একুশে ফেব্রুয়ারি
নর্ম ম্যাকডোনাল্ডের একটা কথা আমার খুব প্রিয়, কোনো টিমকে তুমি ভালোবাসতে পারবা না আরেকটা টিমকে হেট করা বাদ দিয়ে। থ্যাঙ্কস গড, ভাষা কোনো টিম না। সব ভাষাই সুন্দর আধিপত্যের ভাষা ছাড়া। আগে একুশে ফেব্রুয়ারীতে আমি চিন্তায় পড়তাম, বাংলাটা পিছিয়ে পড়ছে। সলিম ভাই ছাড়া কেউ কিছু বলছে না কেন। আসলে বলেও লাভ নাই। আবুল কাশেম ফজলুল হকের মত দশটা পেপারে একদিনে কলাম লিখেও লাভ নাই। যা হবার হবে, বাংলা এভাবেই টিকে থাকবে। অনেকদিম আগে এক বিহারী ছেলের কথা শুনেছিলাম চুল কাটাতে কাটাতে। সে বাসা থেকে চার মাস ধরে বাইরে থাকে, কারন তার মা খালি বোনের সাপোর্ট টানে, তাই সে বাসায় টাকা পয়সা দিলেও বাসায় আর যায় না। এরকম আমাদের সবার মনেই অনেক তুষের আগুন জ্বলে। সেটা প্রকাশের একমাত্র উপায় শামসুর রাহমানের দুঃখিনী বর্ণমালাতেই। বাংলার ভবিষ্যৎ আমি অন্ধকার দেখি না, কারন বেশির ভাগ মানুষই এখানে এই ভাষাটাই পারে। শুভ ভাই বলেছিল, আফ্রিকার প্রচুর শিক্ষিত মানুষ চারটে ছয়টে ভাষা সহজে পারেই, আমাদের সেরকম হবার সম্ভাবনা নাই। তাই সব ভাষাকেই ভালোবাসুন, আদিবাসীদের ভাষা থেকে উর্দু হিন্দি ভাষা কোনোটাই আমাদের শত্রু নয়। খালি জোর করে চাপিয়ে দেয়া শব্দ মণ্ডলী গুলো ছাড়া।
পরিচিত একজন ছিল সে গোপনে কারো সঙ্গে আলাপে ইংরেজী বলতো, ধারণা করতো ইংরেজী মানুষ বোঝে না। না বুঝলেও বাঙ্গালীর অনুমান শক্তি প্রবল, যে যার মতো ধারণা করে বলে দেয়। মোহাম্মদপুরে এক বোবা রিকশা চালক থাকে, তিনি প্রতিদিন আটশো নয়শো টাকা কামান, ঠিকানা ঠিক ঠাক মতো উচ্চারণ করলে উনি পৌছে দেনই, কিভাবে যে সামলান এটাই বিস্ময়। বারেক সাহেব তার সাথে ইশারা ভাষায় কথা বলেন তখন তিনি কত আলাপ জানান এবং তারও শত্রু আছে। বোবার কোনো শত্রু নাই এটা একটা ভুল কথা। ভাষার সবচেয়ে সুন্দর বাহন সেই ভাষার গান। কোনো এক মিশরীয় আরবী গান শুনে মন খারাপ হয়ে যায় আবার কোনো ফ্রেঞ্চ ভাষার গান শুনে মন আনন্দে ভরে যায়। মনের মাঝে তুমি সিনেমার অরজিনাল তেলেগু ভার্সনে- তু নিগা তু নিগা শুনে হাসি আসলেও কপি করা সুরে আকাশে বাতাসে চল সাথী উড়ে যাইয়ের জন্য মন কেমন করে। একদিন বাসায় ফিরছি বিকাশ বাসে তিনটে ছেলে আমার পাশে বসেছিল। তাদের গল্পে মজার কিছু নাই কিন্তু কৈশোর পেরোনো উচ্ছলতায় এত মধুর লাগছিল, মনে হচ্ছিলো সারাদিন বসে শুনি বাংলায় আলাপ। তারা তাদের দিন প্রতিদিন জীবন ও গেমিংয়ের গল্প করছিল এবং দিনটা বই মেলায় এসে কিভাবে মাটি হলো তা জানাচ্ছিল। আমি নামার সময় নিজের স্বভাব বিরুদ্ধ হয়ে বললাম, ভাই কোনোদিনই মাটি না, আবার সব দিনই মাটি, পাঁচ বছর পরে যখন আরো বড় হবেন, অনার্স শ্যাষ হবে, মনে হবে এই দিন গুলোই ছিল সবচেয়ে সুন্দর। আমরা মনে করি আমরাই খালি দুই তিনটা জিন্সের প্যান্টে দিন পার করেছি, আসলে এখনো লাখো লাখো তরুণ সেভাবেই দিন পার করছে। আমাদের এত ডিভাইস ছিল না, এখন প্রচুর ডিভাইস। নেহাল দেখিয়েছিল একটা চোরও গানের লিরিক সার্চ দিয়ে পড়ে। এটাই তো ভাষা ও গানের শক্তির জায়গা। হয়তো আমরা আগের তুলনায় অমানুষ হচ্ছি কিন্তু কন্টেন্ট সবার একই, আমিও যে মুভি দেখে মুগ্ধ হই হয়তো তার একটা বাজে হিন্দি ডাবিং দেখে এক অটো চালকও মুগ্ধ হয়। সুরুচি নিয়ে গর্বের দিন প্রয়াত, এখন সাম্যতার রিলসের যুগ। আপনিও কোনো কাপলদের পাছা থাবড়ানো দেখেন, দূর গ্রামের কোনো মেহনতী মানুষও তাই দেখে। সে হয়তো বিজয়ে আপনার চেয়ে ভালো টাইপ করে। কলকাতায় আমার প্রিয় বুক রিভিউয়ার বাচ্চা মেয়েটা কি মিষ্টি করে বাংলা বলে সেটা আমার ভীষণ প্রিয় হতে পারে। কিন্তু সেটাই আদর্শ ও উচ্চমানের বলে প্রতীয়মান হবে না। জামালপুরের কোনো দূর গ্রামের মেয়েকে যখন মনের হাউস মিটিয়ে তার খালাকে নিয়ে বলতে শুনি সেটাও ভীষণ আপন মনে হয়।





মন্তব্য করুন