ইউজার লগইন

সম্মোহিত চুম্বন ১

১.

কথার জালে আটকে যায় ভাবনার প্রস্ফুটন। শূন্য অনুভুতি নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়া যায় না। শুধু হ্যা অথবা না অথবা হুমম। প্রশ্নকর্তা প্রাণপন চেষ্টা করে যায় জালটাকে ছাড়াতে, কিন্তু যখন দেখে তার ফেলা জালে ভাবনার স্হিতিস্হাপকতায় মাখামাখি চুড়ান্ত, তখন হাল ছেড়ে দেয়। নতুন সময়, নতুন দিন, নতুন খেলা।

কাজে যাওয়া হয় না মাস খানেক, হাতে থাকা ছুটিগুলো খুচরো টাকার মতো খরচ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। অথচ কিছুই নেই আমার কাছে, নিঃস্ব আর নিঃসঙ্গতা ল্যাপ্টাল্যাপ্টি করে লেগে আছে নিরন্তর। পাশের ফ্লাটে আর পার্টি হয় না। কারন সিন্ডি আর ক্রিস্টিনার মা দুটোকে কান ধরে শুধরানোর চেষ্টা করছে। প্রতিদিন সকাল বারান্দায় উঠে দেখি ক্রিস্টিনা মেঝে ঘষছে ব্রাশ দিয়ে আর সিন্ডি দেয়ালে রং লাগাচ্ছে। আমি 'হায়' দিলে মুখ টা ঘুরিয়ে নেয় দু'জনেই। দেখতে ভালোই লাগে দুই কিশোরী মেয়ে গাল ফুলিয়ে দিনভর নিরন্তর কাজ করছে।

ঘরে গিয়ে দেখি দেশ থেকে প্রায় ১৪ টা মিসড কল। অদ্ভুত লাগে যখন দেখি মোবাইলটা হাতে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অলস সময় কাটে তখন একটা কল ও আসে না। কল করলেও ধরে না, যেন তার সময় নেই কথা বলার। অথচ যখন নিজেকে নিয়ে একটু ব্যাস্ত হই, সুখভাবনায় ডুব দেবো বলে গা টা এলিয়ে দেই বিছানায় তখন আসতে থাকে একের পর এক অপ্রয়োজিনীয় কল।

: হ্যালো।
: কি করছিস বাবা?
: কিছু না। বসে বসে আকাশ দেখছি। কিছু বলবে?
: গতকাল মাইমুনার বাবা এসেছিলো। কাঁদলো আমার কাছে। সত্যি করে বলতো বাবা মাইমুনা যা বলছে তা ঠিক?
: কি বলেছে?
: ওর নাকি দু'মাস চলছে। বাবা, এই বয়সে আমার মাথাটা হেট হয়ে আসছে। কি বলবো একটু বল আমাকে।
: বাবা কোথায়?
: আর কই? নতুন বাসা খুজতেছে। বলতেছে সে মাইমুনার বাবার সামনে দাড়াতে পারছে না।

আমি ফোনটা রেখে দিলাম।

২.

ঢাকায় যেদিন প্রথম পা দিলাম তখন মনে হলো ঢাকা ফেটে চৌচির। বৃষ্টির এতটুকু দেখা নেই, বাতাসর খামচি মনে করিয়ে আরবের লু হাওয়া। এরকম উত্তপ্ত ন গরীতে রাস্তা জুড়ে ধূলোবালি ছড়াছড়ি। ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যাম। সূর্য্যের তীব্র রোদে দগ্ধ হতে থাকে শরীরের খোলা অংশ। টানা দু'দিন ঘুমালাম। ব হুদিন পর লুঙ্গি পড়লাম, উদোম হয়ে সেই পুরোনো দিনের মতো জানালা খুলে ঘুমালাম। যখন বিদ্যুৎ চলে যায় তখন ঘুমটা ভেঙ্গে যায়। ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে ঘুমাই, ঘামে ভিজে গেলে গোসল করতে গিয়ে দেখি পানি নেই। রান্না করা যাচ্ছে না, কারন গ্যাস নেই।

একদিন রাতে প্রায় ৩ ঘন্টার জন্য লোড শেডিং শুরু হলো। বাবা বারান্দায় বসে বিল্ডিং এর ফাক গলে খোলা আকাশ খুজছিলেন।

: বাবা, এই গরমে দম আটকে যাচ্ছে।
: বস এখানে, সুইডেন দেশটা কেমন?
: প্রচন্ড ঠান্ডা, কিন্তু ভালো দেশ। অবাক ব্যাপার কি জানো? এই দেশের কোনো গরীব নেই। যার কাজ নেই, তাকে সরকার আপন সন্তানের মতো লালন পালন করে। যখন অসুখ হয় তখন তাকে ভাবতে হয় না খরচ নিয়ে। রাস্তায় পুলিশ নেই, কিন্তু মাস ঘুরে শোনা যায় না কোনো হত্যা বা ধর্ষনের খবর। আর বিচার ব্যাবস্হাকে নিজের বাবা মায়ের মতোই বিশ্বাস করে ধনী গরীব ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সবাই।
: বাহ! সুন্দর তো।
: হ্যা সুন্দর! যেটা বলতে চাচ্ছিলাম, কালকে দুটো এসি কিনবো আর ইউপিএস না এপিএস কি যেনো আছে সেটাও কিনবো। তুমি কি কালকে যাবে আমার সাথে?
: কারেন্টের বিল তো অনেক আসবে তাহলে?
: তুমি টাকা নিয়ে ভেবো না বাবা।

বারান্দাটায় একটা গুমোট ভাব। আমি গামছা দিয়ে শরীরের ঘম মুছছি বারবার। বাবা বলে উঠলো,"কারেন্ট কখনো আসবে ঠিক নেই। তোর মায়ের বালিশের নীচে ছাদের চাবী, ওখানে গিয়ে পাটি বিছিয়ে শুয়ে পড়। মশাও তেমন নেই।"

বুদ্ধিটা মনে ধরলো। স্যন্টো একটা গ্যান্জ্ঞী গায়ে দিয়ে একটা পাটি বগলদাবা করে ছাদের দিকে পা বাড়ালাম। ছাদে পা রেখে হঠাৎ একটা অনুভূতি মনে ভর করলো। বিশালতাকে গ্রাস করতে থাকলে, শত স হস্র তারা ঝিকিমিকিতে মনে হলো আজকে আকাশে উৎসব লেগেছে। কোনো এক সুন্দরী রজকন্যা তারার বিয়ে, তাই তারা সেজেছে এক অপরুপ সাজে। আমি নিজের অজান্তেই বাহ বলে উঠলাম।

এমন সময় আলো আধারী অবয়বে সামনে বলে উঠলো,"কি হলো? বাহ কাকে বলছেন?" আমি চমকে উঠলাম, ভালো করে চেয়ে দেখি না, এ আর অন্য কিছু নয়, আলো আধারীতে দাড়িয়ে আছে এক মানবী।
:ওহ! আকাশের তারা দেখে। অন্য কিছু নয়।
: আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না। নতুন এসেছেন?
: আসলে.....আসলে.....আমি নতুন এসেছি। তিনতলায় আমার বাবা মা থাকে। আমি সুইডেনে থাকতাম।
: ওহ! আপনিই সেই শফিক। আপনার নাম অনেক শুনেছি আন্কেলের মুখে। আমি মাইমুনা, আমার বাবার বিল্ডিং এটা।
: আচ্ছা, তাহলে আপনি আমাদের বাড়ি আলা। ছাদে এসেছিলাম শুয়ে থাকতে।
: অবশ্যই, শুয়ে পড়ুন।

আমি একটু ভ্যাবাচ্যাক খেলাম। কথার টোনের একটা অহংকারের ছোয়া পেলাম। যদিও কন্ঠে আছে মাদকতা, যাতে একটা আকর্ষন আছে। আমি পাটি বিছিয়ে শুয়ে পড়লাম, আর মৃদু মন্দ হাওয়া আমার শরীরের প্রতিটা রন্ধ্রে শীতলতার প্রলেপ দিয়ে যায়। চোখের পাতা ভারী হয়ে যায় আস্তে, তারাদের সম্মিলিত সুর আমাকে তন্দ্রায় ডুবিয়ে ফেলে।

...................................

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

এ টি এম কাদের's picture


শেষ হয়েও হলনাকো শেষ ! ওইযে বাড়ীওয়ালী, ওর দু'মাস হলো কিভাবে ? ক্রিষ্টিনা আর সিন্ডির মতো পার্টিতে গেছিল আপনার লগে ? তো আগেভাগে একটু টিপস দিয়ে নেবেননা ? এ যে বাঙ্গাল মেয়ে ! এদের বেশিরভাগই শুধু কাঁদতে জানে । আবেগ আর অবাস্তবতা এদের গিলে রাখে । সাবধানতা, প্রিকশন কিছুই ধাতে নেইযে ! কষ্ট পাবে মেয়েটা ।

দূরতম গর্জন's picture


কষ্টই যে জীবনের অংশ।

তানবীরা's picture


এ যে বাঙ্গাল মেয়ে !

বাঙ্গাল ছেলেদের ব্যাপারে কিছু আলোকপাত করবেন আশা রাখি। প্রিকশন" এর দায়তো মেয়েদের একার নয়

দ্বিতীয় অংশ পড়ার আশায় রইলাম

এ টি এম কাদের's picture


নৈতিকতার দিক থেকে ধরলে দায় অবশ্যই ছেলেমেয়ে উভয়ের । কিন্তু যারা আউট অফ ওয়েড-লক পরস্পরের মাঝে দৈহিক সুখ খোঁজে তাদেরকেতো আর নৈতিকতার পাল্লায় তোলা যায়না । আর ছেলেদের কথা বলছেন ! প্রকৃতিইতো ছেলেদের কিছু বারতি সুযোগ দিয়ে রেখেছে ! অন্তত ছেলেদের দেহে ফেঁসে যাবার কোন চিহ্ন থেকে যায়না এবং জীব-জগতের সবাই নাহোক অনেকে সুযোগের সদব্যবহার করে ।

দূরতম গর্জন's picture


হুমম

দূরতম গর্জন's picture


লিখবো। রিহ্যাব শুরু হয়েছে। অষুধে বড্ড ঘুম পায়

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

দূরতম গর্জন's picture

নিজের সম্পর্কে

মহাশূন্যের গুন গুন শুনতে চাই, কান পেতে রই তারাদের আহ্বানে। দূরতম গর্জন যখন সৈকতে আছড়ে পড়ে, আমি পা ফেলে উপভোগ করি সাগরের কূর্ণিশ। মানুষ হয়ে জন্মাবার অহংকারই শুধু বিদ্যমান, অথচ নিত্য বেচে আছি তেলাপোকার শৌর্য্যে!