দেশ প্রেমের পুরানো ভাঙ্গা রেকর্ড অনবরত বাজছে । ঘুরেফিরে সে একই গান । হা --------- খা---------------- ! স্কুলে অংক স্যার শেখাতেন, ‘মাইনাসে মাইনাসে প্লাস’ ! আমাদের এই দুইয়ের গুণ ফল কিন্তু অনিবার্যভাবে মাইনাস ! বাংলা দেশের সমূহ সর্বনাশ ! বাংলা দেশ দেখেও শেখেনা ঠেকেও শেখেনা ।

- তো যা বলছিলাম । “খতমাল্লাহু আলা ক্বুলুবেহিম। তো সীল-গালা করা বাঙ্গালী প্রবাসেও পৌঁছে গেছে অনেক । ওরা নিত্য চা’র কাপে ঝড় তোলে । হা খা’র নূন খায়, গুণ গায় । শুয়ো দেয়, দুয়ো দেয় । মারামারি, হুড়োহুড়ি, গালাগালি করে । ঠিক দেশের মতো । এদের কারণে জাতীয় দিবস গুলো প্রবাসেও এক সাথে উদযাপন করা যায়না । সাধারণ বাংগালীরা কিন্তু এসব চায়না । পছন্দও করেনা । দেশে যারা আছে তারাও চায়না । হরতাল, অবরোধ, ভাঙচূর চায়না মানূষ । না খেয়ে হলেও শান্তিতে থাকতে চায় । ’৭৪ এ হাজার হাজার মানব সন্তান নাখেতে পেয়ে মরেছে । তারা হরতাল, অবরোধ, মারামারি করেনি । একে অন্যের বমি খেয়ে বাঁচতে চেষ্টা করেছে, জাল পড়ে আব্রু বাঁচাতে চেয়েছে । তবুও বিদ্রোহ করেনি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেনি, লুঠ পাট করেনি ।
- রাজনীতিকদের ভুল, অসহিষ্ণুতা, অসততা, নীতিহীণতা, অতি লোভ, একগুঁয়েমী দেশকে বারবার সমুহ সংকটে ঠেলে দিয়েছে । সমাধান নয় নিত্য নূতন সমস্যার জঠ তৈরী করেছে এরা । নিজেদের স্বার্থে সংবিধানকে সারকামসাইজ করেছে বহুবার, দেশ-মানূষের প্রয়োজনে একবারও না । সন্দেহ, অবিশ্বাস, রেষারেষির পরম্পরা যুগ যুগ ধরে চালু রেখেছে । ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে দলীয় করণ, আত্মীয়করণ সহ হেন কোন আকাম কুকাম নাই রাজনীতিকরা করেনা । তো এমন সব রাজনীতিকদের হাতে দেশ নিয়ে খেলার অধিকার আর কতদিন ছেড়ে রাখা যায় !
- বাংলা দেশের মানূষ বারবার লড়ে, মরে গনতন্ত্রিক অধিকার উদ্ধার করেছে রাহুর কবল থেকে । ‘৫৪’র বিজয় একাই হজম করেছেন গনতন্ত্রের মানস পুত্র । তখন উনি বলেছিলেন যে তার প্রধান মন্ত্রী হবার মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ৯৮ ভাগ স্বায়ত্ব শাসন পেয়ে গেছে । ৭০’ এর টা গেছে বাকশালের পেঠে । সে সময় বাক-স্বাধীনতা, মানবাধীকারের চরম বিপর্যয় হয়েছিল । ৯০’র টা পালা করে গিলে খাচ্ছে দুই বড় দল, জোট-মহাজোট ।
- বাঙ্গালী গণ-অধিকারের জন্য আর কত লড়বে ? আমার এই প্রশ্নটা যাদের কান ও হৃদয় সীল-গালা করা নাই শুধু তাদের জন্য ।

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

লীনা দিলরুবা's picture


দুঃখে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার দুঃখ কিসের! এসব নিয়েই থাকতে হবে কিচ্ছু করার নেই Sad

রায়েহাত শুভ's picture


২৮’শে অক্টোবর ২০০৬ পুরো বিশ্ব দেখল বাংলাদেশের রাজনীতি কত কদর্য, কত বর্বর ! মত পার্থক্যের কারণে কিভাবে লগি-বৈঠা দিয়ে সাপ-ব্যাঙ মারার মতো মানূষ মারা হয় !

শিবিরের ব্রেনওয়াশড জানোয়ার গুলোকে আপনার কাছে মানুষ মনে হয়? এই ব্যাপারে আপনার মতামত চাইতেছি...

এ টি এম কাদের's picture


এত সংক্ষিপ্ত পরিসরে আপনার পরশ্নের উত্তর দে'য়া সহজ নয় । এ নিয়ে একটা পোষ্ট দেবার ইচ্ছা আছে । শুধু এটুকু বলছি ,আমি ওদের ঘৃণা করি, আই হেইট দেম । '৭১ এ জনকের হুকুম শির ধার্য করে অস্ত্র জমা দিয়েছিলাম, নইলে অন্ততঃ দু' একটি জানোয়ারকে নরকে পাঠানো যেত । আফসোস !! Party

শওকত মাসুম's picture


অভিজ্ঞতাগুলো লিখুন, আমরা পড়ি।

তানবীরা's picture


যতোদিন পেটে ভাত না থাকবে ততোদিন আন্দোলন। যেই না খানা খাদ্যের এন্তেজাম হবে দেখবেন বাঁশের বাড়ি দিয়েও কাউকে নাড়াতে পারবেন না। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি

টুটুল's picture


২৮’শে অক্টোবর ২০০৬ পুরো বিশ্ব দেখল বাংলাদেশের রাজনীতি কত কদর্য, কত বর্বর ! মত পার্থক্যের কারণে কিভাবে লগি-বৈঠা দিয়ে সাপ-ব্যাঙ মারার মতো মানূষ মারা হয় ! বাংলার এত ভয়ংকর মুখ কি কেউ কখনো দেখেছে ইতিপূর্বে ?

জামাতীদের স্বপক্ষে আপনার ক্রন্দন... এখনো কোন সিদ্ধান্তে পৌছলামনা... ২৮ তারিখ সম্পর্কে আপনার কাছ থেকে পরিষ্কার বক্তব্য আশা করছি।

এ টি এম কাদের's picture


১) জামাতীদের জন্য ক্রন্দন ! হাসালেন ! ওদের ঘৃনা করতেও আমার ঘৃনা হয় ! আমি যা বুঝাতে চেয়েছি সম্ভবত তা আমি ঠিক মতো পারিনি । এ আমার অক্ষমতা । আর আমাদের মিলিত চরম ব্যর্থতা হচ্ছে ’৭১ এ ওদের নিচিহ্ন করতে নাপারা । স্বাধীন বাংলা দেশেতো ওদের বেঁচে থাকার কথা ছিলনা !
২) ২৮ তারিখের লাইভ ভিডিও টি আমাকে দেখান আমার প্রোজেক্ট ম্যানেজার, একজন বৃটিশ । পরে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ডু ইউ তিংক ইউ পিপল আর সিভিলাইজড ? কোন উত্তর ছিলনা আমার। পৃথিবীর কোন সভ্য জাতি এ ঘটনা মেনে নিতে পারে বলে আমার মনে হয়না ।
ধন্যবাদ । ভাল থাকুন ।

মীর's picture


কাদের ভাই, আপনার প্রোফাইলে লেখা আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু আপনার চিন্তাধারা বেশ বিস্ময় জাগাচ্ছে। কোন্ সভ্যদেশে রাজাকার বা তাদের উত্তরসূরীদের আদর করে কোলে বসিয়ে গরম স্যূপ খাওয়ানো হচ্ছে, জানতে চাই। ট্রাইব্যূনালে চিহ্নিত রাজাকারদের বিরুদ্ধে কি ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে, সেটা আপনি নিশ্চই জানেন। তাদের বিরুদ্ধে জানানো প্রতিবাদকে আপনি সমর্থন করছেন না?
মানলাম; আপনাদের মিলিত চরম ব্যর্থতা হচ্ছে ’৭১ এ ওদের নিশ্চিহ্ন করতে না পারা, কিন্তু এখন সেই নিশ্চিহ্নকরণের কাজটাকে আপনি খারাপ বলছেন কেন?
আর সেদিন ওরাও মাঠে নেমেছিলো প্রস্তুতি নিয়েই। ওদেরকে যদি না মারা হতো, তাহলে ওরা মারতো। সঞ্জয় তলাপাত্রকে জবাই করে মেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছিলো ওরা জানেন? হুমায়ুন আজাদ স্যারকে কুপিয়ে মরে গেছে মনে করে ফেলে রেখে গিয়েছিলো রাস্তায়।
আমার ধারণা; আপনাকে যে ঐ ইংরেজি প্রশ্নটা করেছিলো, তার কলার চেপে ধরে আপনার বলা উচিত ছিলো, মাইন্ড ইওর ঔন বিজনেস্।

এ টি এম কাদের's picture


-মীর ভাই, নিজেকে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে নাপারার অক্ষমতার জন্য আমি আবারো দূঃখিত । রাজাকার-দালালদের নিশ্চিহ্ন করণে আমার মোটেই আপত্তি নাই, আমার আপত্তি নিশ্চিহ্ন করণের পদ্ধতি নিয়ে । ২৮ তারিখ যেভাবে করা হয়েছিল তা কোন বিচারে কাঙ্ক্ষিত নয় । একটা প্রশ্ন করছি । মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল কেন ? উত্তরটাও আমি দিচ্ছি । পাকিরা বাংলা দেশকে চুষে খাচ্ছিল । অন্যায়,অবিচার, অত্যাচারে দাবিয়ে রেখেছিল । মানূষের সব অধিকার হচ্ছিল পিষ্ট । মৌলিক গণতন্ত্রের নামে এক খচ্চরতন্ত্র (আমার এক শিক্ষকের মতে) আমাদের উপর চাপিয়ে দে’য়া হয়েছিল । জনককে মিথ্যা ষড়যন্ত্রের মামলা দিয়ে জেলে পুরেছিল । প্রতিক্রিয়ায় শোষিত জনগণের জাগরণ হল । বিদ্রোহ হল, গণরোষে উড়ে গেল আয়ুব । অঢেল রক্ত আর অগুণিত মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এলো স্বাধীনতা । সে অমূল্য স্বাধীনতা কি আইনহীণতাকে প্রশ্রয় দেবার জন্য ? নাকি ভায়োলেন্সকে লালন করার জন্য ? ২৮ তারিখ যা হয়েছিল যেকোন বিচারে তা ভায়োলেন্স বই অন্য কিছু নয় । অমানবিকতা বই কিছু নয় । নন্দিত লেখক হুমায়ুন আহমদকে কোট করছি , ‘ মানূষ কোন ক্যান্সার নয়, আল্লহ খুব যত্নের সাথে, খুব সুন্দর করে মানূষ তৈরি করেছেন । তাই পিচাস হলেও মানূষ খুন করার অধিকার কারো নাই’ ।

-জনক হত্যার বিচার হয়েছে । রায়ও আংশিক কার্যকর হয়েছে । রাত জেগে সাধারন মানূষ টিভি রেডিও ‘র সামনে অপেক্ষা করেছে রায় কার্যকর হবার সংবাদের জন্য । কোন প্রতিবাদ হয়েছে বলে শুনিনি । আইনের প্রয়োগ সঠিক হলে কারো কিছু বলার থাকেনা ।

-বাংলা দেশে জামাতীর সংখ্যা কত ? আমার কোন আইডিয়া নাই । ভারতের প্রধান মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী পঁচিশ ভাগ , অর্থাৎ চার কোটি । যদি তার অর্ধেক ও হয় তা হলেও দুই কোটি । এত বিপুল সংখ্যক মানূষকে নিশ্চিহ্ন করার উপায় কি ? দু’দশজনকে পিটিয়ে মারা ? ঝেটিয়ে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করা ? নাকি জঘন্যদের বিচার করে শাস্তি দিয়ে বাকিদের মটিভেট করে মূল স্রোতে নিয়ে আসা ? উত্তর অবশ্যই আমাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে । ’৭০ এর নির্বাচনে মুজিব বিরোধী (জামাত+মুসলিম লীগ+অন্যান্য) ভোট ছিল দুই ভাগ । সে সময় জামাতীর সংখ্যা কত হতে পারতো ? দুই বা তিন লাখ । তাহলে গত ৪০ বছরে এরা বেড়ে দু’কোটি হল কি করে ? আমরা কি আমদের সামাজিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছি ? স্বাধীনতার, দেশপ্রেমের এজেন্ট গলাবাজ, কলমবাজ, বুদ্ধিবাজরা কি করেছে ? এত বিপুল সংখ্যক তরুণ কিভাবে জামাতের খপ্পরে পড়ে গেল ? উত্তর আছে ? আমার কাছে নাই । তবে আরেকখান প্রশ্ন আছে । রাজাকার নুইল্ল্যা মূসা বা ইঞ্জিনিয়ার মোশারফের সাথে যদি জনক পরিবারের বৈবাহিক সম্পর্ক হতে পারে তাহলে তরুণরা কোন আদর্শের গোড়ায় জল ঢালবে ?

-আমি জানিনা পৃথিবীর আর কোন দেশে রাজাকার আছে কিনা । তবে জানি কিছু নরাদম সব দেশে থাকে । ক্রান্তিলগ্নে (যুদ্ধকালে) এরা হয় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, পালিয়ে যায় অথবা সুযোগ পেলে মটিভেটেড হয়ে মূল স্রোতে ফিরে আসে । নেতৃত্বই সুযোগটি তৈরি করে দেন । নেলসন মেন্ডেলার কথা ধরুন । যে পুলিশ অফিসারটি দীর্ঘদিন তাকে নির্যাতনের দায়িত্বে ছিলে, তাকেই কিন্তু মেন্ডেলা নিজের বডিগার্ড নিযুক্ত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট হয়ে । জাতীয় ঐক্ষ্যের এই শুভ সূচনাটি কিন্তু হয়েছিল বাংলা দেশে আরো অনেক আগে জনকের হাত দিয়ে সাধারন ক্ষমার (চিহ্নিত ও জঘন্যদের বাদ দিয়ে) মাধ্যমে । কাজ কিন্তু হয়নি । কালনাগিনীতো আস্তিনের নীচেই ছিল ।

-“আর সেদিন ওরাও মাঠে নেমেছিলো প্রস্তুতি নিয়েই। ওদেরকে যদি না মারা হতো, তাহলে ওরা মারতো। আপনার এই যুক্তিটা যদি আজাদ স্যারের কাছে পেশ করা যেত, তিনিতো না ফেরার দেশে চলে গেছেন, আমি নিশ্চিত যে তার রায় আপনার মতের পক্ষে কিছুতেই আসত না । যদি সম্ভব হয় জাফর ইকবাল স্যারের মতামত নিতে পারেন । আমার সন্দেহ নাই উনি ও আপনার পক্ষে আসবেন না । কেন না আইন হাতে নেবার অধিকার সংবিধান/আদালত কাউকে দেয়নি, আলোকিত মানূষেরা কখনো এই মত সমর্থন করতে পারেনা ।

-মীর ভাই, ভিষণভাবে নাড়িয়ে দিলেন । অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে । তবে লেখক হিসাবে আমি একেবারেই আনাড়ী । টাইপিস্ট হিসাবে আরো বেশি । উত্তর যথাযত হয়েছে কিনা তা দেখার ভার আপনারা সিনিয়র ব্লগারদের ।
-ধন্যবাদ ! ভাল থাকুন ।

১০

সামছা আকিদা জাহান's picture


রাজাকারদের আমি নর্দমার কীটের চেয়ে বেশী ঘৃণা করি।সেই সাথে জামাত শিবিরকে যারা সাপর্টকরে তাদেরও।
আমি মুক্তিযুদ্ধ বুঝি, বুঝি এ আমার অহংকার।

১১

এ টি এম কাদের's picture


১) রাজাকারদের ঘৃণা করেন, ভালো কথা ! জামাত শিবিরকে যারা সাপোর্ট করে তাদেরও ঘৃণা করেন, আরো ভালো কথা ! মুক্তি যুদ্ধ আপনার অহংকার, সবচেয়ে ভাল কথা ! আন্তরিক ধন্যবাদ এ গুলোর জন্য ! তবে একটি ছোট প্রশ্ন ! মুক্তি যুদ্ধের সাইন বোর্ড লাগিয়ে যারা লুট পাট করে, খুন ধর্ষণ করে, পথের কাঁটা সরাতে এলাকার সবচেয়ে জন প্রিয় নিজ দলীয় নেতাটিকে জন সমক্ষে হত্যা করে, তাদেরকে কি করেন ! শ্রদ্ধা করেন ? ভালবাসেন ? নাকি ঘৃণা করেন ?

২) আমার লেখাটি অনেক পেছনে চলে যাওয়ায় এত দিন আর দেখা হয়নি । আপনার মন্তব্যের জওয়াব দেয়া হয়নি তাই ! অনিচ্ছাকৃত দেরির জন্য দুঃখিত !

১২

প্রিয়'s picture


লেখা পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

এ টি এম কাদের's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি একজন নগণ্য মুক্তিযোদ্ধা । বিদ্যুৎ প্রকৌশলী । স্বাধীনতা পরর্বতী রাজনীতির প্রতি প্রবল বীতশ্রদ্ধ । অসামপ্রদায়িক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ।
'৭৮ এ নানা কারণে চাকুরি বিদেশে চলে আসি ।