ইউজার লগইন

দূরতম গর্জন'এর ব্লগ

সম্মোহিত চুম্বন ১

১.

কথার জালে আটকে যায় ভাবনার প্রস্ফুটন। শূন্য অনুভুতি নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়া যায় না। শুধু হ্যা অথবা না অথবা হুমম। প্রশ্নকর্তা প্রাণপন চেষ্টা করে যায় জালটাকে ছাড়াতে, কিন্তু যখন দেখে তার ফেলা জালে ভাবনার স্হিতিস্হাপকতায় মাখামাখি চুড়ান্ত, তখন হাল ছেড়ে দেয়। নতুন সময়, নতুন দিন, নতুন খেলা।

কাজে যাওয়া হয় না মাস খানেক, হাতে থাকা ছুটিগুলো খুচরো টাকার মতো খরচ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। অথচ কিছুই নেই আমার কাছে, নিঃস্ব আর নিঃসঙ্গতা ল্যাপ্টাল্যাপ্টি করে লেগে আছে নিরন্তর। পাশের ফ্লাটে আর পার্টি হয় না। কারন সিন্ডি আর ক্রিস্টিনার মা দুটোকে কান ধরে শুধরানোর চেষ্টা করছে। প্রতিদিন সকাল বারান্দায় উঠে দেখি ক্রিস্টিনা মেঝে ঘষছে ব্রাশ দিয়ে আর সিন্ডি দেয়ালে রং লাগাচ্ছে। আমি 'হায়' দিলে মুখ টা ঘুরিয়ে নেয় দু'জনেই। দেখতে ভালোই লাগে দুই কিশোরী মেয়ে গাল ফুলিয়ে দিনভর নিরন্তর কাজ করছে।

কামনাসিক্ত প্রার্থনা

১.

ঘরে লেবু ছিলো না, বীট লবনও নেই। পাশের ফ্লাটে হুড়োহুড়ি শুরু হলো মাত্র। পুরো বিল্ডিংটা ফাঁকা, শুধু পাশের জনাকীর্ন ফ্লাট, আর রুমে নিঃসঙ্গ আমি। সুইডিশ এবসলুট পড়ে আছে তাকে। সীবাস রিগ্যাল শেষ, জ্যাক ড্যানিয়েলসও নেই। পাশের রুমের দরজার সামনে দাড়িয়ে ভাবছি নক করবো কি না। এখানে আর কোলাহল নেই, হার্ড রক মিউজিকের সাথে সাথে চলছে নারী পুরুষের সম্মিলিত যৌন কর্মের চিৎকার। ঠিক কতজন বা কতজোড়া এরকম ফুল ভলিউমে যৌন কর্মে লিপ্ত ধারনার বাইরে। দরজায় টোকা দিয়েই বসলাম।

দরজা খুলে দাড়ালো একজন যুবতী। বা পাশের সুঢৌল স্তন ঝুলে আছে, সাদা শার্টের বোতাম নেই, কোমড়ে নেই কোনও অন্তর্বাস। সিক্ত হয়ে আছে জায়গাটা। দরজাটা পুরোটাই খোলা, আমি বাইরে থেকেই মেঝের ওপর এক নগ্ন যুবতীর ওপর নগ্ন যুবক। আমি মুখে হাসি দিতেই বলে বসলো মেয়েটা,"এই ভারতীয়! কি চাও বলো।"

ঢুলু ঢুলু নেশাতুর

১.

: ইয়াক! এসব ছাইপাশ গেলো কিভাবে? আমি তো এক গ্লাসই শেষ করতে পারি না।
: তুমি ইচ্ছে করলেই এক বোতল এক বসায় গিলে ফেলতো পারো।
: পাগল হয়েছো? সিবার রিগ্যালের ৭৫০ এমএল কিভাবে?
: এই দেখো। গ্লাসে কিছু বরফের কুচী নাও। কিছু স্পাইসি চিপস। একটা স্পাইসি চিপস, পুরো গ্লাস। অল্প অল্প সীপ।
: আর?
: এক সীপ, মিউজিকের তালে তালে শরীরটা ছেড়ে দাও। আমি ঢুলতে ঢুলতে তোমাকে জড়িয়ে ধরবো।
: আর?
: আরো একটা সীপ। তোমার ঠোট আমার ঠোটে। তোমার দুস্ট জিহবা আমার মধ্যে দুস্টুমি। আরো একটা সীপ। তোমার দুস্ট হাত আমার ব্লাউজের নীচে
: আর?
: আমি তোমার জিহবা কামড়ে দেবো.....হা হা হা হা।

মৃতপ্রায় ছুটোছুটি

১.

ঠিক কতদিন পর মনিটরের সামনে বসলাম মনে করতে পারছি না। কীবোর্ডের প্রতিটা কী যেনো আমার কাছে অচেনা। টাইপ করতেও ভুলে গেলাম প্রথম কয়েক সেকেন্ডের জন্য। ধাতস্হ হলাম এই ছোট্ট ল্যাপটপ নামের যন্ত্রটার সামনে। ল্যাপটপটার স্টার্ট বাটনটায় প্রতিদিন একটা করে চাপ দেই। মনিটরের "ওয়েলকাম" লেখাটা আসবার আগেই নেশাগ্রস্হ হয়ে লুটিয়ে পড়ি। কাজ থেকে ছুটে এসে পেট ভরে বোতলের শেষ বিন্দুটা ঢেলে দিয়ে ল্যাপটপটা খুলে শুধু পুরোনো ছবি দেখতে ইচ্ছে করে। দেখা হয় না। সকালে এলার্মে ঘুম ভাঙ্গে, দেখি ল্যাপটপটাও ঘুমিয়ে থাকতো আমার সাথে। কিন্তু আজকে আমি পুরোদস্তুর নেশাহীন ফুরফুরে। নিজেকে মনে হলো আবদ্ধ নেশাময় বৃত্ত থেকে টেনে তুলি, পুরোনো ছবিগুলো দেখতে থাকি। প্রায় সারাটা দিন সব ছবি ভিডিওগুলো দেখলাম। সোনিয়ার হাসিমুখ, অন্তরঙ্গ মুহুর্ত সবকিছু। সোনিয়া বলেছিলো মুছে ফেলতে, মুছতে পারিনি। মুছবো কিনা বুঝতে পারছি না।

দাপুটে খিস্তি

রফিক মুদীর দোকানে হাসিমুখে এগিয়ে গেলো। গা থেকে ভুড় ভুড় করে বের হওয়া বিরানীর গন্ধ শুনে শামসু জিজ্ঞেস করে বসলো,"কিরে, হাজীর বিরিয়ানি?"
রফিক মুচকি হাসি দিয়ে বললো,"নিজ হাতে বিরানী পাকালাম। চল সবাই। মেলা দিন এক সাথে খাওয়া হয় না।"

শামসুর সাথে বসে ছিলো ঝন্টু, ফনু, কচি স হ উঠতি বয়সের বখাটেদের দল। সবাই রফিককে অনুসরন করলো তার নতুন ফ্লাট বাড়িতে। সবার মুখে মুচকি হাসি। রফিক নীচতলার কেচীগেটের তালা খুলবার সময় ঝন্টু জিজ্ঞেস করলো,"রফিক, ফারুকের সাথে আর তর কথা হইছিলো? তোরা দুই জন যে রাতে চান্দার টাকা নিয়া ঝগড়া করলি এরপর তো আর এলাকায় দেখলাম না। দুই দিন ধইরা পোলাটার খবর নাই।"

রফিকের গেট খুলে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বললো,"আমারও আর দেখা হয়নি। আছে কোথাও হয়তো। তোর ৫০০ টাকা এখনও দেয় নাই?"

ঝন্টু কিছু বলার আগে শামসুর অট্ট হাসি দিয়ে মুখ ফসকালো,"আর ৫০০! দেখ কোথায় গিয়া চান্দার টাকা নিয়া মৌজ মাস্তি করতাছে।"

হৃদ মাঝারে অশ্রুসারি

তখন কৈশোর পেরিয়ে যৌবনের হাওয়া লাগছিলো, লহমায় ছুটে যেতাম ঢাকার এ কোণা ওকোণা। সেবার প্রচন্ড শীত পড়েছিলো রাজশাহীতে, কাঁকনহাট শীতের রাতে অদৃশ্যপুরী হয়ে যেতো। দাদা দাদীর কবর উঠোনের কোনায়।রাতভর চুপচাপ বসে থাকতাম, জানালা দিয়ে দেখতাম ঘূটঘূটে আঁধার। প্রতি মঙ্গলবার হাট বসতো। সারা সপ্তাহ যে হাট ঝিমুতো শীর্ণ পাখির মতো, মঙ্গলবার ঠিক উৎসবে সেজে উঠতো। চায়ের দোকানে বসার ঠাই নেই, কুলিদের হাঁকে গমগম অথবা ভ্যানের টুনটুন আওয়াজে কানটা ভরে যেতো।

হাট শেষ হয়ে এল, আবারও সেই নিস্তব্ধতা। সেবার রাত করে হাটে গিয়েছিলাম কেরোসিনের খোঁজে। ঠান্ডায় দাঁত কপাটি একসাথে রাখার চেষ্টার অন্ত ছিলো। দোকান থেকে এক বোতল কেরোসিন কিনে যখন ফিরছিলাম তখন দেখি রসের হাড়ির পাশে একটা ছেলে শুয়ে শুয়ে কোকাচ্ছে। গায়ে ফিনফিনে কাপড়। এতরাতে এভাবে হেটে চলে গেলে রাতে ঘুমাতে পারবো না, তাই ছেলেটাকে ডেকে তুললাম।
: কিরে? শীতে তো মারা যাবি?
: কিছু কইবেন? ঘুম ধরছে। ক্ষুধা আর সহ্য হইতেছে না।
: নাম কি তোর?
: নাম দিয়া কি করবেন? হুদাই আইছে।

বিত্তশালী উপহাস

হিটলারের নাম এখন অস্পৃশ্য। ছোটশিশুদের সামনে এই নামটি একসময় উচ্চারন করা হতো না। ভাবতো ইবলিশ বা শুকর প্রানীর নাম যেমন মুসলমানেরা মুখে নিতে পারে না, তেমনি হিটলারের নাম কোনো সভ্য মানুষ মুখে নিতে পারে না।
লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে হিটলারের উন্মাদনা থেকে মুক্তি পায়। হিটলারের ফ্যাসিজম, একনায়কতন্ত্রের নির্যাতনের গুমোট কান্না ইউরোপের দেয়ালে দেয়ালে একসময় গুমড়ে কাঁদতো। এখন সেসব গল্পগুলো অনেকটা রূপকথা হয়ে গেছে। মানুষ দারিদ্র‌্যতাকে দূর করেছে, মুছে ফেলেছে প্রায় ধনী দরিদ্রের ব্যাবধান। মেধা দিয়ে যে পৃথিবী হাতের মুঠোয় আনা যায় তার দৃষ্টান্ত নতুন করে বলার প্রয়োজনীয়তা রাখে না।
দেশে ভয়ে ফোন দেয়া হয় না। দেশে আজ সবকিছুই আছে: আছে সরকারী সন্ত্রাসবাদ, ধর্মীয় মৌলবাদ, জঙ্গী, মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। বিস্তৃত এক জনপদ ধুকছে নিজেদের গড়ে তোলা ফ্রান্কেনস্টাইনের আঘাতে। ক্যান্সারের মতো আমরা নিত্য ব্যাথায় ধুকছি। অপরের পিঠে দোষ দিয়ে ক্লান্ত হইনি, তবে যখন ক্লান্ত হবো তখন নিজেদেরকে দোষ দিতে শুরু করবো। এভাবেই একটা সোনালী দেশে আগুন লাগবে, জ্বলতে থাকবে।

স্তব্ধ পিনপতন

মিউজিকটা জ্যাজ হবে, অথবা ব্লুজ। স্যাক্সোফোনে একজন ককেশীয় কখনো সুরের মোহনীয়তায়, কখনো একঘেয়েমী টোনে বাজিয়ে যাচ্ছে। স্যাক্সোফোন হাতে আমরা আফ্রিকান কালো লোক দেখে অভ্যাস্ত। বিশাল ভূড়িওয়ালা একজন কালোমানুষ চোখ মুখ গলা ফুলিয়ে মোহনীয় ভঙ্গিতে বাজিয়ে যাচ্ছে এই ছবিটাই যখন মনে গেথে আছে, তখন এরকম একজন লিকলিকে ককেশীয় যুবকের হাতে স্যাক্সোফোন দেখে মনে হচ্ছে, এটা ওর জন্য খুব ভারী। তবে খারাপ বাজাচ্ছে না।
বার আমার কোনো প্রিয় জায়গা নয়, খুব মারকুটে সুরাপ্রেমীও নই। ঘরে একা বসে সময় কাটছে না, প্রতিটা ঘন্টা টেনে অসীম সময়ের মতো লম্বাটে মনে হচ্ছিলো।ওভারকোট টেনে চোখে পড়া প্রথম জ্যাজ বারটাতে ঢুকে গেলাম। সোমবারেও এত মানুষ সব কোনার টেবিলগুলো দখল করে ফেলেছে। সবাই নিজেকে আড়াল করতে চায়, একটু আলো আধারে জ্যাজের সুরে নিজেকে গুলিয়ে ফেলতে চায়।

অতঃপর বহুদিন পর

বহুদিন পর লিখতে বসলাম। বহুদিন পর মনে হলো আমি ঠিক যে বিন্দু থেকে হাটতে শুরু করেছিলাম ঠিক সে বিন্দুতে ফিরে আসলাম। তখন বুক ভরা স্বপ্ন ছিলো, এখন স্বপ্ন ভাঙ্গা বেদনা। স্বপ্ন ভাঙ্গা গড়ার আঘাতটা বাহ্যিক নয় বলেই আমরা আবার শুরু করতে পারি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা কিছু একটা গড়ার জন্য ছুটতে থাকি। মৃত্যুর শীতল পরশ যখন চুমু দিয়ে যায়, তখন এক লহমায় ফিরে দেখি অতীতের ক্ষনগুলো। জন্মের পর হুট করে আধার থেকে প্রচন্ড আলোয় কান্না জুড়ে দিলাম, মৃত্যুর পর সেই অন্ধকারে ফিরে গেলাম চোখের শুকনো অশ্রু নিয়ে।

ধ্বংসের জয়গান

ছন্নচ্ছাড়া দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে ছিলো কালো লোকটি। বয়সের দাগ কপালের ভাজে লেগে থাকলেও দু বাহুতে ঘোষনা দেয় অসুরতম শক্তির। কাঠিন্যে ভরা মুখের কাটা দাগে লেখা আছে নির্যাতিত অতীতের গল্পগুলো। হাতে একটা চিঠি বাতাসে পত পত করে উড়ছে। প্রচন্ড ঠান্ডায় যেখানে আমার দাতের দোপাটি কাপছিলো তার উদাস চোখের উষ্ঞতায় মনে হলো প্রকৃতির এই শৈত্য স্পর্শ তাকে কাবু করতে পারেনি। হঠাৎ সজাগ হয়ে যায় পকেটে থাকা মোবাইলের কাপুনিতে। নিজের ভাষায় কি যেনো বলে খুশি হয়ে গেলো আর চোখ দিয়ে পড়তে থাকলো অশ্রু। ফোনে কথা শেষ হলে এগিয়ে যাই," বন্ধু, তোমার অশ্রু মাখা হাসি মুখ দেখতে ভালো লাগছে। বলবে খুশীর খবর?"
: বন্ধু, চলো কোথাও বসি যদি তাড়া না থাকে।

বিশাল এক ক্ষুদ্রতা

সুইবাসে করে ওরেব্রো যাচ্ছিলাম। মাঝপথে থামলো ভসতেরস নামের একটা শহরে। খুব সুন্দর শহর। বাস স্টেশন থেকেই দেখা যায় কাঁচে ঘেরা সুউচ্চ দালান। স্টক হোমের বাইরে জমাটি শহর গুলোর মধ্যে এই শহর একটি। বয়সে যৌবনা এই শহরটিতে ৩০ মিনিটের যাত্রাবিরতী। সবাই হাটা হাটি করছে, ফোনে কথা বলে চলেছে কেউ অবিরাম। ব্যাস্ত সবার মাঝে এক লাল টুকটকে স্বর্নকেশী ছোট্ট মেয়ে তাকিয়ে দেখছে আমাকে। আমি তাকে সুইডিশে বললাম," কি দেখছো সিন্ডারেলা?"
ভ্রু কুচকে বললো,"আমি সিন্ডারেলা না, আমি প্রিন্সেস সারা!"

"ওকে সারা, তোমার মা কোথায়?" মেয়েটি আমার প্রশ্নের ধারে কাছে না গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,"মিস বলেছে রাস্তায় মুখ হা করে দাড়িয়ে থাকতে নেই। পেটে পীড়া হয়।" এই বলে মেয়েটি উল্টো ঘিরে ভোঁ দৌড়। আমার বুঝতে সময় লাগলেও পাশের এক বুড়ি হাসতে শুরু করলো জোরসে। তার দিকে তাকিয়ে বুঝলাম আমি কাঁচে ঘেরা ঐ তিলোত্তমা দেখে আনমনে তাকিয়ে ছিলাম বেশ কিছুক্ষন। Big smile

স্বপ্নালু অশ্রু

সেদিন বিশাল পার্টি ছিলো গ্রান্ড হোটেলে। প্রচুর লোক, ব্লন্ড চুলের অপরুপ সুন্দরী, কমপ্লিট স্যুটের কর্পোরেট, রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের ছড়াছড়ি। ওয়াইন সার্ভ করার দায়িত্ব আমার ওপর পড়েছে আর আমার সাথে সিন্থিয়া আর জোবিহা। জোবিহা ইসরাইলের। প্রথম যেদিন দেখা হলো বেশ ভড়কে গিয়েছিলাম। শেভ করা ছিলাম না, চোখ দুটো লাল। ভোর বেলা আধ ঘুমে ড্রেস রুমে জামা চেন্জ্ঞ করে যখন টেবিলের বিশাল বিশাল সাদা কাপড় লন্ড্রিতে নিয়ে যাচ্ছিলাম তখন হঠাৎ পেছন থেকে আমাকে একটা মেয়ে ডাকলো।

পেছনে তাকিয়ে দেখি অপরুপ সুন্দর কালো চুলও মেয়ে। মেয়েটির চেহারার সবচেয়ে আকর্ষনীয় হলো চোখ আর তার মোটা ভ্রু। বিশাল বিশাল চোখে চোখা চোয়াল আর নাকের সাথে অদ্ভুত ভাবে মিলিয়ে গেছে। ডোরা কাটা সুন্দরী যাকে বলা যায়।
: (সুইডীশে) তুমি কি এখানে নতুন?
: এই তো কিছুদিন।
: যাই হোক, ওয়াইনের বোতল গুলো কার দায়িত্বে? একটাও সাজানো নেই। ফ্রেন্ঞ্চ ওয়াইনের সাথে লেবানীজ। হোয়াইটের সাথে রেড। কাল কি নতুন কেউ কাজ করেছে এখানে?
: তা তো বলতে পারবো না। তবে কোথায় এরকম হয়েছে বলতে পারো?

ত্রুটিহীন দুঃসময়

ভাবনার কার্নিশে ডাহুকেরা ঝিমিয়ে আছে কিছুক্ষন। মেঘলা দুপুরে সান্ধ্যআইন মেনে চলা ন গরীর পথগুলো শান্তিতে ঘুমিয়ে। বৃষ্টির ফোটাগুলো আমার লোমশ হাতে দৌড়ঝাপ দিয়ে যায়। বাতাসের শীষে কিছুগান খুব পরিচিত লাগে। দুঃখ পাবার বিলাসী সময় কাটছে এখন। দীর্ঘস্হায়ী নয় জেনেও "যাক না সময় যাক না চলে" মুডে চোখ বুলাই সবুজ বনানীর পানে।

বন্ধু আমার

আজ আমি আমার এক বন্ধুর গল্প বলবো। এইচএসসি পরীক্ষার এক মাস আগে তার ইতালীতে ভিসা হয়ে যায়। সেটা ২০০২ এর ঘটনা। ওর বাড়িতে গিয়েছিলাম তার আগের দিন, ব্যাগ গুছাচ্ছিলো সেদিন। আন্কেল কলেজের শিক্ষক, আমাদেরকে দেখে জিজ্ঞেস করছিলেন প্রস্তুতি কেমন। ওনার কন্ঠে উত্তর পাবার আকুতি ছিলো না, আকুতি ছিলো আমাদের মাঝে নিজের সন্তানের ছায়াকে।

সুমিত ছিলো ওর নাম। তখন ৮ লাখ টাকা জোগাড় করতে গিয়ে নিজেদের বাসাটা বিক্রি করে দেন ওর বাবা। ভাড়া বাসায় থেকেছিলো ওরা। বন্ধুটি আমাদের জড়িয়ে ধরে অঝোর ধারায় কেদেছিলো। আমরা কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না, তবে এটা বুঝেছিলাম যে পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন ওকে নিয়ে ঘোরা হবে না, ওদের বাসায় মিস্টি খাওয়া হবে না।

ইতালীতে বহুদিন ছিলো, অনেক চড়াই উৎরাই পার করে ওরা। ওর বাবা অবসর নেন, ছেলের টাকায় মেয়ের বিবাহ দেন। আমরা অনেক আনন্দ করি ওকে ছাড়াই। বিয়ের আগে ফোন দিয়ে বলেছিলো,"আমার বোনটা যেন সুখী হয় তোরা দেখিস!"

বিরক্তিকর মহাকাল

দিন ছোট হবার সময়টা বড্ড বিরক্তিকর। ছুটির দিনে এক লহমায় পাখির ডানায় উড়ে চলে যায়। নতুন দিনে চোখ খুলে শুধু ক্লান্ত অনুভূতি ঘিরে থাকে। পাশে শুয়ে থাকা অসম্ভব সুন্দর ন গ্ন পিঠে মাথাটা এলিয়ে দেই। সোদা ঘ্রানে মাদকতা ছুয়ে যায় নিউরনের প্রতিটা কোষে। সোনিয়ার অস্পষ্ট আরবী গোঙ্গানীতে লেগে থেকে এক আহ্লাদী সুর। চিৎ হয়ে শুয়ে আমার মাথাটা ওর পেটে ঠেলে দেয়। আমি চুমুতে নীচে নামতে থাকি, সময়কে অবজ্ঞা করে তলিয়ে যা্য। কাজে হয় দেরী, মনটা জানি না কোথায়।হোয়াটসআপে ছবির ছড়াছড়ি, আকর্ষিত ইশারার অনন্ত অবগাহন।

আমার আরবেটলীডার এখনো ঠিক হয়নি, আমার কাজের মূল্যায়ন কে করে সেটাও জানি না। জানি শুধু কাজের সময়ে এলকোহল খাওয়া যাবে না। চেকিং এ ধরা খেলে জরিমানা, ঝামেলা। একসময় দুটা-তিনটা বীয়ারে পুষিয়ে যেতো দিব্যি। এখন প্রতিটা নিঃশ্বাসে লেগে থাকে ওয়াইন বা হুইস্কির বুঁদ হবার নেশা।