ইউজার লগইন

"কালো বরফ" এর মোহাবিষ্টতা

অনেকদিন বাদে হওয়া বৃষ্টির কালে মাটি থেকে ওঠা সেই মাদকতাময় সোঁদাগন্ধ, কিবা না শুকানো মেহেদী লাগানো হাত থেকে আসা সুবাস, কিবা কারুর লম্বা আঙ্গুলের নখ নিয়ে খেলা করার উদ্গ্রবাসনা– ভালো লাগার এই ছোট্ট ছোট্ট বোধগুলো অব্যক্তই রয়ে যায়, হয়তো খুব মনলাগা কারুর সাথেই কেবল এই ছোট্ট ছোট অনুভূতিগুলো ভাগাভাগি করে ফেলি, নয়তো রয়েই যায় মনের গহীনে একদমই না বলা হয়ে। হুড়মুড় করে কতো কি মনে পড়ছে, আরো কত নানান তালগোলের ভাবনায় পড়ে গেছি বইটা পড়তে পড়তে।উপহারে পাওয়া বই, তাতে আবার শুভকামনায় কবিতার লাইন উদ্ধৃত করা –“নদীর মতন ভালোবাসা আছে জানি, তবু কেন ভালোবাসা মরে যায় হেমন্ত,বৈশাখে?”

বেশ আগে পড়েছিলাম,”ভালো বই তাই যা চিন্তার খোরাক জোগায়, পারিপার্শ্বিকতার সাথে নিজের সম্পৃক্ততাকে অনুভব করায়, কেবল পড়ার জন্যেই পড়া নয়,মূহুর্তগুলো ছুয়েঁ রয়ে যায়” – সত্যিকার অর্থে মাহমুদুল হক – এর লেখা ‘কালো বরফ’ তেমনি একটা বই। কালোত্তীর্নই বলতে চাই বইটাকে। নইলে সেই কবে ২১-৩০ আগস্ট, ১৯৭৭ সালে লেখা এই বই কি ভীষন রকমের আধুনিক!

“নিজেকে সে বাদ দেয়; নিজেকে নিয়ে তার কোনো সমস্যা নেই, কোনো না কোনোভাবে তার চলে যাবে।
এটাও একটা বাতুল চিন্তা,ফালতু ধারণা। আবদুল খালেক শুধরে নেয় নিজেকে, তা ভাবনা-চিন্তায় ওদের ভূমিকা যেন নিছক বোঝার। এর ভেতর আচ্ছন্নভাবে তার একটা অহমিকা আছে, সে চালাচ্ছে ওদের। কে কাদের চালায়, আসলে তো যে যার নিজের জীবনকে নিজেই চালায়। চালানো মানে জীবনকে কোনোরকমে টেনে বেড়ানো। চেয়ে-চিন্তে, মেরে-কেটে, যেভাবেই হোক”

কথাগুলো পড়তে পড়তে থমকে গিয়েছিলাম। কি ভীষন সহজ একটা উপলব্ধি, কিন্তু ক’জনা ভাবি আমরা এভাবে! ঠিক সৌরজগতের গ্রহ-উপগ্রহগুলোর মতোনই মানুষ নিয়ম করে যে যার নিজ নিজ পথে চলে নিজের নিয়মে, আবার সবাই সবাই কে নিয়েই আবর্তিত হয়! এম্নিই তো সব মানুষেরা। কারুর জন্যেই অন্যের থেমে থাকা হয় না। কিন্তু তাও প্রান-প্রাচুর্য্যে ভরা জীবনকে কি হেলাফেলা অবহেলার বস্তুতে পরিগণিত করে চলছি আমরা বিষন্নতাকে পুজিঁ করে নিয়ে।

“ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্তুপাকার করেছে নিজের জীবনকে। কালঘুম। চেষ্টা করলেও এখন আর দেহের জড় ভাঙ্গে না। পাথরের মতো নিরেট, কি অনড় এই মর্মান্তিক অবসন্নতা!”

কি অদ্ভুত! সদিচ্ছা রইলেও ইদানিং যেসব কাজ করে উঠতে পারছি না, ঝেড়ে ফেলে দিয়ে পুনরায় মন দিতে পারছি না কিছুতেই, না পাওয়াতেই হাবুডুব খেয়েই যাচ্ছি, ঠিক ঠিক বুঝতে পারছি সবটা যেন এই জমে থাকা জড়তারই ফল! কিন্ত নিজেই যেন নিজেকে বলে উঠতে পারিনি, কি আশ্চর্য সে কথা কিভাবে অন্য কেউ লিখে ফেলতে পারলেন।


“একটা মেয়ে তার জীবনের সবকিছু দিয়ে একজনকে ধরে রাখতে চায়, তার সব চিন্তার শেকড় ঐ এক মাটিতে, ঐ এক জায়গায় শক্ত করে বাধাঁ, আমি ভাবতেও পারি না, কোনোদিন ভেবেও দেখিনি এভাবে। এ চিন্তা তো আমারও হতে পারতো, একটি মেয়ে, জীবনভর তাকে চাই, তাকে ছাড়া আমার চলবে না, সবকিছু অন্ধাকার, অর্থহীন তাকে ছাড়া, ভীষণভাবে পেতে চাই, কই কখনো তো মনে হয়নি। তাকে আমার ধরে রাখতেই হবে, যেভাবেই হোক একবারও মনে হয়নি। বেশির পক্ষে সবকিছু ছিল এইরকম, সে আছে, চলে যাচ্ছে, চলে যাবে। জিনিসটা দাঁড়াচ্ছে এই, তার তো আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই, পালাবার কোনো পথ নেই, যেমনি আছে, তেমনি থাকবে।”

কে কবে পেরেছে এমনি সরল স্বীকারোক্তি দিতে! সর্বজনবিদিত এই উপলব্ধি কি অবলীলায় লেখনিতে তুলে আনার কাজটা কিন্তু যথেষ্ট প্রশংসনীয়।

উত্তম পুরুষে বলে চলা গল্পে আবদুল খালেক তথা পোকার শৈশবকালীন সময়ে চারপাশে ঘটে চলা কি বিপু কর্মযজ্ঞের খোজঁ পায় পাঠক,যা কিনা মনের গহীনে পুষে রাখা ছোট্টবেলার ঘটে যাওয়া নানান কিছুর স্মৃতিকে একপলকেই যেন সামনে এনে দেয়। পাশাপাশি খালেকের বর্তমান কালের জীবনের টানাপোড়েণ, জীবনের উদাসীনতা, মা ন্যাওটা হওয়া, মা’কে কাছে রাখার সুতীব্র বাসনা স্বত্তেও বৌয়ের স্বদিচ্ছার অভাবে তা না করা, সমসাময়িক রাজনীতি, হিন্দু-মুসলিমের জাতপাত নিয়ে আজন্ম চলা বিভেদ, পরিবারের উষ্ণতা পাবার আকাঙ্ক্ষা, প্রচন্ড রোমান্টিকতা – বইটাতে কি অনায়াসেই খুব অনাড়ম্বরভাবে সব কিছু এসেছে। যেন উদ্দেশ্যবিহীন ভাবেই গল্পকার গল্প করে চলেছেন, সে জাদুকরি লেখনির মোহে পড়ে গল্পের সাথে থাকার দায় পুরোই পাঠকের। টুকরো টুকরো ঘটনার মাঝ দিয়েই তরতর করে যেন একজীবনের ছবি দেখতে পেলাম যার ঘটনারগুলোর সাথে চাইলেই না বলা কিছু না কিছুর মিলে খুজেঁ পায় পাঠক।

জগত-সংসার, পাখি-গাছপালা সর্বোপরি প্রকৃতির তুচ্ছতিতুচ্ছ মনমুগ্ধকর বর্ননা, আত্নীয়-পরিজন, আশপড়শি সাথেকার সম্পর্কের ব্যাঞ্জনাগুলোই অনন্য করে তুলেছে বইটাকে। অদ্ভুত লাগে পড়তে পড়তে, এই থমকে যাই তো আরো বইটার মাঝে ডুবে যাই।

“কাউকে না জানিয়ে, খুব গোপনে, টু-শব্দট না করে, হাসিমুখে, কি অবিরল নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিল মা। সংসারের সামান্য একটা ফাটা পিরিচ, কিংবা ডাং ভাঙ্গা কাপ, কিনবা ক্ষয়ধরা পেতলের খুন্তির গায়েও চোখের পানি ছিল মার। এমন কিছুই ছিল না, যার কোনো প্রয়োজন নেই, যা কখনও সংসারের কোনো কাজে লাগবে না। সবকিছু ছিল আদরের। পুরনো পাড় থেকে তোলা সামান্য যে পচা সুতো তারও যে যত্ন ছিল, তাতে জীবনের ভার অনেকখানি লাঘব হয়।”

মায়ের এমনি রুপ বোধকরি আমরা সবাই দেখেছি, কিন্তু এত্তো জীবন্ত করে কারুর সামনে তুলে ধরতে পেরেছেন মাহমুদুল হক’ই।

“তোমার গায়ের গন্ধ ভারি সুন্দর। মনে হয় কখনো মানুষজন মাড়ায় না এমন একটা চুপচাপ নিস্তব্ধ সরু রাস্তা ধরে হাটঁছি, এক চিলতেও রোদ নেই, কেবল সারি সারি বকুল গাছের আদুরে ছায়া -”

রেখাকে বলা এই কথাগুলো কি ভীষন রকমের মায়াময় কি ঘোরলাগা, তা জগতসংসার ভুলিয়েই দেবার মতোন। বৌ -সংসারের প্রতি আপাত উদাসীন এই খালেকই যখন রেখাকে নৌকাভ্রমনের আয়োজন করে, মনে হয় যেন হুমায়ূন আহমেদের নৌকাবিলাস এর কাছে তুচ্ছ।

“পাহাড় মনে করলেই পাহাড়, তুলো মনে করলেই তুলো, যে যেভাবে নেয়। হিসেব করে দেখলে বুঝতে পারবেন, কতো মানুষের চেয়ে আমরা ভালো আছি। কোনো না কোনোভাবে জীবন চলেই, কোথাও দাড়িঁইয়ে থাকে না। ... যারা দশজনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে চায়, তাদের কথা অবশ্য আলাদা। তারা জীবনের ঘাটতি ছাড়া আর কিছুই দ্যাখে না, দেখতে পারে না।”

কি বলার থাকতে পারে এই কথাগুলো পড়ে! কেবল অনুভব করার ছাড়া। বলতে গেলে পুরো বইটাই যেন উদ্ধৃত করে দেয়ার মতোন। এতো অসামান্য যার লেখনি সেই মাহমুদুল হক লেখালেখি ছেড়ে দিয়ে স্বেচ্ছানির্বাসন নিয়েছেন। বইটা পড়তে পড়তেই মনে হয়ছিল, সামু’তে আহমাদ মোস্তাফা কামাল’ভাইয়ের এক পোষ্টের কথা, যাতে মাহমুদুল হক জানিয়েছিলেন কেন লিখছেন না –

“লিখতে লিখতে একসময় একঘেঁয়েমিতে ভুগছিলাম আমি, তাছাড়া এসবকিছুকে ভীষণ অর্থহীনও মনে হচ্ছিলো আমার কাছে। কি করছি, কেন করছি, এসবের ফলাফল কি, আদৌ এসব করার কোনো অর্থ হয় কী না-_ এইসব আর কি! সব মিলিয়ে লেখালেখিটা আর ভালোলাগেনি। অবশ্য একেবারে পরিকল্পনা করে, সিদ্ধান্ত নিয়ে লেখালেখি বন্ধ করেছিলাম তা নয়। এরকম তো সব লেখকেরই হয় যে, মাঝে মাঝে ক্লান্তি আসে, মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিতে ইচ্ছে করে, মাঝে মাঝে বন্ধ্যাত্নও দেখা দেয়। আমার সেটাই হয়েছিলো। কিন্তু সব লেখকই সেই সময়টি পেরিয়ে আবার লেখালেখিতে ফিরে আসেন। আমার আর ফিরে আসা সম্ভব হয়নি... তোমাকে একটা গল্প বলি শোনো- ডাক্তার নন্দী নামে এক ভদ্রলোক আমার মায়ের চিকিৎসা করতেন। খুব অদ্ভুত মানুষ ছিলেন তিনি। পশুপাখির সঙ্গে কথা বলতেন, মনে হতো তিনি ওদের ভাষা বোঝেন, অন্তত তাঁর কথা বলার ধরনটা ওইরকমই ছিলো। তাঁর পোষা কুকুর ছিলো, সেগুলোকে তিনি সন্তানের মতো ভালোবাসতেন, আমি তখন টিয়েপাখি পুষতাম, তিনি আমাদের বাসায় এসেই আগে টিয়েকে আদর করতেন, কথাবার্তা বলতেন। তো ওই ভদ্রলোক আমার কাছ থেকে বই নিয়ে যেতেন পড়ার জন্য। একদিন তিনি বললেন- 'আমার কি মনে হয় জানো? মনে হয় আমরা সময় কাটাবার জন্য, ক্লান্তি দূর করার জন্য এসব বইটই পড়ি, অথচ এসব যারা লেখেন তাঁদেরও একসময় আর এগুলো ভালো লাগে না। বুঝলে, ক্লান্ত লাগে, ক্লান্ত লাগে।' তাঁর এই কথাটা আজকাল আমার খুব মনে পড়ে। আমারও এখন ক্লান্ত লাগে, ভীষণ ক্লান্ত লাগে। জীবনটাকে ভীষণ অর্থহীন মনে হয়। আর তাছাড়া, লিখে কি হয়? লেখালেখি করে কি কাউকে কমিউনিকেট করা যায়? মিউজিক বরং অনেক বেশি কমিউনিকেটেবল ল্যাংগুয়েজ। লেখালেখিতে যা কিছু বলতে চাই তা বলা হয়ে ওঠে না, আমি অন্তত বলতে পারিনি। যেটুকু বলেছি তা-ও যে বোঝাতে পেরেছি বলে মনে হয় না। যাকে বলে ব্রেকডাউন অব কমিউনিকেশন সেটা আমাদের প্রায় সবার জীবনে ঘটে, আমার জীবনেও ঘটেছে।“

অবাক লাগে এমনি ভাবে যার লেখার ক্ষমতা তিনি কিনা বলেন লেখালেখি দিয়ে কমিউনিকেট করতে পারেন নি! আমাদের চারিপাশের সাধারন সব মূহুর্ত/অনুভূতি গুলোকে তারঁ লেখনির মাধ্যমে অসাধারন করে তুলেছেন, পাঠকের মনের নিজনিজ উপলব্ধির সাথে মিলেমিশে যেতে পেরেছেন যিনি তারঁ কেন জীবনকে অর্থহীন বোধ হবে!

বইটা পড়ে রীতিমতো ঘোরে আছি। অনেক ধন্যবাদ অনন্য এই উপহারটির জন্যে।

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ জেবীন। বইটি আমি পড়িনি আমার সংগ্রহেও নেই। ঢাকা যেয়েই সংগ্রহ করব। হয়ত দিন পনেরোর মধ্যেই। পড়ার তৃষ্ণা বাড়িয়ে দিলে সুন্দর উপস্থাপনায়।

জেবীন's picture


সংগ্রহে রাখার মতোনই বই। আমি তো উনার বাকি বইগুলো পড়বো ঠিক করেছি। থ্যাঙ্কস আপু

ঢাকা এলে দেখা হবে এবার, আপনার বাড়ি যে কবে যাওয়া হবে, কোথাও যেতে ভীষন মন টানছে।

সামছা আকিদা জাহান's picture


মন ঠিক করলেই হয়ে যায়। চলে আস না আপু।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


অসাধারণ বুক রিভিউ,
মাঝে মাঝে তোমার কথার গুনে চমত্‍কার ব্লগপোস্ট।

এরকম আরও চাই, মাঝে মাঝেই।

বইটা বাসাতেই আছে,
পড়ে ফেলবো কোন এক রাতে। Smile

জেবীন's picture


হুম পড়ে ফেলো, আমিও জমিয়েই রেখেছিলাম। যে রাতে শুরু করবা, ঘুম হবে না সে রাতে! শুরু করলে শেষ না করে উঠাই যাবে না। Smile

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে।

আরাফাত শান্ত's picture


গত পাচ ছয় বছরে সাত আট বার পড়ছি
দারুন বই!

জেবীন's picture


আসলেই বারেবার পড়া যায় এই বই। এই রেখে দিলাম, কিছুদিন পরে আবার নেবো পড়তে। Smile খুজেঁ বার করলাম আজ "জীবন আমার বোন" বইটা।

রাসেল's picture


কালোবরফ শেষ পর্যন্ত মানুষের নি:সঙ্গতার গল্প, মানুষ আঁকড়ে ধরতে চায়, তার আশেপাশে যা কিছু আছে সবকিছুকে সাথে নিয়ে এক ধরণের অর্থ খুঁজে পেতে চায়, সে অর্থ নানান জনের কাছে নানান ভাবে ধরা দেয়।

মানুষ নি:সঙ্গতাকে ভয় পায় কিন্তু এই নি:সঙ্গতার বাইরে তার অন্য কোনো বন্ধুও নেই। পোকা, রেখা এরা সবাই একই সাথে এই জীবনটাকে খুঁজে পায় হয়তো, কিংবা আসলে তারা অভ্যস্ত হয়ে যায়।

নৌকা যখন মাঝের একলা চরে থেমে যায়, সে অংশটুকুর ভেতরে অনেক ভালোবাসা আর প্রেম।

জেবীন's picture


মানুষ নি:সঙ্গতাকে ভয় পায় কিন্তু এই নি:সঙ্গতার বাইরে তার অন্য কোনো বন্ধুও নেই। পোকা, রেখা এরা সবাই একই সাথে এই জীবনটাকে খুঁজে পায় হয়তো, কিংবা আসলে তারা অভ্যস্ত হয়ে যায়।

সেই অনেকেই তো নিঃসংতাকেই সঙ্গী করে চলতে চায়, অনেকের ভীড়ে নিজেকে একাকী করে চলাতেই তাদের অভ্যস্ততা, তাতেই আনন্দ যেন।

নৌকা নিয়ে ঘুরতে বেড়ানোর অংশটা খুব করে উপভোগ করলাম, কেন যেন লাগলো, আরে, এমন চাওয়াগুলো আসলেই পূরন হয় নাকি! হলে তো বেশ হতো, অইটকুন স্মৃতি নিয়েও তো অনেকক'টা সময় তারিয়ে চলা যায়।

রাসেল্ভাই, আপ্নে লিখলে এই রিভিউ অবশ্যই আরো দারুন হতো। Smile

১০

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


রিভিউ ভাল লাগলো।

১১

জেবীন's picture


Smile ধন্যবাদ পড়ার জন্যে

১২

তানবীরা's picture


বইটা পড়তে হবে। তোমার আর কামাল ভাই দুজনের পোষটই পড়লাম। দুটোই অসাধারণ

তুমারে মিস করি, আরো বেশি বেশি আসো না কেনগো এই বাড়ি Puzzled Sad(

১৩

জেবীন's picture


বইটা পড়েন, ভাল্লাগবে। আর কামাল্ভাইয়েরটা তো ভালো হবেই, Smile আরে, মনে পড়লো কামাল্ভাই'র থেকে বই পাওয়া নেওন এখনো বাকি আছে Tongue

মিস'কে মিস করবেন এইটাই তো স্বাভাবিক! আর দৃশ্যমান হই না তো, কিন্তু এতো আমার বাড়ি, ছেড়ে যাবার কথাই না! Smile

১৪

নিঃসঙ্গতা's picture


"এসব যারা লেখেন তাঁদেরও একসময় আর এগুলো ভালো লাগে না। ক্লান্ত লাগে, ক্লান্ত লাগে।' তাঁর এই কথাটা আজকাল আমার খুব মনে পড়ে। আমারও এখন ক্লান্ত লাগে, ভীষণ ক্লান্ত লাগে। জীবনটাকে ভীষণ অর্থহীন মনে হয়। আর তাছাড়া, লিখে কি হয়? লেখালেখি করে কি কাউকে কমিউনিকেট করা যায়? মিউজিক বরং অনেক বেশি কমিউনিকেটেবল ল্যাংগুয়েজ। লেখালেখিতে যা কিছু বলতে চাই তা বলা হয়ে ওঠে না, আমি অন্তত বলতে পারিনি। যেটুকু বলেছি তা-ও যে বোঝাতে পেরেছি বলে মনে হয় না। যাকে বলে ব্রেকডাউন অব কমিউনিকেশন সেটা আমাদের প্রায় সবার জীবনে ঘটে, আমার জীবনেও ঘটেছে।"

কী ভীষণ সত্যি কথা! লেখালেখি নিয়ে এমন উপলব্ধি শুধুমাত্র একজন সত্যিকারের লেখকের পক্ষেই সম্ভব।

১৫

জেবীন's picture


হুম, আদত লেখক'দের উপলব্ধি, অনুভূতি প্রকাশের ভঙ্গি - ব্যাপারটাই আলাদা হয়, সাধারনদের থেকে অনন্য করে তোলে তাঁদের।

Smile

১৬

জ্যোতি's picture


দারুণ রিভিউ। আমি বইটা পড়িনি। রিভিউ পড়ে মনে হচ্ছে বইটি শীঘ্্রই কিনব এবং পড়ব ।

১৭

জেবীন's picture


তুম্রা কত্তো বই কিনো! Sad তুমাদের ধারেকাছে নিজেকে লাগে বড়ই বেহুদা
পইড়ো, জানি ভালো লাগবে বইটা Smile

১৮

শাপলা's picture


কী সুন্দর করে লিখলে....

ইদানীং সবার মুখে মুখে কালো বরফের কথা শুনে শুনে বইটা পড়ার ভীষণ আগ্রহ হয়েছে..। নিজের সণ্গে খুব অনুমান অনুমান খেলছিলাম- কেমন হতে পারে বইটা? কি নিয়ে লিখেছেন?

তোমার বুক রিভিউটা নিজেকে কেমন একটা বোধের জায়গায় নিয়ে গেল।
মনের আয়নাতে ছায়া ফেলার মত।
পড়ে নেব বইটা কিন্তু তোমার লেখার জন্য বইটা পড়তে আরও ভালো লাগবে।

১৯

জেবীন's picture


Smile সুন্দর বলছেন, "মনের আয়নাতে ছায়া ফেলার মতো"

সেই, বইপড়ুয়া গ্রুপে অনেক অনেক আলোচনা হয়েছে এই বইটা নিয়ে। ভালো আলোচনা যেকোন কিছুকেই আরো জানতে আগ্রহী করে তোলে।

২০

শাপলা's picture


একটা বড় মন্তব্য করলাম, কেন যেন সেটা গায়েব হয়ে গেল।

দারুণ রিভিউ লিখেছ। খুব ভালো লেগেছে আমার।

২১

জেবীন's picture


মন্তব্য আছে তো আপু, দেখতে পাচ্ছেন না?
ভালো লাগাটা এমনি জানালেন বলে অ্নেক ভাল্লাগছে। Smile

২২

শওকত মাসুম's picture


দারুণ লিখছো। বহু আগে পড়া বইটি আবার হাতে নিচ্ছি শিগগিরই

২৩

জেবীন's picture


Smile
পুরানো ভালো লাগার বই পড়তে ভালোই লাগে অনেক। এমনকি অনুভূতিও সময়ে ফেরে নতুনভাবে ধরা দেয় যেন।

২৪

মীর's picture


আপনার মোহাবিষ্টতা প্রকাশের ধরণটা অসাধারণ হইসে।

বইটা পড়ি নি। সেজন্য আফসোস হচ্ছে।

২৫

শফিক হাসান's picture


অসাধারণ রিভিউ। অনেকদিন এমন চমৎকার রিভিউ পড়ি না। বইটা পড়িনি এখনো। মনে হচ্ছে, বড় একটা ভুল হয়ে গেছে! Smile

২৬

শফিক হাসান's picture


অসাধারণ রিভিউ। অনেকদিন এমন চমৎকার রিভিউ পড়ি না। বইটা পড়িনি এখনো। মনে হচ্ছে, বড় একটা ভুল হয়ে গেছে! Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.