ইউজার লগইন

মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে ঝড়ে, মা'কে মনে পড়ে আমার, মা'কে মনে পড়ে...(এডিটেড- দ্যা রিটার্ন অব আমার মা)

মা, মাটি, জন্মভূমি, দেশ নিয়ে কত কথা , কত গান, কত উপন্যাস, গল্প, কবিতা কত কিছুই না করেছেন কবি সাহিত্যিক'রা। কিন্তু তার পরেও এর শেষ নেই। মা অসীম মমতায় গর্ভে ধারন করে, কত না কষ্ট সহ্য করে এই সুন্দর ধরনী দেখার সৌভাগ্য করে দিয়েছেন। মাতৃ দুগ্ধ পান করে আর মায়ের কোলে ঘুম পাড়ানি গান শুনে আমাদের শৈশব কাটিয়েছি। সেই মায়ার বাঁধনে আরো বেশি ধরে রেখেছেন। তাই তো তার তুলনা কারো সাথে নয়। এক অদৃষ্ট মায়ার বাধনের কাছে ঋনে ঋনি হয়ে আছি আমরা। যা কিনা পৃথীবির সমস্ত ধন দৌলত তার সামনে হাজির করেও তার ঋন শোধ করার মত না। তাইতো বাউলের কন্ঠে গেয়ে উঠে.।'' মায়ের এক ধার দুধের দাম, কাটিয়া গায়ের ও চাম, পাপোস বানাইলেও ঋনের শোধ হবেনা.।এমন দরদী ভবে কেউ হবে না আমার মা; গো;;'

ফেলে আসা স্মৃতি গুলো ইদানিং খুব বেশি তাড়াঁ করে ফিরছে। অনেক দিন হয় খুব শান্তির ঘুম হয় না। এখন প্রায়ই মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে বসে থাকি। আজ খুব বেশি মাকে মনে পড়ছে। যখন মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে উঠে বসে থাকতাম বা শরীর অসুস্থ থাকতো, মা তাঁর অসুস্থ শরীর টা নিয়ে দেখতে আসতেন আমি কেমন আছি ? বা কখনো তাঁর আধ মরা শরীর টা নিয়ে রাত কাটিয়ে দিয়েছেন মাথার পাশে। গল্প করতেন , মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন ।বা কখনো যদি রাগ করতাম, যাও তুমি গিয়ে ঘুমাও তোমার শরীর অসুস্থ। শুনতেন না। বলতেন আমার ছোট বাবার শরীর খারাপ আর আমার শান্তির ঘুম হয় কি করে? বাসায় আমার পরিবার বলতে ছিল , আমার মা, আর আমরা ৬ ভাই-বোন। আর সবার ছোট আমি। সবাই আদর করতো, ছোট হলে যা অবধারিত। জানি না সবার ভাগ্যে হয় কিনা। সে ক্ষেত্রে আমি খুবই ভাগ্যবান। তবে মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত লাগতো। এত টা কেয়ার করা। আমি আমার জীবনে প্রথম একা আমার পরিবার ছেরে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাই কক্সবাজার ৫ দিন এর জন্য । যখন আমার বয়স ২০ কি ২১ বছর। ১৯৯৯ সালের কথা। এইচ,এস,সি দেয়ার এক বছর পর। সে কি আর পারমিশন দেয়। বাড়ির ছোট ছেলে। আর আম্মাকে রাজি করাতে কত জায়গায় ধরনা ধরতে হয়ছে। পরে অনেক কষ্টে রাজি করিয়েছি। তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে, কথা একটাই প্রতিদিন সকাল বিকাল ফোন করে খবর দিতে হবে বিডি নিউজ এর মত। খাওয়া দাওয়া ঠিক মত করতে হবে। কোন জায়গায় একা যাবে না , বেশি পানিতে নামবেনা, কোন অপরিচিত লোকের সাথে অযথা বেশি কথা বলার দরকার নেই, আর অপরিচিত লোকের দেয়া খাবার খাবে না। রাত ১০ টার মধ্যে ঘুমিয়ে পরবে। অবশ্য যাওয়ার পর ২ দিন বেশ ভালোই ছিলাম ৩ দিন এর দিন আমি নিজেই থাকতে পারিনি। বন্ধুদের রেখে আমি চলে আসলাম বাসায়।

মা কখনো মাথা টা বুকে নিয়ে্‌ কখনো বা কোলে নিয়ে মাথায় হাত বুলাতে থাকতেন আর জিজ্ঞাসা করতেন আর কাঁদতেন নিরবে মুখ বুজে। যেন আমি বুঝতে না পারি। বাবা মানুষ তো চির দিন বাঁচে না। আমার কথা কি মনে থাকবে? যেদিন আমি থাকবো না, বিয়ে করবে সন্তান হবে তুমি বুঝবে। কেন এই রাত জাগা, কেন এই দুশচিন্তা। বা কখনো ঘুমের মধ্যে এসে গায়ে কাথা দিয়ে যেতেন। হাত দিয়ে দেখতেন শরীরে জ্বর আছে কিনা। আমার খুব একান্ত কথা গুলো, আমি শুধুই আমার মা'র সাথে শেয়ার করতে পারতাম। আর মায়ের অবর্তমানে আমার মেঝ বোন। আমার মা কিন্তু বর্তমান সময়ের মায়েদের মত সু-শিক্ষিত বা উচ্চ শিক্ষিত নন। তিনি ছিলেন একটা অজ পাড়া গাঁয়ের সাধারন মুসলিম ঘরের মেয়ে।শিক্ষাগত যোগ্যতা শুধু বাংলা বই পড়া আর লিখতে পারা। কিন্তু আজ সেই অজ পাড়া গাঁ ও আর আগের মত নেই ।। এটুকুই কারন তার বাবা মানে আমার নানা মেয়েদের পরা লেখার ব্যাপার টা তেমন পাত্তা দেন নি। মেয়েদের বিয়ে হলে যাবে স্বামীর বাড়ি আর সেখানে করবে বাড়ির কাজ, কাপর ধোয়া, রান্না করা , তো পরা লেখার দরকার টা কি? আর কোন জায়গায় খাটাবে? পড়লেখা তার ছেলেদেরই যত টুকু করিয়েছেন। আর বাসায় মৌলভি'র কাছে আরবীর সাথে এই টুকু বাংলা শিখেছেন।কিন্তু তার পরেও এই অশিক্ষিত আমার মাকে দেখলে মাঝে মাঝে আমি নিজেও অবাক হতাম। কি করে তিনি এই ইট পাথরের শহরে , বার রকমের মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলেছেন এত সুন্দর আর সহজ সরল মন নিয়ে। হয়তো তার এই সহজ সরলতা টাই অন্য মানুষ কে এতটা আপন করে নিয়েছে।

আমার মা ছিলেন প্রচুর অসুস্থ। আমার মার কিডনি দুটোই ছিল অকেজো, আলসার আরো কিছু অসুখ। বয়সের তুলনায় অনেক বেশি রোগ। বয়স খুব বেশি না যখন মারা গেলেন। টেনে টুনে ষাট বছর। আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকার কারনে আমার মাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। রোগে ভুগতে হয়েছে । অনেক কিছু গোপন করেছেন কারন বললেই তো আর চিকিতসা হবে না। তার সমাধান সম্ভব না। অভাবের সংসার। রোগের শুরুতে রোগ ধরার মত চিকিতসা হয় নি। আর যখন চিকিতসা শুরু করতে পারলাম প্রথমেই শুনি তার একটা কিডনি পুরোপুরি অকেজো। যেন মাথায় বাজ পড়ার মত অবস্থা। যখন সামর্থ্য হয়েছে চিকিতসার কোনো কমতি হয়নি। প্রায় ২০ টা বছর অনেক কষ্ট করেছেন রোগের সাথে। কিন্তু তার পরেও মুখে হাসি লেগেই থাকতো। আর কান্না আর কষ্ট গুলো শুধুই নিজের করে রাখতেন। মার সাথে আমার শেষ বৈশাখ ১৪১২। অনেক আনন্দ করেছিলাম । শুধু মাত্র একটু হাসি মাখা মুখ দেখার জন্য । আর শেষ দেখা হয় এয়ার পোর্টে, দেশ ছেরে চলে আসার সময়।

পৃথীবীতে সবাই সবার মাকে ভালবাসে। আমিও আমার মাকে ভালবাসি। জীবনের সব কিছু বীলীন করে Pদিতে পারি তারrithibite Sobaiজন্য। তার খুশির জন্য। তার বেঁচে থাকার জন্য , সু চিকিতসার জন্য দেশ ছেরে আসলাম টাকার জন্য টাকাও উপার্জন করা হলো কম না কিন্তু মা'কে বাঁচাতে পারলাম না। তোমার সাথে আমার শেষ দেখা টা হলো কাফনে মোড়ানো অবস্থায়। কোনো কথা ছারা। না বলেই চলে গেলে।তোমার মুখে বাবা ডাক টা আর শোনা হলো না। অন্ততঃ এই একটা সান্তনা আছে যে চেষ্টা করেছি তোমার জন্য। তোমাকে হারাতে চাই নি। জানি না তোমাকে আজান্তে কোন কষ্ট দিয়েছি কিনা। তোমাকে ভালবাসি মা।

আমার মায়ের খুব শখ ছিল নিজের একটা থাকার জায়গা দেখে যাওয়ার। যেখানে তার ছেলে মেয়ে গুলো সারা দিনের কাজ শেষে একটু বিশ্রাম নিতে পারবে। কিন্তু তা আর দেখে যাওয়া হয়নি। মা আজ আমাদের মাথা গোজার একটা ঠাই হয়েছে, এক খন্ড জমি আছে , যেখানে তুমি নিজের বাড়ির উঠোনে নিজের হাতে ফলানো শাক সবজি করে খেতে চেয়েছো তাও হয়েছে। মা তুমি আজ নেই, তোমার শুন্যতা বোঝার জন্য বিয়ে করতে হয়নি তার আগেই বুঝতে পারছি , ভাই বোন সবাই বিবাহ করে সংসার করছেন। ভাবীরা পরের বাড়ির মেয়ে। আর আমার বোন গুলো আজ পরের বাড়িতে, তোমার পরে যাদের সাথে আমার সব চাইতে বেশি বন্ধুত্ব। যারা আমার হাসি, কান্না, কষ্ট গুলো বুঝতে পারে, আমাকে বুঝতে পারে। আজ আমি খুবই একা মা। ঘরে ফিরে একটু মন খুলে কথা বলার কেউ নেই। কথা গুলো হারিয়ে যাচ্ছে। মাথা রেখে কান্না করার মত কাঁধ নেই। সান্তনা দেয়ার কেউ নেই। তোমার মত করে কেউ আপন করে বুকে টেনে নেয় না। তোমার শুন্যতা শুধু তোমাকে দিয়েই পূরন সম্ভব। অন্য কাউকে দিয়ে নয়। তোমার শুন্যতা আমি সব সময় অনুভব করি। তোমাকে ভাবার জন্য বা তোমার প্রতি ভালবাসা বা শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কোন দিবসের প্রয়োজন পড়ে না। তোমার গর্ভে জন্ম গ্রহন করে আমি নিজে গর্বিত। যে আমাকে মানুষের মুল্যায়ন করতে , মনুষ্যত্ববোধ , মানুষ কে ভালবাস তে শিখিয়েছে, সৎ ভাবে জীবন যাপন করার দীক্ষা, নিজের কর্মের প্রতি মুল্যবোধ ও শ্রদ্ধা করতে শিখিয়েছেন , তিনি আমার মা। আজ তোমার করা সেই যত্ন আর আদর টুকু অনেক খুঁজে ফিরি। কিন্তু আজ মা তুমি নেই, অনেক কথা আর অনেক কষ্ট, বুকের মধ্যে জমা হয়ে আছে কিন্তু বলার মত আপন কেউ নেই। কেউ জিজ্গাসা করে না কেমন আছি বা মনের খবর কেউ রাখে না । জীবন টাকে খুব এক ঘেয়েমি লাগছে। ভাল লাগে না আর। তোমার মত করে যদি চলে যেতে পারতাম কত ভালোই না হোতো। তোমার মত করে কেউ আর নিঃসার্থ ভাবে ভালবাসে না । মা তুমি কি পারনা আজ একটু সময়ের জন্য আমার কাছে আসতে? পারনা তুমি একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে.।? একটু আদর করতে? ভালবাসি মা তোমাকে।

পোস্টটি ৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নীড় সন্ধানী's picture


মাথার যন্ত্রণা নিয়েও লিখেছেন! মাথা মন দুটোই যখন বিগড়ানো থাকে তখন স্মৃতির অতলে ডুব দিলে কিছুটা মুক্তি মেলে। সেই অতলে ডুব দিয়ে কাটিয়ে দিন ঘন্টা দুয়েক। দেখবেন সেরে গেছে। সব যন্ত্রণা কেটে গিয়ে ভোর হোক আপনার উজ্জ্বল রোদ্দুর নিয়ে।

মাহবুব সুমন's picture


ভালো লাগলো।

আপনার বাংলা বানানের অবস্থা দেখি আমার মতোই ভয়াবহ Sad

নীড় _হারা_পাখি's picture


হুম ভাই জান বানানের অবস্থা । সত্যি ভয়াবহ। ধন্যবাদ হারুন ভাই*( নীড় সন্ধানি)।চেষ্টা করে দেখি কি হয়।।ভাল থাকুন।

জ্যোতি's picture


লেখাটা পড়ে মনটা খারাপ হলো। ভালো থাকেন। বিষন্নতা কেটে যাক পুরোপুরি।

সাঈদ's picture


মা - !!! কিছু বলার নাই।

ভালো থাকেন।

নজরুল ইসলাম's picture


আম্মারে দেখি না কতদিন!
মনটা খারাপ করে দিলেন

নীড় _হারা_পাখি's picture


যাওনা এক বার সময় করে মাকে দেখে আসো। নজু ভাই।।তোমার তো আছে । দেখতে না পারলেও কথা বলতে পার। মা বলে ডাকতে পারো এখনো। বুঝবে না এখন। না থাকলে হয়তো ঠিক বুঝতে আমার মত।

তানবীরা's picture


পড়লাম। বানান ঠিক থাকলে আরো আরাম লাগতো।

নীড় _হারা_পাখি's picture


তানবীরা আপু শোন তাহলে। গত ৫ কি ৬ বছরে না নিজের কোন কথা লিখেছি ডায়রীতে না কারো কাছে কোন চিঠি।কারন ডায়রী পড়তে ভাল লাগে। কিন্তু সব সময় তো আর মন ভাল রেখে লিখা হয় না ।তাই মন খারাপ করা লিখা গুলো পড়তে মনে চায় না বলেই লিখি নি কিছুই।আর চিঠি বা মেইল লিখলেও তা লিখেছি হয় ইংরেজী তে না হয় বাংলিশে। আর বই ও পড়ি না অনেক দিন। তো যখন আমি লিখতে বসি মাঝে মাঝে আমি নিজেও দ্বিধা দন্দে পরে যাই। বানান নিয়ে। বানান ঠিক আছে তো? কি আর করা এখানে ২য় বা ৩য় লিখাতে নজু ভাই প্রথম বলেছেন আমাকে বানানের বিষয় নিয়ে। চেষ্টা করছি কিন্তু জানি না কত টুকু পেরেছি শুধরাতে। সে যাই হোক ধন্যবাদ বলার জন্য। তবে কোন বানান টা ভুল লিখছি আর শুদ্ধ রূপ টা কি হবে পরবর্তিতে লিখলে উপকৃত হব। ভাল থাকুন সবাই।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.