ইউজার লগইন

আমরা কি পরীক্ষানির্ভর শিক্ষার দিকে ঝুঁকছি?

নভেম্বর মাসের শুরুতে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ঈদের পরপরই পরীক্ষাগুলো শেষ হবে। ঈদের পর শুরু হবে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য সমাপনী পরীক্ষা। এই দুটো পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বাকি শ্রেণীগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। সমাপনী কিংবা জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষার আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনেকেই তাদের শিক্ষার্থীদের একাধিক মডেল টেস্টের আয়োজন করেছে যেন তারা মূল (!) পরীক্ষায় ভালো করতে পারে। এছাড়া বছরজুড়ে নানা ধরনের পরীক্ষা তো রয়েছেই যার মধ্যে প্রথম সাময়িক ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষাগুলো অন্যতম।

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে প্রাসঙ্গিক আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। এই মুহূর্তে আমার হাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত সরকারি/রেজিস্টার্ড বেসরকারি/কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকাটি রয়েছে। এই তালিকা অনুসারে দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য সরকারিভাবে ৭৫ দিন ছুটি নির্ধারণ করা আছে। এর বাইরে বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস ছুটি এবং ৫২টি শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি তো আছেই। তাছাড়া প্রথম সাময়িক পরীক্ষার জন্য ১০ দিন, দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার জন্য ১১ দিন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার জন্য ১১ দিন এবং বার্ষিক পরীক্ষার জন্য ৮ দিন অর্থাৎ প্রায় ৪০ দিন নানা ধরনের পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষের পড়াশুনা বন্ধ থাকছে। অন্যদিকে ডিসেম্বরে ১৫ তারিখের পর থেকে পরবর্তী দিনগুলো স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যালয়ের ছুটি থাকবে। যেসব বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার সেন্টার আছে, সেখানেও এই এসএসসি পরীক্ষার কারণে বেশ কিছুদিন ক্লাশ বন্ধ থাকে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিদ্যালয়ভেদে ৩৬৫ দিনের মধ্যে কমপক্ষে ১৭৫ দিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকছে। আর অনাকাঙ্ক্ষিত ছুটি তো থাকছেই।

নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই যাদের জেএসসি বা জেডিসি পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে, ধরে নেওয়া যায় তাদের এ বছরের পড়ালেখার এখানেই ইতি। অর্থাৎ ১২ মাসের মধ্যে তাদের পড়ালেখার সমস্ত আয়োজন ১০ মাসে শেষ করতে হয়েছে। অভিজ্ঞতা বলে, খুব কম বিদ্যালয়ই হয়তো ফেব্রুয়ারি মাসের আগে ক্লাসের আয়োজন করতে পেরেছে। জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকেই পড়ালেখা শুরু করার বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা আলোচনায় এসেছে; কিন্তু সব বিদ্যালয় যে ঠিকমতো এই কাজটি শুরু করতে পেরেছে তা বলা যাবে না। অনেক বিদ্যালয় জানুয়ারি মাসে ক্লাস শুরু করলেও নানা কারণে ঢিলেঢালাভাবে মাসটি পার করে দেয়। সেই হিসেবে বলা যায়, অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষাসহ মাত্র নয়টি মাস সময় পেয়েছে পড়ালেখার জন্য। অন্যদিকে যারা সমাপনী পরীক্ষা দিবে, তারা প্রায় মাসখানেকেরও বেশি আগে এ বছরের পড়ালেখার পাট চুকিয়ে ফেলবে। সব মিলিয়ে মানেটা দাড়াচ্ছে, পরীক্ষা ও অন্যান্য কারণে শিক্ষার্থীরা শেষের এক-দেড় মাস সময় পড়ালেখার বাইরে থেকে যাচ্ছে। যখন ক্লাশ হয়, তখনও কি ঠিকমতো ক্লাশ হয়? গবেষণা থেকে দেখা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের প্রায় ১২ শতাংশ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। যারা উপস্থিত থাকেন, তাদের প্রায় ৪২ শতাংশেরও বেশি নির্ধারিত সময়ের পর বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক নানা কারণে ক্লাশ নিতে পারেন না। ক্লাশ শুরু হয় ঠিকমতো, কিন্তু শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের আগেই- এরকম উদাহরণও রয়েছে প্রচুর।

উপরের তথ্যগুলো মোটামুটি এই মেসেজটাই দিচ্ছে যে, আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আসলে বিদ্যালয় পরিবেশে যে পরিমাণ সময় পড়ালেখার জন্য পাওয়ার কথা, তারা সেই সময়টুকু পাচ্ছে না এবং ছুটি এবং পরীক্ষা তাদের একটি বড় সময় খেয়ে নিচ্ছে। বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছুটিই মূলত ধর্মীয় কারণের সাথে সম্পর্কিত। উপরে যে ৭৫ দিন ছুটির কথা বলা হলো, এর মধ্যে ৫০ দিনই হচ্ছে ধর্মীয় কারণে ছুটি। আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা করলে এই ছুটিগুলো হয়তো বাদ দেয়া যাবে না। অন্যদিকে বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষা কিংবা জেএসসি বা জেডিসি পরীক্ষার প্রভাব শুধু পরীক্ষার সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। যেহেতু এই দুটো পরীক্ষার ফলাফলের সাথে বিদ্যালয়ের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের বিষয়টি জড়িত, সুতরাং অধিকাংশ বিদ্যালয়ই বছরধরে সংশ্লিষ্ট শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত কোচিং করানো কিংবা এ ধরনের কাজের সাথে যুক্ত থাকে। এর ফলে অন্য শ্রেণীর শিক্ষার্থীদেরও পড়ালেখা বেশ কিছুটা ব্যাহত হয়।

২.
লেখার শিরোনামে যে প্রশ্নটি রেখেছি- সেটিতেই ফিরে যাওয়া যাক। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি নানা উদ্যেগের ফলে বিদ্যালয়ে মূল্যায়ন ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। আগেকার দিনে শিক্ষার্থীরা যেভাবে মূল্যায়িত হতো, তার চেয়ে বর্তমান সময়ের মূল্যায়ন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন না আসলেও বেশ কিছু লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন আমরা দেখতে পাই। তাছাড়া কিছুদিন আগেও দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর পারফরম্যান্স মাপা হতো না- যেটা এখন প্রতিবছরই হচ্ছে। এই দুটো কারণে যে ঘটনাটি ঘটছে তা হলো, বিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষার পরিমাণ বেড়ে গেছে লেখাপড়ার তুলনায়। পরীক্ষা বা মূল্যায়ন যদিও লেখাপড়ারই একটা অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিত, কিন্তু বাস্তব কারণেই আমাদের দেশে পরীক্ষাকে লেখাপড়ার ফল হিসেবে দেখা হয়। লেখার প্রথম অংশের হিসাব থেকে দেখেছি সরকারি ও অন্যান্য ছুটির কারণে বিদ্যালয় একটা লম্বা সময় ছুটি থাকে। লেখাপড়ার আরেকটি বড় অংশ খেয়ে নেয় এই পরীক্ষা ব্যবস্থা। এই দুটো ঘটনার ফলে শিক্ষার্থীদের সারাবছর শ্রেণীকক্ষে যে পরিমাণ লেখাপড়া করার কথা, তারা সেই সময়টুকু পাচ্ছে না কিন্তু তাদের ঠিকই পুরো সিলেবাস বা কোর্সের ওপর পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। একটি শ্রেণীর সিলেবাস ও পাঠ্যপুস্তক তৈরির সময় নানা বিষয় বিবেচনা করতে হয় যার একটি হচ্ছে শিক্ষার্থীর বয়স। অর্থাৎ এই বয়সের একজন শিক্ষার্থী সারা বছরে নির্দিষ্ট বইগুলো পড়ে শেষ করতে পারবে কিনা, পাঠ্যপুস্তক তৈরির সময় সেটি বেশ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়। এখন শিক্ষার্থীদের সেই বিষয়গুলো না পড়িয়ে কিংবা তাড়াহুড়ো করে পড়িয়ে তাদের পরীক্ষা নেয়া কতোটুকু যুক্তিসম্মত?

এক্ষেত্রে অবশ্য শিক্ষকদের করার কিছু নেই কারণ তাদেরকে কখন কীভাবে পরীক্ষা নিতে হবে সেই নির্দেশনা আসে কেন্দ্র থেকে। এখন কেন্দ্র যদি পরীক্ষার ওপর বেশি জোর দেয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখাকে পরীক্ষামুখী করার দিকে জোর দিবেন। বলা হয়, জুনিয়র লেভেলে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের সমাপনী বা বছরশেষের পরীক্ষা যতো কম নেয়া হয়, ততোই ভালো। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুনেছি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কোনোরূপ পরীক্ষা যাতে না দিতে হয় সেখানকার রাজ্য সরকার সেই ব্যবস্থা করছে। অথচ আমাদের এখানে ঘটছে পুরোপুরি উল্টো ঘটনা। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে শিক্ষার্থীদের অটোপ্রমোশন হওয়ার কথা, কিন্তু তাদেরকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। প্রাথমিক সমাপনী ও অষ্টম শ্রেণীর পর জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে। আমরা কি তাহলে দিনদিন পরীক্ষানির্ভর শিক্ষার দিকে ঝুঁকছি? যদি সেটা হয়, তাহলে তা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। পরীক্ষা কিংবা মূল্যায়ন ব্যবস্থার ওপর আলাদাভাবে জোর না দিয়ে সেটিকে কীভাবে বিদ্যালয়ের লেখাপড়ারই একটি অপরিহার্য অংশ করা যায়- সেটির দিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত।

পোস্টটি ১৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


একমত।
আপনে শিক্ষাব্যবস্থা বিষয়ক এ লেখাগুলো নিয়ে একটা সংকলন বের করেন নেক্সট বইমেলায়। Smile

গৌতম's picture


ট্যাকা? Tongue

মীর's picture


মেসবাহ আজাদ Fishing

গৌতম's picture


দাদাভাইরে কন পিকনিকের আয়োজন করতে।

মীর's picture


আচ্ছা ভালো কথা মনে করছেন তো।
দাদাভাই, বন্ধু-বান্ধবের জন্য পিকনিকের আয়োজন করেন। Smile

টুটুল's picture


দাদাভাই নেট বিহীন জীবনযাপন করতেছেন... আগামী বছরে সে নেটএ ফেরত আসবেন Smile ইনশাল্লাহ

মীর's picture


আ-গা-মী-ব-ছ-র? অতোদিন কি বাঁচবো? Stare

গৌতম's picture


দু-আ করে দিলাম-। বাঁচবেন।

লীনা দিলরুবা's picture


একমত।
আপনে শিক্ষাব্যবস্থা বিষয়ক এ লেখাগুলো নিয়ে একটা সংকলন বের করেন নেক্সট বইমেলায়। Smile

১০

গৌতম's picture


ট্যাকা? Tongue

১১

টুটুল's picture


ক্লাসে এটেনডেন্স বাড়িয়ে পাঠদানে আরো একটু আন্তরিক ব্যবস্থা গ্রহন করলেও এই সমস্যা থেকে কিছুটা উত্তরন সম্ভব... আমার মতামত

শিক্ষা ব্যবস্থার এই দিকটায় একটু নজর দিয়েন... বিশেষ করে শহুরে ছেলে-মেয়েদের উপরের চাপ
শিক্ষা ব্যবস্থা

১২

গৌতম's picture


দারুণ তো! কোত্থিকা পাইলেন?

এটা নিয়া একটা লিখবো ভাবতেসি। দেখি।

১৩

নিশ্চুপ প্রকৃতি's picture


সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিদ্যালয়ভেদে ৩৬৫ দিনের মধ্যে কমপক্ষে ১৭৫ দিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকছে। আর অনাকাঙ্ক্ষিত ছুটি তো থাকছেই।

এর পর পাঠদানের নামে কোচিং সেন্টার গুলো আছেই

১৪

গৌতম's picture


জাস্ট এই সময়টা স্কুলে দিতে পারলেই অনেক সীমাবদ্ধতা কভার করা যেত! কিন্তু কে করবে এই কাজ?

১৫

রশীদা আফরোজ's picture


ছুটি যা আছে থাকুক, বাচ্চাগুলিরে দেখলে বড় মায়া লাগে। বাকি সব বিষয়ে একমত। ভালো একটা লেখা।

১৬

গৌতম's picture


ছুটির ব্যাপারে দ্বিমত রশীদা আপা। বাচ্চাদের ছুটির দরকার আছে, কিন্তু এতো নয়। তাদের বয়স ও অন্যান্য ফ্যাক্টর বিবেচনা করে ব্র্যাক দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে যে কারিকুলাম তৈরি করেছে তাতে দেখা যায় তারা চার বছরেই পাঁচ বছরের কোর্স সম্পন্ন করছে।

আমার প্রস্তাবটা হলো, ছুটিটাকে কাজে লাগানো। এখন যেটা হচ্ছে সেটা স্রেফ সময়ের অপচয়। আর বাকিটুকু কাণ্ডজ্ঞানহীন পিতামাতাদের পাগলামী

১৭

ঈশান মাহমুদ's picture


আপনে শিক্ষাব্যবস্থা বিষয়ক এ লেখাগুলো নিয়ে একটা সংকলন বের করেন নেক্সট বইমেলায়।
মীরের মন্তব্যে সহমত।

১৮

গৌতম's picture


যাক, মীরের সাথে আপনারেও তাহলে ডোনার হিসেবে পাওয়া গেল! Smile

১৯

প্রিয়'s picture


এজন্যইতো নিজের ইচ্ছাতে কিছু করতে পারিনা। সবসময় খালি অন্যের ইচ্ছায় চলা লাগে।

২০

গৌতম's picture


কোনজন্য?

২১

তানবীরা's picture


মন্তব্য করলাম না কারণ আমি ধরা। তোমারে এ সম্বন্ধে কিছু তথ্য দিবো বলেছিলাম, লিখবো বলেছিলাম এখানের নিয়ম সম্পর্কে কিন্তু আজো
কেউ কথা রাখেনি, যাউকজ্ঞা তোমারতো আর তেত্রিশ বছর পার হয় নাই, কি বলো?

২২

গৌতম's picture


আমি অনেক দিন ধরে আশা করে ছিলাম আপনি এই বিষয়গুলো নিয়ে লিখবেন। একসময় হতাশ হয়ে এখন আশা ছেড়ে দিয়েছি।

পারলে লিখেন। অন্তত এই জাতির কিছু মানুষ বুঝতে শিখবে আমরা কোন অবস্থানে আছি!

২৩

তানবীরা's picture


আমিও আমাকে নিয়ে হতাশ গৌতম, এতো ক্লান্ত লাগে আজকাল লিখব কি পড়তেও ইচ্ছে করে না। এবার দেশে এলে তোমাকে ইনফরমেশন পাশ করবো, তুমিই লিখো। তোমার লেখাই আমার লেখা।

২৪

গৌতম's picture


আসলে আমার মনে হয় আপনি লিখলেই ভালো। কারণ শুধু তথ্য জানলেই হয় না, আত্মস্থ করার একটা ব্যাপার থাকে। দেখেন একটু একটু করে হলেও সম্ভব হয় কিনা!

আর আমার কথায় কিছু মনে করবেন না প্লিজ। কারো কারো কাছ থেকে আমি অনেক বেশি কিছু আশা করি।

২৫

তানবীরা's picture


আমি তোমার কথায় কিছুই মনে করি নাই ভাই Big smile

তাছাড়া, আপনজনরা ঝাড়ি না দিলে, এমনিতেও লেখাপড়া হয় না Sad

২৬

গৌতম's picture


পারলে একটা লেখা দাড় করান। অন্য দেশের সাথে তুলনা না করতে পারলে নিজের দেশের শিক্ষা আগায় না।

২৭

সাজেদুল ওয়াহিদ নিটোল's picture


লেখা ভালো লাগল। চলুক।

২৮

গৌতম's picture


ধন্যবাদ। Smile

২৯

সামছা আকিদা জাহান's picture


ভাই এই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রথম গিনিপিগগুলির মধ্যে পরেছে আমার বড়টা। আমি তাকে নিয়ে ব্যাস্ত। সবচেয়ে দু;খজনক যে শিক্ষকেরাই জানে না বুঝেনা। বোর্ডের যে প্রশ্নে ওরা টেস্ট পরীক্ষা দিল সেই প্রশ্নেও সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্ন থাকছে। এখন একটি জিনিস সুস্পষ্ট হয়েছে তা হচ্ছে ১ম থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত একটি শিক্ষার্থীর সিলেবাসে যা যা ছিল সবই এস এস স্যার সিলেবাসের অন্তরগত। বাচ্চাদের জানতে হবে যা তারা নিচের ক্লাশে পড়ে এসেছে ছে তা ও তাদের আসতে পারে। হাতে গনা কয়েকটি স্কুলের বাইরে দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে যে সব স্কুল রয়েছে তাদের শিক্ষকদের যে বেহাল দশা কি হবে যানি না। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার পরীক্ষার খাতা যে শিক্ষক দেখবেন তিনি যদি তার মনের মত উত্তর না পান তবে কি তিনি সেই খাতায় নাম্বার দিবেন আর যে শিক্ষক বুঝেই না তার ক্ষেত্রে কি হবে। যদিও সরকার বলেছে বাচ্চারা প্রশ্নের উত্তর দিলেই পাশ মার্ক দিতে হবে তবে প্রশ্ন প্রসঙ্গের বাইরে হলেও দিতে হবে? আবার শিক্ষকের অজ্ঞতার কারনে খুব ভাল লিখে ও পাশ মার্ক নিয়ে বাচ্চারা কি করবে?

আমাদের দেশের গ্রামের কয়টি বাচ্চা প্রথম আলো পত্রিকা দেখে যে সেই খবর তুলে দিলে বাচ্চারা উত্তর দিতে পারবে?

অথবা কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই কয় জন বাচ্চা শুনেছে যারা একেবারে শিকরে থাকে কিংবা একেবারে উচ্চসমাজে বাস করে?

মওলানা ভাসানী কে এস এস সি র বাচ্চারা হয়ত চেনে জানে কিন্তু সিলেবাসে না থাকলে কি তাকে লিখতে পাড়বে? এ তো সামান্য উদাহরণ। আমি সৃজনশিলতাকে সমর্থন করি কিন্তু যেখানে শিক্ষকেরাই কিছুই বুঝে না জানে না প্রশ্ন দেখে আঙ্গুল কামড়ায় সেখানে বাচ্চারা কি করবে। আর কি লিখব অনেক কথা লেখার আছে পরিক্ষার্থীর মা হিসাবে কিন্তু হিসাব মেলাতে পারছি না।

৩০

গৌতম's picture


আপনার মন্তব্যটা কেন যেন চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল!

আপনার সাথে একমত। সৃজনশীলতা একটা ভালো জিনিস, কিন্তু আমাদের অধিকাংশ শিক্ষকই বুঝেন না, কীভাবে সৃজনশীল প্রশ্ন করতে হয়। সৃজনশীল প্রশ্নের সৃজনশীল উত্তরপত্রও শিক্ষকরা মূল্যায়ন করতে জানেন না। ফলে সৃজনশীলতার নামে কী যে হচ্ছে বুঝা মুশকিল!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

গৌতম's picture

নিজের সম্পর্কে

অনিশ্চয়তার মধ্যে আমার বসবাস। পৃথিবীর কোনো কিছু সম্পর্কেই আমি নিশ্চিত নই। এমনকি যা লিখি, যা পড়ি, যা বলি, সেগুলো সম্পর্কেও নয়।
সমাজতন্ত্র সম্পর্কে মোহ আছে, তবে সমাজের তান্ত্রিকদের কাছ থেকে দূরে থাকতে চাই।

আমার লেখার সব লাইসেন্স ক্রিয়েটিভ কমন্সের by-nc-nd-এর আওতায় রক্ষিত। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে।

শিক্ষাবিষয়ক একটি ওয়েব সাইট নিয়ে কাজ করছি কিছুদিন ধরে - www.bdeduarticle.com