ইউজার লগইন
ব্লগ
পাগলের দিনলিপি (তিন)
শহরটা যখন ঘুমায় গ্রামটা তখন জেগে উঠে
শহরটা যদিও ঘুমায় রাত করে, প্রায় ভোরের নাগালে
আর গ্রামগুলো তখন ঘুমিয়ে কাদা।
তবুও শহরটা গ্রাম হয়, গ্রামের মতোই
মেঠোপথ-উদাসী বাউল-দীর্ঘ যাত্রার পথিক
সকলেই ভিড় করে শীতের সকালে
চায়ের হারানো কাপে চুমুকে চুমুকে
স্মৃতির মেমোরিয়াল বানিয়ে ফেলেছে।
শহরটা যখন গ্রাম হয় তখন কিচ্ছুতে তার
যায় আসেনা যেহেতু রিকশায় নেমেছে শাহানা
পায়ে হেটেই চলেছে...দুচ্ছাই এই মেয়েটার নাম
জানা হয় নি, তাদের প্রেমিকেরা চুমুক দিয়েছে চায়ে;
গ্রীল বেয়ে নেমে যেতে ইচ্ছা করলেও
গ্রামে যাওয়া হয় না আমার...
শহরের বাড়িগুলোতে তালার কারসাজি
তালা'র আড়ালে খুন হয়ে যাচ্ছে
সাগর এবং মেহেরুন রুনি, আর মেঘ
ভাসতে শুরু করে এই গেয়ো শহরের রাতে।
অন্যরকম সংজ্ঞা
জীবনটা এখন খুব বিদ্ঘুটে ধরনের হয়ে গেছে। যেখানে জীবনের সকল সংজ্ঞা পালটে গেছে। যেমন, এখন ভালোবাসা বলতে বুঝি যৌবনের চাহিদাকে, ইচ্ছা বলতে বুঝি স্বার্থ উদ্ধারকে, বন্ধুত্ব বলতে স্বার্থ উদ্ধারের হাতিয়ারকে, সামাজিকতা বলতে বুঝি ফেইসবুক-টুইটারকে, জ্ঞান বলতে বুঝি অযৌক্তিক বাতুলতাকে, ধর্ম বলতে বুঝি বিবেককে দিক নির্দেশনা দিয়ে ইচ্ছাকে আটকে রাখার যন্ত্রাংশকে, খেলা বলতে বুঝি কতগুলো ব্যবসাকে, ব্যবসা বলতে বুঝি অসৎ চতুরতাকে, ধনী বলতে বুঝি ভয়ংকর স্বার্থপর কূটচরিত্র মানুষকে, দরিদ্র বলতে বুঝি কতগুলো
বই মেলা কড়চা- ১২
মাত্র এক দিনের ভেতর শেষ হয়ে গেল ম্যুরাল প্রথম সংস্করন। সবাইকে বার বার করে বলেছি- বেশি করে বই ছাপাই। না, ওরা রাজি হল না। বলল, এত বই কিনবে কে ? এখন বুঝ মজাটা। আবার প্রেসে দৌড়াও। কাগজ কিনো। আবার কভার ছাপ। ভাগ্যিস, মেশিন খালি পাওয়া গিয়েছিল। তো, এত সব কাজ করবে কে ? কে আবার ! যখনই কোথাও আটকে যাবে, তখনতো একজন আছেই...। এই একজনটা কে, সেটা আর ঘটা করে বলার কি দরকার আছে ? তারপরও...। সেতো মানুষ একজনই। তারতো আর মা দূর্গার মত ১০ টি হাত নেই। সুতরাং তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন- লীনা দিলরুবা, জয়িতা, গৌতম আর শুভ। গতকালই ছাপা হয়েছে ২য় সংস্করন। আজ বাঁধাই করতে দেয়া হল...। প্রেসের সেলিম মিয়া ভরসা দিয়েছেন- কাল (সোম বার) দুপুরের পর পাওয়া যাবে নতুন ম্যুরাল।
কিছু ব্যক্তিগত চিন্তা: বালখিল্য ব্লগরব্লগর...
সাগর সারওয়ার কিম্বা মেহেরুন রুনি কাওরেই আমি চিনি না। যদিও টেলিভিশন চ্যানেলের বদৌলতে মেহেরুন রুনি নামটা পরিচিত ঠেকে, কিন্তু তার চেহারা দেইখা চিনতে পারি না। তবে পরিচিত সাংবাদিক আর টেলিভিশনে চাকরীরত বন্ধুবান্ধবের আহাজারীতে আর বিভিন্ন্ আড্ডার ফিসফিসানিতে তাদের সম্পর্কে আমার জানা হইতে থাকে। আমি নিজেও কোনো না কোনো ভাবে টেলিভিশন কেন্দ্রীক পেশাজীবীতায় থাকি। কিন্তু আমার নাম টেলিভিশনে শোনা যায় না বিধায় খানিকটা হতাশাগ্রস্ত হইয়া পড়তে থাকি। জনপ্রিয়তা বা গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে কোনো একটা স্তরে উঠতে না পারার ডিপ্রেশনে পাইয়া বসে আমারে। মনে হয় আমার যদি এমন অপঘাতে মৃত্যু হয় তাইলে তো এমন কইরা ফেইসবুক ওয়ালে তোলপাড় উঠবো না! তাইলে কি এই জীবনটাই বৃথা!?
মধুর বসন্ত এসেছে
মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে,
মধুর মলয়সমীরে মধুর মিলন রটাতে।
কুহকলেখনী ছুটায়ে কুসুম তুলিছে ফুটায়ে,
লিখিছে প্রণয়কাহিনী বিবিধ বরনছটাতে।
হেরো পুরানো প্রাচীন ধরণী হয়েছে শ্যামলবরনী,
যেন যৌবনপ্রবাহ ছুটেছে কালের শাসন টুটাতে।
পুরানো বিরহ হানিছে নবীন মিলন আনিছে,
নবীন বসন্ত আইল নবীন জীবন ফুটাতে।
অণু কবিতায় তুমি ছবি'টা..[ভালবাসার অনুপদ্যমালা!]
তুমি এলে..
কিছুই না বলে;
হেসে, চলে গেলে..
তবুও,
কী আশ্চর্য সুন্দর আজকের এই নীলাকাশ..
# # # # #
ভুল সময়ে,ভুল নিয়মে..
ভুল কারনে;
ভুল মানুষেরে
ভালবেসে,ভুল হয়ে যায়..
তুমি যেই না একটু হাসলে-
অমনি,
ভুল গুলো সব ফুল হয়ে যায়..
# # # # #
সারারাত,
নিকষ কাল অন্ধকার-
আমারই থাক..
সকালের প্রথম সূর্যালোক..
আদুরে রোদ্দুর;
এক সতেজ ভোরের ঘ্রাণ,
তোমায় দিলাম..
# # # # #
পথ চলা,
গন্তব্যহীন..
আঁধারের চোখ,
নিষ্পলক..
কিছুই বলার নেই..
কিছু কথা,কিছু নিস্তদ্ধতা..
আলতো হাসিতে,
চীড়ে নীরবতার বুক..
আজ নক্ষত্রের রাত..
বই মেলায় যাওয়া নিয়ে আমার একটা দুঃখের কাহিনী
বইমেলা নিয়ে অনেকের বিভিন্ন কথা দেখে আমারো কিছু লিখতে মন চাইলো 
-
-
-
-
-
-
-
-
-
তখন ক্লাস টেনে পড়ি (বেশি দিন আগের কথা না,আমি এখনো অনেক ছোট
) ।বছরের শুরুর দিকে।আমাদের আগের ব্যাচের এস এস সি পরীক্ষা কিছুদিন পর।তো এস এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান হতে বেশিদিন বাকি নেই।প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজনের দ্বায়িত্ব দেয়া হয় ক্লাস টেনের স্টুডেন্টদের কাছে। তাই ক্লাস নাইনে উঠার পর থেকেই এটা নিয়ে খুব এক্সাইটেড ছিলাম যে কবে ক্লাস টেনে উঠবো আর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো 
তন্দ্রার নগরে
তন্দ্রার ভেতরে স্তুপাকৃত তোমার নগর; সারি সারি রুগ্ন দেবদারু
ফুটপাথে বিছানো সঙ্গমরাত- আমি হেঁটে যাচ্ছি, হেঁটে যাচ্ছি-
চলে যাচ্ছি গোধূলি বৈভবে। অদৃষ্টের উপেক্ষার পরেও নিস্তব্ধতা থাকে।
রাত্রির পতঙ্গে চুমু খাবো, আকাশ থেকে লাল বারুদের ষড়যন্ত্র
নেমে আসলে। তোমার তন্দ্রার নগরে শীতার্ত গারগেল হবো দেখে নিও।
মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস
শিরোনামে মধ্যবিত্তকে হাইলাইট করা হলেও লেখার বিষয়বস্তু উচ্চবিত্ত কিংবা উচ্চ-মধ্যবিত্ত ছাড়া আর যে কোনো শ্রেণীর জন্যই প্রযোজ্য হতে পারে। তবে লেখক যেহেতু মধ্যবিত্ত (অর্থনীতির সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিচারে সেটা নিম্ন-মধ্যবিত্তও হতে পারে) শ্রেণীতে পড়েন, সেহেতু মধ্যবিত্তকে কেন্দ্র করে লেখাটাই নিরাপদ। বলা ভালো, অর্থনীতির সংজ্ঞা অনুসারে মধ্যবিত্তের প্রকৃত সংজ্ঞা (অর্থাৎ কী পরিমাণ আয় হলে একজন মানুষ বা একটি পরিবারকে মধ্যবিত্ত বলা যাবে) লেখকের জানা নেই, তবে মধ্যবিত্ততা নিশ্চয়ই কেবল আর্থিক অবস্থা দ্বারা নিরূপণ করা হয় না- এর সাথে মধ্যবিত্তীয় মানসিকতাও অনেকটা মিশে থাকে।
পাগলের দিনলিপি (দুই)
নিজেকে ইঁদুর মনে হতে থাকে মাঝে সাঝে।
অনধিকার মেনেও ঢুকেছি গোলায়, ধান ক্ষেতে।
আর কখনো তোমাকে শিশু মনে হয়
গোপনে লজেন্স চুষে দাঁতের গোড়ায় পোকা।
মায়ের খবরদারীতে ভীষণ বিরক্তি নিয়ে
তাকে ছুড়ে দিলে ইদারায়, ইতিহাস থেকে
বহুদূরে...মৃত্যুর দুয়ারে।
কখনো সখনো আমার সত্যিই ইচ্ছে করে
ইঁদুরের মতো ঢুকে পড়ি তোমাদের গাঁ'য়ে
তারপর আঁচড়ে আঁচড়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন
করে দেই, রঙ-তুলিতে সাজানো সূবর্ণরেখা।
অসহায় পাগলের মতো নিজেকে আসলে
বেঁধে ফেলেছি লোহার শেকলে, ঘরের বাইরে
যেতে নিষেধ করেছে চিকিৎসক...সেও আমি!
প্রতিমার নিচ দিয়ে
ঘাসের আদরে ভুলে যাই শরীরের ব্যাধি।
রুপান্তরের মধ্যে দিয়ে অরূপ ও রূপ।-
আমি বুঝি দাড়িয়ে বাঁশের কন্চি গুনি!দন্ডায়মান স্বরূপ।
আৎকে উঠি
ঠাকুর ঘরের দোর ঠেলে এই যে কে বের হয়ে এলো।লালা ঝরছে ঠোট বেয়ে।
প্রতিমার নিচ দিয়ে আবছা ইঁদুরপথ।
তারই মধ্যে দিয়ে এখন প্রবাহিত পূজারীর গোপন অশ্রুকণা।
ঘাসের আদরে ভুলে যাই দৈহিক আচরণ।
যে দেহ না হলে এই ভুলে যাওয়া হতো না।-
তার নামে না হয় থাকলো দু'কুড়ি চারটে প্রণাম।
আৎকে উঠি
নামের মানুষজন আমার নামের মুখোমুখি
কালি হাতে,
অনন্তকাল।
অত্যন্ত লজ্জার সঙ্গে স্বীকার করছি কিছু করার নেই আমার
রাজধানীতে সাংবাদিক দম্পত্তি খুন হয়েছেন। খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। বাংলাদেশিদের আবার জীবনের মূল্য আছে নাকি? আমি নিজে যদি এরকম খুন হয়ে যেতাম তাহলে সেটা নিয়ে হয়তো কেউ মাথাই ঘামাতো না। ওরা দুই জন সাংবাদিক বলে কিছুটা বাড়তি এ্যটেনশন পেয়েছেন। কথাটা কি ক্রুয়েল শোনালো? ক্রুয়েল শোনালেও কিছু করার নেই। এটা ক্রুয়েল ট্রুথ। এই এক ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত নাক গলিয়েছেন। তিনি দ্রুত জড়িতদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, ঘটনাটা যেদিন ঘটেছে সেদিনের পত্রিকাতেই আরো অনেকগুলো খুনের সংবাদ আছে। সেগুলো কি আপনার পড়ার সময় হয়েছে?
বই মেলা কড়চা- ১১
আজ কড়চায় কিসস্যু লিখবো না।
আমার প্রিয় ছোট ভাই সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হল গতকাল রাতের কোন এক সময়।
ওদের ৫ বছরের ছেলে মেঘ এখন কী করবে ? আমরা কী করব ? আমাদের কী করণীয়... উত্তর একটাই জানিনা। আমরা, রাষ্ট্র কেউ আসলে জানিনা, কার কী করনীয়...।
বিধাতার কাছে ওদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।
রাষ্ট্র বা সরকার বা পুলিশ বাহিনীর কাছে কিছু চাইবার নেই...
ওদেরকে স্মরন করে ওদেরই প্রিয় কয়েকজন মানুষের ফেইস বুক থেকে লেখাগুলো তুলে দিলাম...
১. মানতে পারছি না। বুক ভেঙে যাচ্ছে...।
আমাদের সামনেই বড় হলে তোমরা... সাংবাদিকতা শুরু করলে... ঘর বাঁধলে... বিদেশ গেলে... ফিরে এলে... তারপর এভাবে চলে গেলে...!
এভাবে চলে যাওয়া মানা যায় না। - গিয়াস আহমেদ
পথ চলা - ২
গত পর্বের লেখা পড়ে আমার বেশ কিছু শুভানুধ্যায়ী প্রশ্ন করেছেন যে শিক্ষকতার শুরুতে আমাকে অতটা বেগ পেতে হল কেন? আমাকে তো তারা ভাল ছাত্র বলেই জানেন। আর জেনারেল এরশাদের কল্যাণে চার বছরকে আট বছর বানিয়ে ফেলায় লেখাপড়ার জন্য যথেষ্ট সময় পাই নি এমন অভিযোগ ধোপে টেকে না। তাহলে কেন এই দুরবস্থা?
সত্যি এটি একটি মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। তবে উত্তর খুব সহজ। পরিসংখ্যান মোটেই আমার পছন্দের বিষয় ছিল না। আমার আজন্ম লালিত স্বপ্ন ছিল সাংবাদিক হওয়া। এটা যে আমার কাছে কী একটা প্যাশন ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বাসায় সবাই এটা জানত। এমন কি এসএসসি তে যখন আমি মানবিক বিভাগ থেকে মেধা তালিকায় প্রথম হই, সেদিন যেসব সাংবাদিক আমার সাক্ষাতকার নিতে এসেছিলেন তাঁদেরও আমি বলেছিলাম,
আমি সাংবাদিকতায় লেখাপড়া করে সাংবাদিক হতে চাই।
বই মেলা কড়চা- ১০
আজ আমার অনেক মন খারাপ। জীবনে এমন ধরা খাইনি। গত কদিন ধরে লোকজনকে মজা করে মুরগা বানিয়েছি। সেটা ছিল নেহায়েতই মজা। আর এ মজা দেখে বিধাতা পুরুষ বোধ করি আড়ালে বসে হেসেছিলেন। তিনি আমাকে এমন ধরা খাওয়ালেন যে, সেটা সহ্য করা বড় কঠিন। সামলে ওঠার চেষ্টা করছি...।
বাংলাদেশের বিশেষ একটি জেলার লোকজন আমার না-পছন্দ। অবশেষে সে বিশেষ জেলার একজনের পাল্লায় পড়েছি। আমার যদি বৌ আর দুটো ছেলে না থাকত, তাহলে জীবনের প্রতি এত মায়া থাকত না। আর তাইলে কালকের সব পত্রিকার শিরোনাম হতে পারতাম- একজন খুনি হিসাবে।
নিজের সম্পর্কে আমার যা ধারণা, আমি নিজে যা তা আমার প্রোফাইলে লিখে রেখেছি অনেকদিন আগে। সেখান থেকে কিছু অংশ তুলে দিলাম আজকের কড়চায়-
মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকার সম্ভাবনা আছে জেনেও আমি মানুষকে বিশ্বাস করি এবং ঠকি। গড় অণুপাতে আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা...