ইউজার লগইন

আহমাদ আলী'এর ব্লগ

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি-৪

যুদ্ধের তীব্রতা যতো বাড়ছে, দেশ স্বাধীনের ক্ষণ যেন ততোই ঘনিয়ে আসছে। পাক হানাদারদের অমানুষিক অত্যাচার-নির্যাতন, গুম-হত্যার মাত্রাও যেন ক্রমে বাড়ছে। এতে দেশের মানুষ কিছুটা বিচলিত হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের কঠোর মনোবল ভাঙতে পারেনি। যুদ্ধকালীন একটি- স্লোগান মনে পড়ছে। খুব সম্ভব স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো- ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। দেশকে হানাদার-আলবদর মুক্ত করার যুদ্ধ চলছে ৯ মাস।

ডিজিটাল বাংলাদেশ

দেশ দেশ দেশ
ডিজিটাল বাংলাদেশ
পড়ছে বৃষ্টি জমছে জল
জলাবদ্ধতা বেশ বেশ।

নদীতে ডুবোচর
নৌকা তাই স্থলে
ভারী বর্ষণে জলজট
গাড়ি চলে জলেতে।

দেশ দেশ দেশ
ডিজিটাল বাংলাদেশ
জ্বালানির দাম বেড়েছে
চলে গাড়ি সিটিংয়ে।

রোজ আসে রোজ যায়
যাত্রী ওঠে লোকালে
ভাড়া যদি দেয় কম
চৌদ্দগোষ্ঠীকে ঝালে।

সারাদিন ঝর ঝর
আষাঢ়ের বৃষ্টি
ডিজিটাল বাংলাদেশে
জলজটের সৃষ্টি।

দেশ দেশ দেশ
ডিজিটাল বাংলাদেশ
জনগণের নাভিশ্বাস
মন্ত্রী-এমপিরা আছে বেশ।

দাম বাড়ে নিত্যপণ্যের
বাড়ে দাম জ্বালানির
দিন আনে দিন খায়
জীবন গেলো ফালানীর।

ব্যতিক্রম

সেদিন অফিস শেষে রাত ১০টায় বাড়ি ফিরতে মগবাজার অয়ারলেস মোড় থেকে সায়েদাবাদ যাওয়ার উদ্দেশে বলাকা বাসে উঠি।বাসটি চলতে চলতে কমলাপুরের কাছে এসে হঠাৎ থেমে যায়। পরে জানা গেলো বাসের চাকা পাংচার হয়েছে। অগত্যা চাকা পাল্টাতে হবে।এক-আধঘণ্টা সময়ের ব্যাপার।তাতে কী যাত্রীভর্তি বাসে এমন কোনো লোকের উপস্থিতি টের পাওয়া গেলো না, যাতে বাসের চালক বা কন্ডাক্টরকে কোনো টু শব্দ করে।বিষয়টি সত্যি অবাক করার মতো। কেননা, যেখানে নিত্যদিন যাত্রাপথে বাসের লোকদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে যাত্রীদের বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হতে দেখা যায়।সেখানে এমন একটি ঘটনা বিস্ময়কর নয় কি?

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি-৩

বাবা গ্রামের বাড়িতে আমাদের রেখে পর দিন ঢাকায় চলে গেলেন। মেজ ভাই ছিলেন ঢাকায়। গ্রামের বাড়িতে যুদ্ধের প্রভাব তেমন একটা বুঝতে পারলাম না। তবে রেডিও অন করলে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত খবরে যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা যেতো। মনে আছে এম আর আখতার মুকুলের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘কি পোলারে বাঘে খাইলো....’। যুদ্ধে পর্যুদস্ত পাক হানাদারদের নানা কর্মকাণ্ড এভাবে রম্যরসিকতার মাধ্যমে তুলে ধরে এম আর আখতার মুকুল মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ-প্রেরণা জোগাতেন এবং দেশের মানুষকে প্রবোধ দিতেন। সন্ধ্যার পর রেডিওতে বিবিসির খবর শোনার জন্য রীতিমতো ছেলে-বুড়োদের ভিড় জমতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির খবর বেশ প্রাধান্য দেয়া হতো। এ খবরের মাধ্যমে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতো। তাই রেডিওতে বিবিসির খবর শোনার জন্য কাজকর্ম সেরে সন্ধ্যার সাথে সাথে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়তো। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গ্রামের লোকজন খোঁজ

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি-২

সেদিন শুধুই হেঁটেছিলাম। গ্রামের নির্জন পথ লোকে-লোকারণ্য হয়ে উঠেছিল। সারা রাস্তায় মানুষের মেলা বসেছিল। দেখেছিলাম, হিন্দু-মুসলিমের ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে জড়ো হয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ভুপেন হাজারিকার সে বিখ্যাত গানের আহ্বানে- ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য..’। দেখেছিলাম, মায়ের কোলো ক্ষুধার্ত শিশুটির জন্য সেদিন কেউ কেউ দুধভর্তি পাত্র হাতে, আবার কেউ পানি বা শরবতের পাত্র নিয়ে সারি সারি ঠায় দাঁড়িয়েছিল। যার যেটা প্রয়োজন তা নিয়ে পান করেছে বা করিয়েছে। এ দৃশ্য কখনো ভোলার নয়। চোখকে ফাঁকি দেয়া যায়, কিন্তু স্মৃতিকে ফাঁকি দেয়া মোটেও সম্ভব নয়। যে কোনো ঘটনা-অঘটন স্মৃতিকে একদিন না একদিন জাগিয়ে তুলবেই। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানুষের মধ্যে সহযোগিতার যে ধারা বয়ে যেতে দেখেছি, তার এক ছিটেফোঁটাও যদি এখন আমাদের মাঝে থাকতো, তাহলে এ সবুজঘেরা, শস্য-শ্যামলা দেশটা কতোই যেন সুন্দর হতো। এদেশের মানুষ সোনার

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি-১

১৯৭১ সাল দেশে যুদ্ধ চলছে। তখন আমার বয়স ৬-৭ বছর। তাতে কী, এ সময়ের ঘটনা আজো স্মৃতিতে গেথে আছে। আমরা তখন সপরিবারে (মা-বাবা, মেজভাই-ভাবি, আমি ও আমার অগ্রজ ভাই) পুরান ঢাকার লালবাগের কাজী রিয়াজ উদ্দিন রোডে নিজবাড়িতে ছিলাম। তখন এখানে এতোটা ঘনবসতি ছিল না। আমাদের বাড়িটি লালবাগ কেল্লার ঠিক দক্ষিণে, মন্দিরের কাছে। এ মন্দিরে কখনো শাঁখের ধ্বনি শোনা যায়নি, এমনকি পূজা-অর্চনাও হতে দেখিনি কখনো। সম্ভবত এটি আগেই বেদখল বা বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। এ মন্দিরটি এখন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রভাবশালীরা এটিকে হিন্দু বাবুদের কাছ থেকে কিনে ইট-বালির গাঁথুনিতে ঢেকে দিয়েছে। লোকচু থেকে আড়াল করে রেখেছে, তবে ভাঙা হয়নি। এ এলাকায় এখনো একাধিক মন্দির বা মঠ রয়েছে, যা পরিত্যক্ত অবস্থায় লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছে। বলতে গেলে বুড়িগঙ্গার কাছে হলেও আশপাশে ছিল কয়েকটি পুকুর বা ডোবা। তবে তেমন ঘনবসতি না থাকায় প্রধান সড়কের লোকজন, গাড়ি-ঘোড়া এবং ল

আমার জীবনে ‘স’ আর ‘শ’

আমার জন্মই হয়েছে ‘স’ থেকে। মায়ের নাম- সমিরন নেসা (পরবাসী)। সংসার জীবনের শুরু ‘শ’ দিয়ে স্ত্রী- শাহানাজ। এছাড়া শিক্ষাজীবনে যাদের পেয়েছি- সিরাজ, শহিদুল হক, শামসুদ্দীন, শের ইসলাম, সোহেল, সানোয়ার, শামীম। ছেলেবেলার আড্ডায়- সামাদ, স্বপন, সাহিদ, শহিদুল ইসলাম। কর্মজীবনে- সালাউদ্দিন, শওকত, সামসু, শাহীন, শাহাদত, সঞ্জিত, সুজন। গানের কলি- ‘ফুলে বসন্ত আসে যে বারবার, জীবনে প্রেম আসে শুধুই একবার....’ মজার ব্যাপার হচ্ছে আমার জীবনেও প্রেম একবারই এসেছিল তার নাম- সুলতানা (শিমুল)। আমার জীবনে ‘স’ আর ‘শ’-এর এমন মিল বা আধিক্য কাকতালীয়। ‘স’ আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে আর ‘শ’ বানিয়েছে শৈল্পিক। তাইতো ‘স’ আর ‘শ’-এর সঙ্গে বসবাসেই যেন আমি ধন্য।

দেশপ্রেম

প্রতিবেশী দেশ ভারতে ইঁদুর হত্যার জন্য ৫ বছর করাদণ্ডের আইন করা হয়েছে। অথচ, আমাদের দেশে মানুষ হত্যা করেও অধিকাংশ খুনি কোনো রকম দণ্ডের আওতায় আসে না। আমার এমন মন্তব্যে প্রতিবাদী সুরে সহকর্মী ‘রশীদা আপা’ বলে উঠলেন, ‘নিজের দেশকে এতোটা অবহেলা করবেন না। দেশকে ভালোবাসুন।’ নিজের দেশ, নিজের সংস্কৃতিকে কে না ভালোবাসে। আমার মধ্যেও এর কমতি নেই। তবে এর ঘাটতি আছে আমাদের রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীদের। তাইতো প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে তাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। অন্যায় কাজের স্বীকৃতি দেয়া মানে দেশপ্রেম নয়। অন্য দেশের ভালো কাজের প্রশংসা করলে নিজের দেশকে খাটো করা হয়- এমনটি ভাবার অবকাশ নেই। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে প্রকৃত দেশপ্রেম। যা দেশকে মনে-প্রাণে ভালোবাসার শামিল। তাই অন্যায়কে ‘না’ এবং শাস্তিকে ‘হ্যাঁ’ বলুন।

কৈফিয়ত

আমার ব্লগটা ওপেন করতেই চোখে পড়লো ‘লেখালেখি ছাড়াই বের হয়ে গেলেন’। বিষয়টি আমার কাছেও ভালো মনে হয়নি। প্রথম দিনেই শূন্যব্লগে বিদায় নিলাম। কৈফিয়ত হিসেবে বলবো- একজন কর্মজীবী একটা কাজেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে বিষয়টি মোটেও প্রযোজ্য নয়। কারণ, সংসারের জুট ঝামেলার পরও আমাকে কর্ম করতে হয় ৩টি- সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা। মাঝখানে এক ঘণ্টা আরেকটি কাজে ঢুঁ মারতে হয়। কাজেই ইচ্ছা থাকলেও ‘ধর মুরগি, কর জবাই’ প্রবাদটি আমার ক্ষেত্রে হয়ে ওঠে না। তবে অঙ্গীকার করছি- নিয়মিত এবং ভালো কিছু লিখার।