দিন সারা দিন শেষে
শরীরটা ভালো না তাই রাতজেগে লেখাটা কেমন হবে তা আমার জানা নাই। তারপর লেখার আগে ফেসবুকে একটা নোট পড়ে মেজাজ খারাপ। এক বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ বাংলা নববর্ষ নিয়ে নসিহত দিলো তার বাল ফালানো যুক্তি শুনে মনে হইলো হালার পো ফেসবুক ইউস করে কেন? সেইটাও তো ইসলা্মি সম্মত না। আমি আস্তিক মানুষ। পাচ ওয়াক্ত নামায ঠিক মতো পড়ার চেষ্টা করি। আমার আম্মুর কারনে কোরান ছোটবেলা থেকেই ভালো পড়তে পারি। ১২-১৪ বছর টানা মাসিক মদীনা মুখস্থ করে অনেক কিছুই আমি জানি। তাফসীর থেকে শুরু করে ইসলাম সংক্রান্ত মেলা জিনিস পত্র গোগ্রাসে গিলছি। আমার কথা অতি সাধারন একটা জিনিস আপনার কাছে ভাল লাগলো না যেটা মনে হচ্ছে ইসলাম সম্মত না ফাইন তা করবেন না। আপনার মতো যারা তাদেরকেও নিরুৎসাহিত করেন মানা করেন। কিন্তু তা না করে ফেসবুকে নোট লিখে বেড়াবেন, কথায় কথায় ইংরেজীতে ডায়লগ কোপাবেন আর তা সুবিধাপন্থী লোকেরা যারা ইসলামে ধারে কাছেও নাই তা তারা শেয়ার করবে নোট এ কেমন আচরন? এই প্রসঙ্গে গত পোষ্টে যে বলছিলাম ঝগড়া করছি জিসান নামের এক ছেলের সাথে তার সাথে তারো আগের এক তর্ক মনে পড়ে গেলো। তার সাথে আগে থেকেই কথা কম বলি সে পাবলিকরে কইতেছিলো সুদের ব্যাংকে টাকা রাখা চাকরী করা নাকি হারাম। আমি খালি কইছিলাম সেই দিন যে "ভাইয়া বাপের দেয়া সেমিসটার ফি এর টাকায় বসে বসে স্কচ ভদকা বিয়ার খাবেন, স্কলাস্টিকা গ্রীন হেরাল্ডের মেয়েদের সাথে আমোদ ফুর্তি করবেন, বেহুদা কারনে রিকশাওয়ালা পিটাবেন, ইন্ডিয়ান থেকে লটে থ্রীপিচ এনে গলাকাটা দামে বেচবেন এতো কাজ যদি হারাম না হয় তা হলে ব্যাংকে টাকা রাখা চাকরী করা শত গুনে ভালো হালাল উপার্জন। পুরা এলাকা ঠান্ডা আমার কথায়। মানুষ সারা বছর ব্যাপী এতো দুই নাম্বার ২৮ নাম্বার কাজ করে তখন ইসলাম মনে থাকে না মানুষরে লেকচার দেয়ার সময় ইসলামী ফাপর খালি। ইসলাম কি শুধু ফাপর দেয়ার জন্য নাকি? যার মানার কথা যার পালন করার সে এমনিতেই করবে। তার কোনো লেকচারেরো দরকার নাই কিছু বুঝানোর ইচ্ছা নাই। কিন্তু যেই সমস্ত লোক নিজেরা মানে কতটুকু জানা নাই কিন্তু স্বাধীনতা দিবস, বাংলা ভাষা, দেশপ্রেম এই সবের সাথে ইসলামরে যুক্ত করে বেদাত হারামের বয়ান দেয় তাদের উপর প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হয়। এতো যখন ইসলাম নিয়ে চিন্তা কত মুসলমান না খায়া কস্টে আছে তা নিয়ে ভাবেন। পহেলা বৈশাখ কতটা ইসলামী চেতনার সাথে মিল? দেশপ্রেম জাতি প্রেম ভালো না খারাপ? বাংলা ভাষা নিয়ে কতটা আবেগ থাকবে? এইসব নিয়ে ভাবতে কে বলছে আপনাদের? আমাদের কে আল্লাহ বুদ্ধি বিচারবোধ দিছে ইসলামী ইলম দিছে আমরাই ভেবে নিবো কি করতে হবে কি হবে না। আমার কাজের জন্য তো আমি দায়ী থাকবো আর তো কেউ না সুতরাং আমাদেরকেই ভাবতে দেন। আর ইসলামের মতে হেদায়েতের মালিক আল্লাহ তিনি যদি না দেন ফেসবুকে নোট লিখে, চায়ের দোকানে ফাপর মেরে ইসলাম পালন করানো যাবে!
অনেক ফাউল কথা বললাম যা লেখার ইচ্ছা ছিলো না তাও লিখলাম। কেমন গেলো আজ সারাদিন। সকাল বেলা ভোরে ঘুম থেকে উঠেই দেখি মোবাইল কিংবা মডেম কোন কিছু দিয়েই নেট কানেক্ট হয় না। টিভিতে করে জির জির আর হইতেছিলো জ্যামেইকান ফার্মেসীর এড সেখানে নাকি হালাল মাছ মাংস সব্জি সব পাওয়া যায়। এসএনটক এক ডায়ালেই মায়ের সাথে কথা বলা। কিংবা দুর্ঘটনা বা প্রতিবন্ধীদের নিয়ে বইদেশে কিসব ফ্যাসিলিটি পাওন যাবে তার কনসাল্টেন্সী ফার্ম। আর ট্রাভেল এজেন্সী, ইমিগ্রেসন ল ইয়ার, সমিতির প্রোগ্রাম, নানা ধরনের দোকান পাটের এডে সকালে একটু শান্তি নাই টিভি দেখে। বিদেশে আছেন ভাইজানেরা রুচির একটু উন্নত হইলো না। নিজের প্রতিষ্টানের এডে যদি নিজের আর পোলাপাইনের খোমাই খালি দেখা যায় সেইটাতো কামের কিছু হইলো না!
মামা আজ বাড়িতে যাবে আমার যাবার কথা ছিলো কিন্তু গেলাম না কারন বাড়িতে গেলেই শুরু হয় গেনগেন চাকরী বাকরী কর, বিদেশ মিদেশে পড়তে চলে যা এইভাবে শুয়ে বসে থাকার মানে কি? তাই যাই নাই আর। সকালে বেড়িয়ে গেলাম চায়ের দোকানে দেখি মেইন দোকান বন্ধ। বারেক সাহেবের দোকানে বসলাম উনার চা খাইলেই মেজাজটা খারাপ হয়। তবুও উনি কোনো কারন ছাড়াই ভালো পায় আমারে সর্বচেষ্টা দিয়ে ভালো চা বানানোর চেষ্টা করে কিন্তু হয় না। কারন তিনি এতো হালকা লিকার অই লিকার দুধ ছাড়াই চিনি দিয়ে খাওয়া যাবে। সে চা খেতেই খেতেই এক ভদ্রলোকের আগমন কথা প্রসংগে তার ভাষ্য ডেসটিনি ইচ্ছা করেই সরকারকে দিয়ে এ কাজ করায়তেছে। আমি কিছু বলি নাই কারন আমার কানে হেডফোন আমি রেডিও ফুর্তি শুনতেছিলাম ব্রেক কি বাদ সিনেমার গান "দুরিয়া হ্যায় জারুরী'। কিন্তু কই থেকে এক ছেলে আসলো আগে দেখি নি সে ডেস্টিনি নিয়ে শুরু করলো চাপা বাজী। শেষে ভদ্রলোক কইলো তোমার মায়ের জন্মসালের আগে থেকে ডেস্টিনিরে চিনি তুমি আমারে শিখাও। আমি তখন পিপলস রেডিওতে শুনি পান্থ কানাইয়ের গান বসন্ত আসলেই। এই শুনতে শুনতেই পুলক আসলো বললো শান্ত ভাই চলেন কলাবাগানে একটা কাজ আছে। আমিও রিকসায় চাপা পিটানোর লোভে সায় দিলাম চলেন এখনি। তারপর কি নানা হেনতেন বিষয় নিয়ে বয়ান দিতেছিলাম। এমন সময় আমাদের পাইলট আরেক পাইলটের সাথে করলো গালাগালি বিনিময়। অই রিকসায় খুব ভাবের তরুনী আমাদেরকে রিকসাওয়ালার মতোই মনে করা চোখে তাকালো। কি আর করা কলাবাগানে পুলক কাজ করতেছিলো আমি মিরপুর রোডের এক প্রভাবশালী ম্যাগাজিনের দোকানে নানান কিছু দেখতেছিলাম আর ভাবের সহিত দোকানদারের সাথে আলাপ করতেছিলাম। এমন সময় এক ছেলে আসলো সে কিনলো উত্তেজক ম্যাগাজিন। আমি দোকানদারেক জিগাইলাম এই ইন্টারনেট মোবাইলের যুগে কেউ বাংলা চটি কিনে? দোকানদার তখন ভুবন ভুলানো হাসি দিয়ে বললো মামা দেখার শান্তি আর পড়ার শান্তি এক না। আমি কইলাম আপনেও কি পড়েন নাকি? তখন তিনি বললো না মামা পোলাপাইন বড় হইছে চাইলেও পড়া যায় না। আমি কইলা্ম পোলাপাইন ছোট থাকলে পড়তেন নাকি? তিনি আমার এই পাকামীতে কষ্ট পাইলেন। পুলক এসে পড়লো তখনি আবারো রিক্সায়। বাসায় এসে দেখি পানি নাই। মনের দুঃখে কিছু সময় পিসিতে বসেই দিলাম ঘুম। ঘুমের মাঝখানে খাট নড়ে আমি ভাবলাম হালকা কম্পন। দোয়া করতেছিলাম জোড়ে হয় না ক্যা? সব এক লগে মরি। ক্যারিয়ার জীবন সাধ আহলাদ সব এক কাপাতেই ঠান্ডা হোক। কিন্তুর শান্তর দোয়া কবুল হয় না কোনোখানেই তাই বেচে গেলাম এ যাত্রায়। পাচটায় ঘুম থেকে ঊঠে গোসল করলাম। বুয়ার রান্না করা রুই মাছের তরকারী দিয়ে ভাত খেয়ে ফেসবুকে বসলাম। দেখি ফেসবুক ভুমিকম্পে কম্পনে কম্পিত। কি আর করা কারেন্ট চলে গেলো মোমের আলোয় কিছু সময় বই পুস্তক গুতাইলাম। এরপর আবার চায়ের দোকান মেইনটা খুলছে। আবীর পুলক আমি জিয়া আদনান অনিক সবাই মিলে পারস্পারিক পচা-পচানোর খেলা খেলে হাসতে হাসতে বাসায় ফিরলাম। বাসাতে ফিরে দেখি টিভিতে সমস্যা কি আর করা ভাত খাওয়া শেষ করে পিসিতে বসলাম। মনে হলো লিখি কিছু তাই লিখে ফেললাম এই বেহুদা পোষ্ট!





থ্যাঙ্কু!
সবই ঠিকাসে। খালি আপনে যে বুয়ার রান্না খান এইটা পড়ে একটু পীড়িতবোধ করসি।
মনে হইলো, আপ্নারে ধইরা আইনা কয়দিন আমার মাএর হাতের রান্না খাওয়াই।
লেখাতে কেমন একটা শান্ত শান্ত অশান্ত ভাব.. ভালো লেগেছে
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা!
হ!
কিরাম যায় দিনকাল আপাজান?
আপনার বেহুদা পোষ্ট পড়ে আমার মীরের কথা মনে পড়ে গেল। দারুণ
আপনার লেখারো চরম ফ্যান আমি কিন্তু খুব একটা জানানো হয় না কখনোই!
চান্তো কেমন আচো ?
শান্ত এখন মাস্তান নাই তাই ভালোই আছে!
নিজেরে গিয়ানি পরমান করার এটা এখন চরম ফ্যাশন
কী আর করা যাবে কন!
মনে হচ্ছে ইচ্ছামত ঝাল ঝাড়লেন
কালকে শুক্রবার না? নববর্ষ নিয়া হুজুররা খুতবা দিবে নির্ঘাত!!
আমি ভয়ে মেয়েকে কোলে নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়ায়ে ছিলাম । বাড়ি ভাংতে শুরু কল্লেই দিমু দৌড়
ঝাল না মেজাজটা খারাপ হইছিলো যে লেখছে তারে তো চিনে না কিন্তু যেই হালারা শেয়ার করতেছে তাদেরকে তো চিনি হারেহারে তাই এই সব বয়ান কপচানো দেইখা থাবড়াইতে মন চাইছে। কিন্তু সেইখানে কিছুই বলি নাই!
ভুমিকম্পে সবাই মিলে মরবো যেনো রিলিফ চুরি করার কেউ থাকেনা ঢাকায় এইটাই আমার একমাত্র চাওয়া!
এইসব হুজুরদের বয়ান শুনে মেজাজ মুজাজ ঠিক রাখা আসলেই অনেক কষ্ট।
হারামজাদা গুলোরে দুই গালে খালি চাপকানো উচিত।
থাবড়ানোর কোনো বিকল্প নাই ভাইয়া!
তোমার বেহুদা পোস্ট পড়তে ভালো লাগে।
ধর্ম ব্যাপারটা নিয়া লোকজনের বাড়াবাড়ি অসহ্য লাগে সবসময়ই। অযৌক্তিক এবং ভন্ডমী কথাবার্তা বলে কিছু শয়তান নিজেরে বড় শয়তান হিসাবে প্রমাণ করতে চায়। এরা সব দূরে গিয়া মরুক।
আপনাদের পোষ্ট সেই ঐতিহাসিক আমল থেকেই ভালো লাগে!
থ্যাংক্স আপু!
এমন বেহুদা পোস্ট নিয়মিত আসুক
চেষ্টা করবো দোয়া রাইখেন!
কিছু খাঁটি কথা বললেন, শান্ত ভাই
মন্তব্য করুন