নবম মাত্রার রোবট সংক্রান্ত বিশেষ বিজ্ঞপ্তি
১)
পৃথা কমলা রং এর কমলার রস পান করতে করতে রিক্তর কথা ভাবছিলো, রিক্তর কথা ভাবতে তার যত ভালো লাগে কমলা রং এর কমলার রস পান করতে তার ততই বিরক্ত লাগে। পৃথার প্রিয় হচ্ছে স্বপ্ন পানীয়, যেকোন স্বপ্ন পানীয়ই তার মনে চনমনে ভাব নিয়ে আসে, নিয়ে যায় তন্দ্রার জগতে। বিশেষ করে মার্কেটে যে নতুন ড্রিংকস টা এসেছে বেগুনি রং এর জারুল ফ্লেভারের পার্পলী সেটা এখনো চেখেই দেখা হোলো না।
রিক্তর সাথে দেখা হবার পর থেকে সব কিছু একটু একটু বদলে যাচ্ছে। ছেলেটা খুব গোছানো হিসেবি বেহিসেবি পৃথার ঠিক উল্টো। ওর মতে অসাস্থ্যকর এসব পানীয় গ্রহন করা উচিৎ না, শরীরে ক্ষতি হয়, সপ্তাহান্তে পরিশোধনাগার তো সব ক্ষতিকর বর্জ্য বের ই করে দেয়। কদম নগর প্রতি বছর বৃষ্টিতে ভেজার আয়োজন করা হয়, সব জুটিরা বৃষ্টিতে ভিজে অথচ রিক্তর এসব মধ্যযুগীয় আজাইরা কাজ মনে হয়, বৃষ্টিতে ভিজলে ঠান্ডা লাগবে সাথে মাথাব্যাথা ফ্রি। ছেলেটা রাস্তার ধারের অসাস্থ্যকর খাবার ও খায় না, সেদিন একটা সিনেমা দেখে বলছিলো বাসিমুখে চুমু খাওয়াটা খুবি অসাস্থকর, চুমু খাওয়ার আগে স্ট্রং মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা উচিৎ.........
২)
১০৩ ডিগ্রী জ্বর নিয়ে রিক্ত শুয়ে আছে। গত সপ্তাহে পৃথার সাথে দেখা হবার পরথেকেই তার ছন্দবদ্ধ জীবনে কিছু ছন্দপতন হয়েছে। কদম নগরে বৃষ্টিতে ভেজার প্রস্তুতি হিসেবে সে কাল দু ঘন্টা শাওয়ারের নীচে দাড়িয়ে ছিলো আর আজ প্রচন্ড মাথাব্যাথা নিয়ে ঘুমভাঙা ও জ্বর। রিক্ত আবার জ্বর শরীরে একটু পার্পলী ট্রাই করে বমি-টমি করে একাকার অবস্থা করে ফেলেছে। ক্লিনার রোবট এসেছে সেটা পরিষ্কার করতে।
পৃথা একদমি তার উল্টো, ছেলে মানুষীতে ভরপুর। লজিক্যাল কাজ করার থেকে ইললজিক্যাল কাজকারবারেই তার আগ্রহ বেশি। তারপরো এই মেয়েটা কাছে থাকলে রিক্তর খুব ভালো লাগে, মনেহয় কি যেন একটা তার অসম্পূর্ণতা আছে এই মেয়েটা সেটা ভরিয়ে দেয়। পৃথার প্রিয় কবির ভাষায় "আমার জীবন পাত্র উছলিয়া তুমি মাধুরী করেছ দান"। অবশ্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে মাধুরী খুজে রবীন্দ্র নাথের মাধুরীর থেকে গজগামিনীর মাধুরীই তার বেশি আকর্ষনীয় মনে হয়েছে।
৩)
যোগযোগ মডিউলের হলুদ আলো টা জ্বলছে মানে পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে এই গ্রহের সব মানুষের উদ্দেশ্যে কোন বার্তা আছে, সবাই কে সেটি জানার আহ্বান করা হচ্ছে। বার্তাটি সংক্ষেপে নিন্মরূপ:
"এতদ্বারা সর্বসাধারনের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে স্বনামধন্য রোবট কোম্পানি ওমিক্রন ল্যাব তাদের নবম মাত্রার রোবট খুব শীঘ্রই বানিজ্যিকভাবে বাজারজাত করতে যাচ্ছে। এটি মানবিক আবেগ সম্পন্ন এবং সম্পূর্ণ মানুষের মতন বহিরাবয়ব সম্পন্ন সংবেদনশীল যন্ত্র। একাকী মানুষের উপযুক্ত সঙ্গী। উল্লেখ্য যে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু সংখ্যক বিটা ভার্সনের রোবট গোপনে মনুষ্য সমাজে ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো, তাদের সাফল্যের হার শতকরা ৯৭.৬৭% । তারা প্রায় সবাই কোন না কোন মানুষের সাথে জুটি বাধতে সক্ষম হয়েছে এবং বেশ কিছু জুটি বিবাহের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন ও করেছে। শুধু কয়েকটা রোবট নিজেরা নিজেরাই জুটিবদ্ধ হয়েছে না হলে এর সাফল্য ১০০% হত।"
৪)
(ক) নবম মাত্রার রোবট সংক্রান্ত বিশেষ বিজ্ঞপ্তি শোনার পর পরই পৃথা গত সাত দিনের ঘটনা মনেমনে পর্যালোচনা করে বুঝতে পারলো রিক্ত আসলে একটা নবম মাত্রার রোবট। রোবটের পক্ষেই সম্ভব সব কাজের লজিক্যাল হিসেব করা। যতই হোক শেষ পর্যন্ত কপোট্রনে সব ই তো বিট-বাইটের খেলা। জিরো আর ওয়ান। একটা রোবটের (হোক না সেটা নবম মাত্রার) প্রেমে পড়ার দুঃখে পৃথা আকুল হয়ে কাঁদতে লাগলো।
(খ) নবম মাত্রার রোবট সংক্রান্ত বিশেষ বিজ্ঞপ্তি টা শোনার পর দুই এ দুই এ চার মেলাতে রিক্তর একটুও কষ্ট হয়নি। পৃথা নিঃশ্চই একটা নবম মাত্রার রোবট। রোবটের মধ্যে মানবিক আবেগ ঢোকাতে গিয়ে সব ই বেশি বেশি দিয়েছে। তা না হলে কেউ কদম নগরে বৃষ্টিতে ভিজতে না পারার দুঃখে কাঁদে। তৃতীয়ার একফালি চাঁদ দেখে বলে অদ্ভুত সুন্দর। একটা কাজ যদি এরা ঠিকমতন করতে পারে। একটা রোবট নানা রোবটীর জন্য জ্বর বাধিয়েছে এই আক্ষেপে রিক্ত নির্ভার মস্তিষ্কে আর ভারাক্রান্ত হৃদয়ে শুনতে লাগলো "আমি কেবলি স্বপনো ....করেছি বপনো........."





সাইফাই পড়ি না তো সাইফাই ই দিছে পয়লা
(
কাকন্দি অভ্র দিয়া চালাইতেছি - এইখানের ফনেটিকে এত হাবিজাবি আয় ক্যান !
আমি তো ফনেটিকেই লিখি
হা হা হা হা হা। মজা পাইলাম। সাই ফাই পইড়া মজা পাওয়া একটা ব্যাপক ঘটনা। তয় কাহিনীতো শেষ করলেন না। আপনার সাই ফাইয়ের একটা বিশেষ দিক হিওল হাল্কা মুডের সাই ফাই। পড়তে কষ্ট কম হয়। আর এর মাঝে কিছু রবীন্দ্রনাথ আর মাধুরীরা ফ্রী থাকে বলে মুড পাওয়া সহজ হয়। ভাল্লাগছে অনু পরমানু সাইজের সাই ফাই টা।
সাই ফাই পইড়া মজা পাওয়া একটা ব্যাপক ঘটনা -- আপনি জাফর ইকবালের টুকু এবং ঝা এর প্রায় দু:সাহসিক অভিযান, আমঢ়া ও ক্র্যাব নেবুলা হুমায়ূন আহমেদের অহক ইত্যাদি পড়েন নাই মনে হয় ।
কাহিনী শেষ করলে আপনারা কি করবেন; আপনারা এখন ভাবেন এদের দুইজনের দুইজনি মানুষ, নাকি একজন রোবট , একজন হইলে কোনজন, নাকি এরা দুইজন ই রোবট যারা নবম মাত্রার রোবটের সাফল্য ১০০% হইতে দেয় নাই
আরে ঐ গুলা পড়ছি। টুকুনজিলের নাম বাদ দিছেন। কিন্ত ব্লগে যেসব সাই ফাই হয় সেইগুলার কথা কইতেছিলাম আর কি। মাঝের মধ্যে দুয়েক্টা স্ক্রু ডিলা ছাড়া এই ধরনের বিনোদন পাওয়া যায় না তেমন একটা।
আমি ভাই ছাপোষা মানুষ। হ্যাপি এন্ডিং ভালা পাই। তিন ঘন্টা সিনেমা দেইখা হাত তালি দিতেই বেশি পছন্দ করি। সময় নষ্ট কইরা দুঃখ দুঃখ ভাব নিয়া ছোট্ট জীবনের অল্প কয়টা সময় কাটানোর কোনো মানে নাই। তাই ভালোবাসা নষ্ট হইতে দিমু না। আর মানুষের ভালোবাসা দেখতে দেখতে হাপাইয়া গেছি। অতএব এরা দুইটাই রোবট।
মজা মিললো।
"একটা রোবট নানা রোবটীর জন্য জ্বর বাধিয়েছে..."
এইটা পড়ে রোবোট নানা কী বলেন দেখার অপেক্ষায় থাকলাম
হিহিহিহি
হা হা হা হা হা
"একটা রোবট নানা রোবটীর জন্য জ্বর বাধিয়েছে..." -- এই নানা আসলে না না মানে ("একটা রোবট উহু রোবট নয় রোবটীর জন্য জ্বর বাধিয়েছে..."); তয় থাক এই নানা ই দেখি নানায় কি কয়
মাইনষের ভালোবাসার দিন শ্যাষ। এইবার রোবোটিক ভালোবাসা।
রোবট থুক্কু রোবটি মুরিদ লাগবে নাকি ?
ধন্যবাদ
মাইনষের ভালোবাসার দিন শ্যাষ। এইবার রোবোটিক ভালোবাসা।
অবিবাহিত মুকুল কেন এই কথা কয় বুঝ্লাম কিন্তু আপ্নার ঘটনা কি
অবিবাহিত মুকুল ভালোবাসার মর্ম বুঝকে কইত্থে? বিয়া কইরা ফালাইছি বইলা কি দিলে ভালোবাসা থাকতে নাই?
আগেই বুঝে ফেলসি কি হইব
আমার্নিক কা; বুঝবেন ই তো
....ওরে সাইফাই? রাকুর কথার সাথে চরম সহমত....!!
মজা পাইলাম, ছোটো সাইযের সাইফাই পৈড়া, এখন সাইফাই পড়ার একটা ইনসপিরেশন আসবে মনে হয়...
(মনে হয়া জ্যাপস সব পৈড়া ভাজা ভাজা কৈরালছছো? ওমিক্রন রুপান্তর...ইত্যাদি ইত্যাদি...)
পছন্দ করলাম...
হ এককালে পড়ছি এখনতো আর সুযোগ নাই
ওমিক্রন কোম্পানি এই মর্মেও বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে যে নবম মাত্রার রোবটের কিছু ভার্সন ইদানীং সাহিত্য চর্চায় ভালো মেধার পরিচয় দিয়েছে। তারা ব্লগে ব্লগে নানা প্রকার সুপাঠ্য সাই ফাই এবং গাল ভরা পোস্ট দিয়ে ভালোই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
সন্দেহ হয় কানু গ্রুপে এমন কেউ আছে কিনা।
ওমিক্রন কোম্পানি গর্বের সাথে জানাচ্ছে যে তাদের নবম মাত্রার রোবটের সাইফাই সংকলন ২০১০ এর একুশে বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে
অবশ্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে মাধুরী খুজে রবীন্দ্র নাথের মাধুরীর থেকে গজগামিনীর মাধুরীই তার বেশি আকর্ষনীয় মনে হয়েছে।...............মিলছে।
রোবটীয় ভালবাসা...............মাথায় কত প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না তো কেউ জবাব তার
প্রশ্নগুলা করতে ঠিক সাহস পাইতাছি না।
সুশীল ভাষায় বলুন
আপনি যা বলছেন, মন্তব্য করেছন, সেইটাই তো মনে আসছিলো।
সুশীল ভাষার উদাহরণ দিয়া জিনিসটা আপনারে আরেকটু খোলাসা কইরা দিই। একটা শব্দ যেমন ধরেব সেক্স আপীল। এইটা যদি আপনের কাছে ঠিক নিরাপদ মনে না হয়, বলতে যদি সাহসে কুলায়া উঠতে না পারেন তাইলে এইটার অলটারনেটিভ সুশীল শব্দ খুঁজেন। যেমন নুশেরা ব্যবহার করছে ইয়ে আপীল। তাও যদি আপনের না পোষায়, কারণ নুশেরা বাংলা ইংরেজি মিক্স কইরা ফেলছে, আপনের দরকার নির্ভজাল রিমিক্স মুক্ত সুশীল শব্দ, তাইলে আপনে সৈয়দ শামসুল হকের থিকা নিতে পারেন। উনি এইটার সুশীল তর্জমা করছেন যৌবনের আবেদন। দারুন না?
সৈয়দ হক আমার সবসময়ের পছন্দ। তারে একটা উত্তম ঝাঝা। তার আত্মজীবনীটা
পড়ছেন? প্রণীত জীবন? এইবার বের হইছে।
প্রথমালোর ঈদ সংখ্যায় পড়ছি।
এই রোবটের সবি মানুষের মতন; চেহারা থিকা ভাবনাসবি; দেখলে বুঝবেন না যে রোবট না মানুষ; এগো ভালোবাসাবাসিও মানুষের মতন ই
ভাবতেছি, বুড়াকালের জন্য একটা রোবটিনী যোগাড় করে রাখতে হবে
দুইদিনে দুইখান ভাল সাইফাই পড়লাম। সচলে কালকে একজন লেখছে, ঐটাও মজাক হইছে খুব...যদিও আপনারটা পড়ার পর চিন্তা করতাছি রোবট কোনটা?
চিন্তাইতে থাকেন
মজা পাইলাম।
একটা কথা মনে আসলো। সেইটা মনে কইরা হাসতে হাতে পইড়া যাইতেছি। ওরা ভালোবাসা শুরু করলে কি অবস্থা হইবে। একবারেই হাত পা ভাইঙ্গাচুইড়া অবস্থা খতম।
নবম মাত্রার রোবটের সাথে মানুষের বিশেষ কোন পার্থক্য নাই
আমার একটা রোবট দরকার , ক্যাম্নে পাই ?
আপনে পাইলে আমারেও জানাইয়েন
মজাতো পাইলাম, তারপরও কিন্তু থাইকা যায়... ওদের ভালোবাসা নিয়া চিন্তিত,,,,
আমিও চিন্তিত
অমিক্রন কোম্পানীরে মাইনাচ
বিজ্ঞাপনটাই সব নষ্টের গোড়া, নয়তো কাহীনি আরো আগে যাইতে পার্তো।
(সাফি রাইটাররা খালী নবম মাত্রার রোবটদেরই কেন মানবিক আবেগ দেয় এইটা একটা রহস্য, কয় দিন আগে "9" ফিলিম দেখলাম
এই নয়ের ফেকরা হুমায়ুন সাহেব ভালো বলতে পারতেন, হয়তো নয় একটা মেজিক নাম্বার
)
অন্যেরা কেন দেয় আমি জানি না; জাফর ইকবাল দেয় তাই আমিও দিলাম
অফটপিক:
তনুজা জানতে চেয়েছিলো, ব্লগে একটা বোকা-বোকা ইমেজ তৈরী করেছি কেন? জবাব দিলমা, আমিতো বোকাই। নতুন করে আর ইমেজ কি বানাবো?
অনটপিক:
একটা বোকা-বোকা প্রশ্ন করি। গল্পে আসলে কেউই রোবোট না, তাই না?
আপনের মতো রোবোট থাকতে আর কাউরে কাক্না রোবোট বানাইতে পারে না, কিছুতেই না!
অফটপিক: আপনেযদি বোকা হন চালাক কে
অফটপিক: এইখানে কবি নিরব;
কি হইল একটা লিখলাম !!
কাকন্দি এইটা দেখেন - বিশাল জটিল খবর
:D
http://www.sachalayatan.com/riton/30608#comment
ভালোতো..শাব্বাস...
অভিনন্দন তনুজা কেআর তোমারে ধইন্যা
কে রোবট আর কে রোবট না, এইটা নিয়ে কে ভাবে। গল্পটা দারুণ সেইটা ভাবতেছি।
ধন্যবাদ
এটা ভালো লাগে নি। জাফর ইকবাল টাইপ আর গৎবাঁধা (বানান ঠিকাছে?)।
ধন্যবাদ
পইড়া সন্দেহ হইতাছে যে আমি নিজেই মনে হয় নবম মাত্রায় আছি
..
আমারো তাই ধারনা
আমি আইসা পড়সি ...
স্বাগতম
এত্ত ছোট?
মানি না
আমিও মানিনা চলেন আন্দোলনে নামি
চমৎকার।
ধন্যবাদ
এইটা গল্প পড়ার পর নিজেরে মানুষ মানুষ লাগতেছে
আমার মনে হচ্ছে পৃথা আর রিক্ত দুইটাই মানুষ, তবে গল্পকার দশম মাত্রার রোবট হইলেও হতে পারে!
নবম মাত্রাই মানুষ এর কাছাকাছি দশম মাত্রা কিন্তু ফেরেস্তা টাইপ হবে
বিরাট সাইফাই
জ্বী আপু বিরাট সাইফাই
মন্তব্য করুন