Sweet caroline
জামালপুরে প্রচুর না হলেও বেশ জায়গায় যাওয়া হয়। কোনো কাজে না। এমনি উদ্দেশ্যহীন। কোনো ব্যস্ত হাট দেখি, গ্রাম দেখি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি দফতর কত কি চোখে পড়ে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছাড়া কিছুতেই আর মুগ্ধ হই না। আগে আমি মানুষে মুগ্ধ হতাম খুব এখন আর তাতে হই না। কারণ মানুষ মানেই গ্রে, মুগ্ধ হবার কিছু নাই মুখের কথায়। আর গ্রাম বাংলার মানুষ তুলনামূলক সরল কিছুটা অকপট, মন রক্ষা করার কথা কম শুনি অপরিচিত কারোর মুখে। যেমন একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কাকে ভোট দিবেন? তিনি ভনীতা ছাড়া বললেন, যে টাকা দিবে। পাল্টা প্রশ্ন, টাকা দেয়? তিনি জানান টাকা ছাড়া তিনি কখনও ভোট দেননি। আমি বললাম যদি একাধিক লোক টাকা দেয়? তিনি জানান যে আগে দিবে সে। এসব আলাপ ঢাকায় পাবেন না। ঢাকায় বলবে যে ভালো লোক, সৎ যোগ্যদের দিবে। গ্রামের মানুষ বুঝে গেছে, ভোট হুদাই, তাই যেই আসুক তার জীবন বদলাবে না। তাই নগদে প্রাপ্তি হলে দোষের কি? এটা যে সবাই তা বলছি না, তবে সংখ্যায় তারা সামান্য নয়।
এসব সামাজিক শক্তি হীন মানুষদের ভীড়ে যখন কেউ জামাতকে ভোট দিতে চায় তখন অবাকই হই। অনেকে সত্যি বিশ্বাস করে, সবাই চান্স পেয়েছে, জামায়াত এটা ডিজার্ভ করে। এটার ভেতরে ইসলাম হিন্দু নাই, এটা জামাতের দীর্ঘদিনের ক্যাম্পেইনের ফল। তবে যিনি বলতেছে সে আবার মোবাইলে শুনতেছে জহির পাগলার গান। ইন্টারনেট যখন অরিজিতের প্লেব্যাক থেকে অবসর নেয়া নিয়ে হাহুতাশ করতেছে তখন কেউ শুনে জহির পাগলার গান এটা বিস্ময়কর। এই শিল্পীর নাম আমি শুনেছি আমার চায়ের দোকানদার আনিসের পছন্দের শিল্পী। আপনি অবাক হবেন শুনলে জহির পাগ্লার গান মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ। প্রোপার কোনো স্টুডিও রেকর্ড ছাড়াই। তিনি কি গান গান? মূলত বিচ্ছেদী আর কিছু ভক্তি মূলক। প্রচুর শো করেন। রাতের পর রাত জেগে শো করেন। তার গানে এক অদ্ভুত মায়া আছে। যা আমজনতার ভীষণ প্রিয়। চটুল বাজারি গান তিনি করেন না। আনিস আমাকে বলতেছিল, জহির পাগলা এমন শিল্পী যে গান শুনিয়ে বখশিশ নিতে নিতে পকেট ভরে যায়, মানুষই দেয়।
বাংলাদেশের গানে দেখবেন প্রচুর মেলানকলি আর মেলোডি। আমাদের খুব সফল মর্ডান সুখের গান আপনি কম পাবেন। আমরা করবো জয় গানটি যতই গাই সে জয় আমাদের কাছে ধরা দেয় না। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে গানটির কথাই ধরুন। এটা রবীন্দ্রনাথ বলয়েই থেকে গেছে। আমাদের একটা সুইট ক্যারোলাইনের মত গান নাই। নেইল ডায়মন্ড সেই ৫৭ বছর আগে কি একটা সফল গান লিখে সুর করে গেছে। স্টেডিয়াম ভর্তি মানুষ চিৎকার করে করে গায়। ট্রেভর নোয়াহর জোক ছিল, সাদারা এই গান শুনলেই নাকি পুরো আত্মা জেগে উঠে আবেগে। আমেরিকার আধিপত্যকে হুজুররাই মেনে নিয়েছে আর দুনিয়া তো মানবেই। গানটি সুদিনে গান, সুসময় উদযাপনের গান। পশ্চিমে মানুষ কোনো হারানোর বেদনাকেও এই গানে একোমডেট করে। আমি অনেক খুঁজে বাংলায় এমন একটা গান পাইনি। আমি আমার জন্য অবশ্য এর কাছাকাছি আবেগের একটা গান পেয়েছি যেটা ডি এল রায় একশো বছর আগে লিখে গেছেন, ধনধান্য পুষ্পে ভরা। অনেকেই এতে মেঠো আবেগ দেখবেন, যুক্তিহীন আলাপ আছে, কিন্তু এই গানটা শুনলেই মনে হয় আমাদের সব থেকে কাছের উদযাপনের গান। খুব বেশী কিছু দাবী করছে না, এইদেশেই জন্ম মৃত্যু যেন হয়। গর্তে পড়ে কিংবা বিনা চিকিৎসায় যে শিশুটি মারা যায় তার পরিবারে হয়তো গানটির কোনো তাৎপর্য নাই। কিন্তু যারা মোটামুটি খেয়ে পড়ে বাচে ও দেশকে ভালোবাসেন তাদের কাছে গানটি হয়তো ভালো লাগে আমারও ভীষণ ভালো লাগে। দুই বাংলার মানুষকে এরকম এক সাথে আষ্ঠেপৃষ্ঠে আর কোনো গান বাঁধতে পারেনি। কোনো পিআর ছাড়া এরকম জনপ্রিয়তা আর কোনো গান হয়নি আমার দেখা। সবুজ গাছ, মেঠো রাস্তাঘাট, খেত খামার যখন দেখি তখন অবলীলায় মাথায় আসে গুড টাইমস নেভার সিমড সো গুড ওরফে এমন ধানের উপর ঢেউ খেলে যায়
বাতাস কাহার দেশে।





মন্তব্য করুন