মানবজনমের অভিশাপ
কোন এক সময় লিখবো ভেবে অন্তত এক যুগেরও আগে এককালে শুরু করেছিলাম অচল পয়সার জবানবন্দি। দৈনিক পত্রিকা পাঠের মতো একটা বিষয়। প্রতিদিন এক পাতা লিখতাম। এপিঠ-ওপিঠ। রাস্তার বর্ণণা দিতাম শুধু। আর আশপাশে কি দেখা যায়। শিশুকাল থেকে রাস্তার প্রতি আমার আকর্ষণ ছিল মনে হয়। অনেক শিশুকালে আমি ট্রাভেল করতাম। চ্রট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে বগুড়া। ট্রেন, বাস আর ফেরি সহযোগে।
সেই বিষয়টা যে একসময় জীবনের কোন এক কালের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে, তা কিন্তু আগে থেকে পরিস্কার ছিল না। এমন পরিস্কার থাকে না আগে থেকে অনেক কিছুই। তারপরেও আমাদেরকে জীবন চলার পথে হেঁটে পাড়ি দিতে হয় দুর্গম, বন্ধুর পথ। সেই পথগুলো নির্ধারিত হয় আমাদের চাওয়ার পরিধির ওপর, চিন্তার দুরত্বর ওপর ভিত্তি করে। কল্পনায় যে শিশুটি যত বেশি দুর পর্যন্ত দেখতে পারে, তার চলার পথও তত লম্বা হয়। হতে পারে কি না জানি না। তবে যোগসাজশ বা প্যাটার্ণ খুঁজে বের করা আমার একটা প্রিয় টাইমপাস, যেটার জন্য মস্তিষ্ককে প্রচুর অকাজে খাটাতে হয় এবং জীবনের বিভিন্ন ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করে, পুরোনো টেপ রিপ্লে করার মতো অনেকটা, বিষয়টা ঘটে। যেটা ক্রমাগত ঘটতে ঘটতে এখন মস্তিষ্ক কাজটায় প্রো হয়ে গিয়েছে। তাই মুহূর্তের মধ্যে চোখে ধরা পড়তে চায় প্যাটার্ণ। যেহেতু গণকযন্ত্র গণনা প্রস্তুত করেই রেখেছে। কিন্তু আসলে কি তার অনুমান সত্য?
কেউ জানে না আসলে তার অনুমান সত্য কিনা। আমি তো ভেবেছি এভাবেই জীবনটা নির্বিবাদে কাটিয়ে দেবো এই পাড়াটায়। এখানে নৈ:শব্দ রয়েছে। রয়েছে গণকযন্ত্র। রয়েছে চোখ। রয়েছে পাঠ। ঘুণে ধরা অলস দুপুরে যখন পশ্চিম জানালার শার্সির ভেতর দিয়ে সূর্যের আলো ঠিকরে পরে তখন এ পাড়ার জড় বাসিন্দাদের অনেক আনন্দ হয়। পাড়ার প্রতিটি দালান আর পথের ইটগুলো তা জানে। সে সময় কান পাতলে শোনা যায় দুর থেকে ভেসে আসা পাতার মর্মর শব্দ।
মৃত্যুর সময় প্রফেসর সেভেরাস স্নেইপ এক ফোঁটা চোখের পানি হ্যারি পটারকে দিয়েছিল তার পুরো জীবনের রিপ্লে একবার দেখার জন্য। যাতে হ্যারি জানতে পারে স্নেইপ কিভাবে তাকে পুরো সময়টা জুড়ে রক্ষা ও সাহায্য করছিল। সেরকম এক ফোঁটা চোখের পানিতে পুরো জীবনের স্মৃতিকথা ভরে দেয়ার মতো প্রযুক্তি করে আবিস্কার হবে আমাদের?
সেটা আসলে কেউ আবিস্কার করছে না। তাই সেটা কবে আবিস্কার হবে বলা যাচ্ছে না। আদৌ হবে কিনা তাও বলা যাচ্ছে না। এ কারণেই এখনকার এই সময়ে ধীরে ধীরে অপ্রসঙ্গই প্রসঙ্গে রূপান্তরিত হয়। অপ্রাসঙ্গিক একটা জীবন তার অন্তের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। যত জড়াতে থাকে জীবনআঠায়, তত জটিল হতে থাকে তার কাহিনী।
নতুন যুগে আবার চারদিকে সে আঠার ছড়াছড়ি। মানুষের আজকাল অন্তের দিকে শান্তিমতো এগিয়ে যাওয়ার পথও আর খুব বেশি সহজ নেই। এ বড় দুঃখের কাল এসেছে মানুষের জীবনে এক। করোনা মহামারীর চেয়ে ভয়ংকর সন্দেহ নেই কিন্তু অদৃশ্য। অনেকটা সময় নিয়ে ক্ষতিটা ঘটাবে যা আমরা খোলা চোখে দেখতে পারবো না। কিন্তু অনুভব করতে পারবো খুব সহজে। আমাদের সবার কপালে মানবজনমের অভিশাপ লেগে রয়েছে যে।
---





মন্তব্য করুন