ইউজার লগইন

যা না লিখলেও চলত

মাইনুল এইচ সিরাজীর 'হরে কর কমবা.......' পড়িয়া জানিতে চাহিয়াছিলাম যে তিনি উহা কোথা হইতে সংগ্রহ করিয়াছেন । জানিতে চাহিবার হেতু ছিল এই যে আমার নাবালক বয়সে আমাদের বন্ধুদের মধ্যে ইহা লইয়া প্রায়ই হাসাহাসি হইত । সিরাজী অতি দ্রুত আমাকে জানাইয়াছিলেন যে, তিনি তাহার পিতার নিকটে 'হরে কর কমবা.......' শুনিয়াছিলেন । সিরাজীর ছেলেবেলার কথা মনে পড়িবার বাতিক রহিয়াছে (ফেসবুক প্রফাইল দ্রষ্টব্য ) । তাহার উত্তর পাইবার কিছু পরে আমারও হঠাৎ আমার ছেলেবেলার কিছু কথা মনে পড়িয়া গেল । যে সকল কথা মনে পড়িয়াছিল তাহার মধ্যে একটি সিরাজীর কাছে বার্তা আকারে পাঠাইয়াছিলাম । আমার মনে হয় ব্যস্ততার কারণে তিনি উহা দেখিবার সময় পান নাই । তাই অদ্য সকলকে সেই স্মৃতিটুকুর সঙ্গী করিবার আহ্লাদ হইয়াছে । যাহা এইখানে লিপিবদ্ধ করিলাম ............

সেকালে তো যেখানেসেখানে ব্যাঙের ছাতার মত স্কুল-কলেজ গজাইয়া উঠিত না । তাই লেখাপড়া শিখিতে সকলকে কলিকাতায় ছুটিতে হইত । এমনই এক বিদ্যানুরাগী পিতার পুত্র পড়াশুনার উদ্দেশ্যে কলিকাতা গিয়াছে । কয়েকদিন অতিবাহিত হইবার পরেই তাহার টাকা শেষ হইয়া গেল । সে প্রথমে ভাবিয়াছিল লোক মারফতে টাকা চাহিয়া পাঠাইবে ।কিন্তু অচিরেই উক্তরূপ সিদ্ধান্ত সে পাল্টাইয়া ফেলিল । সে লেখাপড়া শিখিয়াছে পিতার নিকটে ইহা প্রতিপন্ন করা উচিৎ বলিয়া তাহার নিকটে প্রতীয়মান হইল । অতএব সে পিতার নিকটে টাকা চাহিয়া পত্র দিল । সে লিখিল " বব টক পঠও ত পঠও ন পঠও ত ভত মর যব" । যার অর্থ 'বাবা, টাকা পাঠাও তো পাঠাও, না পাঠাও তো ভাতে মারা যাব' ।

আ-কার, ও-কার বিহীন পত্র পাইয়া পিতা টাকা পাঠাইয়াছিল কিনা তাহা আমার জানা নাই, জানিবার জন্য মাথাব্যথাও নাই । তবে এইটুকু বলিতে চাই যে, গল্পের এতটুকুই আমরা ছোট বেলায় শুনিয়াছি । যখন আ-কার, ও-কার সবেমাত্র শিখিয়াছি, সহপাঠিরা কেহ ভুল করিলে স্যারেরা এই কথা বলিয়া টিটকারি করিতেন ।

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মাইনুল এইচ সিরাজী's picture


আপনার ফেসবুক বার্তা আমি পড়েছি।
একটা কথা মনে পড়ছে- বব টক পঠও ত পঠও ন পঠও ত ভত মর যব" - এটাকে একজন বিদ্যাসাগরের চিঠি দাবি করে প্রথম আলোতে পত্র লিখেছিলেন। প্র আলো সেটা ছেপেছেও! পরে অন্য একজন এটার প্রতিবাদ করেছিলেন।
আমার কথাটা এই সুযোগে জানিয়ে দিই। ওটা ছিল '' হরকর কমবা, জি ও বারুদের কারখানা, ডড নং কলকাতা''। মানে- হরেক রকম বাজি ও বারুদের কারখানা, ৬৬ নং কলকাতা।
আব্বা আরেকটা কথা বলতেন। এক শিক্ষক পড়াচ্ছেন-যাঁর কথা জড়িয়ে যায়-''পৃথিবী কমলা লে... কমলা লে... বুর মতো গোলাকার।
আব্বা বলতেন, শিক্ষক হতে হলে সাবলীল বাচনভঙ্গির অধিকারী হতে হয়।

জুলিয়ান সিদ্দিকী's picture


এটি না লিখলে বারুদ-বাজির কারখানা অজ্ঞাত থাকতো হয়তো।

মীর's picture


কমলা লে..
বুর মতো গুল

কমলা লে..
বুর মতো গুল

(মনে পড়ে গেল Big smile )

তানবীরা's picture


Big smile Big smile Big smile

নাজমুল হুদা's picture


"শিক্ষক হতে হলে সাবলীল বাচনভঙ্গির অধিকারী হতে হয়" অতি মূল্যবান কথা ।

ঈশান মাহমুদ's picture


নাজমুল ভাই,আপনার কাছে পুরোনো দিনের কথা আরো জানতে চাই...।

নাজমুল হুদা's picture


লিখতে ত ভাই পারি, কিন্তু তা যে সুন্দর, সাবলীল ও সুখপাঠ্য হচ্ছে না । পড়তে যেয়ে নিজেই হোঁচট খাই বারবার । আপনাদের লেখা পড়তেই বেশি ভাল লাগে । আপনারা সবাই আরও বেশি করে লিখুন, পড়ে আনন্দিত হই ।

সাহাদাত উদরাজী's picture


পড়ে গেলাম। আগের মত পন্ডিত শিক্ষক আর নাই। এখন সবাই পন্ডিত!

ঈশান মাহমুদ's picture


Smile) Smile) Smile) Smile) Crying Crying Crying

১০

অতিথি(সাজ্জাদ)'s picture


Big smile

১১

মেসবাহ য়াযাদ's picture


উদরাজীর মন্তব্যে ঝাঁজা...আগের মত পন্ডিত শিক্ষক আর নাই। এখন সবাই পন্ডিত!

১২

শওকত মাসুম's picture


পড়ে গেলাম। আগের মত পন্ডিত শিক্ষক আর নাই। এখন সবাই পন্ডিত!

১৩

টুটুল's picture


আপনি লিখতে থাকুন... লিখতে লিখতেই সাবলিল হবে Smile

১৪

মমিনুল ইসলাম লিটন's picture


Smile

১৫

নীড় _হারা_পাখি's picture


Smile ভাল লাগলো.।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

নাজমুল হুদা's picture

নিজের সম্পর্কে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় এমএস.সি । বিভিন্ন কলেজে অধ্যাপনা এবং অবশেষে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান । উপসচিব পদ হতে অবসরে গমন । পড়তে ভাল লাগে, আর ভাল লাগে যারা লেখে তাদের । লিখবার জন্য নয়, লেখকদের সান্নিধ্য পাবার জন্য "আমরা বন্ধু"তে আসা।