ইউজার লগইন

এবার সুস্থ হয়ে উঠুক বাংলাদেশ

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে অবশেষে একটা বড় আওয়াজ উঠেছে রাজধানীতে। ধীরে ধীরে সেটা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও। আওয়াজটা উঠেছে স্কুল-কলেজগামী কিশোর-কিশোরীদের মাঝ থেকে। ছড়িয়ে পড়ছে সচেতন প্রাপ্তঃবয়স্কদের ভেতরেও। মোটাদাগে এটা একটা ভাল ব্যপার ঘটছে বলা যায়। সচেতনতা সবসময়ই জরুরি। তবে পাশাপাশি কিছু বিষয়ভিত্তিক পয়েন্ট আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবার চিন্তায় থাকাও জরুরি। কি সেই পয়েন্টগুলো? আসুন দেখে নিই ঝটপট, তাড়াতাড়ি।

২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর অনেকাংশে পূরণ হয়েছিল। ফাঁসি হয়েছিল যার আঙুল দেখানোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে সেই গণজাগরণ। এবার আমরা তার চেয়েও ভাল ফলাফল দেখতে চাই। গণজাগরণ মঞ্চ দিয়ে যেসব সংকটের আগল খোলা যায় নি, সেসব সংকটকে আলোকবর্তিকার নিচে নিয়ে আসতে চাই ।

প্রথমত, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করা জরুরি। তবে সেটা করা কি কোনো সহজ কাজ? শিক্ষার্থীরা যারা আজ ড্রাইভিং লাইসেন্স, রুট পারমিট, ফিটনেস্ ইত্যাদি পরীক্ষার কাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে করছে, তারা কয়দিন এ কাজ করবে? তাদেরও তো জীবন আছে, তাই না?

আজ যেসব যান যথাযথ কাগজের অভাবে আটকে যাচ্ছে, সেগুলো আসলে কয়দিন অচল থাকবে? দুই সপ্তাহ পর সব যে আবার আগের মতো হয়ে যাবে না, সেই নিশ্চয়তা কে দেবে?

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাংলাদেশের শরীরে পচা একটা ঘা-এর মতো হয়ে দগদগ করছে। তাদেরকে যখন যে সরকার আসে, সে সরকার ব্যবহার তো করেই। উপরন্তু তারা নিজেরাও নিজেদের জন্য কোনোরূপ সম্মান ধারণ করে না, তাই রাস্তাঘাটে ছ্যাচড়া দুর্নীতি থেকে নিয়ে উপরমহলেও যা খুশি তাই করে বেড়ায় জনসম্মুখে, যেন কিছুতেই তাদের লজ্জা নাই। আচ্ছা লজ্জা না হয় নাই, কিন্তু তাদের বিচারের একটা ব্যবস্থা তো থাকতে হবে। নির্লজ্জ চুখাপু সারা পৃথিবীতেই আছে, তাদের দমিয়ে রাখার উপায়ও আছে। আমাদের দেশে নির্লজ্জ চুখাপুদের দমিয়ে রাখার কোনো উপায় নেই। এই সমস্যা নিয়ে কে ভাবছে?

লোভী পরিবহন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে লাগাম পড়াতে তাদের চিহ্নিত করার কাজটি কোন এক পক্ষকে নিতে হবে। তালিকা করে তাদের ব্যবসা করার অধিকার রোধ এবং আইনের আওতায় আনার জন্য চাপ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

চাপ কাকে দেয়া হবে? সরকারকে? প্রধানমন্ত্রীকে? কাকে?

আমার মনে হয় না প্রধানমন্ত্রীর এখানে মূল লক্ষ্য-ব্যক্তি হওয়ার সুযোগ আছে। অবশ্যই তার মন্ত্রীসভার অনেক সদস্য সক্রিয়ভাবে উল্লিখিত সব অপকর্মের সাথে জড়িয়ে আছে। তবে সেই সব সদস্যরা কি জনমানুষের নির্বাচিত নেতা নয়? যতো প্রহসনের নির্বাচনই হয়ে থাকুক না কেন, তারপরে তো মানুষে সেই নেতৃত্ব মেনে নিয়ে একটা সময় পার হয়ে এসেছে। আমরা যদি ফলাফল দিয়ে কার্যকারণ ব্যাখ্যা করি, তাহলে বর্তমান মন্ত্রীসভা এবং সাংসদদের দলই আমাদের নেতা। ভাল লাগুক বা খারাপ- এটাই বাস্তবতা। পুরো সিস্টেম যে করাপটেড- এটা আমরা সবাই মোটামুটি অনুধাবন করতে পারি।

সুতরাং চাপটা দেয়া হবে কাকে? ধরেন চাপ দিয়ে সরকার ফেলে দিলেন। তারপর যে নেতৃত্বের শূন্যতা সৃষ্টি হবে, সেটা পূরণ করবেন কি দিয়ে?

আমি বলছি না, নৌ-পরিবহন বা সড়ক-পরিবহন মন্ত্রীর কোনো দায় নেই উদ্ভুত পরিস্থিতিতে। তবে পুরো ব্যবস্থায় একটা স্থিতিশীল ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে, ছোটখাটো বিজয় অর্জনেই সন্তুষ্ট হয়ে পড়লে হবে না। যেটা হতে পারে, সেটা হচ্ছে, দায়ী পরিবহনকর্মী, নেতা, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ- সবাইকে সমূলে উৎপাটন করে নতুন একদল নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী আর রাজনীতিবিদকে এই পরিবহন সেক্টরে সুযোগ করে দেয়া। এই কাজে শিক্ষিত, মার্জিত; লোভী কিংবা চুখাপু নয়- এমন লোকদের নিয়োগ দেয়া গেলে ভাল হয়। রাজনীতিবিদদের বাইরে রাখতে পারলে আরো ভাল হয়। রাজনীতিবিদরা তাদের কাজটাই ভালভাবে করুক শুধু। শ্রমিক করুক তার কাজটা।

তারও উপরে যেটা চাই সেটা হচ্ছে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। বেশিরভাগ অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে যাবতীয় আয়-উপার্জন করে ফেলেছে। তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া শাস্তি হিসেবে ঠিক দৃষ্টান্তমূলক হয় না। সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ, এবং তা দিয়ে পরিবহন অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদিকে চিন্তায় রাখা যায়। চিন্তায় রাখা যায় দোষী নেতা-কর্মী, মন্ত্রী-ব্যবসায়ী সবাইকে কৃতকর্মের ভিত্তিতে কারাবাসের সাজা দেয়াকেও।

বেলাশেষে শিক্ষার্থীরা ফিরে যাবে শিক্ষালয়ে। তাদের জায়গা ওখানেই। ওরা ফিরে যাওয়ার পর সবকিছু আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। নাগরিক হিসেবে আমাদের অনেকেরই অনুভূতি ভোঁতা হয়ে গেছে। জোর ধাক্কা ছাড়া টনক নড়ে না। তবে একেকবার যখন নড়ে, তখন টুকটাক কিছু উন্নতি হয়। এবারে যেন সেই উন্নতি টুকটাকের ঘরে সীমিত না থাকে। এজন্য আমাদের সবাইকে একটু স্বার্থহীন হয়ে ভাবতে এবং কাজ করতে হবে। একটুই, খুব বেশি না। আর তা দিয়েই সম্ভবত, আমার-আপনার সবার জীবনে সড়ক দুর্ঘটনায় দুম করে মরে যাবার মতো এক অগ্রহণযোগ্য অবর্ণনীয় সংকটের নিরসন ঘটবে।

সামান্য বিনিয়োগে এমন প্রাপ্তির সুযোগ এ দেশের সামনে কমই এসেছে। জানি না আমরা এ সুযোগ ধরে রাখতে পারবো কিনা।

এবার সুস্থ হয়ে উঠুক বাংলাদেশ, শুভকামনা।

---

পোস্টটি ১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম, আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। এটি একটি মৌলিক ব্লগ। দিনলিপি, ছোটগল্প, বড়গল্প, কবিতা, আত্মোপলব্ধিমূলক লেখা এবং আরও কয়েক ধরনের লেখা এখানে পাওয়া সম্ভব। এই ব্লগের সব লেখা আমার নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত, এবং সূত্র উল্লেখ ছাড়া এই ব্লগের কোথাও অন্য কারো লেখা ব্যবহার করা হয় নি। আপনাকে এখানে আগ্রহী হতে দেখে ভাল লাগলো। যেকোন প্রশ্নের ক্ষেত্রে ই-মেইল করতে পারেন: bd.mir13@gmail.com.

ও, আরেকটি কথা। আপনার যদি লেখাটি শেয়ার করতে ইচ্ছে করে কিংবা অংশবিশেষ, কোনো অসুবিধা নেই। শুধুমাত্র সূত্র হিসেবে আমার নাম, এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের লিংকটি ব্যবহার করুন। অন্য কোনো উপায়ে আমার লেখার অংশবিশেষ কিংবা পুরোটা কোথায় শেয়ার কিংবা ব্যবহার করা হলে, তা
চুরি হিসেবে দেখা হবে। যা কপিরাইট আইনে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যদিও যারা অন্যের লেখার অংশবিশেষ বা পুরোটা নিজের বলে ফেসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমে চালিয়ে অভ্যস্ত, তাদের কাছে এই কথাগুলো হাস্যকর লাগতে পারে। তারপরও তাদেরকে বলছি, সময় ও সুযোগ হলে অবশ্যই আপনাদেরকে এই অপরাধের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। ততোদিন পর্যন্ত খান চুরি করে, যেহেতু পারবেন না নিজে মাথা খাটিয়ে কিছু বের করতে।

ধন্যবাদ। আপনার সময় আনন্দময় হোক।