ইউজার লগইন

পিঠাপিঠির ভালোবাসা

মা ঘরের কাজে ব্যস্ত, তার চেয়ে পাহাড়সম ব্যস্ততায় ডুবে আছে একবছর দশমাসের নওশীন। দাদার সাথে চাচাতো ভাইদু'টাকে স্কুল থেকে আনতে যেতে হবে, ছোটচাচুর সাথে সময়মতো নিচে গিয়ে পানির মটার ছেড়ে পানি তুলতে হবে, বুয়া এলে তার পেছন পেছন ঘরে ঘরে ঘুরা আর দীদাকে পান খাওয়ায় সঙ্গ না দিলে কি করে চলবে সব! এর মাঝে বারেবারে পাহারা দিয়ে আসতে হয় প্রায় একমাসের বোনটা আবার মায়ের আদরের ভাগবেশি বেশি নিচ্ছে কিনা, বেশিক্ষন কাছে থাকলেই কিছু না কিছু চাওয়া শুরু হয়ে যায় ওর নিজের। এখনো মুখের কথা পরিষ্কার হয়নি নওশীনের যে কিনা, নিজের নাম বলতে বলে "সশীন", মন দিয়ে লক্ষ্য করে বোনটাকে কেউ ডাকছে কখনো আদুরি, আবার কখনোবা মাধবী যার যা খুশি, এতো কিছুর মাঝে যে এখনো অনামিকা হয়েই আছে। এমতাবস্থায় যেই দাদু'র সাথে বাইরে বেরুতে যাবে শুনতে পাওয়া যায় বোনটা ঘুম ভেঙ্গে কেদেঁ উঠছে। কেউ পৌছাঁবার আগেই দৌড়ে গিয়া জুতা না খুলেই বিছানায়উঠে গেলো নওশীন। মা গিয়ে দেখে বোনের কান্না থামাচ্ছে ও এই বলে বলে, - " ও ও ও কানে না কানে নাআআ   আপু আছছি... ও আদুলী, ও মাজুনী কানে নাআআআ"

একই সাইকেলে একই সময়ে দু'জনকেই ঊঠতে হবে তাতে জায়গা হোক কি না হোক। নিজে কিছু খাওয়ার আগে দেখে নেন অন্যজনের হাতেরটা একই জিনিসতো! ঘরে বসে খামচা-খামচি মারামারির মধ্যেই আছে দু'জন। মা অস্থির সাদী-রেদওয়ান দু'টার জ্বালায়, এই কারো চুল টেনে ছিড়েঁ ফেলা হলো তো অন্যটার হাতে বিশাল কামড় পড়ে যাচ্ছে। ভাইবোনে সারাদিন এই করেই চলছে। একজনের টয়লেট যেতে হলে সাথে সাথেই অন্যজনকেও যেতে হবেই। অদ্ভুত নাম দিয়েছে ওরা, বড়ো বাথরুম "ফা" আর ছোটটা "ফু"! আর দিনে দু'জনেরই পরপর "ফা-ফু" লেগেই আছে! বয়েসের তুলনায় চার বছরের সাদীর কথা বলা দেরি হচ্ছে, ও বলে না তাই রেদওয়ানও অন্যদের সাথে কথা বলায় উৎসাহী নয়! কিন্তু দু'জনে টুকুরটুকুর কথা বলে
আড়ালে যখন সামনে কেউ থাকে না বোনটা প্রায় বছর দেড়েকের বড়ো বলে আগে ভর্তি হলো স্কুলে। দু'জনের দিনের রুটিন গেলো বদলে। প্রতিদিন বোনকে স্কুলে দিতে গিয়ে শুরু হয়ে মরা কান্না ভাইয়ের, দু'হাত ছড়িয়ে -  "নো নো নো" চলতেই থাকে অনেকক্ষন। ঘরে ফিরে এটা সেটা করে একটা সময় টিভি / খেলায় মজে গেলেও, মাঝে মাঝে ঘরময় খুজেঁফিরে বোনটাকে। এঘর সেঘরে খুজেঁ না পেয়ে মাকে তার জিজ্ঞসা, "হেই মাআ, হ্যাভ ইউ সিন সাদী"। মায়ের কাছে সদুত্তর না পেয়ে ঘরের বাকীদের কাছে জিজ্ঞাসা শুরু হয়, যাদের সাথে হাবেভাবে কাজ চালায় সে কথা বলে না মোটেই! গোসলের সময় আরেক ঝামেলা, আগে যেখানে বাথটাব থেকে তুলে আনাই কষ্টকর ছিলো, এখন ভাই একলা করতে চায় না গোসল, প্রতি গোসল তাই তার কাটে চিৎকারে," সাদীইইই, সাদীইইই ...... "

খুশির খবরে নাকি কান্না আসে, কথাটা বিশ্বাস করতাম না। এমনিতেও আবেগ সংক্রান্ত ব্যাপার স্যাপারে একটু কমই আক্রান্ত হবার অভিজ্ঞতা আছে। সেইবার রেজিস্ট্রি চিঠিটা সাইন করে নিয়েছিলাম আমিই, ওর আর সবকিছুতে যেমন যখন তখন হাত দিয়ে ফেলি তেমনি ওর নাম দেখেই ফরাৎ করে কোনা খুলে চিঠি পড়া শুরু করলাম। পাশ করে অনেকদিন এটাওটা করেই চলছে মনমতো চাকরি পাচ্ছে না, আর যেটাতে পেলো তাতে এ্যাপ্লাই/ এক্সাম ইত্যাদির খবর কেবল আমিই জানতাম। দু'জনের গুজগুজ ফুশফুশের ভাগীদার কেবল আমরাই। চিৎকার শুনে আম্মা কাছে আসতেই বিশাল হাসি দিয়ে জানালাম টুকুন এই চাকরিটা পেয়েছে। আম্মার জিজ্ঞাসা তাহলে কাদঁছিস কেন? নিজের কান্ডে অবাকই হয়েছিলাম সেদিন। আম্মার ভাষ্যমতে আমার চেয়ে ঠিক একবছর সাত মাসের বড়ো আমার সেই ভাই খুবই চুপচাপ কিসিমের ছিলো ছোটকালে। এই যে ঝগড়া খামচাখামচি করে বড়ো হয়ে উঠেছি, তাতে দিনদিন গায়ে নাকেমুখে খামচিগুলো সহ্য করে গিয়েছে টুকুন। কিন্তু আমার কাছেতো লাগতো ঘুষাঘুষিতে জুত করে উঠতে না পেরেই খামচিগুলা দিতাম, শেষ অস্ত্র যাকে বলে আর কি, কারন ওর
দাতঁ দিয়ে নখ কাটার অভ্যেস তাই নখের বালাই নাই তার। মাঝে মাঝে রুঢ় আচরনগুলোর জন্যে যখন কান্নাকাটি আসতো অবিশ্বাস্য লাগতো আম্মার বলা কথা, যে এই ছ্যামড়া নাকি আমার না বুঝার কালে সারাক্ষন আমার হাত ধরে পাশে শুয়ে থাকতো, নিজের অতিআবশ্যক কাজ আঙ্গুল মুখে পুরে থাকাতেও ক্ষ্যান্ত দিয়ে আমার হাসি দেখার জন্যে হাত নিয়ে খেলা করতো!!

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জেবীন's picture


পাপিষ্ঠ মডু আমার লেখার কমেন্ট বন্ধ কইরা রাখছিলো ক্যান!!!......  ভালুবাসার দিনে এই কি অনাচার অবিচার!!!...  টিসু

মাহবুব সুমন's picture


ফ্যাসিবাদী মডুকে গুল্লি

জেবীন's picture


যুগ যুগ ধরেই মডু'র লাগি বরাদ্দ আছে ...  মাইর   

অরিত্র's picture


Love ভালুবাসা খ্রাপ সান্তনা

জেবীন's picture


হ! আপ্নেই বুঝলেন, তাইতো কইলজার ভিত্রে অন্যেরে গাত্থি না রাখি কইলজাটারেই কাটাচামুচ দিয়া গাইত্থা থুইছেন... :p

নীড় সন্ধানী's picture


খামচাখামচির স্মৃতিগুলো একসময়ে এত আনন্দের স্মৃতি হয়ে যাবে কে জানতো!

জেবীন's picture


সেটাই...  এই আহ্লাদের ভাইয়ের সাথে দেখা যায় মন খুলে কথাই বলা হয় না দরকারে ছাড়া... Stare

আরাফাত শান্ত's picture


মডুকে ভালোবাসার দিনে আক্রান্ত করার চক্রান্ত বরদাস্ত করা হবে না!

রাফি's picture


পড়তেছি

১০

জেবীন's picture


এই না হইলে মনোযোগী পড়ুয়া! ...  উপুড় হইয়া পড়াতাছে মন দিয়া!!!... পড়া শেষ হইলে জানায়ে যাইয়েন গো!!...  হুক্কা

১১

নুশেরা's picture


ফা-ফু

এহহে, ফুফা-ফুফুর তো অবস্থা কাহিল Big smile

জেবীনের হাসি দেখলাম না Sad

১২

জ্যোতি's picture


বাহ। ভাই বোনের কত মধুর স্মৃতি! আমার তো এমন নেই। Sad
এত কম লিখো কেন মেয়ে?

১৩

সাঈদ's picture


কোক

১৪

মীর's picture


ভালো লাগলো লেখাটা পড়ে। জেবীন আপু ম্রাত্মক লেখে। ভালো লাগাই স্বাভাবিক।

১৫

উলটচন্ডাল's picture


পিঠাপিঠি বোন নাই, তবে ভাই আছে। আমার ভোটকা ভাই এখন অনেক দূরে। লেখা পড়ে তাই মন খারাপ হল।

লেখা গুল্লি হইসে।

১৬

তানবীরা's picture


তোমার লেখায় নিজেকে হারিয়ে আমি পাই ফিরে ফিরে ............

যে যতো কথাই বলুক, ভাইবোনের মধ্যে যে ভালোবাসাটা হয় সেটাই ভালোবাসা বাকি সব মিছে আশা

১৭

বাতিঘর's picture


মন ছুঁয়ে দিয়ে গেলো লেখাটা Star Star Star Star Star আপনি এতো কম লেখেন কেনো গো বইন? আরো অনেক অনেক লেখা চাই। ভালো থাকুন আপনিসহ আপনার ভাইটি..শুভেচ্ছা

১৮

হাসান রায়হান's picture


আমার পিঠাপিঠি বোনটা এখন সাত সমুদ্দুর দূরে। কত মারামারি করছি! লেখা ভাল লাগল বরাবরের মতই।

১৯

নাজ's picture


ভাই-বোন এর মাঝে সবার ছোট্ট আমি। আমার দুষ্টুমি'র কত যে স্মৃতি, লেখাটা পরে সব মনে পরে গেলো। খুব মিস করি ঐসব দিন গুলোকে Sad

২০

শওকত মাসুম's picture


ঠিক যেন আমার ছেলে-মেয়ে দুটোর কাহিনী পড়ছি। একই রকম।

২১

চাঙ্কু's picture


বোন ছোডবেলার খামছা-খামচির কথা মনে করাই দিলেন। Sad

২২

অদিতি's picture


ওরে জেবু! এই লেখা পড়ে হল বোন বড় হয়ে গেছে। আর ওকে কোলে নিতে পারিনা।

২৩

রুমিয়া's picture


হ ভালুবাসা খ্রাপ

২৪

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


মন ছুঁয়ে যাওয়া একটা লেখা..

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.