ইউজার লগইন

পাখি উড়ে উড়ে উড়ে যায় কোথায়

কংক্রীটের পোড়ামুখো জীবন চলছে নিজের গতিতে। আমি পাশ ফিরে শুই, খাট ককিয়ে ওঠে। আমার চোখে ঘুম ছিলো না। শরীরে ক্লান্তি ছিলো। সেটা মনের ওপরেও প্রভাব খাটাচ্ছিলো, অনেকক্ষণ ধরে। বড় নিরাশা করে পাশ ফিরেছিলাম কি না কে জানে। চাপা একটা নিঃশ্বাসকে দেখলাম সন্তপর্ণে দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে বের হয়ে যেতে।

একটা মহল্লার কুকুর অযথাই অনেকক্ষণ ধরে নিস্তব্ধতা চিড়ে ঘেউ ঘেউ করে যাচ্ছে। এই শহর সারাদিনে আমার নাক দিয়ে, মুখ দিয়ে বিষ ঢুকিয়েছে শরীরের ভেতর। আমার শ্বাসনালী জ্বলে যায়, ও তাও আমার ভেতর বিষ ঢালতেই থাকে। আহারে জীবন, তুমি বড় অদ্ভুত।

মাসখানেকের একটু বেশি হবে। একদিন বেলা করে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছি, একটা ফোন আসলো। ঘুমজড়িত কন্ঠে ধরলাম, সেটা অন্যপাশে বুঝতে পারলো। মনে হয় কিছুটা অবাকও হয়েছিলো বুঝতে পেরে। এটা মনে হওয়ায় আমিও অবাক হয়েছিলাম। সেই ফোনটা আসার পর থেকে একটা জেনারেটর চালু হয়ে আছে। সেটার গম্ভীর গুঞ্জনের শব্দ মাথায় পাকাপাকি স্থানও করে নিয়েছে। আমার চিৎকার দিতে ইচ্ছে হয়, কেউ কি যন্ত্রটা বন্ধ করবে একটু কষ্ট করে? এতটা কি কারো জন্য কারো পক্ষে করা সম্ভব?

আমার শ্বাসনালীতে খুঁড়ে দেখতে ইচ্ছে করে; সেখানে কোনো মৃতআত্মার বসবাস আছে কি না। দেখতে ইচ্ছে হয় কেউ অবিরাম সেখান থেকে উল্টো খুঁড়ছে কি না। আমার অতৃপ্ত আমি অনুভব করি নাকের পাটায় তিরতিরে টান; যেন একটা আকাশে ফোঁটা শাপলা ফুল, আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে যায় নিরন্তর। আমি এগিয়ে যেতে চাই, একটি দীঘির দিকে। যে দীঘির কাকচক্ষু জল। যেখানে জলের সঙ্গে ঠাসবুননে সেলাই দেয়া শাপলাপাতার পাশে সবসময় দুই-তিনটা তারা জ্বলে ঝিক-মিক করে।

গভীর রাত নিয়ে আসে তার অবিশ্বাসের পুরোনো ডালিটা। সেখান থেকে একটা ডেথ-ইটার বের হয়ে এসে চারিদিক শীতল করে দেয়া শুরু করে। আমার পায়ের আঙ্গুলগুলোয় হাত দিয়ে আমি মৃত্যূর বরফাচ্ছন্ন ঠান্ডা টের পাই।

নিজেকে নরকের কোনো গভীর খাদে আবিস্কার করি। যেখান থেকে আমি নিজে আমাকে কখনো আবারো খুঁজে বের করতে পারবো, সে আশা রাখি না। অর্ফিয়ুসকে তাই আমার অনেক সৌভাগ্যবান মনে হয়, যে নরক থেকে তার প্রেয়সীকে খুঁজে বের করেছিল। আমার জন্য তো লানকিয়া সুপারক্লাস্টারের কোনো গ্যালাক্সির কোনো সৌরমণ্ডলের কোনো গ্রহেই কোনো সৌভাগ্য বরাদ্দ করে রাখে নি জীবন।

---

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জুলিয়ান সিদ্দিকী's picture


শেষে দিয়া ন্যাজটা রাইখ্যাই তো ভ্যাজাল কর্লেন! খুঁতখুঁতি রইয়া গ্যালো।

তানবীরা's picture


ডিসক্লেমার না জানলেও লেখা ভালো হয়েছে। লেখকের অস্থির চিত্ত শান্ত হোক, এই কামনা

উলটচন্ডাল's picture


অর্ফিয়ুস সাহসী পুরুষ, সন্দেহ নাই, কিন্তু ভাগ্য কিন্তু তাকেও সহায়তা করে নি। শেষ পর্যন্ত চোখের দেখাতেই শেষ হয় মিলন।

বছরের শুরুতেই এত মন খ্রাপ করা লেখা দিলেন! আশা করি শীঘ্রই কেটে যাবে মেঘ।

নীড় সন্ধানী's picture


এই অস্থিরতার অপর নামই কি..............ট্যাগ?

লিজা's picture


Laughing out loud Laughing out loud

মুকুল's picture


এত বিষাদের সুর কেন?

সাঈদ's picture


ট্যাগের কারনেই মন অস্থির, বুঝছি Cool

জ্যোতি's picture


বিষাদ কেটে যাক---- এই প্রার্থনা করি।

লীনা দিলরুবা's picture


সৃষ্টিশীল মানুষ মাত্রেই বিষাদগ্রস্থ এইটা মানলে বিষাদ হয়তো ঠিক আছে কিন্তু সবার মতো আমারও প্রত্যাশা বিষাদ কেটে যাক।

১০

হাসান রায়হান's picture


বিষাদে হরিষ হোক।

১১

রাসেল আশরাফ's picture


ধুর ব্যাটা কি লিখছো এইসব??

মাঝে মধ্যে মাথার সাত হাত উপর দিয়ে যায়।এটাও গেছে।তয় এতটুকু বুঝছি মন খারাপ।আরে ব্যাপার না।সময় গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। Smile Smile

১২

জ্যোতি's picture


হ। এমুন দিন রাসেলেরও আছিলো। সময় হইয়া ঠিক হয়ে গেছে। তাই না?

১৩

রাসেল আশরাফ's picture


ঠিক হয়ছে কিনা জানি না।তয় অনেকটা মানায় নিছি।

১৪

জ্যোতি's picture


জীবন মানেই হয়তো মেনে নেয়া। সব মনে নিতে না পারলেও আমাদের মেনে নিতে হয়।স্থিরতা হয়তো তাতেই আসে।

১৫

নুশেরা's picture


বহুদিন আগেই জানিয়ে গেছেন তিনি-
তাহার বক্ষে বেদনা অপার...

১৬

নাজমুল হুদা's picture


প্রায় সব সময়ই নানান কারনে মনটা খারাপ থাকে, ব্লগের বন্ধুদের হাসি-তামাশায় কিছুটা হালকা করে নিই মনটাকে । এই পোস্ট পড়ে মন বিষাদে ভরে উঠলো । মীরের মন দ্রুত আনন্দে ভরে উঠুক এই কামনা করি ।
মন খারাপ হলেও লেখা ভাল হয়েছে, তা স্বীকার না করলে মীরের প্রতি অবিচার করা হবে ।

১৭

লিজা's picture


আপনার মন খারাপ তো গদ্যের সৌন্দর্যেই ভালো হয়ে যাবার কথা ।
মন খারাপ বা দুঃখ টুক্ষ কে পাত্তা দিয়েননা । এরা মাথায় চেপে বসে ।আপনার লেখাকে Star Star Star

তোমারে কেয়ার করে কে বেটা দুঃখ Crazy Crazy !!

১৮

রুমিয়া's picture


গোপন ব্যথার নীরব রাত্রি হোক আজি অবসান.....

১৯

বকলম's picture


মীর ভাই, এই লেখাটা বার বার পড়ছি, কিন্তু কি কমেন্ট করব বুঝছি না। এমন কষ্টের সান্তনা হয় না।
লেখা যথারীতি অনবদ্য। এই লাইনটার কোনো তুলনা হয়না।

চাপা একটা নিশ্বাসকে দেখলাম সন্তপর্ণে দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে বের হয়ে যেতে।

২০

নাজ's picture


বিষাদ কেটে যাক, এই প্রার্থনাই করি। Sad

২১

মাইনুল এইচ সিরাজী's picture


দু:খ কুড়ানোর বিলাসিতা কেটে যাক।
"কে হায় হৃদয় খুড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!"

২২

ঈশান মাহমুদ's picture


কষ্ট বিলাস।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম, আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। এটি একটি মৌলিক ব্লগ। দিনলিপি, ছোটগল্প, বড়গল্প, কবিতা, আত্মোপলব্ধিমূলক লেখা এবং আরও কয়েক ধরনের লেখা এখানে পাওয়া সম্ভব। এই ব্লগের সব লেখা আমার নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত, এবং সূত্র উল্লেখ ছাড়া এই ব্লগের কোথাও অন্য কারো লেখা ব্যবহার করা হয় নি। আপনাকে এখানে আগ্রহী হতে দেখে ভাল লাগলো। যেকোন প্রশ্নের ক্ষেত্রে ই-মেইল করতে পারেন: bd.mir13@gmail.com.

ও, আরেকটি কথা। আপনার যদি লেখাটি শেয়ার করতে ইচ্ছে করে কিংবা অংশবিশেষ, কোনো অসুবিধা নেই। শুধুমাত্র সূত্র হিসেবে আমার নাম, এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের লিংকটি ব্যবহার করুন। অন্য কোনো উপায়ে আমার লেখার অংশবিশেষ কিংবা পুরোটা কোথায় শেয়ার কিংবা ব্যবহার করা হলে, তা
চুরি হিসেবে দেখা হবে। যা কপিরাইট আইনে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যদিও যারা অন্যের লেখার অংশবিশেষ বা পুরোটা নিজের বলে ফেসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমে চালিয়ে অভ্যস্ত, তাদের কাছে এই কথাগুলো হাস্যকর লাগতে পারে। তারপরও তাদেরকে বলছি, সময় ও সুযোগ হলে অবশ্যই আপনাদেরকে এই অপরাধের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। ততোদিন পর্যন্ত খান চুরি করে, যেহেতু পারবেন না নিজে মাথা খাটিয়ে কিছু বের করতে।

ধন্যবাদ। আপনার সময় আনন্দময় হোক।