ত্রুটিহীন দুঃসময়
ভাবনার কার্নিশে ডাহুকেরা ঝিমিয়ে আছে কিছুক্ষন। মেঘলা দুপুরে সান্ধ্যআইন মেনে চলা ন গরীর পথগুলো শান্তিতে ঘুমিয়ে। বৃষ্টির ফোটাগুলো আমার লোমশ হাতে দৌড়ঝাপ দিয়ে যায়। বাতাসের শীষে কিছুগান খুব পরিচিত লাগে। দুঃখ পাবার বিলাসী সময় কাটছে এখন। দীর্ঘস্হায়ী নয় জেনেও "যাক না সময় যাক না চলে" মুডে চোখ বুলাই সবুজ বনানীর পানে।
নম্বরটি মুখস্হ হয়ে গেছে, চোখ বন্ধ করে এখন সেই নাম্বারে ডায়াল করতে পারি। সর্বশেষ ৫২ টা ম্যাসেজে ৩ টি লাইনে একই কথা লেখা, সামান্য এদিক ওদিকও নেই। সম্ভবতঃ কাল রাতের ওয়াইনের নেশা কাটছে না, সোনিয়া মন থেকে বিদায় নিচ্ছে না। যান্ত্রিক রুপে সেজে থাকা ট্রেন স্টেশনে খুজে পাই না বাঙ্গালীয়ানা আকর্ষনের ছিটেফোটা। কেউ এখানে খাতা কলম নিয়ে বসে নেই গান লিখবে বলে, কোনো এক কোকিলা কন্ঠী নেই সেই গান তার কন্ঠে চড়াবে বলে। মানুষ অপেক্ষা করে অতিক্রান্ত সময়ের পিঠে অর্থের হিসাব নিকাশে। আইফোনটাকে ছুড়ে ফেলতে চাই প্রতিদিন, সোনিয়াকে ফিরে আসতে বলি না। বলি, তুমি নিয়ে যাও তোমার স্মৃতিটুকু। তোমার আইফোন, তোমার স হস্র চুম্বন আমার শরীরের অজস্র লোমের গোড়ায়। আমি ইলশেগুড়ি বৃষ্টিতে ধুয়ে নেবো সব পুরোনো অমৃত। আমি অমৃত নিয়ে বাচতে চাই না, কেঁচোর মতো জীবনটাকে কাটাতে চাই এই পৃথিবীর কোণে কোনো এক ছোট্ট গহ্বরে।
প্যান্ডেলটগে বসে দেখি ঝুটি বাধা কিশোরী হেডফোনে বুঁদ হয়ে আছে। বাস্তবতা থেকে পালিয়ে বেড়ানোর সমস্ত আয়োজন তার সাজসজ্জার ভাঁজে ভাঁজে। আমি ইশারায় সময় জানতে চাই, সে ইশারায় আমার পকেটে থাকা আইফোন দেখিয়ে বলে,"তোরটায় কি হয়েছে?" আমি ইশারায় বলি,"তুই খুব সুন্দর, কতটুকু সময় দিবি কথা বলবার জন্য তাই জিজ্ঞেস করলাম"
সুন্দরী হেডফোন খোলে, মিস্টি হাসি দেয়। আমি হেসে বললাম,"তৃষ্ঞা পেলে কোথাও কি বসা যায়?" সামারা নাম ছিলো, সোদরাতে নেমে একটা থিয়েটারে নিয়ে গেলো। ক্ষুধা পেটে কবিতা নাকি খসে খসে কাগজের টুকরা। তবু ওর চুম্বনে ভীনদেশী অপেরা হয়ে গেলো সুরেলা কোনো মহাকাব্য। কোনো পানশালায় একটা, দুটা, তিনটা, তারপর ছোট্ট ছোট্ট দুটো একটা শট। এভিসির গানের তালে গুন গুনিয়ে গাওয়া। তারপর ওর বাসাতে এত পিংক রং কেন সেটা নিয়ে গবেষনা করতে গিয়ে পুরোটা কি যেন কিসে মেতে ওঠা।
আবারও একটা নতুন দিন, নতুন কাতরতা। পথে নেমে ভাবি, অনেক তো হলো। ঘরে ফিরে যাই। সেই পুরোনো কপোতাক্ষ নদের পাড়ে বসে থাকি একবার। এখন কিছুটা পানি আছে, তাতে খেলা করে ছোট ছোট ঢেউ। ঘোর কাটবে পুর্নিমা কেটে গেলে। তখন না হয় ভাববো বাকিটা জীবন কিভাবে কাটাবো। আপাতত ফিরে যাই ঘরে। ঘরটা আমার একা পড়ে আছে অব হেলায়। কটা মুখ অব হেলায় কাদছে। তারা নীল আকাশ দেখে না, দেখে না পূর্নিমার আলোতে এতটা ফিকে হওয়া। তারা দেখে দেয়ালে ঝুলে থাকা আমার ছবি আর আমাদের স্বর্নালী অতীত।
সোনিয়া, তুমি ভালো থেকো।





সুন্দর সুন্দর। অতিশয় সুন্দর।
সুন্দর সুন্দর। অতিশয় সুন্দর।
ভালো
ভালো
সুন্দর সুন্দর। অতিশয় সুন্দর।
সুন্দর সুন্দর। অতিশয় সুন্দর।
সুন্দর সুন্দর। অতিশয় সুন্দর।
সুন্দর সুন্দর। অতিশয় সুন্দর।
সুন্দর সুন্দর। অতিশয় সুন্দর।

ভালো
তাই?
একটু সামলে, বৃত্তবন্দি হয়ে পড়লেই বিপদ।
বৃত্ত ভাংগার চেস্টা অবিরাম
নিঃসঙ্গতাই একমাত্র পরিণাম
ভাল লাগলো লেখা
আপনার মন্তব্য পেয়েও ভালো লাগলো
আফসোস ও হিংসে হয় আবেগ ইশারায় ঠাসা এত সুন্দর করে না লিখতে পারার জন্য। অনেক ভাল হয়েছে। দশটি বছর প্রবাসী ছিলাম। মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারি এ নিঃসঙ্গতাকে। তবে যেহেতু আপনি লেখক, কিছুটা নিঃসঙ্গতার শেয়ার তার সাথে করতে পারছেন, এটাও অনেক পাওয়া। ভাল থাকবেন।
ব্লগে প্রথম এত ভালো কমেন্ট পেলাম। ধন্যবাদ আপনাকে এবং স্বাগতম আমার ব্লগে
মন্তব্য করুন