ইউজার লগইন

গ্লোরিয়াস বার্থডে অফ তানবীরা আপু!

শহরে বন্দরে গ্রামে যেখানেই যাই আমার ঘুম আসে না। এই যে আমি শুয়ে আছি ও ঢাকায় আসলাম, তিনটা প্রায় বাজলো। ঘুম নেই। শুধু ঢাকাতেও না, এই মফস্বলে কত রাত কেটে গেল নির্ঘুম। কুমার বিশ্বজিতের একটা গান আছে, ঘুম নেই চোখে/ একা জেগে আছি/ স্মৃতি এসে বলে গেল নেই যে তুমি। স্মৃতি ছিল আমার ক্লাসের এক মেয়ের নাম। বাপ মা দুইজনই তাবলীগ করতো। আমার এক বন্ধু তাকে পছন্দও করতো। মেয়েদের তখন একটা ভালো ব্যাপার ছিল, সব জেনে বুঝে খালি চেয়ে চেয়ে থাকতো। ছেলেদের কিশোর বয়স থেকেই ভালোবাসা প্রকাশের যে উদগ্রীবতা, মেয়েদের তা ছিল না। তবুও ক্লাসে আরেকটা মেয়েকে স্কুল থেকে টিসি দেয়া হয়েছিল। কারন সে প্রেগন্যান্ট বলে। আমাদের স্কুল কলেজ গুলো এত বেশী নৈতিকতা কপচাতো যে এখন বুঝি এ জন্য আমাদের এত সংকট। জোর করে মূল্যবোধ শেখানো যায় না। এমন একটা ভাব ছিল যেন আমরা হবো সব হাজী মহসিন। হাজী মহসিনের মত সম্পত্তি পেলেও হতো। মহসিন ফান্ডের বৃত্তি দেয়া হতো কলকাতার স্কুলে। কিন্তু মুসলমান ছাত্র পাবে কই এত? মুসলমান ছেলে যারা চার পাচজন ছিল তাদেরকে ধরে রাখার চেষ্টা করা হতো। কারন ফান্ডটা চলে গেলে বিপদ। তবে ঢাকার নৌবাহিনীর ঘাটির নাম কেন হাজী মহসিন তা আজো বুঝলাম না। হাজী মহসিনের সাথে নৌবাহিনীর ততটাই সম্পর্ক যতটা মুরগীর সাথে এস্ট্রোনমির।

তানবীরা আপুকে বলছিলাম, জামালপুর ভালো লাগে না। উনি বললেন, তোমার তো ঢাকাও ভালো লাগে না। কি যে আসলে ভালো লাগে কে জানে। বাড়িতে ডিস থাকে না, অনেকের বাসাতেও টিভিতে ডিস নাই, সবখানেই চায়নিজ স্মার্ট টিভির জয়জয়কার। মোবাইলের রমরমায় লোকজন এখন ডিস ক্যাবল নিয়ে ভাবেই না। জামালপুরে বাসা থেকে একটু দূরেই একটা বাড়ীর ছাদে পুরানো দিনের বিশাল বড় ডিশ লাগানো। হয়তো অনেকদিন আগে ছিল, ছাদে সেভাবেই থেকে গেছে। আমার নিজেকে সেই সুবিশাল ডিস্কটা মনে হয়। আছি আর কি, অকারণে।

আজ তানবীরা আপুর জন্মদিন। মানুষটাই অসাধারণ। অনেকদিন ধরেই তিনি আমার নানাবিধ ট্যানট্রামস সহ্য করেন। ছোট ভাই হিসাবেও ক্ষমা করে দেন। এমন জাজ না করা মানুষ আমি কম দেখেছি। আপু আর আমি আগে প্রচুর বই নিয়ে আলাপ করতাম। এখন বইয়ের আলাপ কমে গেছে এখন সিনেমা সিরিজ নিয়ে আলাপ করি। রাজ্যের যত সিনেমা তা দেখে উনাকে বলি, উনিও জানায় কি দেখতে চায়। যেমন আজ দারুন লাগছে উনি 'উৎসব' দেখে ফেলেছে। নক দিয়ে শুনলাম উনার রিভিউ। আমি দেখিনি এখনো, কিন্তু আমার মনে হলো স্বার্থক, মনে ফুর্তি আসলো, আপু তো দেখেছে। আমি কবে দেখবো জানি না।

আপু অসাধারণ লেখক। তার গল্পগুলো খুব মন দিয়ে পড়েছিলাম। এখন আর তার বই আসে না। কেন আসে না আমি অবাক হই। আগে হইহই করে তানবীরা আপুর বই কিনতাম মেলায়। একবার এক মোড়ক উন্মোচনেও গিয়েছিলাম, আমি তখন মিরপুরে থাকি বাসে যেতে যেতে দেরী হয়ে যায়। দেখি শেষ সবকিছু কামাল ভাইয়ের সাথে দেখা হয়, উনি মোড়ক উন্মোচন কেন ভুয়া অনুষ্ঠান এসব নিয়ে ঝাড়লেন এক প্রস্থ। কামাল ভাইয়ের কথা শোনা এক দারুণ অভিজ্ঞতা। আপু আমাদের ব্লগেও ছিলেন ক্যাপ্টেন। এক যুগ আগে আমরা ব্লগে কি দারুণ সব লেখা লিখতাম আর হাসাহাসি করতাম। গুটিকয়েক লোক তবুও আমাদের উৎসাহের কমতি ছিলনা। আমি যাই লিখতাম আপুকে বলতাম। রাসেল ভাই, লীনা আপু, প্রিয়, বর্ন ভালো বললে মনে হতো মিশন একমপ্লিশড। তানবীরা আপুই খালি বলতেন, আজ লাঞ্চে তোমার লেখা পড়বো। আহা কি শান্তি! আপু দারুণ এমনিতেই বলেন। উনার চিন্তা ভাবনা স্বচ্ছ। ন্যায় অন্যায়ের বিভেদ স্পষ্ট। উনার এই পারসোনালিটির আমি ফ্যান।

তানবীরা আপু দেশে আসলেও অনেক মজা। দেখা হতো আড্ডা হতো খানাদানা হতো। আমরা কত মজা করতাম বাসায়। এইতো গতবছরেও যে আড্ডাটা দিলাম। আপুর সাথে ঘুরতেও আনন্দ। মেঘ থাকে নীল আকাশের মতো ঝকঝকে হাসোজ্জল। আপু কিনতে গিয়ে দামাদামি করে। কোথাও খাই দাই, এই তো জীবন। আপু আবার কবে আসবে সে আশায় আছি। জমিয়ে আড্ডা হবে। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু কষ্ট করে দেশে আসেন সেইজন্য। জন্মদিনে অনেক অনেক ভালো থাকেন। অনেক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা। খানাখাদ্য পাওনা রইলো। যেমন আছেন তেমনই থাকেন। এভাবে সবাইকে ভালোবাসেন।

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!