পারো যদি দেখে যেয়ো বেচে থাকো কারে বলে/ এসো আমার ঘরে একবার!
লেখার কথা ভাবছিলাম অনেক কিছুই। ঘটে চারপাশে অনেক কিছুই। কিন্তু ব্লগে লিখতে গেলেই কোনো কিছু লেখতে আর ইচ্ছা করে না। তাই কাল থেকে একটা কিছু লিখবো বলে ভাবছি কিন্তু লিখতেছি পাক্কা ২৫ ঘন্টা পর। এমন না যে আমি মহান লেখক যে অনেক ভেবে স্বার্থক অনেক কিছু লিখবো। ঘুরে ফিরে আমার কথা গুলো একিই রকমের। তাই সময় নষ্ট না করে লিখে ফেলাই ভালো। তাতে দায় থেকে মুক্ত থাকা যায়।
এই পোষ্ট যখন টাইপ করছি তখন এই ব্লগের সবার খুব কাছের ব্লগার প্রামান্যচিত্র ও টিভি নির্মাতা খুব ভালো মানুষ হেলাল ভাইয়ের একটা ফেসবুক স্ট্যাটাসে চোখ পড়ে গেলো। স্ট্যাটাসটা হলো
সে দিন বাড়ী ফিরছিলাম, পথে পুলিশ রিক্সাটা থামিয়ে নামতে বলল। মিনিট দশেক নিবিড় তল্লাশী চালাতে চালাতে ব্যাকপ্যাক খুলতে বলল। ক্যামেরা ও আনুসাঙ্গিক সরঞ্জাম দেখে জিজ্ঞেস করল কি করেন সাংবাদিক? আমি বলি, ফিল্ম মেকার প্রামাণ্যচিত্র বানাই। বলে কার্ড দেখান। আমি বলি আমার ত কোন কার্ড নেই। তখন দুজন মিলে আমাকে বলে বসে এই ক্যামেরা যে আপ...নার তা বিশ্বাস করি কি করে, আপনিত এই ব্যাগ চুরি করে ও আনতে পারেন। আমার মুখ দিয়ে আর কথা বের হয় না রাগে, দুঃক্ষে, অপমানে দিশেহারা লাগতে থাকে আমার। ...আজ বিকেলে একটি মেয়েকে পুলিশ তার বাবা/মা এর সামনে থেকে ধরে নিয়ে শ্লীলতাহানি করল এবং গলার চেইন খুলে নিয়ে বলল, এই চেইন যে তোর তার প্রমাণ কি? বাংলাদেশের এক মন্ত্রী আজ বললেন, সাংবাদিকরা যেন পুলিশের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায়ে চলাফেরা করেন। জানি না দিনে দিনে বাংলাদেশটা কোন অন্ধকারের দিকে হাঁটতে শুরু করেছে!!!
কি অদ্ভুত অবস্থা এই দেশের আমার শহরের। পুলিশের প্রতি সবার রাগ ক্ষোভ আছে আমার কিছুই নাই। কারন সব পেশার সব মানুষের ভিতরেই নানান টাইপের মানুষের বসবাস। ঢাকা শহরে এক খুব ফজরে সময় যখন আমি কিছুই চিনি না তখন এক পুলিশ আমাকে পথ দেখিয়ে দেয় না শুধু সিএঞ্জিও ঠিক করে দেয় তখন আমি ভাবি পুলিশের চেয়ে বড় বন্ধু আর কে আছে? আবার যখন দেখি আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে স্রেফ ১০০০ টাকা নেয়ার জন্যে তিন ঘন্টা ধরে হেনস্থা করে তখন বুঝে যাই পুলিশ থেকে কেনো সাবধানে থাকতে হয়। র্যাবের এক কর্মকর্তা যিনি আমার এক দুরের বন্ধুর বাবা মারা গেলো আমীনবাজারে সেদিন আমার মিডটার্ম ছিলো সব বাদ দিয়ে আমি সিএঞ্জি নিয়ে চলে গেলাম আর্মড ফোর্স ব্যাটেলিয়নের অফিসে। সে দিন যে কি পরিমান কাঁদছি তা শুধু আমরা বন্ধুরাই জানি। আবার র্যাব যখন ক্রসফায়ারে মানুষ মারে তখন পত্রিকায় লাশের ছবি দেখে আমি ভাবি ভয়ানক হিংস্র মানুষ খেকো জন্তুরাও নিশ্চিত ভাবে এত বর্বর না। তাই চুড়ান্ত ডিসিশনে যাবো না কারো ব্যাপারে। খালি সায়ানের একটা গানের কথাই বলবো
কতটুকু ক্ষতি চাই তোমাকে জাগাতে হলে?
তোমাকে কাছে পাবো কতটূকূ কেড়ে নিলে?
আজ দুপুরে শিয়া মসজিদের মোড়ে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে এক প্রাইভেট কার চাপা দিয়ে মারলো এক ভদ্রলোককে। থেতলে থাকা রক্ত জমাট বেধে এখনো জানান দিচ্ছে সেই খুনের। বিডি নিউজের অফিসে হামলার ছবিটা যেমন টাইলস জুড়ে রক্ত তেমনি রাস্তায় ছোপ ছোপ কালো হয়ে যাওয়া রক্তের দাগ। ঘটনার দেড় ঘন্টা পরে যেয়ে দেখি পরিস্থিতি স্বাভাবিক। দিব্যি গাড়ী ঘোড়া চলছে গড়গড়িয়ে। তাই এতো মানুষের এই শহরে কোনো কিছুই কোনো ঘটনা না। সব সয়ে যাওয়াই সব ঘটনার এক মাত্র পরিনতি। তাই এই সব নিয়ে আর কথা বলেও লাভ নেই। যেমন লাভ নেই রাত বিরাতে যারা টকশোতে সরকারকে বিভিন্ন নসিহত দেন তাদের কথাতেও। কারন শেষমেষ মানা নামানা তো সরকারের হাতেই। তবুও টকশো আমি শুনি টিভিতে যেরকম শুনতাম নামাজের পরে মসজিদে তাব্লীগের ফাজায়ালে আমল কিতাব থেকে রিডিং। এই কিতাবে খালি কোন কাজ করলে কত সোয়াব পাওয়া যাবে আর কী করলে কত গুনাহ তার হিসাব নিকাশ। দুই দিন শুনার পরে সেই সোয়াবের কাজ করারো ইচ্ছা থাকবে না কারোর।
ব্যাক্তিগত ভাবে দিন যাচ্ছে খারাপ না। বেচে আছি এই দুর্দিনে এইটাই সব চেয়ে বড় খবর। আড্ডা ক্লাসে দিন যায় খারাপ না। বাকীতে চায়ের দোকানে অনেক চা বিস্কুট খাই খাওয়াই। গরমে খুব ঘামি আর ফ্যানের বাতাসে ঠান্ডা হই। ছাদের তীব্র গরমে মনে হয় পুড়েই যাবো ঘন্টা খানেক পরে সেই পোড়া শরীরে মলম হিসেবে আসে ৫০-৫৫ মিনিটের বিদ্যুৎ। এই তো এই ভাবেই দিন যাপন। এমবিএর প্রথম সেমিস্টারের রেজাল্ট দিলো পাশ করে গেলাম। খারাপ না গ্রেড। ক্লাসে বিভিন্ন অফিসিয়াল আতেলের দেশ কাল সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে কথা শুনে রাগে গা ঘিন ঘিন করে। তাদের বিদ্যা বুদ্ধি উপরে ঘৃনা জন্ম নেয়। পরের মুহুর্তেই ভাবি বলদদের কথায় রেগে লাভ নাই। টিভিটা ঠিকঠাক ভাবে দেখা যায় না লাইনে সমস্যা সাথে ধার করে আনা টিভি কার্ডেও। এক সময়ের ক্লাসমেট বিবিএটা কমপ্লিট করে নাই সেই বন্ধুকে দেখি বায়িং হাউজের ব্যাপক চাকরী করতেছে। ২২ লাখ টাকার গাড়ি থেকে নামলো আমার জন্যে এক সাথে চা খেলাম। তখন ভাবলাম এতো টাকা পয়সা নষ্ট করে পড়াশুনা করে ফায়দাটা কি?
এই ভাবেই যাচ্ছে বেচে থাকার প্রহসন। শিরোনামটা অঞ্জন দত্তের গান থেকে নেয়া। আসলেই তো যেভাবে বেচে বা আছি বেচে থাকতেছি তা শুধু নিজেই টের পাচ্ছি প্রতি মুহুর্তে বেচে থাকার যন্ত্রনায়। তবুও গান শুনি, বই পড়ি, টিভি দেখি বন্ধু্রা বাবা মা ভাই ভাবীর স্নেহ- ভালোবাসায় শিক্ত হই বারবার আর বলি এই জীবনের মানে তবূও এক আনন্দময় যাত্রা!
এই ছাপোষা পোষ্টটা লীনা আপুকে উৎসর্গ করলাম। যিনি আমার নিম্নমানের পোষ্টগুলার আকাশ ছোয়া প্রশংসা বানে জর্জরিত করেন। আর তখন আমি নিজেরে বড়ো লেখক ভাবার খোয়াব দেখতে থাকি! আপু অনেক ভালো থাকেন। অনেক শুভকামনা শ্রেয়ার জন্য!





এখানে যা কিছু সমস্যা তার মূলে হচ্ছে কারো কোন দায় নেই, কারো কোন দায়িত্ববোধ নেই।
আশার কথা আজকালকার শান্তরা
"র কথা ভাবে। এই বোধগম্যতা যখন আরো বেশি এখানকার মানুষের মধ্যে ছড়াবে তখনই..................
~
দুনিয়াটাই এখন একটা মস্তবড় প্রহসনক্ষেত্র।
ভালো লাগছে সুলিখিত লেখাটা।
মন খারাপ করা লেখা। খেলবো না।

কি এক দেশে যে বাস করছি! এই তোমার মত বাচ্চাছেলেগুলি যারা স্বপ্ন দেখবে সুন্দর, তারাও হতাশ। আজকাল পত্রিকা পড়তে ইচ্ছা করে না, টিভির নিউজ দেখতেও মন্চায় না...এত খারাপ খবর হজম করার মত মনের জোর নেই। তাই স্বার্থপরের মত নিজেকে নিয়েই থাকি।
ভালো থেকো ভাইয়া। তোমার লেখা পড়তে সত্যি ভালো লাগে খুব।
শান্ত একটা বাচ্চা - এই কথাটার তীব্র নিন্দা জানাইলাম

ভালো লাগছে সুলিখিত লেখাটা।
আমারতো অন্য সমস্যা। কেউ খুন নাহলে ভাবি আজকে কি পড়বো পেপারে
ঐটাই স্বাভাবিক লাগে আজকাল
মন্তব্য করুন