ইউজার লগইন

অতঃপর বহুদিন পর

বহুদিন পর লিখতে বসলাম। বহুদিন পর মনে হলো আমি ঠিক যে বিন্দু থেকে হাটতে শুরু করেছিলাম ঠিক সে বিন্দুতে ফিরে আসলাম। তখন বুক ভরা স্বপ্ন ছিলো, এখন স্বপ্ন ভাঙ্গা বেদনা। স্বপ্ন ভাঙ্গা গড়ার আঘাতটা বাহ্যিক নয় বলেই আমরা আবার শুরু করতে পারি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা কিছু একটা গড়ার জন্য ছুটতে থাকি। মৃত্যুর শীতল পরশ যখন চুমু দিয়ে যায়, তখন এক লহমায় ফিরে দেখি অতীতের ক্ষনগুলো। জন্মের পর হুট করে আধার থেকে প্রচন্ড আলোয় কান্না জুড়ে দিলাম, মৃত্যুর পর সেই অন্ধকারে ফিরে গেলাম চোখের শুকনো অশ্রু নিয়ে।

দেশের অবস্হা নিয়ে খুব বেশী শন্কিত নই, শন্কিত নই এখন আর নিজের মা বাবা আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব নিয়ে। গত দুদিন ধরে তুষার পাত শুরু হলো। এবার বড্ড বেশী দেরী হলো কেন যেনো।পত্রিকায় এ নিয়ে বিস্তর লেখা লেখি। কেউ বলছে সুর্য্যের চুম্বকীয় বলয়ের পরিবর্তন হচ্ছে তাই এটা মহাজাগতিক প্রতিক্রিয়া মাত্র। কেউ উত্তর মেরুর ছবি বরফ গলা ছবি দেখিয়ে বলছে কালো থাবার মতো গিলে ফেলা পুঁজিবাদ আর যান্ত্রিকতা নির্ভর অর্থনীতির "অবৈধ সন্তান" গ্রীন হাউস গ্যাসগুলো এর অন্যতম কারন। অবশ্য সাধারন জনমনে তার কোনো প্রভাব ফেলেনি। পত্রিকায় তার চেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ৩৫ বছরে আগের নরওয়ের সাথে করা সুইডেনের এক চুক্তির কথা। তখন নরওয়ে ততটা সমৃদ্ধ ছিলো না। সুইডেনের প্রযুক্তির বিকাশমান ধারায় অন্যান্য কোম্পানীর মতো ভলভো ফুলে ফেঁপে উঠছিলো।

নরওয়ে তখন বলেছিলো সে তার সরকারী তেল কোম্পানীর মালিকানার অংশীদারিত্বের বিনিময়ে সুইডেনের ভলভোর শেয়ার পেতে আগ্রহী। ভলভো কর্তৃপক্ষ দাম্ভিকভাবেই তাতে অসম্মতি জানায়। আজ ৩৫ বছর পর ভলভো যুদ্ধ করছে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য। বেশীর ভাগ প্লান্ট চায়নাতে নিয়ে বসিয়েছে, ফলে চায়না ভলভোর বেশীরভাগ শেয়ার অধিগ্রহন করে ফেলেছে। অন্যদিকে নরওয়ের সামুদ্রিক তেল দিয়ে পুরো স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো চলছে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে। কিছু দিন আগে নরওয়ের পত্রিকাগুলো লিখেছে নরওয়ে সুইডেনের দ্বারা নানাদিক দিয়ে উপকৃত হয়ে আসছে। ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের হাত থেকে বাচতে সুইডেনের যুবা বয়সের তরুন তরুনীরা নরওয়েতে শ্রমের যোগান দিচ্ছে, সেখানে ঘর সংসার শুরু করছে। সুইডেনের উচ্চশিক্ষিত তরুন তরুনীরা এতটাই দক্ষ যে তারা নরওয়ের হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভাবতে ভালোই লাগে যখন দেখি বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকার প্রধান জ্বালানী রপ্তানীকৃত জনশক্তি তখন সুইডেনও নিজের অজান্তে সে পথে পা বাড়িয়ে ফেলেছে।

আরেকটা ঘটনা বেশ আলোড়িত হচ্ছে। দুই তরুন তরুনী একসাথেই থাকতো। একবার তরুনটি বলেছিলো তার বান্ধবিকে যে তার পা জোড়া এত সুন্দর যে কামড়ে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে। তরুনীটি হালকা ভাবেই নেয় ব্যাপারটা। কোনো এক উইকেন্ডে দু'জন প্রচন্ড মদ্যপ অবস্হায় পৌছে যায়। তরুনীটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন ছেলেটি তরুনীটির বা পা কেটে ফেলে। তারপর থাই এর দিকের অংশটা স্টেক রে গ্রীল করে খাওয়া শুরু করে। যখন পেট ভরে যায় তখন সে পুলিশ স্টেশনে গিয়ে বেশ ঠান্ডা মাথায় সবিস্তারে বর্ননা করে সে কি করেছে। পুলিশদের এও বলে যে তার বান্ধবীকে হাসপাতালে নেয়া জরুরী।

পুলিশ প্রথমে বিশ্বাস করেনি, কিন্তু যখন ছেলেটি কাগজে মোড়া পায়ের নিম্নাংশ তাদের টেবিলে রেখে দেয় তখন সবাই সম্বিৎ ফিরে পায়। ছেলেটির বিরুদ্ধে কেস চলে, মানসিক ভাবে অসুস্হ প্রমানিত হওয়ায় কোনো সাজা ছাড়াই মেন্টাল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। ৬ মাস পর সে ওখান থেকে বেরিয়ে এখন সুস্হ জীবন যাপন করছে। পত্রিকায় খবরটি বেশ চাউর হয়েছে।

আরো একটা উদ্ভট খবর পড়লাম সেদিন। এক মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক তার বান্ধবীকে কেটে টুকরো টুকরো করে খাটের নীচে কালো ব্যাগে রেখে দিয়েছিলো। তার শন্কা ছিলো বান্ধবীটি তাকে ছেড়ে তার অন্য এক বন্ধুর সাথে ঘর করা শুরু করবে। খবরটি পড়ে মনে হলো অতিরিক্ত ভালোবাসা নিশ্চয়ই খারাপ। কাউকেই অতিরিক্ত ভালোবাসতে নেই।

সোনিয়া আর এই এপার্টম্যান্টে নেই কতদিন হিসাব রাখা হয়নি। সংসার বলা যাবে না, তবে সংসার করবার জন্যই একটা কিছু শুরু করেছিলাম। সবকিছুই ঠিক ঠাক মতো চলছিলো। ওর একটা কাজ হলো, কাজ থেকে ফিরেই আমার জন্য গ্রান্ড হোটেলের লবিতে দাড়িয়ে থাকতো। তারপর ওকে নিয়ে প্রতিদিন নতুন কোনো রেস্তরায় গিয়ে উদরপূর্তি, কোনো বারে গিয়ে মাদকীয় কোলাহলে নিজেদের হারিয়ে ফেলা রাতগুলো স্বপ্নের মতোই কেটে যাচ্ছিলো। ওর চাকুরীতে কিছু একটা হচ্ছিলো সেটা আন্দাজ করতে পেরেছিলাম, কিন্তু কি সেটা জানা হয়নি। নিজেকে নিয়েই সারা জীবন ব্যাস্ত থেকেছি, অভ্যাসটা আমার বড্ড বেশী খারাপ। যদি আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে মুক্ত করতে পারতাম নিজেকে তাহলে হয়তো জীবনটা একটু সাজানো যেতো, পরিপূর্নতা দেয়া যেতো।

অতীত এখন আর কোনো বিষয় নয়, আশার আলো যেখানে নিভে যায় সংগ্রামী মানুষের চেতনা তখন স্ফূলিঙ্গ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। আমি কি সংগ্রামী মানুষ?

নাহ, অনেকদিন পর তুষারপাত দেখতে ভালো লাগছে। একসময় হতাশা বুকে নিয়ে এই তুষার পাত দেখতাম, এখনও তাই দেখি। লন্ড্রিতে জামা কাপড় দিয়ে আসলাম একটু আগে। লিস্টিতে থাকা সোনিয়ার প্রিয় খাবার রাধা শেষ, ওর জন্য কিছু প্রসাধন সামগ্রী, সাথে একটা ছিঁচকাদুনে রোমান্টিক বই, নতুন আইফোন ৫এস গোল্ডেন রং এর। সবকিছুই শেষ। শুধু লন্ড্রিটাই বাকী।

কাল সোলনা ক্রিমিনালভার্কেট মানে সংশোধনালয়ে (শুদ্ধ বাংলায় জেলখানা) দেখা করতে যাবো ওর সাথে। ৬ মাসের জেল হয়েছে হেরোইন রাখার অপরাধে। জেল হবার কথা ছিলো ২ বছরের, কিন্তু ও সন্তান সম্ভবা। ক্রিমিনাল কোর্টের কাছে উকিল খুব ভালো একটা চিঠি লেখে, বলে যে সন্তান যেন জন্মের সময় জেলখানার আলো না দেখে।

অদ্ভূত এক অনুভূতি আমার। বাবা মাকে বলতে পারছি না তাদের ছেলের বৌ জেলে। অবশ্য বিয়ে যে হয়নি সেটাই বা বলি কি করে!

ভাবছি বিয়েটা সেরে ফেলবো। দেশে সমাজ অর্থনীতি রাজনীতি সব চূলোয় যাক। শুধু আমি সোনিয়া আমাদের অনাগত সন্তান আর তার দাদা দাদী। আমাদের পৃথিবীটা ছোট হয়ে যাক।

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আরাফাত শান্ত's picture


ওয়েল কাম!

দূরতম গর্জন's picture


ধন্যবাদ

তানবীরা's picture


অভিননদন Big smile

দূরতম গর্জন's picture


ধন্যবাদ

জেবীন's picture


দারুন আপনার লেখনি

দূরতম গর্জন's picture


বড্ড লজ্জা পেলাম। কারন লিখতে বসে কি লিখবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। অনেক কিছু লিখতে মন চাইছিলো, আসলে বুকটা প্রচন্ড ভারী হয়েছিলো। আশে পাশে কাউকেই পাচ্ছিলাম না হালকা করার। তাই ব্লগটাকে বেছে নিয়ে উল্টোপাল্টা লিখে নিজেকে হালকা করা কি।

স্বাগতম আমার ব্লগে

জেবীন's picture


নিজের ভাবনাগুলোই লিখে ফেলেন ব্লগে বন্ধুকে গল্প বলার ছলেই। খুব যে সাহিত্যের মান সম্পন্ন কিছু হতেই হবে এমন তো নয়। এতো নিজের ভাল লাগার ব্যাপার। আপনি বেশ গুছিয়েই লেখেন। একসময় লিখতে লিখতে দেখবেন নিজের কাছেই লাগবে ভাল

দূরতম গর্জন's picture


ব্যাস্ততায় চিড়ে চ্যাপ্টা হয়ে পেছনে তাকানোর এতটুকু সময় পাই না। জীবনটা কোথায় যাচ্ছে, কি হবে এসব ভাবলে শুধু শিউড়ে উঠি ইদানিং। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য

দূরতম গর্জন's picture


ব্যাস্ততায় চিড়ে চ্যাপ্টা হয়ে পেছনে তাকানোর এতটুকু সময় পাই না। জীবনটা কোথায় যাচ্ছে, কি হবে এসব ভাবলে শুধু শিউড়ে উঠি ইদানিং। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য

১০

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


খুব সুইট একটা লেখা,
অনাগত দিনগুলো ভরে থাকুক আসামান্য ভালোবাসায়।

১১

দূরতম গর্জন's picture


আপনার জন্য শুভ কামনা

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

দূরতম গর্জন's picture

নিজের সম্পর্কে

মহাশূন্যের গুন গুন শুনতে চাই, কান পেতে রই তারাদের আহ্বানে। দূরতম গর্জন যখন সৈকতে আছড়ে পড়ে, আমি পা ফেলে উপভোগ করি সাগরের কূর্ণিশ। মানুষ হয়ে জন্মাবার অহংকারই শুধু বিদ্যমান, অথচ নিত্য বেচে আছি তেলাপোকার শৌর্য্যে!