ইউজার লগইন

দূরতম গর্জন'এর ব্লগ

পংকিল মুখবন্ধ

চোখের ঘষাকাঁচে তাকিয়ে থাকা বৃদ্ধলোকটা খুব কাছ থেকে ফুলের রংটা বোঝার চেষ্টা করছে। ভ্রু কুঁচকে ডানে বায়ে কাঁত হয়ে বোঝার চেষ্টা করছে ফুলটা কি হতে পারে! পাশের পিংক কালারের ফ্রক পড়া মেয়েটির সেখানে মনোযোগ নেই। সে ছুটে চলেছে উড়ে যাওয়া প্রজাপতির ধরতে। বুড়োটা রণেভঙ্গ দিয়ে তাকিয়ে দেখে আশেপাশে নেই মেয়েটি। উদ্ভ্রান্তের মতো "সামারা" "সামারা" বলে ডাকতে শুরু করলো। তার এলোমেলো হাটা দেখে আশেপাশের বোরখা ঢাকা এক সোমালীয়ান মহিলা এগিয়ে এলো। মেয়েটির নাম জেনে সেও ডাকতে শুরু করলো। আস্তে আস্তে পার্কের সবার মুখেই এক নাম। কিছুক্ষন পর পুলিশ এলো, মেয়েটিকে খুজে বের করলো। মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে বৃদ্ধ লোকটি পাগলের মতো কাঁদছে। তার পাশে দাড়িয়ে আছে অফিস ফেরত মা বাবা। তারাও দাড়িয়ে দাড়িয়ে কাদছে। মেয়েটি অপরাধীর মতো মুখ করে কি যেনো বলছে। তাতে কারো ভ্রুক্ষেপ নেই।

অর্বাচীন খোলস আমার

বাতাসের পরশ দিন কে দিন শীতলতার চুমো দেয়। সে চুমোতে শিহরন জাগে বড্ড কাপুনির। উষ্ঞ ঠোট শুকিয়ে শুকনো পাতার মতো বিবর্ন হতে থাকে। তাই সকালে ঘুম ভাংতে চায় না, ঘরকুনো শরীরে জানালায় তাকিয়ে থেকে গোলগে চুমু দিতে দিতে ডুবে যাই পুরোনো অতীতে। মাথার চুল গুলো এই অল্প কদিনে পেকে গেলো, চোখের নীচে ঝুল দাগ। ডাকাবুকো শরীরের কখনোই ছিলাম না, তবু কেনো যেনো মুখের চামড়া ঝুলে গেছে। বয়স যেনো ঠেকেছে ৫০ এর কোঠায়।

এমন সময় দরজায় নক,"শফিক, ঘুম ভেঙ্গেছে?"
: আসো। গোলোগ নেবে?
: নাহ। আমি নাস্তা করে ফেলেছি। আকবর কোথায়?
: শুয়ে আছে। রাতভর ট্যা ট্যা। অসহ্য, ঘুমের তেরোটা বাজিয়েছ।
: ছিঃ শফিক! এভাবে বলে না। ওকে যদি আজকে আমি রাখি কোনো আপত্তি আছে?
: এলিন, তুমি রেখে দাও!

এতগুলো বিরক্তি

১.

বর্ষাকালে তখন ধানক্ষেতে হাটু পানি থাকতো। ডিঙ্গি নৌকায় করে মাছ ধরতে বেরিয়ে যেতো সবাই। বাশের মাথায় লোহার পেরেক গেথে জোরসে মাছের গায়ে গাথা হতো। যখন মাছটাকে কাটা বিদ্ধ অবস্থায় পানির ওপরে তোলা হতো তখন বড় বড় রুই কাতলা তাতে ছটফট করতো। বাসায় দিগ্বিজয়ী হাসি দিয়ে বলতাম,"মা, দেখো কি পেয়েছি!"

কিছু কিছু রোমাঞ্চ জীবনে আর ফিরে আসে না, সেই অনুভূতি মনের ভোল্টে অতি মূল্যবান সঞ্চয় হিসেবে জমা থাকে। মাঝে মাঝে সেই সঞ্চয় থেকে সুদ হিসেবে নস্টালজিয়া ধার করি, জটিল জীবনে থেকে নিজেকে আলাদা করে মুক্ত করি নিজের জন্য।

বহুদিন পর রাজশাহীতে পা দিয়ে বুঝতে পারলাম এ মাটির উষ্ঞতা এখনো মলিন হয় নি। এই উষ্ঞতা ততক্ষনাৎ ছড়িয়ে যায় দেহে মনে। আমার প্রতিটা পদক্ষেপে শরীর শিহরন ধরিয়ে দেয় আমার সঞ্চিত পুরোনো অতিতের নস্টালজিয়া। যদিও মানুষগুলোকে চিনি না, ঠিক যেনো পাল্টে গেছে প্রতিটা গলি, কত মানুষ।

আরাধ্য আমার স্বপ্ন

বুকের মাঝে বাসা বেধে আছে কিছু। এই কিছু আমার আরাধ্য শত বছরের। আমি অতীতে পা গুনে হেটে চলেছি এ পথ। কখনো মনে হয়নি আমি ছিলাম ধীর। একটা সময় এসে দেখা গেলো হাতে যে মোটেও সময় নেই। মোটেও সময় নেই লক্ষ্যে পৌছাবার। চলে যাবার এই ক্ষনে সাধ জাগে যদি আর একটি বার সুযোগ পেতাম।

আমি দেখেছিলাম ঘুনে ধরা জনপদে অবিচারের ঝুলোঝুলি। যেখানে নিত্য রক্ত ঝরে হাহাকরের। কাল্পনিক ঈশ্বরের আশায় চোখ মুদে ভুলে যায় এই ভেবে একদিন সে ন্যায়বিচার পাবে। সে একদিন কি কখনো এসেছিলো? তাই আমি পালালাম চেনা মুখ গুলোকে পেছনে ফেলে। কিছু কিছু মুখ হারিয়ে যায়, আমিও খোয়াতে থাকি আমার মনের তৃষ্ঞার্ত অঙ্গগুলো। বিকলাঙ্গতা কখনো কারো স্বপ্ন হয় না। শুধু এক মুঠো হাসি মিশে থাকুক পুরোটা জীবন ভরে।

মৌমাছিদের যুদ্ধ

খুব ছোটবেলা থেকেই আমাদের ঘর পাঁকা ছিলো না। গ্রীস্মের প্রচন্ড দাবদাহে যখন মাটিতে পা রাখা দায় হতো তখন মা মেঝে লেপে দিয়ে পাটি বিছিয়ে দিতেন। সে পাটিতে পিঠ যখন এলিয়ে দিতাম তখন এক অদ্ভুত শীতলতা শরীরময় ছুয়ে যেতো। চোখের দৃষ্টিতে ঝুলে থাকা টিনের চালের নীচে কাঠের পাটাতনকে মনে হতো রাতের তারা ভরা নীল আকাশ। আমি ধুমকেতু হয়ে নাম না জানা তারাদের দেশে ঘুরে বেড়াই। সেখানে আছে দৃষ্টি সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া তেপান্তর।

দ্রূতগামী অতীত

কেউ ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো জমিয়ে রাখে না। ডায়েরীর মতো মূল্যবান নয় বলেই, তবে যারা ডায়েরী লেখে না, তারাও কি জমিয়ে রাখে? আমাদের স্মৃতিগুলো জমা হয় ঝাপসা সেলুলয়েডের মতো। মাঝে মাঝে কিছু স্বপ্নে স্মৃতিগুলো ফিরে আসে। ঘুমের মধ্যে অনুভব করতে থাকি এই বুঝি সেই সোনালী দিনে ফিরে গিয়েছি। টাইম মেশিন সত্যি কেউ বানিয়েছে, যদি তাকে কাছে পেতাম, বড্ড করে জড়িয়ে ধরে বলতাম,"তুমি আমার স্বপ্ন পূরন করেছো।" মাঝে মাঝে স্বপ্নের মাঝে এসব ভাবতে ভাবতে স্মৃতিমাখা আসল স্বপ্নটা দেখা হয় না। ঘুম ভাংতেই ভর করে এক শূন্য হাহাকার।

যুদ্ধের খেরোপাতা!

ছোটবেলা বাবা শোনাত অদ্ভুত সব গল্প। তার গল্পের ঝুড়ি থেকে ছড়িয়ে শব্দমালাগুলো আমার শৈশব কৈশোরের বড় একটা সময় মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে। কখনো মনে হতো যদি আমি হতেম দিগ্বীজয়ী হালাকু খাঁ তাহলে আমার পতাকা চীন ছাড়িয়ে আরও দক্ষিনে সম্প্রসারিত করতাম। যে আলেকজান্ডার ভারতবর্ষে এসে তার বিজয় রথ থামিয়ে দেয় আমি সেই ভারতবর্ষকে আমার রাজধানী। অথবা যদি হতেম সেই এলেন কোয়ার্টারমাইন, তাহলে তাহলে প্রেইরী অঞ্চলের সবুজ বুক চীড়ে জেগে উঠা পাহাড়ের গোপন গূহ্যদ্বার পেরিয়ে চলে যেতাম সেই চিরযৌবনের দেশে যেখানে মৃত্যু জরা ব্যাধী কখনো কাউকে ছিনিয়ে নেবে না।

স্বর্নালী দ্বীনতা

১.

বৃষ্টির ফোটায় ডানা ভারী হয়ে গেলো পাখি মাটিতে নেমে আসে। ক্লান্ত হয়ে এবেলা বৃষ্টিতে ভিজেই ফেলে। একটু জিড়িয়ে আবারও উড়াল দেয়, যদি একটা আশ্রয় খুজে পাওয়া যায়। পাখিরা নাকি আগে ভাগে বুঝতে পারে কখন ঝড় হবে, বৃষ্টিরা ভেজাবে জনপদ। তবু পাখি দু'একটা ঠিক ধরতে পারে না, অসহায় হয়ে পড়ে নিজের বোকামীর কাছে। হতে পারে মনটা একটু আনমনা ছিলো অথবা বিক্ষিপ্ত।

নিস্ফল সাফল্য

ভাবলাম একদিন দিগন্ত ছুতে বেরিয়ে যাবো। দিগন্তে কি আছে জানতে মন চাইতো, সেখানে কি রংধনু সারা বছর দেখা যায় অথবা লাল টুকটুকে সূর্য্যটা কি পরিপাটি হয়ে ঘুমিয়ে থাকে? এসব ভাবনা একসময় আমার কৈশোরবেলা জুড়ে ছিলো ভাবলেই হাসি পায় আনমনে।

: একা একা হাসছো যে?
: এমনি।
: বাড়ি যাবে না?
: আর কোথাও কি যাবার জায়গা আছে?

ইয়েল্দা তাকিয়ে আছে নিশ্চুপ, শুধু ঠোট টেপা হাসি। ঠোট দুটো গাঢ় লালের লিপস্টিক, চোখে টানা কাজল। আফগানী মেয়েদের কারো নাম যে ইয়েল্দা হয় জানতাম না, তাদের চুল এমন লালচে কালো হয় সেটাও ভাবনায় আসেনা।

: যাবে আমার সাথে? চলো কোথায় বসে কফি খাই।

আমি কিছু বললাম না। হাতের সিগারেটে শুধু একটাই টান দেয়া হয়েছিলো, বাকিটা হাতেই পুড়ে শেষ। কখন যে ভাবনার সাগরে ডুবে যাই তার কোনো ইয়েত্তা নেই। ইদানিং মনটাকে লাগাম দিতে পারছি না।

শিথিল বাঁধন

ইদানিং মাঝে মাঝেই হারিয়ে যাই আমার অতীত সময়ে। বাবা আমাকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়তেন। বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলে মাকে বাসায় রেখেআমরা ঘুরতে চলে যেতাম। এটা এলাকার ভেতর কারো বাড়ি বা অফিসের কাজকর্মের জন্য রাজশাহী সদর বা ঢাকা যাওয়া নয়, এটা ছিলো কোনো নাম না জানা গ্রামে ঘুরতে যাওয়া। সেখানে দিনভর ঘুরে তিনি ছোটবেলার বন্ধুদের খুজে বের করতেন। কয়েকদিন কাটাতাম, তারপর ফিরে আসতাম। বাড়ি এসে মনে হতো সময়টা থেমে ছিলো, কিছুই বদলায়নি যেন। বইয়ের পাতা যেখানে খোলা রেখে গিয়েছিলাম, সেটা সেভাবেই পড়ে আছে। জানালার ওপাশে যে ঘুড়িটা কলাগাছের পাতায় ঝুলে ছিলো সেটা বাতাসে সামান্য ছিড়েছে। খাবারের টেবিলে গ্লাসের পানিটা অর্ধেক পড়ে আছে।

ঠিক কি যেনো!

ফটোগ্রাফীর জন্য এক সুন্দর মন দরকার, দরকার নিখুত চাহিদাকে সংজ্ঞায়িত করার ক্ষমতা। এই মুহুর্তে যদি বলা হয় সবচেয়ে নিষ্পাপ ছবি কোনটা তাহলে আমি বলবো বস্তিতে থাকে সেই ৬-৭ বছরের ছেলেটা যে মুখ গোমড়া করে শার্টের এক কোনায় আঙ্গুল গুজে মুখে দিয়ে চুষছে। নাক দিয়ে সর্দির হিঙ্গুল গড়িয়ে পড়ছে একটা ফুটো দিয়ে। দুদিন আগে বাবা চুল কাটাবার নাম করে হাতে লজেন্স ধরিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে ন্যাড়া করে দিয়েছে। ক্ষুধায় খেতে না পারার রাগের সাথে মাথা ন্যাড়া করার রাগও যোগ হয়েছে।

ঠিক তেমনি একটা পিচ্চিকে দেখছি তবে এই পিচ্চিটা পুরো জ্যাকেট পরিহিত। কিছুক্ষন আগে গুডিজ মানে মিষ্টি চকলেটের জন্য কান্নাকাটি করছিলো। তার বাবা তাকে গুডিজ কিনে না দিয়ে একটা সেভেনআপের ক্যান ধরিয়ে দেয়। পিচ্চিটা ঠিক বুঝতে পারছে না সে সেভেন আপ টা গিলবে না গুডিজের জন্য কান্নাকাটি চালিয়ে যাবে।

মৈথুনানন্দের মহোৎসব

মাইমুনা আসেনি। সে দেশেই আছে। বাচা গেলো, টেনশনটা কমলো। তবে বাবা মৃত্যুর আগে টেনশন বাড়িয়ে গেছেন। তার আগত নাতীর নাম আকবর রহমান রেখে গেছেন। আকবর নামটা শুনলে সবার মোঘল সম্রাটের কথা মনে পড়লেও আমার মনে পড়ে এক রিক্সা চালকের কথা। সেই রিক্সাচালক ভদ্রলোক কিশোরকুমারকে হুবহু নকল করতেন। তার গান গুলো ঠিক একই ভাবে গাইতেন। ছোটবেলায় ইত্যাদি অনুষ্ঠানে এই রিক্সাচালক "একদিন পাখি উড়ে " এমনভাবে গাচ্ছিলেন যে আমি তার গানে মোহমুগ্ধ হবার বদলে উল্টো স্ক্রিনে পাখি খুজতেছিলাম। কারন তার হাত আর মুখের ভঙ্গিটা সত্যি ময়না পাখি হারিয়ে যাবার দুঃখে কাতর ছিলো।

: বাবা কি আর নাম পান নাই?
: মুসলমান সম্রাটের নাম, খারাপ কি দেখলা বাবা?
: মনে হইতেছে এক রিক্সাচালক সারাদিন রিক্সা চালিয়ে দুপুরে ভাত ডান হাতে ভাত খাইতেছে আর এক হাতে হাতপাখা ঘুরাচ্ছে।

আটপৌরে শীতকাল

এবারও শীত কথা দিয়ে কথা রাখলো না; জ্যাকেট, বুট জুতো নতুন জীন্স শপিং করার পর থেকে শীত উধাও। কোথায় তুষারপাত হবে তা না, শুরু হয় ঝিরঝিরে বিরক্তিকর বৃষ্টি। এই বৃষ্টিতে ভিজে উদাস হওয়া যায় না, গায়ে শীতের কাঁপুনি ধরা আর কি।

স্টকহোম শহরটা ঘুরবার কিছু নেই তেমন। সামার হলে শহর ঘিরে থাকা লেকের পাশে বীচ আর নাগরিক শান্ত কোলাহল উপভোগ করার মত, ইউরোপের অপরাপর দেশের মতো ঐতিহ্যগত সৌন্দর্য্য এখানে অনুপস্হিত। বছরের পর বছর শহরটার খুব বেশী বাহ্যিক পরিবর্তন নেই। মানুষ শুধু ছুটছে, হয়তো গত বছর এই রাস্তা ধরে যে মেয়েটি সকাল বেলা কাজে যেতো, এ বছর রাস্তাটা একই থাকবে কিন্তু মানুষগুলো পাল্টে যাচ্ছে।

তপ্ত স্বাধীনতা

হাসপাতাল জিনিসটা আমার মনে বেশ সুখকর অনুভূতির জন্ম দেয়। ছোটবেলায় যখন দাদাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করালো তখন দেখা গেলো বাসায় একটা উৎসবের মেজাজ চালু হয়ে গেলো। বাবার তেমন কোনো ভ্রূক্ষেপ ছিলো না, কিন্তু মা এর কাজের শেষ নেই। যেখানে বাসায় সপ্তাহে একবার গোস্ত রাঁধা হতো সেখানে দুদিন পর পর মুরগীর স্যুপ। মুরগীর স্যুপ বানানো হলে বাকী কলিজা গোস্তের টুকরো দিয়ে ভাত খেতাম আর মনে মনে ভাবতাম স্বর্গে কি এত সুন্দর খাবার পাওয়া যায়? সমস্যা নেই, দাদা বুড়ো মানুষ। একবার যেহেতু হাসপাতালে পা দিয়েছেন সেহেতু বার বার দেবেন। কচি লাউ শাকের ডগার চচ্চরী, সাথে শিং মাছের ঝোলে কাচা পেঁপের কোমল রং পেটের ক্ষুধাকে কয়েকগুন বাড়িয়ে দিতো। আমার মা কেমন রাধুনি সেটা কাউকে বিচার করতে হবে না, তার হাতের রান্না যে আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছে সেই ছোটবেলা থেকেই এই ভেবেই আমি চিরসুখী।

সম্মোহিত চুম্বন ২

১.

: শফিক, তাই না তোমার নাম?
: হ্যা।
: নিজের সম্পর্কে কিছু বলো।
: কি বলবো? অনেক কথাই তো আছে।
: হ্যা...কবিতা লিখতে চাইতাম, ছন্দ মিলতো না। বাবা আমাকে বলতেন মনকে মুক্ত করো, তখন যাই লিখবে, তাই কবিতা হবে। কিন্তু কিভাবে মুক্ত করবো? মন কি জেলখানায় বন্দী?
: কবিতা আর লেখা হয়নি?
: এখনও লিখতে পারিনি।
: কি নিয়ে লিখতে চাও?
: জানি না।
: তোমার মনে কি অনেক দুঃখ?

প্রশ্নটা আমার মাথায় ঘুরতে ঘুরতে থাকে। আমি আস্তে আস্তে ডুবে যাই অপরাহ্নের আলোর মতো। এই অন্ধকার বড্ড বেশী আপন আমার। প্রচন্ড শান্ত চারিদিক, তবু বুঝতে পারি আমি আদতে শান্ত নই।