ইউজার লগইন

হারাতে হারাতে যতটুকু পেয়েছি, তার শেষও বুঝি আর রাখা গেল না

(ক)

যতীশ কে দেখেছি,
যতটুকু প্রশস্ত তার শরীর
প্রায় কাছাকাছি ঢোলটি নিয়ে চওড়া হাসিতে ভাসতে ভাসতে, ভাসাতে ভাসাতে
উৎসবে রং চড়াতে চলেছে।

এই দিনগুলোয়,
ঢাকের শব্দের রঙধনু মাখাতে মন্ডপে মন্ডপে আমরা যতীশের পাশেই,
যারা বন্ধু ছিলাম, লাড্ডু হাতে মুখ মিষ্টিতে ব্যকুল হতে হতে কখন যে রাত গভীর হয়ে যেতো !

কখনো শুনিনি জাত-অজাত, মুসলিম-হিন্দু,
কাঁধে কাঁধ মিলিযে কাঠের যে শিল্ডটা জিতে এনেছিলাম
এখনো তা সেলফে সাজানো, সাক্ষী দেবে সময়ের,
মাঝে মাঝে ছুঁয়ে দেখি, আনন্দে আত্মহারা হই।

যতীশ, তোর ঘুড়ি উড়ানো দেখে আমি এতটাই মোহিত যে,
ওটাই আমার ধ্যান হয়ে গেল এক সময়,
স্কুল ফাঁকি দিয়ে সুতোয় মান্জা মেরে নেমে পড়তাম
তোকেই বধ করতে।
বধ হতে কখনোই কষ্ট পেতে দেখেনি তোকে,
চুপিসারে হাসি হাসি মুখে লাটাই-সুতো গুটিয়ে ঠিক সরে পড়তি।
তোদের বাড়ীর পশ্টিমে ঢালু জমিটার পাশেই যে বুড়ো কড়ই গাছ শিকড় ছড়িয়ে,
তার উপর বসে কাঁচা আম খাওয়ার ধুম,
মাসিমা ঠিক নুন- মরিচ ডলে দিত, বলতো, নে কাঁচা আমে মাখিয়ে নে।
প্রায়ই মার্বেলের বয়্যামটা বের করে দিব্যি লেগে পড়তাম খেলতে,
লাটিম, সাতচাড়া শেষে বাসায় ফিরে স্বন্ধ্যা পেরোনোর সাথে সাথে ঘুম।
মনে পড়ে,
একদিন দিব্যি দেবী দূর্গার সামনে ঢাকের শব্দে মাতোয়ারা আমি
নেচেছিলাম তোদেরই মত।
যা হবার তাই, বাবার চোখ ফাঁকি দিতে পারলেও পড়শীরা কেউ বসে থাকেনি
যথারীতি বাবার কানে যাওয়া এবং………
হায়রে, পিঠে কালশিটের দাগ নিয়ে পরের দিন ঠিকই আবার তোদের মন্ডপে যেতে বাঁধেনি এতটুকু,
সারা গায়ে আবীর মেখে পরেরদিন আবার ঘরে ফিরেছিলাম।

অনেকদিন পর, আঠারো বাড়ী পেরিয়ে,
দূর্গাবাড়ী, কালীবাড়ী হয়ে জুবিলী ঘাট ঘুরে আসতে
কত যে তোকে খুঁজেছি। জানি বৃথা।
তোর মতই অনেককেই উন্মাতাল হতে দেখি বিসর্জনে,
অথচ এই তোকেই বুকে নিয়ে উন্মাতাল হতে দেখেছিলাম অগ্নিকে গতবার।

(খ)

যাওয়া হয়নি কখনো খুব কাছাকাছি,
শুনেছ কিছু, জানতে চেয়েছ এইটুকুই
কিংবা অল্প সাদা মেঘ ছায়া ফেলেই ভৌ দৌড় দেয়ার মত কিছুটা।
যতীশকে খুঁজতে যতবার গিয়ে দাড়িয়েছি তোমাদের দরজায়,
তারও বেশী তোমাদের তুলসীতলা ছাড়িয়ে খুঁজেছি তোমাকে।

আজ এত বছর পর, যেন সাধ হল, দেখাদেখির, মুখোমুখি।
মোটা ফ্রেমের চশমা ভেদ করে যতটুকু দেখা, তার বেশী অনেক বুঝতে বাকি,
হারাতে হারাতে যতটুকু পেয়েছ, তার শেষও বুঝি আর রাখতে চাওনা
কিংবা হলুদ পালকের ইস্টিকুটুম সময় অসময়ে
চিৎকার করে ডাকলেও উঁকি দিতে চাওনা আর, কখনোই।

দেখাটা হওয়া জরুরী নয়, সূপর্না
যতক্ষণ, যতটুকু পারি চলো নিঃশ্বাস নিই,
বাতাসকে অস্বীকার করে সাধ্য কার।
যতগুলো শব্দ তোমাকে লিখি
তার কোন কিছুই ফেরত চাইনা।
রেখে দাও।

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


টিপ সই

মিতুল's picture


ধন্যবাদ সবাইকে , যারা পড়েছেন, চেয়েছেন পড়তে।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মিতুল's picture

নিজের সম্পর্কে

অনেক চেষ্টা করেও সফল হই না, এমন ঘটনা যদি থাকে, তবে বলতেই হবে ‘আমরা বন্ধু’ তে সম্ভবত প্রবেশের আগেই আমার প্রস্থান অবশ্যম্ভাবী।লিখবো কি, এন্ট্রিই পাচ্ছি না।ভাইরে, গেইটলক করে ফেললে, আমার মত লোকাল বাসের যাত্রীরা কি করবে ?