ইউজার লগইন

পড়ানোর মুড়ি, ছড়ানোর মুড়ি ...

আলোর খেলা, কথার খেলা কোনটাতেই পারঙ্গম না, তাই এই নিয়ে আলোচনাতে মেতে উঠার প্রশ্নই আসে না কারুর সাথে, তায় আবার ইন্টারনেটে আড্ডা অচেনা লোকের সাথে! নির্দিষ্ট গন্ডি ছাড়া অচল আমি’র কাছে তখন আন্তর্জালে বন্ধু পাতানো অচিন্তনীয় বিষয়ই! আর সেই “এ,এস, এল প্লিজ” লেখাটা দেখলেই কথা বলার ইচ্ছে উবে যেত, তাই ঘাপটি মেরেই পড়ে থাকা কখন ভাইবোনরা অনলাইন হবে, তবেই আড্ডা হবে – এর অপেক্ষা করা। না চিনতাম ব্লগ, না আর কিছু।

এমনতর সময়ে একজন নক করে জিজ্ঞেস করে, “আজকের আলোটার কি নাম বলেন তো!” একটুও না থমকে বললাম -“কনে দেখা আলো” … এরপর শুরু সপ্রতিভ কথা বলা, রীতিমত আলোর রঙ, এর সাথে জড়িয়ে থাকা প্রচলিত গল্প, আর তার সাথেও টেনে আনা কথা … সেকি গল্প করা। হলপ করে বলতে পারি, আমরা আমাদের ভুল ভেবেছিলাম, নিজেদের সম্পর্কে ভুল ধারনা নিয়েই কথা এগিয়েছি দিনে দিনে। নিশ্চয় ভেবেছে, দারুন তো রঙ, গল্পলেখা ইত্যাকার নানান বিষয়ে সমঝদার মানুষ এই আমি!! তাই তো নানান বইয়ের কথা, ছবি তোলার ধরনের কথা, নানান ঘটনার কথা জানাতে থাকে আমায় সপ্তাহ, দু’সপ্তাহে। আর আমার লেগেছিল, বাহ, শান্তশিষ্ট গুছানো এক মানুষ তো! মজাই লাগতে থাকে, ঘরকুনো মানুষটা আগ্রহী শ্রোতার মতো জানতে থাকি, একটু একটু করে একটা হাজারো জনের সাথে চলা, স্বপ্নে টইটুম্বুর এক মানুষের কথা।

এই যে আমার ব্লগের পাতা, এই যে দারুন কিছু বন্ধু পাওয়া, অনেক হাসি, অনেক কষ্ট, মায়া-অবিশ্বাসের হরেক স্মৃতির ভান্ডার গড়া – এমনি করে হতো না, যদি না এই অনলাইনে পাওয়া মানুষটা না জানাতো ব্লগের খোজঁ। এর জন্যে কৃতজ্ঞতা থাকবেই এই মানুষটার কাছে। আমরা তো যেকোন বন্ধুর উপর অনেকটাই ভরসা করি,এটা ওটা করা সাহায্য নেই,পরামর্শ করি – কিন্তু এই আমাদের সাথে এমনটা হয়নি! আমরা একে অন্যকে কিছু করতেই অনুপ্রানিত করিনি। জানি নিজেদের কোন কাজেই আমরা নাই, কিন্তু যখন খুশিটা, কষ্টটা, কল্পনাটা, স্বপনটা, কান্নাটা নিজেদের জানিয়ে দেই। স্ট্রবেরীর ব্যবসার প্ল্যান কিবা শিশুতোষ প্রজেক্ট, চিলেকোঠার ছাদটাতে বসে বাধঁভাঙ্গা জোছনাতে মাখামাখি, প্রথম চুমু’র বিচ্ছিরি ভাবলাগাটা, কাজ করেও সফল না হবার বেদনা, সেই রকম কারুর ওড়না হাতে চাদনীচকে্র অলিগলি ঘোরা ম্যাচিং চুড়ি খুজে পাবার আশায়, বিষাদে ছাওয়া উদাসী মনের ঘোরে ভুল স্টেশনে নেমে শহরের অন্য মাথায় চলে গিয়েও নির্লিপ্ত থাকা, কে কবে কথা দিয়েও হারিয়ে যাওয়াতে নাকিকান্না, পরিবারের কাছের মানুষগুলো নিয়েও ভাবনা – এমনি তর বলে দেয়া কথাটার জন্যে কিছুই হবে না, এ নিয়ে কোন পরবর্তী প্রতিক্রিয়াও হবে না, কেবল মন চাইলো তাই ডাইরীতে লিখে রাখার মতো করে দিনাদিনি, সপ্তাহে কিবা মাসে ছ’মাসে কথা চলে। ক’দিন আগে হিসেব করলাম প্রায় দশক পার করে দিচ্ছি আমরা এতো কথা বলে, কিন্তু একই শহরে থাকি তাও কেউ কাউকে না দেখে! সাধে কি বলি ডাইরী!!

আমার কোন স্বপ্ন নেই, কিবা আছে, তবে তেমন করে জানাতে পারি না, এমনকি নিজেকেও! একজনে বলেছিলো, ‘তোমাকে বুঝা সহজ, আর তোমাকে ভুল বুঝা আরো সহজ”। আমরা যেখানে নিজেরাই নিজেদের বুঝি না, কিন্তু অন্যকে কত সহজে বুঝে ফেলি! ইদানিং লাগে কাউকে বুঝতে যাওয়াটাই বোধকরি বড় ভুল বুঝা! স্বপ্নের কথা বলছিলাম, আমার বন্ধুটার অনেককিছু করা হরেক রকমের স্বপ্ন, আর সেই মতে খেটেখুটে কাজ এগিয়ে নেবার ফন্দিফিকির সব আছে জানা, কিন্তু পাশাপাশি আছে অল্পতেই হাল ছেড়ে দেবার প্রবৃত্তি! ছবি তোলাতে, লেখালেখিতে – এমনতর সব খেপাটে কাজের সবটাতেই একটুআধটু লেগেই আছে আবার কোন কিছুর সাথেই নেই! সেই যে ছেড়ে দেবার প্রবৃত্তি! আর আছে, কথায় কথায় ছড়া লেখা! কিছু মজার, কিছু খটমটে, কিছু গালাগালি কিছু পুরাই বেহুদা আবার কিছু দারুন মায়াময়।

একবার জন্মদিনের উপহার চাইলাম, সুন্দর করে কবিতা লিখে দেওয়া লাগবে, বিচ্ছিরি না মজার আবার ভালোও যেন হয়! পুরাই ফরমায়েসি কবিতা! চেয়ে তো আমি ভুলেই গেছি, বলার জন্যেই বলা, জানি তো দিবে না! সকালে “লেবার ল” ক্লাশের মাঝে সুমধুর রিংটোনও বিকট শুনাচ্ছিলো যখন ফোন এলো। “শুভজন্মদিন, কবিতা তো লিখি নি, তবে একটা দারুন জিনিস দিতে পারি, আমার একটুকরা খুশি দিয়ে দিচ্ছি! আমার প্রজেক্টের বাগানে আজ প্রথম স্ট্রবেরীর ফুল ফুটেছে! ক’দিন পরে আসার কথা কিন্তু আজই একটা ফুটলো! এইটাই জন্মদিনের উপহার!”

আজ আমার বন্ধুটার জন্মদিন। কখনোই কিছু দেইনি, আজো তেমনিই কেবল শুভকামনা দিয়েই দিন পার করলাম। তবে আজ ওর প্রথম বের হওয়া বইয়ের ফ্ল্যাপ দেখলাম! কবিতার বই যা কিনা কবিতা না, মুড়িতে ভরপুর! ছোট্টখাট কিবা খানেক বড় কবিতা, যার নাম দিয়েছে মুড়ি! কি উদ্ভট যে কবিতাগুলো হবে জানার অপেক্ষায় রইলাম!

boi.jpg

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


বন্ধুকে নিয়ে কথকতা দারুন লাগলো।

জন্মদিনের শুভকামনা রইল প্রিয় মানুষটার জন্য।

জেবীন's picture


Smile তোমার লেখাগুলোও ভালো লাগে, ফাকিঁবাজ আপু কমেন্ট দেই না কিন্তু ঠিক ঠিক পড়ে আসি।

সামছা আকিদা জাহান's picture


বন্ধুর জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ভাল থাকুন বন্ধু। অটুট থাক এই বন্ধুত্ব।
কবিতার বই এর জন্য শুভেচ্ছা। নিশ্চই এই বইয়ের কোন এক পাতায় অবশ্যই খুজে পাব নিজেকে।

জেবীন's picture


বই নাকি বের হলো এই ৬তারিখে। কুরিয়ার করে দিতে বলেছি, দেখি কি পাই।

থ্যাঙ্কস রুনা'পু

সাঈদ's picture


Party Party

জেবীন's picture


কোক Party

আরাফাত শান্ত's picture


বন্ধূকে নিয়ে লেখা চমৎকার একটা পোস্ট পড়লাম!

জেবীন's picture


বন্ধুদের নিয়ে লেখা'তে আমাদের কেউ তোমার ধারে কাছে নেই! কি নির্লিপ্তভাব নিয়ে বন্ধুদের কথা জানাও, কিন্তু প্রতি লেখাতেই তাদের প্রতি তোমার অসম্ভব টান ঠিক ঠিক ফুটে উঠে! Smile

শওকত মাসুম's picture


এতো চমৎকার লেখো তুমি

১০

জেবীন's picture


ছোট্ট করে বলা, কিন্তু পোষ্টে আপ্নের এই কথাটাই যে ভালো লাগা এনে দেয়! "আন্তরিকতার ছোয়াঁ" টার্মটা এই সব মূহুর্তকে বুঝাতেই ব্যবহার করেন লোকজনে। Smile

এই লেখাটা হুড়মুড় করে লেখা! ভেবেচিন্তে লিখলে এতে অনেক কম কথাই আসতো, পোষ্ট করে লাগলো "এই রে! কি লেখলাম নিজের বকবকানি! মুছে দিবো নাকি!" পরে লাগছে, একবার লিখছি যখন এডিট করবো না।

১১

আহমাদ মোস্তফা কামাল's picture


ব্লগে অনেকদিন হয়ে গেল। ছ-সাত বছর তো কম সময় নয়! নিয়মিত মন্তব্য না করলেও আমি যে কজনের লেখা ফলো করি, আপনি তাদের মধ্যে একজন। এবং এটা দেখতে খুব ভালো লাগে, যতই দিন যাচ্ছে ততই আপনার লেখা পরিণত হয়ে উঠছে।

আমি যখন লেখালেখি শুরু করেছিলাম, সেই '৯০ দশকের শুরুর দিকে, তখন ব্লগ বলতে কিছু ছিল না। পত্রপত্রিকায় প্রকাশের আগে অন্তত বছর তিনেক কেবল খাতার পাতা ভরিয়ে ফেলেছি লিখে লিখে। তারপর যখন একটু সাহস হলো, পত্রপত্রিকায় লেখা পাঠাতে লাগলাম। পাঠপ্রতিক্রিয়ার বালাই ছিল না। কেউ যে পড়ছে - এটা বুঝতেও দীর্ঘ সময় লেগেছে। তবু, কেবল একটা নেশার মতো ঘোরের ভেতরে থেকে লিখে গেছি। সেইসব দিনের কথা মনে পড়ে, যখন ব্লগে আসি আমি। লেখালেখি শুরুর জন্য এটা এক চমৎকার প্লাটফর্ম। এবং আমি দেখি, একটু একটু করে লিখতে লিখতে একেকজন দারুণ সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছেন। দেখে ভারো লাগে। আবার বেদনাবোধও করি যখন দেখি এই সম্ভাবনাময়-রা লেখালেখিতে দীর্ঘ বিরতি নিচ্ছেন, ততোটা মনোযোগ দিচ্ছেন না, নানা ব্যস্ততার অজুহাতে এই চমৎকার কাজটি থেকে নিজেকে বিযুক্ত রাখছেন।

এই যেমন এই লেখাটির কথা বলি। বন্ধুর বই প্রকাশের খবরটি দিলেন এমন এক চমৎকার পদ্ধতিতে যে পড়ে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। যেন তুলির আঁচড়ে এঁকে ফেললেন আপনাদের বন্ধুত্বের দীর্ঘ ইতিহাস। কত অল্প কথায় কত চমৎকার করে আঁকলেন একটা ছবি, যেন অপরিচিত হয়েও বন্ধুটি আমাদের সবার চেনা হয়ে উঠলো।

এত চমৎকার লেখার হাত, অথচ নিয়মিত লেখেন না। দুঃখবোধ করা ছাড়া উপায় কি?

১২

জেবীন's picture


সবাই ছোট্টবেলা থেকে এটা ওটা লিখতো, দেয়াল পত্রিকায় আসতো ওদের লেখা। আমি কখনো কিছু লিখি নি, জানি তো পারবো না তাই চেষ্টাও করিনি! ব্লগে এসেও কিন্তু চিন্তা ছিলো না যে গল্প সাজাবো! তবে দেখাতাম সবার ইন্টারেকশন, কিভাবে আড্ডায় ঢুকা যায়, মূলত অন্যদের সাথে মেশার, কথা কইবার আকাংখাটা থেকেই পোষ্ট দেয়া শুরু, নিজের কথাই আশেপাশের দেখা কিছু দিয়েই শুরু তবে আইলাম খাইলাম জাতীয় কথা আনি নাই! এখন সেটা হচ্ছে না, তবে আমি শুরু করার সময়ে সবাই ছোট্ট ছোট্ট উপদেশ গাইডেন্স দিতেন যেচে পড়েই। তেমনি একজনে বলছিলেন, "লিখতে পারেন না ভেবে বাদ দিয়েন না, গল্প বানাতে না পারেন, নিজের বন্ধু'র সাথে নানান মজার কথা শেয়ার করেন যেভাবে সেটাই কেবল গল্পাকারে লিখে ফেলেন " - তেমনি তেই শুরু করা। মজা পাচ্ছিলাম একে একে এমনি করে কথা জানাতে।

মনযোগের কথা যা বললেন, তা ঠিক পুরা সত্য কিনা লাগছে না। তবে বই না পড়ার ফল, লিখতে না পারাকেই মনে করি। পারি না অনেক কিছু, সেগুলাই আর পরবর্তী চেষ্টাতেই আগ্রহ আনছে না। মূলত আমার লেখাতে কোন বর্ননা নাই! খুব সরাসরি কথোপকথন দিয়াই গল্প বলা। নিজের কাছেই ভালো লাগে না। সবাই কি দারুন টুকিটাকি বিষয় দিয়ে একটা মূহুর্তকে সাজায়, যেটা কিনা পাঠককে ভাবায় যে এরপর অমন কিছু আসবে, কিবা বর্ননার সাথে নিজের কিছু অভিজ্ঞতাকে রিলেট করে ফেলে! গড়্গড় কেবল ডায়ালগ দিয়ে সেটা আনা সম্ভব না।
আর সব মিলিয়ে কিছুটা বদলেও গেছি, তাই আমার সবকিছুতেই ন্যাকামি দুঃখ দুঃখভাব চলে আসছে, এইটা নিজের কাছেই বিরক্তিকর! কাটুক এই ফেইজটা

কামাল'ভাই এই যে, লেখার ধরন, আরো চেষ্টা করা, লিখতে বলা - এই সব মিলিয়ে চমৎকার কমেন্টটা পেয়ে ভালো লাগছে বেশ!

এদ্দিনে আমার কোন লেখাতে বড় কমেন্ট দিলেন! আর আমরা সবাই জানি আপ্নের দেয়া বড় বড় কমেন্টগুলো অনুপ্রানিত করে সবাইকে

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.