ইউজার লগইন

ধুসর চিঠি উজ্জ্বল স্মৃতি

ধুসর চিঠি – উজ্জল স্মৃতি
এ টি এম কাদের

- ক্যম্পাস ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে এসেছি প্রায় দু’মাস। বিদায়ের আগে বন্ধুদের সাথে ঠিকানা বিনিময় করেছি । কথা ছিল সবাই যোগাযোগ রাখবে । কেউ কথা রাখেনি । বেশ ক’জনকে লিখে ও সাড়া পাইনি । অনেকটা হতাশ দিন কাটছিল । এক দিন দুপুরে পুকুর পাড়ে হিজল ছায়ায় বসেছিলাম, পিয়ন একটা নীল খাম ধরিয়ে দিয়ে গেল । ছাত্রাবাস থেকে রিডাইরেক্ট হয়ে এসেছে । অপরিচিত হাতের লেখা । বেশ আগ্রহ নিয়ে খুললাম । সুন্দর হস্তাক্ষর । লিখেছে,
- প্রিয় বুলবুল,
- অনেক অনেক ধন্যবাদ আমাকে তোমার গল্পের নায়িকা করার জন্য । কি করে যে এমন নিখুঁতভাবে আমায় আঁকলে ! আমার গালের ছোট্ট তিলটি পর্যন্ত তোমার দৃষ্টি এড়ায়নি । অথচ তুমি কখনো আমাকে দেখনি । সম্ভাবনা ও ছিলনা । আমার বাস সিলেটে । আব্বু চাবাগানের ম্যানেজার । আর তুমি থাক পার্বত্য চট্টগ্রামে । সত্যই কি আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল স্বপ্নে ! আম্মুতো তাই বলেন । আমি কিন্তু তোমার গল্পটি পড়ার আগে এ রকম স্বপ্ন কখনো দেখিনি । এখন অবশ্য রোজই দেখি ! স্বপ্নের সে সুন্দর দেশটিতে দিব্বি তোমার হাত ধরে ঘুরে বেড়াই , গল্পের মতো করে কথা বলি, তোমাকে সবখানে নিয়ে যাই, সবকিছু দেখাই । তা অমন সুন্দর দেশটি আদৌ কোথাও আছে কি ! যেখানে ভেদাভেদ নেই, ঘৃণা নেই, নেই হিংসা-বিবাদ ! আছে শুধু মায়া-মমতা,স্নেহ-প্রেম ! আমার বান্ধবী ‘মৌ’ যার কাছে তোমাদের বার্ষিকীটা পেয়েছি, কাপ্তাই স্কুলের ছাত্রী ছিল । তার আব্বু বদলি হয়ে সিলেট আসায় ‘মৌ’ আমাদের স্কুলে ভর্তি হয় । সে বলে, তুমি নাকি ডেঙ্গা ছেলে । আমার মত পিচ্চির সাথে নাকি বন্ধুত্ব করবেনা । অবশ্য আমি এখনো ছোট । সবে অষ্টম শ্রেণীতে উঠেছি । আমি কিন্তু খুব করে তোমাকে চাই । আমাকে বন্ধু করে নেবে ? নইলে ভিষণ কাঁদবো ! আম্মু বলেন, তুমি অবশ্যই ভাল ছেলে । লেখকরা নাকি খুবই ভাল হয় । তাই সাহস করে লিখলাম । আশা করি প্রতিলিপি পাব । শুভেচ্ছান্তে,
তোমার গল্পের ‘পিংকি’
- কলেজ বার্ষিকীতে একটা গল্প ছাপা হয়েছিল । কাকতালীয়ভাবে কল্পিত নায়িকার সাথে বাস্তবের ‘পিংকি’ মিলে গেছে । ছোট্ট মেয়েটাকে দূষ্টোমি করে লিখলাম, ‘নিতে পারি যদি কথা দাও যে কখনো দেখা করতে চাইবেনা । আমাদের অভিসার শুধু স্বপ্নেই সীমিত থাকবে’ ।
- পিংকির উত্তর এল খুব তাড়াতাড়ি । লিখেছে শর্তে সে রাজী যদিও আমাকে দেখার খুব ইচ্ছে তার । ভিষণ খুশি হবে যদি কথা দিই যে কখনো যোগাযোগ ছিন্ন করবোনা । সেই শুরু, ছিলছিলা বন্ধ হয়নি কখনো ।
- তারপর বহুদিন কেটে গেছে । চাকুরি নিয়ে দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে শেষটায় কক্স বাজারে থিতু হয়েছি । বিয়ে করেছি, বৌয়ের কোলে বাচ্চা এসেছে । পিংকি ও স্কুল কলেজ ডিঙ্গিয়ে ভার্সিটির শেষ সোপানে । হলে থেকে পড়ছে । এখন লেখায় আগের আবেগ অনেকটা স্তিমিত, পরিপক্ষতার নিঠোল ছাপ পষ্ট । ব্যস্ততা বেড়েছে দুজনেরই । তবু ও আমরা পরস্পরের জন্য সময় বের করে নিই, লিখি নিয়মিত । সুন্দর কাটছিল দিন । এলো একাত্তর । বাংলার আকাশে শকুনিরা ডানা মেলল । সর্বত্র অশুভ কিছুর শংকা ।
- ২৪ মার্চ চিঠি পেলাম পিংকির । লিখেছে সিলেঠ থেকে । খারাপ কিছুর আশংকা করছিলেন আব্বু-আম্মু । তাই আব্বু নিজে এসে হল থেকে নিয়ে গেছেন । সিলেঠে খুব একা লাগছে তার । আমাকে দেখার ইচ্ছেটাও নাকি দিন দিন প্রবল হচ্ছে । স্বেচ্ছায় শর্ত তুলে না নিলে ‘লোঠা কম্বল’ নিয়ে এক দিন ঠিকই বৌয়ের দরজায় হাজির হবে, ইত্যাদি । চিঠি পড়ে মিতু (বৌ) আর আমি হাসি । মিতু বলে, চলনা সপ্তাহ খানেক ছুটি নিয়ে পাগলটাকে একটা সারপ্রাইজ দিয়ে আসি । আমি বলি, দেশের পরিস্থিতি তো ক্রমে আগুন হয়ে উঠছে । কি হয় আল্লাহ জানে । এ অবস্থায় যাওয়া কি ঠিক হবে !

- সন্ধ্যায় একটু বের হই, হাঁটাহাঁটি করি । মিতু আর বাবু ও সাথে থাকে । সেদিন ও বেরুলাম । হাঁটছি আর টুক টাক কথা বলছি । পেছন থেকে কেউ ডাকলো নাম ধরে । ফিরে দেখি মঈন । ডাক্তার । আমার কলেজ জীবনের বন্ধু, এই শহরেরই ছেলে । বিয়েথা করেনি আজো । মাকে নিয়ে থাকে চট্টগ্রামের মেহেদি বাগে । কুশলাদি জানার পর শহরের অবস্থা জানতে চাইলাম । এক কথায় বলল, ভালনা । বাংগালী-বিহারি দাঙ্গা হয়েছে কয়েক দফা, সাদা পোষাকে আর্মি নামছে বিহারিদের সাথে । শেরশাহ কলোনী জ্বালিয়ে দে’য়া হয়েছে । ‘বাবর’ আর ‘সোয়াত’ থেকে আর্মস-অ্যামুনেশন আনলোড করছে আর্মিরা । প্রতিবাদে ফেটে পড়ছে মানুষ । নিরীহরা বৌ-বাচ্চা গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছে । মঈন ও এসেছে মাকে এখানে রেখে যেতে ।
- ২৬ শে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাংলা দেশে । বাংলা দেশের সব ঘরে, সব হৃদয়ে ।

- যুদ্ধে যুদ্ধে কেটে যায় নয় মাস । হায়েনারা পরাস্ত হয় একদিন । দুমড়ানো মোচড়ানো এক চিলতে বাংলা দেশ রক্তের টিপ পরে শির উঁচু করে দাঁড়ায় ।

- প্রাথমিক আনন্দ-উচ্ছাস-শোক কাটিয়ে মানুষ বাস্তবতার মুখোমুখি হয় । ছোট চাচা ফিরে আসেননি । মেঝ ভাই বাম পা’টা রেখে এসেছে । নীনা ভাবীকে তুলে নিয়ে গেছিল । এখন পাগল, বার বার খালি গোসল করেন । আমি কিছুটা ভাগ্যবান । কন্ঠ নালীর বাম পাশে ঘাড়ে আলতো ঠোঁটে চুমু এঁকে পালিয়ে গেছে চঞ্ছলা বুলেট কন্যা ।

- মাকে শান্তনা দিয়ে এক দিন ফিরে আসি কর্মস্থলে। এরই মাঝে পিংকির সিলেটের ঠিকানায় দুটো চিঠি ছেড়ে উত্তরের অপেক্ষা করছি ।
- উত্তর কিন্তু আসেনা আর । অশুভ কিছুর আশংকায় হৃদয় কেঁপে উঠে । অস্থির হয়ে উঠি । কি করি ! কি করি ! কি করে খোঁজ পাই ! অপেক্ষার প্রহর প্রতিদিন দীর্ঘ হতে থাকে ।
- খোঁজ অবশ্য আসে একদিন । একটি নীল খাম । লিখেছেন বাগানের বর্তমান ম্যানেজার । আমাদের চিঠি গুলো তার হাতে পড়েছিল । তিনি লিখেছেন, পিংকিরা স্বপরিবারে নিহত হয়েছেন । পিংকি অবশ্য আত্মহত্যা করেছিল । একেবারে সুস্থ মস্তিস্কে । সিদ্ধান্ত সম্ভবতঃ আগেই নেয়া ছিল । দরজায় বুটের লাথি পড়তেই পিংকি জানালা খুলে পরিস্কার ঊর্দুতে জানতে চেয়েছিল তাদের কমন্ডার কে ! মেজর কাছে এলে কাঁধে লাগানো ষ্টার দেখে সম্ভবতঃ নিঃশ্চিত হয়েছিল । তারপর শুধু দুটি শব্দ গুরুম গুরুম । প্রথমটা মেজরের খুলিতে আর দ্বিতিয়টা তার নিজের ।

- পিংকির টেবিলে একটি অসমাপ্ত চিঠি পড়েছিল । আমাকে লেখা । ম্যানেজার সাহেব সেটিও পাঠিয়ে দিয়েছেন ।
- পিংকি লিখেছে--- প্রিয় বুলবুল, কেমন আছো ? বড় দেখতে ইচ্ছে করছে তোমাদের । আমরা ভাল নেই । যে কোন দিন আক্রান্ত হতে পারি । পালিয়ে যাবার জো নাই কোন । পাকিরা আছে সর্বত্র । আব্বু দমে গেছেন খুব । আম্মু অসুস্থ । সুগার বাড়ছে প্রতিদিন । সাড়াক্ষণ কাঁদেন । আগেভাগে আমাকে নিরাপদ স্থানে সড়িয়ে দেননি বলে আব্বুর সাথে রাগারাগি করেন । আমার শুধু একটাই দুঃখ—তোমার সাথে বুঝি দেখা আর হলোনা ! যদি মরি, দুঃখটা নিয়েই মরতে হবে ! হ্যাঁ মৃত্যুর কথা আজকাল খুব ভাবি । কত মেয়ে লাঞ্ছিতা হয়ে মরেছে পশু গুলার হাতে । আমি কিন্তু লাঞ্ছিতা হতে চাইনা – আল্লাহ চানতো হবোওনা । আব্বুর পিস্তলটা তাই সাথে রাখি সাড়াক্ষণ । যদি তেমন বুঝি, তাহলে--- বুঝতেই পারছ---মাথায় ঠেকিয়ে ট্রিগারে-------------------
- শেষ হয়নি বাক্যটা । তখনই হয়তো হায়েনারা এসে পড়েছিল । আর আমার বন্ধু পিংকি হারিয়ে গেল চিরতরে !

- পিংকির এই শেষ চিঠিটা আমাদের পারিবারিক এলবামে সংরক্ষিত আছে । প্রায় দেখি । কাগজের রং ধুসর হয়ে গেছে এখন । কিন্তু তার স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে নক্ষত্রের মত উজ্জ্বল আজো । চিরকাল থাকবে ।

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নাজনীন খলিল's picture


Star Star Star Star Star

এ টি এম কাদের's picture


বার বার ফিরে যাই ৭১ এ।
ধন্যবাদ !

সাঈদ's picture


মন টা কেঁপে উঠলো ।

এ টি এম কাদের's picture


মনতব্যের জন্য ধন্যবাদ !

জেবীন's picture


লেখাটা দারুন মন ছুয়েঁ গেছে!

এ টি এম কাদের's picture


৭১ সাড়া জীবনই আমার হদয় ছুয়ে আছে !

এ টি এম কাদের's picture


৭১ সাড়া জীবনই আমার হৃদয় ছুঁয়ে আছে !

অতিথিA, K, M Iqbal's picture


kiso somoyer jonno neje k hariye felesilam,, odvot ek onovuti,,chapa kosto r chin chin bethai vinno ek onovuti,,ridoygrajo lekar jonno donnobad noy, kretogguta... :

এ টি এম কাদের's picture


কৃতজ্ঞতা নয় আপনাদের ভালবাসাই এক মাত্র কাম্য ।

১০

হাসান রায়হান's picture


ও মাই গড! এইটা কী লিখলেন। পড়তে পড়তে পা থেকে মাথা পর্য্যন্ত সমস্ত রোম খাড়া হয়ে গেল। বছরখানেকের মধ্যে আমার পড়া সেরা পোস্ট।

কিছু টাইপো আছে যেমন, সিলেট, বাংলাদেশ।

১১

এ টি এম কাদের's picture


রায়হান সাহেব,
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ! আমি বোকাসোকা মানুষ । অনেক কিছু বুঝিনা । আপনার লাষ্ট লাইনটা একদম বুঝিনি ।
ভাল থাকুন ।

১২

রাসেল আশরাফ's picture


মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো লেখা।জানি না এটা গল্প না সত্য?

১৩

এ টি এম কাদের's picture


ট্যাগ দেখুন দয়া করে !

১৪

একজন মায়াবতী's picture


আরো বেশী বেশী চাই ৭১ এর কথা। আপনারা না বললে আমারা কেমন করে জানবো? স্কুল - কলেজে যা পড়েছি ইতিহাস হিসেবে তা ছিল সরকারি দলের ইতিহাস। ৭১ এর না।

১৫

এ টি এম কাদের's picture


ইতিহাস আসলে এক বারনারী । যখন যার কেপ্টে থাকে তখন তার ইচ্ছে মতো নিজেকে সাজায়, তৈরী করে নেয়, রঙ মেখে সঙ সাজে । সত্যি ইতিহাস এই নকল ইতিহাসের আড়ালে চাপা পড়ে থাকে । আমি নিশ্চিত এখন যে ইতিহাস পড়ানো হচ্ছে, আগামীতে যা পড়ানো হবে - এগুলো বার বার বদলাবে । কারণ এগুলো হয় আওয়ামী ইতিহাস নয়তো বি এন পি ইতিহাস । সত্যের কাছাকাছিও নয় ।

১৬

লীনা দিলরুবা's picture


আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মর্মস্পর্শী অনেক গল্প পড়েছি, কিন্তু এমন সত্যিগল্প পড়া হয়নি কোনদিন। পিংকির চিঠিটা দেখতে ইচ্ছে করছে।

১৭

এ টি এম কাদের's picture


নিজেকে পিংকির চরিত্রে কল্পনা করুন । আমার বিশ্বাস একজন লীনা দিলরুবা ৭১ এর মুক্তি যোদ্ধার উদ্দেশ্যে শতগুণ সুন্দর চিঠি লিখতে পারদর্শী । ধন্যবাদ । সুন্দর থাকুন ।

১৮

লীনা দিলরুবা's picture


কাদের ভাই, (ব্লগিয় ভাইদের মত আপনাকে ভাই ডাকলাম) আপনার এই পোস্ট টা যে আপনি কি লিখেছেন... ব্লগ না থাকলে এই মর্মস্পর্শী গল্পটা সারাজীবন অগোচরে থেকে যেত। পিংকির জীবনের করুণ পরিনতির গল্প কোনদিন জানা হতো না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার। এই বিজয়ের মাসের প্রথম দিনে আপনার গল্পটি আমাদের কাঁদিয়ে ছেড়েছে।

ব্লগিয় বোন হিসেবে আপনাকে কিছু অনুরোধ করবো, বলতে পারেন কিছু আবদার করবো।
১) আপনার কাছে অনেক গল্প আছে ইতিমধ্যে বুঝে গিয়েছি Smile আমরা এসব গল্প শুনতে চাই। গল্পগুলো সিরিজ আকারে দিতে পারেন। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সিরিজ। আপনার দীর্ঘ প্রবাস জীবন নিয়ে সিরিজ...

২) ব্লগে লেখাগুলো একটু সময় নিয়ে ধীরে পোস্ট করলে ভাল হয়। একেকটা লেখা পাঠকরা উপভোগ করে নিতেও সময় লাগে। তার ওপর আমাদের প্রিয় ব্লগটায় এখন রোজ নতুন নতুন পোস্ট আসছে। প্রথমপাতা থেকে লেখা সরে গেলে পুরনো লেখা মিস করে যাবো।

৩) রায়হান ভাই যে বিষয়ে বলেছেন, আপনার এই অসাধারণ লেখাটায় কিছু বানান সরে গেছে। এটাকে উনি টাইপো বলেছেন। সিলেট- সিলেঠ হয়ে গিয়েছে। অন্য বানানগুলো আরেকবার দেখে নিতে অনুরোধ রাখলাম।

৪)লেখার শুরুতেই, ধুসর চিঠি – উজ্জল স্মৃতি, এ টি এম কাদের- এটির দরকার নেই। ব্লগার হিসেবে আপনার নাম তো পোস্ট এর সাথেই রয়েছে অন্যদিকে শিরোনামতো প্রথমেই রয়েছে। লেখায় নাম আর বাড়তি শিরোনাম পোস্টটার সৌন্দর্য কমিয়ে দিচ্ছে।

৫) একই কথা লেখা প্যারা করে দেয়া প্রসঙ্গেও। তাতে পোস্ট এর সৌন্দর্য বাড়ে।

পরিশেষে, আমার এই কথাগুলো আশাকরি আপনার কাছে উপদেশ মার্কা মনে হয়নি Smile

১৯

এ টি এম কাদের's picture


বোন লীনা , পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবোনা । আসলে লেখালেখিতে একেবারে আনাড়ি আমি । ভুল হবে নির্ঘাত । আপনাদের সহানুভুতি আমাকে প্রেরণা দেবে । লেখার চেষ্টা করবো । তবে ব্যস্ত জীবনে কতটুক করতে পারি জানিনা । ভাল থাকুন ।

২০

জ্যোতি's picture


অসাধারণ!!

২১

লিজা's picture


Sad(
একজন সাহসিনীর গল্প পড়লাম । মন ছুঁয়ে গেলো ।

২২

উচ্ছল's picture


অনন্য অসাধারণ। মন্তব্য করতেও ভয় লাগে এমন লেখায়। বাংলাদেশ

২৩

এ টি এম কাদের's picture


ভয়ের কোন কারণ নাই । মুক্তি যোদ্ধারা চিরকালের বন্ধু ।

২৪

রায়েহাত শুভ's picture


শরীর সবকটা রোম খাড়া হয়ে যায় এমন একটা লেখা...

২৫

মীর's picture


ট্যাগ দেয়া আছে গল্প। তারমানে এটা সত্য ঘটনা না। জেনে খুশি হলাম। Smile
অসাধারণ একটা গল্প পড়লাম। এবং এটা আমার অনেক দিনের মধ্যে পড়া একটা সেরা প্লট। অচিন্ত্যনীয়! মুক্তিযুদ্ধের একদম ভেতর দিয়ে গেছেন বলেই সম্ভবত, এমন জিনিস মাথার ভেতরে তৈরি করতে পেরেছেন। আপনি লেখালেখিটা পুরোদমে চালিয়ে যান বিগ ব্রাদার।

২৬

এ টি এম কাদের's picture


আপনার কমেন্টের জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম । আমার উপর রেগেছিলেন জানি । ভাবছিলাম মন্তব্য হয়তো করবেন না । আশাহত না করে উৎসাহ দেবার জন্য অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ । হাত খুবই স্লো, টাইপ করতে টাইম নষ্ট হয় বিস্তর । তবুও চালিয়ে যাবার আশা আছে । ভাল থাকুন ।

২৭

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


অসাধারণ।।

তানবীরা আপুর সাথে একমত।

ভাল থাকুন। অনেক ভাল। প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ।।

২৮

এ টি এম কাদের's picture


সবাই, সব ভাই বোন অনেক অনেক ভাল থাকুন !

২৯

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আপনার 'নিজের সম্পর্কে' অংশের
'নগণ্য' অংশ টুকু মুছে দিলে ভাল লাগবে খুব।

আমাদের একজন মুক্তিযোদ্ধাও 'নগণ্য' হতে পারে না।

৩০

এ টি এম কাদের's picture


মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ! মুক্তিযোদ্ধারা আসলে কিন্তু একেবারে নগন্য । এ পর্যন্ত কতবার তালিকা প্রণয়ন হলো, সার্টিফিকেট চেঞ্জ হলো ভাবুন । আমরাতো এখন রাজনীতির দাবার গুটি । শুনছি তালিকাভুক্ত হতে, সন্মানীর টাকা তুলতে বকরা গুনতে হয় । ৭১ এর দৃঢ় বন্ধনতো এখন তিরোহিত । এখন কেউ আওয়ামী, কেউ বি এন পি । আমার জ্বালা হচ্ছে, আমি খন্ডিত হতে চাইনা । আরো দূঃখ, ওসমানীর পর যারা সনদে সাইন করেছেন তাদের কেউ মুক্তি যুদ্ধে কোনভাবে যুক্ত ছিলেন না । এদের দুজন ছিলেন আর্মি কেপ্টে আর ৩য় জন ছিলেন পাকিস্তানে ।এদের কল্যাণে অনেক দালাল/ রাজাকার ও মুক্তিযোদ্ধা বনে গেছে । কি নির্মম আর অপরুপ পরিহাস !

৩১

সামছা আকিদা জাহান's picture


মাকে কয়েকবার অনুরোধ করেছি একাত্তুরে বাবা জেলখানা থেকে যে চিঠিগুলি তোমাকে লিখেছে আমাদের দাও আমরা জানব অনেক কিছুই, মা দেননি। মা বলেন '' তোমাদীর বাবা বেঁচে থাকতে চেঁয়েছেন তোমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাবার জন্য দেশকে ভালবাসবার জন্য, তিনি বেঁচে ছিলেন তোমাদের মানুষ করেছেন তোমরা অনেক জান এখন নিজেরাই খুঁঅতে পার ইতিহাস তোমরা জানাতে পারবে তোমাদের সন্তানদের। এটাই আমাদের সার্থকতা।
আমি মরে গেলে পরে তোমরা ছিঠিগুলি পড়ো। এগুলি আমার একান্ত মূল্যবান সম্পদ।"

অনেক কথা বললাম। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনের প্রতিদিনের গল্প, অনুপ্রেরনা ভাললাগা , ভালবাসা।

৩২

এ টি এম কাদের's picture


৭১ আপনার বাবা কেন, কিভাবে জেলে গেলেন জানতে পারলে ভাল লাগতো । হয়তো আরো অসাধারণ একটা গল্পের প্লট পাওয়া যেত । আপনার শেষ লাইনটা দারুন ! ধন্যবাদ !

৩৩

লাবণী's picture


অসাধারণ!
এমন লিখা বার বার পড়তে ইচ্ছে করে!
ধন্যবাদ আপনাকে Smile

৩৪

এ টি এম কাদের's picture


আপনাকেও ! ভাল থাকুন ।

৩৫

নীড় সন্ধানী's picture


আপনার গল্পটা সেদিন পড়তে পারিনি সময়ের অভাবে। আজকে পড়ে রীতিমতো শিউরে উঠলাম। এটাকে গল্প ট্যাগ দিলেও বিশ্বাসই হচ্ছে না গল্প। কারণ একাত্তরে এরকম অনেক পিংকির গল্প রয়েছে অগোচরে। সেই জানা অজানা সকল পিংকিকে স্যালুট।

৩৬

এ টি এম কাদের's picture


আপনাকে ডবল স্যালুট । আপনার অসার কথা পড়ে আমি কাত । এত গুছিয়ে কেমনে লিখেন ভাই !

৩৭

আরাফাত শান্ত's picture


পোষ্টটা পড়ছিলাম ফেসবুকেই।ভালো লাগাটুকু জানিয়ে গেলাম!

৩৮

এ টি এম কাদের's picture


আপনাকেও!

৩৯

তানবীরা's picture


লেখাটা দারুন মন ছুয়েঁ গেছে!

৪০

আনন্দবাবু's picture


আমি আলোকিত, পুলকিত, শিহরিত।

আপনি আমাদের অনেকের থেকে অনেক ভালো লেখেন। আর লেখালেখিতে আপনি মোটেও আনাড়ি নন। এক্কেবারেই না। আপনি নিজেও কখনো এই কথা আর বলবেন না। খুব কষ্ট পাবো।

এত সুন্দর গল্প অনেকদিন পড়ি নি। সমস্ত অস্তিত্বকে নাড়া দিয়ে যাবার মতন লেখা লিখে ফেলা সহজ কথা না; আপনি নিজেও তা খুব ভালো মতন জানেন।

আমার স্যালুট আপনাকে। বিম্পি-আমিলীঘ ইতিহাসের বাইরের আসল ইতিহাসগুলোকে সামনে নিয়ে আসুন। আমাদের যে সব দিগভ্রান্ত ভাবনা আছে সেগুলোকে অনুরণিত করে সাজিয়ে দিন।

মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আমরা চিরঋণী। এই ঋণ আরো বাড়লেও তাঁরা কিছু মনে করবেন না, এই বিশ্বাস আমাদের বেঁচে থাকার অন্যতম প্রেরণা।

৪১

এ টি এম কাদের's picture


স্যালুট নয় আপনাদের ভালবাসাই এক মাত্র কাম্য । যত টুক জানি লেখার চেষ্টা করবো ।

৪২

শর্মি's picture


অদ্ভুত সুন্দর।

৪৩

এ টি এম কাদের's picture


আরো সুন্দর হতে পারতো !

৪৪

প্রিয়'s picture


অ-সা-ধা-র-ন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

এ টি এম কাদের's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি একজন নগণ্য মুক্তিযোদ্ধা । বিদ্যুৎ প্রকৌশলী । স্বাধীনতা পরর্বতী রাজনীতির প্রতি প্রবল বীতশ্রদ্ধ । অসামপ্রদায়িক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ।
'৭৮ এ নানা কারণে চাকুরি বিদেশে চলে আসি ।