ইউজার লগইন

কোনোকিছুর কি সূচনা হবে? কোথাও থেকে..

একরামুল হত্যাকাণ্ডের অডিও টেপটি নিয়ে মানুষের উপলব্ধি এবং তার স্বতঃস্ফূর্ত বিস্ফোরণ দেখে মনে হয়েছে আমরা আসলে হেরে যাওয়ার জাত নই। সবসময়ই আমরা একটু পিছিয়ে শুরু করে আসছি। এমনকি বিংশ শতকের শুরুতে যখন প্রতিবেশি ভারত নিজেদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিল, তখন আমরা ছাগলের তৃতীয় সন্তানের মতো লাফিয়েছি নিজেদের কথা না ভেবে। নিজেদের নিয়ে চিন্তিত হতে হতে- প্রায় শতাব্দীর দ্বিতীয় অর্ধের মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। তারপরও একসময় চিন্তিত হতে পেরেছিলাম বলে স্বাধীনতাটুকু অর্জিত হয়েছিল। সমুদ্রসম রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা দিয়ে কি করা যেতে পারে সেটা ভেবে বের করতে করতে ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধশতাব্দী বিগত হতে চলেছে। এমন সময়েও আমরা বারংবার একই ভুল করি, বৃত্তবন্দী বিস্ফোরণেরা আলোড়ন তোলে, কিন্তু তারপর একসময় ঠিকই সবকিছু ভুলে যাই।

এত কিছুর পরও আমি আশাবাদী যে একদিন বাংলাদেশের অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। আমাদের ভুলোমন যেহেতু প্রত্যেকবার প্রতিবাদ করতে ভোলে না, সুতরাং বিশ্বব্রহ্মান্ডের এই প্রতিবাদী মননের প্রেমে পড়তেই হবে। আজ হোক কাল। সেজন্যই তো গুণীজনের বার বার হেরে যাওয়ার পরও যে চেষ্টা করতে বলে, যেমনঃ "Magic Happens when you do not give up, even though you want to. The universe always falls in love with a stubborn heart."

আমি আশাবাদী। তবে অডিও শোনার সাহস করতে পারি নি। ক্ষমা চাই সেজন্য। সাহস করতে পারি নি নিজের তুচ্ছ জীবনের মায়া ত্যাগ করে অন্যায়ের প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে পথে নামতে। ক্ষমা চাই সেজন্যও। একদিন অবশ্য পথই হবে আমার ঠিকানা, জয় হবে লক্ষ্য, আর উন্নতি হবে ফলাফল। সেদিনের জন্য আজকের ব্যর্থতা আর কষ্টটুকু তুলে রেখেছি। আমি না পারলেও যে পারবে, সে যেন ভুলে না যায়- আজকের সময়টাতে কতোটা কষ্ট সবাইকে একসাথে ভোগ করতে হয়েছে।

লেখাটা শুরু করতে চেয়েছিলাম কিভাবে আর শুরু হয়ে গেলো কিভাবে! আসলে মনের মধ্যে কোনকিছুর ছায়া পড়ে থাকলে হাজার চেষ্টাতেও সেটা গোপন করা যায় না। আমি নিজেকে জাতীয় ইস্যুগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে চেষ্টা করি কেননা, দূর থেকে সহমর্মিতা জানিয়ে দায়িত্ব শেষ করাটা আমার ইচ্ছা না। তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভেতরের ক্ষোভ বের হয়ে আসে অজান্তে।

যদি বলি কোথাও উন্নতি ঘটছে না- তাহলেও কিন্তু কথাটা ঠিক হবে না। দৃশ্যত আমাদের দেশটা চলছে পুরোনো ভাল কাজগুলোর বদান্যতায়। নতুন ভাল কাজ কমই হচ্ছে। যা হচ্ছে তাও দীর্ঘমেয়াদি না। আমরা শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথা ভাবছি না। সেই গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থা, ধর্মীয় অনুশাসন, পুরোনো হয়ে যাওয়া সংস্কৃতি- এসবই আমাদের আকঁড়ে রাখা সম্বল। উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দিতে পারতে চাইলে প্রাচীন সংস্কারভিত্তিক প্রথাসমূহের আশু পরিবর্তন জরুরি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যম্ভাবীও। অর্থাৎ চাইলেও পরিবর্তনকে রুখে দেয়া যাবে না। যেমন ধর্মে যতোই বলা থাকুক পরনারীর প্রতি চোখ তুলে তাকানো যাবে না, আমরা কেউই নিজেকে সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা আরেকটু পিছিয়ে গেলে বলা যায় রেডিও-টেলিভিশনের আগ্রাসন থেকে মুক্ত রাখতে পারি নি। যুক্তি খাটিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া, টিভি-রেডিও ইত্যাদিকে বাতিল করে দেয়া সম্ভব ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। বাস্তবে সম্ভব না। এইসব ছোট-বড় ভন্ডামী আমাদেরকে গোঁড়া থেকেই উপড়ে ফেলতে হবে।

বলছিলাম পরিবর্তন যেগুলো ঠেকানো সম্ভব না সেগুলোর কথা। তবে পরিবর্তন ঠেকানোর চেষ্টাটা উপকারী হবে না, কেননা তখন আমরা পরিবর্তনের খাদ্য হয়ে উঠবো খাদকের বদলে। সেই উন্নয়ন আমাদের জন্য ভাল হবে না বলতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন কি আছে? আমাদেরকে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনা এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল ব্যবহার করে সবগুলো সমস্যার একটি একক সমাধান বের করতে হবে। যেটা পুরোনো মস্তিষ্ক থেকে বের হলেও হবে না। মস্তিষ্কের বয়স পুরোনো হলেই যে সেটা পুরোনো হয়ে যায় এমন না। মস্তিষ্ক পুরোনো হয়ে যায় যখন মানুষ শেখা বন্ধ করে দেয়। যখন ভাবতে শুরু করে তার আর নতুন করে শেখার কিছু নেই। এমন একদল মানুষকে পরিকল্পনায় জড়িত থাকতে হবে যাদের শেখার ইচ্ছেয় কোনো ঘাটতি নেই। অন্তত এখনও।

ভাবের কথায় যাদের কাজ হয় না কিংবা বোঝার মতো মাথা খাটতে ইচ্ছে করে না- তাদের জন্য কিছু সহজ কথা দিয়ে লেখাটা শেষ করি। আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। দুর্ঘটনা, সাজানো মামলা, ক্ষমতাধরদের নির্যাতন, সরকারী চেলাচামুন্ডাদের ফাটকাবাজি, অপরাধীদের দৌরাত্ম্য- সব মিলিয়ে মানুষের জীবন বিষাক্ত হয়ে আছে আজ অনেকদিন। দেশে রেমিট্যান্স যায় বিদেশ থেকে ঠিকই কিন্তু সেই প্রবাসী যারা টাকা পাঠান- তারাও দেশে ফিরতে চান না মোটাদাগে। কেননা দেশের বাইরে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা আছে। ছোট একটা কাজে ঘরের বাইরে গিয়ে মরে ভুত হয়ে থাকা লাগবে না- এমন কথায় বিশ্বাস করার জো আছে। যখন এইটুকু আত্মবিশ্বাস মানুষের মনে বপন করে দেয়া যায়- তখন মানুষকে দিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর কাজ করিয়ে নেয়া যায়। সেসব কাজের ফলাফল দেখে ধাঁধাঁনো চোখে মুগ্ধতা মেখে ঘুরে বেড়িয়ে অবাক হওয়া যায়। সেটাই আমরা হই দেশের বাইরে বেড়াতে এসে। অথচ সবকিছুই আমাদের দেশেও করা যেতো। যদি মানুষকে জাগিয়ে তোলা যেতো। যদি তাদেরকে বোঝানো যেতো যে তুমিও যেমন অন্য বাকি সবাইও তেমন। অন্যকে সম্মান করা মানে নিজেকে সম্মান করা, অন্যকে ভালবাসা মানে নিজেকে ভালবাসা, অন্যকে সাহায্য করা মানে নিজেকে সাহায্য করা। আহা, যদি একবার আমার দেশের মানুষের মনে মনে কথাটা খোদাই করে দেয়া যেতো!

মুহাম্মদ জাফর ইকবালের টুকি এবং ঝায়ের প্রায় দুঃসাহসিক অভিযান বইয়ে একবার এমন একটি অবস্থার কথা বলা হয়েছিল। টুকি আর ঝা একটা গ্রহ থেকে মুক্ত হয়ে আসার পর সেই গ্রহবাসীর সবার মানসিকতা পাল্টে গিয়েছিল কেননা তারা নিজেদের মস্তিষ্কের গঠন পাল্টে নিয়েছিল। টুকি ও ঝায়ের মস্তিষ্কের সাথে। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে। আমাদেরও হয়তো তেমন কোনো উন্নত প্রযুক্তির উদ্ভাবনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তারপর দেশের আঠেরো কোটি মানুষের মাথায় অস্ত্রোপাচার করে তাদেরকে পঞ্চাশ বছর পেছন থেকে বর্তমান সময়ে নিয়ে আসতে হবে। আমার সত্যি সত্যিই মনে হয় আমরা নূন্যতম পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে আছি পৃথিবীর বর্তমান সময় থেকে। তবে আক্ষরিক অর্থে নয়- উন্নতি, মানসিকতা, শিক্ষা, আচার-ব্যবহার-কথাবার্তা সবকিছুর এক সরলীকৃত বিচারে।

অথবা একটি মষ্কিষ্ক প্রক্ষালক যন্ত্র বানিয়ে সবাই যদি হীরক রাজাদের অনুসারী হয়ে যেতাম- তাহলেও বর্তমানে যে অবস্থা তার চেয়ে ভাল থাকতাম। যদিও সে জীবন কেন্নোর, তারপরও এখন যে জীবন আমাদের, তার চেয়ে উৎকৃষ্ট। এতোটা অসুস্থ আমরা সবাই মিলে কখন হয়ে পড়লাম?

আমাদেরকে কেউ পথ দেখাতে পারবে বলে যদিও মনে হচ্ছে না, তারপরও আশা ধরে রেখেছি। আর কিছু তো করার নেই। প্রয়োজনে লড়াইয়ে যোগ দিতে রাজি আছি। লড়াইয়ের অগ্রভাগে থাকতেও আপত্তি নেই। অন্তত আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হবে না মহাশূন্যে। এ কারণেই আজকের এই লেখার অবতারণা। জানতে চাই আমি, আমার মনে একট প্রশ্ন গত কিছুদিন সময় নিয়ে দানা বেঁধেছে- কোনোকিছুর কি সূচনা হবে? কোথাও থেকে..

---

পোস্টটি ৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

রন's picture


বর্তমানে আমাদের সব কিছুই ফেসবুক কেন্দ্রিক, প্রতিবাদ টাও ওইখানেই সীমাবদ্ধ! এই সীমাবদ্ধ জাতিকে দিয়ে খুব একটা কিছু হবেনা!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম, আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। এটি একটি মৌলিক ব্লগ। দিনলিপি, ছোটগল্প, বড়গল্প, কবিতা, আত্মোপলব্ধিমূলক লেখা এবং আরও কয়েক ধরনের লেখা এখানে পাওয়া সম্ভব। এই ব্লগের সব লেখা আমার নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত, এবং সূত্র উল্লেখ ছাড়া এই ব্লগের কোথাও অন্য কারো লেখা ব্যবহার করা হয় নি। আপনাকে এখানে আগ্রহী হতে দেখে ভাল লাগলো। যেকোন প্রশ্নের ক্ষেত্রে ই-মেইল করতে পারেন: bd.mir13@gmail.com.
ও, আরেকটি কথা। আপনার যদি লেখাটি শেয়ার করতে ইচ্ছে করে কিংবা অংশবিশেষ, কোনো অসুবিধা নেই। শুধুমাত্র সূত্র হিসেবে আমার নাম, এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের লিংকটি ব্যবহার করুন। অন্য কোনো উপায়ে আমার লেখার অংশবিশেষ কিংবা পুরোটা কোথায় শেয়ার কিংবা ব্যবহার করা হলে, তা প্ল্যাজিয়ারিজম হিসেবে দেখা হবে। যা কপিরাইট আইনে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
ধন্যবাদ। আপনার সময় আনন্দময় হোক।