দাপুটে খিস্তি
রফিক মুদীর দোকানে হাসিমুখে এগিয়ে গেলো। গা থেকে ভুড় ভুড় করে বের হওয়া বিরানীর গন্ধ শুনে শামসু জিজ্ঞেস করে বসলো,"কিরে, হাজীর বিরিয়ানি?"
রফিক মুচকি হাসি দিয়ে বললো,"নিজ হাতে বিরানী পাকালাম। চল সবাই। মেলা দিন এক সাথে খাওয়া হয় না।"
শামসুর সাথে বসে ছিলো ঝন্টু, ফনু, কচি স হ উঠতি বয়সের বখাটেদের দল। সবাই রফিককে অনুসরন করলো তার নতুন ফ্লাট বাড়িতে। সবার মুখে মুচকি হাসি। রফিক নীচতলার কেচীগেটের তালা খুলবার সময় ঝন্টু জিজ্ঞেস করলো,"রফিক, ফারুকের সাথে আর তর কথা হইছিলো? তোরা দুই জন যে রাতে চান্দার টাকা নিয়া ঝগড়া করলি এরপর তো আর এলাকায় দেখলাম না। দুই দিন ধইরা পোলাটার খবর নাই।"
রফিকের গেট খুলে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বললো,"আমারও আর দেখা হয়নি। আছে কোথাও হয়তো। তোর ৫০০ টাকা এখনও দেয় নাই?"
ঝন্টু কিছু বলার আগে শামসুর অট্ট হাসি দিয়ে মুখ ফসকালো,"আর ৫০০! দেখ কোথায় গিয়া চান্দার টাকা নিয়া মৌজ মাস্তি করতাছে।"
সবাই রফিকের ঘরে ঢুকেই দেখে বেশ গোছানো বাসা। এই প্রথম রফিকের বাসায় আড্ডা। ঘর ভর্তি বিরানীর গন্ধের সাথে কটুঁ ব্লিচিং পাউডারের গন্ধ।রফিক সবার হাতে প্লেট ধরিয়ে দিয়ে দুই গামলা বিরানী আর তিনটা ২ লিটারের কোকের বোতল। সবাই মেঝের কার্পেটে বসে পড়লো খেতে।
ফনু মুখে বিরানীর লোকমা নিয়ে হড়বড়াতে লাগলো,"বিরানীটা পুরাই মাখ্খন। রফিকের হাতের বিরানী রোজ খাইতে হইবো। গোশতটা কিসের? খাসি না গরু কিছুই বুঝতাছি না। মাখ্খনের মতো গইলা যায় মুখ দিয়া। মশলাটা পুরা গোশতের ভেতর ঢুকে গেছে।"
হঠাৎ শামসু হাতে এক টুকরা মাংসপিন্ড ধরে চিৎকার করে হাতের প্লেট টা ফেলে দিলো। মাংসপিন্ডটা ছিটকে পড়লো ফনুর সামনে। ফনুর মুখের চাবানো বন্ধ হয়ে গেলো। ফনু তার চর্মচক্ষে বিশ্বাস করতে পারছে না কি দেখছে। সবাই হতবিহ্বল। কারন তাদের সামনে পড়ে আছে একটা মানুষের হাতের কনি আঙ্গুল।
শামসু হাউ মাউ করে রফিকের নামে খিস্তি খেউড় করতে লাগলো। ফনু রফিকের খোজে পেছনে তাকালো। রফিক হাতে একটা নতুন টম ব্যারেট রিভলবার নিয়ে বসে আছে। ফনুর কাছ থেকেই দু'দিন আগে এই রিভলবারটা কিনেছিলো ন গদ ৩ লাখ টাকা দিয়ে, সাথে ছিলো ৯ টা গুলি। টম ব্যারেটের চকচকে বডিটা দেখে ফনুর দম বন্ধ হবার জোগাড়।





লিখলাম কিছু একটা
মন্তব্য করুন