ইউজার লগইন

যীশু দিবস

আজ বড়দিন আজ যীশুদিবস সেই সাথে আজ প্রচুর মানুষের জন্মদিন। সঞ্জীব চৌধুরী থেকে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী মৃত্যুদিন হয়ে এলিস্টার কুক, মার্ক ট্রেসকোথিক, দেব আর কত শত মানুষের জন্মদিন। আজ আবার বিটিভিরও জন্মদিন। বিটিভিতে দেখলাম, আধুনিক গান হচ্ছে আর বিভিন্ন চ্যানেলের বার্তা প্রধানদের অভিনন্দন। ভাবছিলাম বিটিভির এমন খারাপ দিন আসলো যে এসব বক্কর আলীরাও বিটিভি নিয়ে বয়ান দেয়। আর দেশে বেশিরভাগ চ্যানেলই বিটিভির উপশাখা। খালি বিটিভিতে উচু গলায় টকশো কম হয়। বিটিভির জন্মদিন নিয়ে সবচেয়ে বেশী একসাইটমেন্ট চ্যানেল আই এর। তারা আগে একটা মেলাও করতো। দেখতে দেখতে বিটিভির ষাট একষট্টি বছর হয়ে গেল। কোনো প্রতিষ্ঠানের ষাট মানে সেটা তার অন্যতম ভালো সময়ে আছে। কিন্তু বিটিভির সমস্যা হয়েছে বিটিভি এই দেশীয় পুরুষদের মত চল্লিশেই চালসে হয়ে গেল। এখন আর কোনো দল নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিতেও রাখে না বিটিভির স্বায়ত্বশাসনের অঙ্গিকার।

কি একটা সারল্যে ভরা জীবন ছিল আমাদের। তিনটার সময় বিটিভি খুলে গভীর মন দিয়ে আজকের কি অনুষ্ঠান সূচী তা শুনতাম। এনাউন্সারদের মনে হতো কি চিল, এখন হলে ধারণা করতাম কোথাকার গাঁজা খেয়ে তোমরা এত রিলাক্সড। একুশে টিভি যুগের আগে এক অনুষ্ঠানের পর কি হবে তাই বলতো না। আমরা গুটিয়ে গুটিয়ে পড়তাম, পরবর্তী নির্ধারিত অনুষ্ঠান একটু পরেই জানিয়ে দেয়া হবে। পুরাই দর্শকের জন্য নিবেদিত, কাজ করো তোমার অনুষ্ঠান হলে জানাবো। টিভি গুলোও ছিল আমাদের বাবা কাকাদের মত, মোটাসোটা ছোট ভুড়িওয়ালা। এরকম শীতকালে যখন রাতে সিনেমা দেখাতো, পুরোটা দেখতে পারতাম না, তার আগেই ঘুম এসে যেত। আর ভালো একটা ব্যাপার ছিল রাত সাড়ে এগারোটায় টিভি জাতীয় সংগীত বাজিয়ে বন্ধ হয়ে যেত। বিটিভিকে আমরা পাশের বাড়ীর মানুষ ভাবতাম, তারও তো ঘুমোতে হবে।

বাসায় আমি কি করি, রফিকুল আলমের গান শুনছিলাম। আমাদের এসব এসেন্স কে দিয়েছে? বিটিভি। কত কি আমরা ভুল জানতে জানতে বড় হই। অনেক আগে বিটিভি শুরু হতো, ও আমার বাংলাদেশের মাটি/ তুমি আমার ধুলার স্বর্গ/ শ্যামবরণী লক্ষী মাটি- সুর মিউজিকে বাজিয়ে। বড়রা বলতো, এটা নজরুল সঙ্গীত। এখন বড় হয়ে জানলাম, এটা লিখেছেন প্রণব রায়। সুর করেছেন কমল দাশগুপ্ত। ১৯৩৬ সালে গ্রামোফোন রেকর্ডে প্রথম গেয়েছেন, যুথিকা রায় ও মনিমালা গঙ্গোপাধ্যায়।

আমাদেরকে মস্ত বড় ক্যাফেইনখোর বানিয়েছে শৈশবের বিটিভি। দিন নাই রাত নাই, ধনী গরীব নাই, সময়ে অসময় নাই দেখতাম সবাই চা খাচ্ছে তো খাচ্ছেই আর প্রমিত উচ্চারণে সাংসারিক আলাপ করছে। নায়ক নায়িকা, তাদের মা বাবা, সাইড ক্যারেক্টার, মন্দ লোকের ক্যারেক্টার, কাজের লোক সবাই চা গিলছে। চায়ের এত পিনিক তাদের, খালি কাপেও আজিজুল হাকিম চুকচুক করে চুমুক দিয়ে চা খাচ্ছে আর জানাচ্ছে, এত ভালো চা তুমি ছাড়া আর কেইবা পারে বানাতে? তখন আমি ভাবতাম দুনিয়াতে চা খাওয়াটাই মনে হয় একমাত্র কুল এটিচিউড। চা খাবো, আর সাদিয়া ইসলাম মৌ এর মতো নায়িকারা আকাশ থেকে নেমে এসে বলবে, চলো দুজনে মিলে সারাজীবন এক সাথে চা খাবো। আর সিনেমা নাটকে চা বাগানকে এমন ভাবে দেখাতো, যেন সেখানে কেউ থাকে না, নায়ক ফেরারী আসামী, ম্যানেজার বন্ধুর কাছে গেলেই চাকরী আর কাব্যি কাব্যি কথা বলে বিজরী বরকতউল্লাহর মতো চা বাগানের মালিকের মেয়ের সাথে প্রেম জুটিয়ে নিত কত সহজে।

এই বিটিভির দিনেই তারেক রহমান ফিরলেন। অনেকেই বলতো আমাকে ৪১ এর আগে ফিরবেন না তিনি। তার ১৭ বছর নির্বাসন কাটিয়ে, ১৬-১৭ বছর আগেই ফিরলেন। হিমালয়ের চেয়েও বেশী উচু তাকে নিয়ে মানুষের এক্সপেকটেশন। তবে সুবিধা হলো গত দেড় বছরে ইউনুস এমন টেশ মেরেছেন এখন একটা দরিদ্র কৃষক গনি মিয়া লেভেলের সরকার এলেও মানুষ খুশী। তবে ইতিহাসবোধ যাদের আছে তারা জানে বিএনপিও ডেলিভার করতে পারবে না। সামনে হয়তো একটা জামাত এনসিপির জোট সরকার হয়তো দেখবোই। তবে সেটা মানতে নারাজ জামালপুরের লোকজন। আমাকে এক মুরুব্বী বলেছে, জামায়াত যদি এই ইলেকশনেই ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে একটা আসন পায় যা যতদিন খেতে চাইবো উনি খাওয়াবে। বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে বাজি ধরলে যা হয়। আর জামালপুরের মানুষ খুবই মুখ চলা স্বভাবের। এক দল এসে জামাতের দাওয়াত দিল একটা ছোট হোটেল মালিককে, তিনি জানালেন, তিনি নামাজই পড়েন না কেন তিনি জামায়াতকে ভোট দিবেন। অনেকটা সময় বোঝালো উনার কথা অনড়। তাই ৫০বছর অপেক্ষা করেছে জামায়াতকে মনে হয় আরো বেশ কিছু বছর অপেক্ষা করতে হবে। আর এমনিতেই তারা ক্ষমতার ভরপুর স্বাদে আছে। সামনেও বিরোধী দলের বিপ্লবী স্বাদ পাবে। সব পেলে নষ্ট জীবন। তাই আমি খুব আশাবাদী না। কারণ চারদলীয় শাসন তো দেখেছি তখন নবীন কিশোর, তখন আমি ডেইলী পেপার পড়ি, আলাপ করি, রাজনীতি নিয়ে অনেক আগ্রহ। সবই মনে আছে। ৯১-৯৫ সালেও যে বিএনপি খুব ভালো দেশ চালিয়েছে তা কাউকে জোড় গলায় বলতে শুনিনি। ৯৬ সালের বিএনপি যখন হারে তখন আমি প্রথম টিভিতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ। আমি পোস্টার দেখেছি খুলনায় কিন্তু তার বক্তব্য শুনিনি। তারপর ত্রিশ বছরে বিশ বছর গেল শুধু মুজিব বন্দনায়। জুলাইয়ের পর বিএনপি যেভাবে লীগের ব্যবসা বানিজ্য পাহাড়া দিয়ে নতুন বন্দোবস্তের সব বুঝে নিয়েছে তাও তো সকলেই জানে। তবুও মন্দের ভালো যদি একটা ইলেকশন হয়ে বিএনপি এসে আপাতত মানুষকে আশ্বাসের দিকে আনে । এনসিপি একটা বিকল্প হতে পারলো না এটাই বেদনার।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!