শেয়ারবাজারের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে এখন যা ঘটছে
১.
রিপোটিং করার মধ্যে এক ধরণের নেশা আছে। এই নেশার কারণেই একবার রিপোর্টিং শুরু করলে এ থেকে বের হওয়া মুশকিল। যেমন ধরেন, ৭ এপ্রিল শেয়ারবাজারের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি অর্থমন্ত্রীর কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে বলে জেনে আসছি। জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্টিং এর নেশা চেপে ধরলো। প্রতিবেদনটি বের করতে হবে। সরকার সহজে এই রিপোর্ট প্রকাশ করবে না জানা ছিল। সরকার প্রকাশ না করলেই যে পাওয়া যাবে না তাও না।
আগে থেকেই শুরু করলাম যোগাযোগ। একজন কথাও দিলেন যে রিপোর্টটি দেবেন। তবে প্রথম দিন কেবল সারাংশ, আর কয়েকদিন পর পুরোটা।
অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার আধা ঘন্টার মধ্যে পেয়ে গেলাম সারাংশ অংশটুক। তিনি কথা রাখলেন, আমার জন্য সারাংশটুকু পকেটে রেখেছিলাম, কোন এক ফাঁকে সবার চোখ এড়িয়ে দিয়ে দিলেন।
বিপত্তি বাধঁলো পুরো রিপোর্টটি পেতে। তিনি বলেছিলেন রোববার সকাল ১১টায় তার কাছে গেলেই পেয়ে যাবো। কিন্তু ১০টায় ফোন করতেই তিনি বেঁকে বসলেন। বুঝলাম ও জানলাম তার গতিবিধি অনুসরন করা হচ্ছে, ফোনে আড়ি পাতা হচ্ছে। ফলে রিপোর্ট পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় মুশকিলে পড়ে গেলাম। মোটামুটি মাথা খারাপ অবস্থা যখন, তখন সেই তিনিই এক টিঅ্যান্ডটি নম্বর থেকে ফোন করেই বললেন, আপনার সাথে গাড়ি আছে তো। ঠিক ৬ টার সময়....চলে আসেন'।
হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।
২.
খেলা শুরু হলো তারপর। কারসাজির সঙ্গে জড়িত বলে যাদের নাম আছে তাদের একজন দেখা করলেন তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে। তিনি কথাবার্তা শেষ করে ফিরে আসার সময় চেয়ারম্যানকে খুব ঠান্ডা গলায় বললেন, 'দেখেন কী খেলা দেখাই।'
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত একজন বলেছেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি করবো যাতে তার হার্ট এটাক হয়।
সবচেয়ে মজার কথা বলেছেন আরেকজন। তিনি কঠিন আওয়ামী লিগার। নিরব সমর্থক নন, অত্যন্ত সরব এবং উচ্চকন্ঠের নেতা। তিনি আমাকে ফোন করে বললেন, 'সালমানসহ বড় বড় মানুষদের এভাবে নাম তুলে দিলে তো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হবে। আর তা হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত হবে। এটা কি ঠিক হলো।'
আরেকজন তো আরেক কাঠি সরেস, তিনি বললেন, খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ জামাত, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতেই এই কাজটি করেছেন।
৩.
গণমাধ্যমকে আমরা স্বাধীন বলি। টিভি ও রেডিও চ্যানেলগুলো বলে তারা প্রিন্ট মিডিয়ার মতো অতোটা স্বাধীন নয়। সরকার নানা ভাবে প্রভাবিত করে থাকে। কিন্তু শেয়ারবাজারের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে নতুন একটা ধারণা জন্ম দিয়েছে।
রাজনীতি না, আসলে ব্যবসায়ীক স্বার্থই আসলে মূল কথা।
তদন্ত প্রতিবেদন ও কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিডিনিউজ, আমাদের সময় ও এনটিভি। বিডিনিউজের অন্যতম মালিক সালমান এফ রহমান। আমাদের সময়ের মালিকানায় আছে সালমান ও নূর আলী। এনটিভির মালিক মোসাদ্দেক আলি ফালু। শেয়ারবাজারে সালমান ও ফালু পার্টনার।
এনটিভি একটা স্মার্ট চ্যানেল। তারা সবসময় চেষ্টা করে নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমানে, বিশেষ করে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। কিন্তু নিজস্ব ব্যবসায়ীক স্বার্থে আঘাত লাগলে যে নিজের চেহারাটি দেখাতে হয় তার প্রমান দিল এনটিভি। শেয়ারবাজারের কেলেঙ্কারিতে নাম আসায় নিজেদের রক্ষা করতে উঠেপড়ে লেগেছে সালমান ও ফালুরা। আর এ ক্ষেত্রে নগ্নভাবে ব্যবহার করা হলো এনটিভিকে।
কারো চরিত্র হনন করতে হবে? এজন্য আছে বিডিনিউজ। প্রথমে ড. ইউনূস ও এখনকার শেয়ারবাজার ঘটনায় এটি প্রমানিত।
বিডিনিউজ সবচেয়ে হাস্যকর কাজটি করেছিল তদন্ত রিপোর্টটি প্রকাশের ক্ষেত্রে। তারা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ঘোষণা দিয়ে বলে দিল যে, পুরো রিপোর্টটি তাদের হাতে আছে, জনস্বার্থে তা প্রকাশ করা হল। তবে কয়েকটি পৃষ্ঠা তারা পায়নি। সালমান রহমান সংক্রান্ত কয়েকটি পৃষ্ঠাই কেবল তারা হাতে পেল না?
পরে অবশ্য হাসাহাসির কারণে পুরোটা দিয়েছে।
আমাদের সময়ের কথা কী বলবো? এটা তো টয়লেট পেপার। দুগন্ধ ছড়ায় কেবল।
৪.
শেয়ারবাজারের ডাকাতগুলোর মূখপাত্র এখন নাইমুল ইসলাম খান। বলতে লজ্জা লাগে যে, তিনি একজন সাংবাদিক। আমাদের সময়ের সম্পাদক। কিন্তু বাংলাদেশে এই মুহূর্তে জীবিত সাংবাদিকদের মধ্যে তার মতো এতো সুন্দর ঘেউ ঘেউ আর কেউ করতে পারছে না। প্রভু দেখলে তার মতো লেজও কেউ এখন নাড়াতে পারছে না।
এই লোকটি কয়েকটি নির্দিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলে ডাকাতদের হয়ে ঘেউ ঘেউ করেই যাচ্ছেন।
অথচ নতুন ধারার পত্রিকার যে ধারণা আজকের কাগজ দিয়ে তিনি শুরু করেছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় আজকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের উত্থান।
৫.
তদন্ত প্রতিবেদনের সবচেয়ে ভয়াবহ লাইন মনে হয় এগুলো-
'পুঁজিবাজার লেনদেন ও পরিচালনায় সালমান ও রকিবুর রহমানের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন বলে তদন্ত কমিটি মনে করে। ‘মার্কেট প্লেয়াররা’ এসইসির উপর প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হলে এসইসি অকার্যকর হয়ে থাকবে, আবারও বাজারে বিপর্যয় ঘটবে।'
৬.
সালমানের পুরোনো কিছু কথা বলি।
১৯৯৬ সালের অর্থমন্ত্রী ছিলেন মরহুম শাহ এ এম এস কিবরিয়া। তাঁর সঙ্গে এই সালমান এফ রহমানের সম্পর্ক ছিল যথেষ্ট তিক্ত। কিবরিয়া সালমান রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চেয়েছিলেন। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন সালমান রহমান। মনে আছে বিদেশ সফর শেষে শেখ হাসিনা যেদিন দেশে ফিরেছিলেন সেদিনই নিজের পত্রিকা ইনডিপেন্ডেন্ট-এ প্রথম পাতায় অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করে স্বনামে লিখেছিলেন সালমান রহমান। শিরোনাম ছিল 'ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট সোশ্যালাইজেশন'।
সেসময় এই সালমান রহমান অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলাও করেছিলেন। ১৯৯৭ সালের ২২ জুন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ আফজাল সমীপে মানহানি মামলার (কনটেম্পট পিটিশন নং ৪৩ অব ১৯৯৭) এফিডেভিটে সালমান রহমান লিখিতভাবে বলেছিলেন, ‘বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান (সালমান এফ রহমান) ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর মধ্যে যেহেতু কিছু ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব রয়েছে, সেহেতু ধারণা করা যায় যে, তারই প্ররোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণখেলাপি হিসেবে আবেদনকারীদের নাম পাঠিয়েছে।’
এফিডেভিটের আগে ও পরে হাইকোর্টে সালমান এফ রহমানের কৌঁসুলি যেসব বক্তব্য তুলে ধরেন, সেগুলোও ছিল এরকম: ‘এটা পুরোপুরিভাবেই সালমান এফ রহমান ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর মধ্যকার সোজাসাপ্টা বিরোধের জের। অর্থমন্ত্রী বেক্সিমকো গ্রুপকে একটি উচিত শিক্ষা দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কারণটিও বোধগম্য। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) সঙ্গে সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী ঈর্ষান্বিত। গত নয় মাস যাবৎ প্রধানমন্ত্রী বিদেশী বিনিয়োগের ব্যাপারে সালমান এফ রহমানের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করেছেন। বর্তমান অর্থমন্ত্রী এটা কখনোই পছন্দ করেননি।........ এটা বোঝা যায় যে, বেক্সিমকো গ্রুপকে জনসমে ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেয় করার জন্য অর্থমন্ত্রীই বাংলাদেশ ব্যাংককে এ ধরনের চিঠি ইস্যু করার জন্য প্ররোচিত করেছেন।’
৬.
পুরো ঘটনায় সবচেয়ে হতাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী এ এম মুহিত। ৯০ এর পর এতো দুর্বল অর্থমন্ত্রী মনে হয় আর ছিল না। সবাই বলে থাকেন যে, অর্থমন্ত্রী খালি বলেন যে, ব্যবস্থা নিচ্ছি, আসলে কারো বিরুদ্ধেই তিনি ব্যবস্থা নেন না। আর এই সুযোগ নেন সবাই। যেমন এখন নিচ্ছে শেয়ারবাজারের কাসরাজির নায়কেরা।





ইব্রাহিম খালেদকে বলা হচ্ছে তিনি নাকি " সুশিল ছাগু"। শেয়ার মার্কেট কেলেংকারী নিয়ে তার মন্তব্যের সুত্র ধরে কিছু মানুষ এটা বলা শুরু করেছে মিডিয়া থেকে শুরু করে ব্লগ ও ফেসবুকে। অথচ ইব্রাহিম খালেদ কি বোঝাতে চেয়েছেন সেই বক্তব্যে সেটা তারা কি আদৌ বুঝেছে নাকি বুঝেও তাদের প্রভুদের মনোরন্জনের জন্য হাস্যকর চেস্টা করছে। এই সব বিতর্ক করে এই সব ভন্ডরা মূলত মুল প্রসংগ থেকে দৃস্টি সরিয়ে নেবার চেস্টা করছে।
শেয়ার মার্কেট ডাকাতির বিচার এবারও হবে না। হাসিনা সরকারের সৎ উদ্দেশ্যের ঘাটতি আছে এতে। সব কিছুতে ষড়যন্ত্র খুঁজতে গিয়ে এরা সব কিছুই এড়িয়ে যায়।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের সাক্ষাৎকারের একটা অংশের নিজেদের মতো ব্যাখ্যা দিয়ে বিডিনিউজ যা করেছে তাকে আর যাই হোক সাংবাদিকতা বলা যায় না। আর বিডিনিউজ পড়ে কেউ প্রভাবিত হলে এটা তার দায়, এটা নিয়ে কিছু বলার নাই।
তবে যারা ইব্রাহিম খালেদ সম্বন্ধে জানেন তাদের নতুন করে কিছু বলার নাই।
মিডিয়া কখনোই স্বাধীন না। প্রথম আলো যেমন ট্রান্সকম বিরোধী কিছু ছাপাবে না, কালু যেমন শাহ আলম বিরোধী কিছু ছাপাবে না, আলু কালু কেউই সব কিছুর উর্ধে উঠে সরকার বিরোধী সত্য কথন ছাপাবে না। এছাড়া আছে সরকার - বিরোধী দল- জলপাই বাহিনী --------...........।
বিরোধী কিছু ছাপা আর নিজের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহার করার মধ্যে পার্থক্য তো আছেই।
এরকম একটা পোষ্টের জন্য অপেক্ষা করছিলাম ।
এরকম জারজ রাই আমাদের দেশের কর্তা-ব্যাক্তি।
সালমানরা প্রতিবারই আওয়ামী লীগকে বিপদে ফেলে। এইটা আওয়ামী লীগ এখনো বুঝলো না।
একদিনে দুইটা পোস্ট প্রিয়তে নিলাম।
আর কিছু বলার নাই।
ধন্যবাদ মাসুম ভাই। আপনার এই সাহসী পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আমিও একটা লেখা প্রিপেয়ার কইরা বইসা ছিলাম। তাতে সাংবাদিকতার ম্যানিপ্যুলেটিভ হিস্ট্রির কথা ছিলো। তবে আমি সংবাদপত্রের বেইসিক সাংবাদিকতার এথিক্স নিয়াই প্রশ্ন করতে আগ্রহী। সেই প্যুলিৎজারের ইয়েলো জার্নালিজমের সময় থেইকাই সাংবাদিকতা আর তার পুরানা ঐতিহ্যে নাই। আপনি নিজে পর্যন্ত পত্রিকায় দিতে পারতেছেন না এই ইনফরমেশন গুলি, ভাবেন...
আপনের খ্যাতি আর গ্রহণযোগ্যতার জন্য মালিকপক্ষ হয়তো এই পোস্ট নিয়া কোনো প্রশ্ন তুলবো না, কিন্তু ভাবেন এইটা কোনো জুনিয়র সাংবাদিক করতেছে...তাইলে কি সে নিরাপদ থাকতো?
আপনার লেখাটা দিয়ে দেন। পড়ি।
বেশ সাহসী লেখা মাসুম ভাই।
এরকম সাহসী পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ মাসুম ভাই...
ধন্যবাদ
নভেম্বরের শেষের দিকে দেশের বাইরে যাচ্ছিলাম বেড়াতে, আমি মূর্খ মানুষ এতসব বুঝি না। খালি ভাই বন্ধু বাবা পরিচিত যারা যারা শেয়ার ব্যবসা করে তাদের বলেছিলাম সব ক্যাশ করে ফেলতে। কেউ শোনেনি। আমাদের সাধের লাউ মার্চেন্ট ব্যাংকগুলা একসাথে হয়ে কি খেলা খেলছে সেটা বললেন না বস?? কি হবে না হবে এখন আর ভাবি না।
তবে ঝামেলা আরো বাড়বে সেটা বলে রাখছি...আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ
একটা সময় বলা হতো বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী আসলে বাজার স্থিতিশীল হবে। ৯৬ তে ছিল না বলেই নাকি ঝামেলা হয়েছিল। আর এবার দেখা গেল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিংয়োগকারীরাই বড় প্লেয়ার। তারাও বাজার পতনের জন্য দায়ী। লোভ শেষ করে দিল বাজারটাকে।
লেখা পড়ে টাশকি খেয়ে গেলাম।
কত কিছুই না ঘটছে বাজার নিয়ে।
নাইমুল একবার জাপান গেছিল। সেটা সে প্রথম পাতাতে ছাপাইছে। এমন গাধা সাংবাদিক আর দেখি নাই
গ্রেট।
সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করে দিয়ে যেসব রক্তচোষা এখনো নোংরা খেলা খেলে যাচ্ছে তাদের স্বরূপ উন্মোচনের জন্য আপনাকে অনেক সাধুবাদ মাসুম ভাই।
এই লেখাটা সবার পড়া উচিত।
লেখাটারে কি স্টিকি করা যায়?
পড়ার জন্য ধইন্যা। কতো গেলো?
পোর্টফোলিও দেখিনা
এই বছর এইটা আর দেখবো না 
কলংকের বাজার -- শেয়ার বাজার।
কলংকের বাজার
কত অজানারে-------------------
অনেক ধন্যবাদ মাসু্ম।
লেখা কই?
তদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে আপনার মূল্যায়নটাও জানালে ভাল হত ।
~
আমি মনে করি শেয়ারবাজারে যা যা ঘটেছে তা সঠিক ভাবেই প্রতিবেদনে এসেছে। একই সাথে অত্যন্ত সাহসী প্রতিবেদন। কিন্তু সরকারের হজম শক্তি নিয়ে আমি নিশ্চিত নই।
রুই কাতলাদের কিছু হবেনা, হয়ও নি অতীতে।
কিন্তু হাজারো বিনিয়োগকারী যারা আইপিওর জন্য কোটি কোটি টাকা দিয়েছেন, যারা বাজারে
কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন- তাদের কী হবে ? কে তাদের টাকার
নিশ্চয়তা দেবে। দেশের অর্থনীতিরও বা কী হবে ?
এই ধরনের মাল অর্থমন্ত্রীরা আর কতদিন শান্তনার বানী শুনাবেন ?
কত নাম আর ডিলিট করবেন, মাননীয় টাক মন্ত্রী !
শতেক প্রশ্ন, জবাব দেবে কে ??
আপনাকে সাধুবাদ মাসুম ভাই।
শতেক প্রশ্ন, জবাব দেবে কে ??
ছিঃ ছিঃ ছিঃ অবাক হবার ক্ষমতা অনেক আগেই হারিয়েছি এখন অবাক না হবার ক্ষমতাটা হারাচ্ছি। এই সব চেং মাছ ছাড়াতো ভোটে কেউ দাঁড়ায় না। ওদের ভোট দিলেও ওরা ক্ষমতায় আসে না দিলেও আসে। আর রুই কাতলারারো সব সরকারের আমলেই একই আবস্থানে থেকে ওদের কেউ কিচ্ছু বলে না।
একমত
বিষয়টা নিয়ে এখনও ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করার সময় পাইনি।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আইনে যদি সুযোগ থাকেই, তাহলে তো ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগ নেবে।
এখানে দায়টা ব্যাবসায়ীদের বেশি নাকি সরকারের?
দায়টা সরকারের। সুর্নির্দিষ্ট করে এইসইসির। সব ধরণের অনৈতিক কাজকে আইনী আবরণ দিয়েছে এসইসি। এসইসিকে প্রভাবিত করে এসব করানো হয়েছে। যারা করিয়েছে তারা সরকারেরই কাছের মানুষ।
মাসুম ভাই বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো একটা রিপোর্ট দিছে যেইখানে বলা হইছে বাংলাদেশে দারিদ্রের হার কমছে, এই রিপোর্টটা কোথাও পাওয়া যাবে
যদি পাওয়া যায় তাহলে লিংক দিয়েন আর যদি আপনার কাছে থাকে তাহলে সেইটা কোনো ভাবে দিয়েন আমাকে
রিপোর্টটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হয়নি।
লেখাটি ৬০০ বার পঠিত! ব্লগের বাইরের পাঠককুলের ব্যপক আগ্রহ চোখে পড়ছে। এরা আসছে কোথা থেকে?
পোস্টটা মনে হয় স্টিকি করা উচিত।
হ! বেশ সাহসী লেখা মাসুমভাই...
এটা কালকে থেকে এতোজন এতো জায়গায় শেয়ার করছে যে পঠনের মাত্রা বেশি হওয়াই স্বাভাবিক।
থ্যাংকস, মীর ও জেবীন
বিডিনউজ নিয়ে সুক্ষ্ম ষড়যন্ত্র চলতেছে মনে হচ্ছে। তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সালমান এফ রহমান যখন এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট পদে দাড়ালেন, তার সেই স্বর্ণালী-সফেদ চুলের বিনুনী দেখে এত রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম, মুগ্ধতা এখনও আছে। আমার জানামতে তিনি শেয়ার-কেলেংকারীর সাথে জড়িত নন। তারপরেও সবার ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ তো রয়েছেই। বললেই তো আর সব সত্য হয়ে যায় না।
(
কৌশিক আহমেদ বলেনত সালমান সাহেব এখন কোথায় ? তিনি বিদেশে পারি জমিয়েছেন । সালমান সাহেব তার হাজার কোটি টাকা লোন ২ বছরে শোধ দিয়েছেন ।অনেক নতুন কমপানির মালিক হয়েছেন ? তিনি কিভাবে এত টাকা পেলেন ! কিন্তু তার শেয়ার হোল্ডার কি অবস্থা জানেন ? বিগত ১ বছরে কোন শেয়ারেরে দাম বারে নই । এমনকি যখন সুচক ৯০০০ ছিল তখনও ! শেয়ার মার্কেটে সবচেয় ঘ্বনিত নাম হোচ্ছে দরবেশ বাবা । যত অপকর্ম হয় তার নির্দেশে ! আজকে আপাতত এটুকুই থাক ।
এসবই প্রোপাগান্ডা। বেক্সিমকো এ-দেশে স্বাধীনতার পরে প্রাইভেট শিল্পায়ন-যুগের সূচনা করেছিলো। আমার মনে আছে একপাশে থাকতো আলাউদ্দিনের মিস্টি আরেকপাশে বেক্সিমকোর এ্যাড, বিচিত্রা-সন্দ্বীপে। খুবই মজাদার ছিলো দুটোই।
এসবই প্রোপাগান্ডা
জি সালমান ভক্তরা তাই বলেন । সালমান সাহেবের আবিস্কার একই জমির ভুয়া দলিল দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন , ইন্ডাস্ট্রির নামে লোন নিয়ে বিদেশে পাচার , ব্যাংক লোন ফেরত না দেওয়া , জমি না কিনে (সান সিটি ) হাওজিংর নামে জমি বিক্রি ( আমার জানা মতে কেউই জমি পান নি / টাকাও ফেরত পান নি ) ১/১১ সময় আর্মি অফিসাররা কিছু ফেরত পে্য়ে ছিল । এবোং তার ণতুন আবিস্কার পেলেসমেন্টের নামে শেয়ার বাজারের হাজার কোটি টাকার দুর্নিতি ।
কোনো প্রমাণ নাই। যিনি প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরী করেন তিনি পূজনীয়। সব কিছু আইন দিয়ে দেখলে হবে না। বসুন্ধরাকে কি বলবেন? অর্থনীতির চাকা এরাই সচল রাখেন।
যিনি প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরী করেন তিনি পূজনীয়। সব কিছু আইন দিয়ে দেখলে হবে না।
মানতে পারলাম না কৌশিক। বলা যায় আপনার কথার সাথে চরম বিরোধীতা করলাম। দুর্জন বিদ্যান হলেও পরিত্যাজ্য। এই পোড়া দেশে অনিয়ম আর চুরিই নিয়ম হয়েছে দেখে আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আর পাইনি।
লোনের টাকা ফেরত না দিয়ে বড়লোক হওয়া সালমান এফ রহমান দুইনম্বরি শেয়ার ব্যবসা করে এখন নানান কোম্পানী কিনতেছেন, খেলাপীর পাপ থেকে মুক্ত হইতেছেন কিন্তু তারে নিয়া একটা ভালো লাইন লিখতে তো আমার কলম ভেঙে যাবে, কৌশিক কি মজাক করতেছেন না সত্যিই যা বলতেছেন তা বিশ্বাস করেন?
এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সীমাবদ্ধতা আছে।
আমার একটা প্রশ্ন আছে কেউ ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নেবেন না প্লীজ, মনে করে নেবেন খুব সাধারণ একজন মানুষের বিস্ময়ের জিজ্ঞাসা : দরবেশের একমাত্র সন্তান না কি অপঘাতে শেষ, সে এত টাকা দিয়ে কি করবে?
আপনাদের হজ্ব যাত্রীদের টাকা মারা মন্ত্রীর কথা মনে পড়ে?? - তার পুরো পরিবার সেই সৌদী আরবেই শেষ হয়েছে সড়ক দুঘর্টনায়, কি করবে ঐ টাকা দিয়ে?
এসইসি র একজন প্রাক্তন কর্মকর্তার নাম আসছে দ্বিতীয় প্রধান কুশীলব হিসেবে - আহা তার ছোট ছেলেটা কিভাবে গেছে দুনিয়া ছেড়ে আপনারা কেউ জানেন? আমি জানি।
আমার দিন শেষে একটাই প্রশ্ন এত টাকা দিয়ে কি হবে?
বিস্ময় জাগে...
আমাদের মতো মানুষের টাকা নাই অশান্তিও নাই।
মজাই মজা।
জোর করে বিয়ে দেবার চেস্টা করায় সালমান সাহেবের মেয়ে লন্ডনে প্রেমিক সহ আত্বহত্যা করেছিল ।সালমান সাহেবের পাওয়ারের কারনে কোন দৈনিকে ছেলেটির নাম আসে নি । প্রতি বছর একই দিনে দু জনের মিলাদ ্হয় পত্রিকাতে বিগ্গাপন দিয়ে । আমি কারো ব্যক্তিগত বিষয় আগ্রহি নই । কিন্তু যখন দেখি কেউ ভুল ধারনা ণিয়ে চলছে তখন খারাপ লাগে । সালমান ণিয়ে আমার পোস্ট এখানেই ইতি ।
সরকার যখন শেয়ার কেলেংকারির তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে আপত্তি তুলেছেন তখন এর গোপনীয়তাতেই আমাদের মঙ্গল। প্রতিবাদ হোক বাউলাদের চুলকর্তন নিয়ে। শেয়ার-কেলেংকারির সাথে অর্থ জড়িত, আর বাউলাদের সাথে আমাদের সংস্কৃতি। বাঙালিমাত্রই অর্থকে অনর্থ মনে করার সংস্কৃতি রয়েছে। তদুপরি তদন্তের ফলাফলে কি হবে? যে টাকা উড়ে গেছে সেটা তো ফিরে আসবে না। বরঞ্চ একটু চেষ্টা করলে বাউলাদের দাড়িমোচ আবার গজিয়ে ফেলা যাবে।
এমন অদ্ভুত কথা আমি জীবনে খুব কম শুনছি
এমন গুরুত্বপূর্ণ সত্য কথা আমিও জীবনে কম বলেছি। নিশ্চয়ই আপনাদের ভুল একদিন ভাঙবে। সালমান এফ রহমান আপনাদের সে ভুল ভাঙিয়ে দেবে।
কৌশিকরে গুলি করুম। ফাজলামো শুরু করছে এইখানে।

আপনার পোস্ট পড়ে এমনিতেই হাঁটু কাঁপছে, এর উপরে আবার গুলির হুমকি! সরকার ফাজলামো করলে কোনো দোষ নাই, আমরা করলেই দোষ! এ জীপন রাখপো না আমি।
এই মন্তব্য লাইক!
অথৈ সাগর : আপনি এত সিরিয়াস কেন?? কৌশিক ভাইয়ের রম্য ধরতে পারছেন না??
আমরা এক একজন এক একভাবে দুঃখ প্রকাশ করি জানেন তো!
কৌশিক দা তো ফাডায়ালাইছে.. কৌশিক রকস
কৌশিকের পাকনামিতে ধরা পড়ে বুকা হৈলাম
ধরণী দ্বিধা হও 
এতোক্ষনে বুঝছি দরবেশ বাবারা কেন বার বার লোকজনের সব কিছু লুটেপুটে নিয়ে যায়।

এই পোস্ট স্টিকি করা হোক!!!
নাইমুল আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব। কি শেভিং লোশন ইউজ করে, কি ডিওডোরেন্ট ইউজ করে, তার মেয়ে এ্যমেরিকার কোন হাসপাতালে হয় সেসব সবার সাথে শেয়ার করে। বড়োই অমায়িক ছাগু
মন্তব্য করুন