ইউজার লগইন

আনন্দ বিষাদের দিন রাত্রী!

ঢাকায় যখন বাবা মার সাথে ছিলাম, টিভি ছিলো তখন রবিবার ছিল মন ভালো থাকার দিন। রিসেন্ট কলকাতার সিনেমা, হিন্দী সিনেমা, ইংলিশ সিনেমা, যাবতীয় টিভিতে যা দেখায় তাই ভালো লাগে এই দিন। এমনকি সামান্য টিভি দেখার জন্যে আমি অনেক জায়গাতে যাই নাই যে মিস হবে বলে প্রোগ্রাম। যাই হোক রবিবার মানেই আবার ছিলো প্রথম আলো পড়া। আমার প্রিয় সাপ্লিমেন্টারী স্টেডিয়ামে চোখ বুলানো। ১৯৯৯ সালে তখন ক্রিকইনফো গোল ডটকম কিছুই চিনি না। চিনি খালি জনকন্ঠ, ভোরের কাগজের খেলা নিয়ে সাপ্তাহিক আয়োজন। তখনি পরিচয় হয় প্রথমআলোর স্টেডিয়ামের সাথে। গোগ্রাসে গিলছি ২০০৭ সাল পর্যন্ত। নিজে পত্রিকা কিনি নাই অন্যের বাসা থেকে পকেটে চুরি করে আনছি পড়বো বলে। রবিবার নিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় বন্ধু মহিউদ্দিন। তার বাবা কোন কোর্সে গেছিলো বিদেশ, আসার সময় ক্রিকেট সম্পর্কিত বই পত্রিকা আনছিলো কিছু। বাসা থেকে মিথ্যা বলে টাকা নিয়ে সেই বই পড়ছি ভাড়া দিয়ে। ইংরেজি তখন অতো ভালো বুঝি না কিন্তু ছবিওয়ালা সেই বইটা জগতের সেরা শান্তি এনে দিয়েছিলো। যাই হোক যখন থেকে নেটে বসা শুরু করলাম তখনই মনে হলো কোথা থেকে এরা এতো খবর জানে। খোজ পেয়ে গেলাম সবকিছুর। তারপর থেকে আগ্রহ কমতে থাকলো। ক্রীড়ালোক খুব পড়তাম তাও একদিন পড়া দিলাম বাদ। কারন খেলাধুলা ছাড়াও জগতে অনেক কিছু আছে পড়ার। তবে সেই রবিবারের কথা খুব মনে পড়ে। ক্রিকেট নিয়ে জানার সেকি অদম্য বাসনা।

যাই হোক শবে বরাতের রাত কেটে গেলো বৃহস্পতিবার। এক কথায় অসাধারন কাটলো। এমন শবে বরাত লাইফে খুব কম আসছে। হইহুল্লোর আনন্দ ফুর্তি তার ফাকে হাল্কা পাতলা নামায পড়া এইভাবেই কাটছে। মসজিদের পাশেই চায়ের দোকান। রাতে ভ্যানে করে পুরা মুহাম্মদপুর ধানমন্ডি ঘুরে বেড়ানো। মাঝরাতে সলিমুল্লাহ রোডে কাবাব খাওয়া। নান্নু সাহেবের চায়ের দোকানে চা বিস্কুট কলা কেক সব বাকীতে হজম করা। এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশের মতো না। তারপর ৩ বন্ধু আসছিলো বিভিন্ন জায়গা থেকে।একেবারে প্রথম দিক কার ভার্সিটি ফ্রেন্ড আসছিলো তাদের সাথে আড্ডা। সব মিলিয়ে অসাধারন খালি হালুয়া রুটি ছাড়া সব আনন্দই ছিলো। বাসায় চলে যাবার খায়েশ ছিলো কারন কোনো কালেই আমি শবে বরাত নিয়ে খুব বেশি সিরিয়াস না। এবারো ভাবছিলাম তাই হবে কিন্তু সবার একি কথা শান্ত ভাই আপনে নাই তো কিচ্ছুই নাই। কেউ নাই আমরা। ছোট ভাই- বন্ধুদের ভালোবাসায় বলা যায় বাকরুদ্ধ। এমন দিন জীবনে বারবার আসুক।

ভাইয়া-ভাবীর সাথে আগে খালি ফোনেই কথা হতো। গ্রামীনের নেট দিয়ে স্কাইপি চালানোর প্ল্যান কখনোই ছিলো না। কিন্তু ওল্লো সব বন্ধ দুয়ার খুলে দিলো। মামা অনেক পরিশ্রম করে হেডফোন-স্পিকার সেটিং করে দিলো ব্যাস তারপরেই শুরু। ভাইয়া আমাকে খূব ভালবাসে জানি ইহা নতুন কিছু না। কিন্তু ভাইয়ার কন্ঠস্বরে আমাকে উপদেশ, নিষেধ, টিটকারি শুনতে এতো মধুর তা আগে বুঝি নাই। একেবারে ক্রীস্টাল ক্লিয়ার সাউন্ডে ভাইয়াকে দেখতেছি গল্প করতেছি এরচেয়ে ভালো আর কি হতে পারে। ওয়েবক্যাম নষ্ট সামনের মাসে কিনবো তখন আরো মজা হবে। ভাবী, মাহদীয়া সবাই দেখবে আমাকে। আড্ডা মুখর দিন যাবে ভাবতেই শান্তি। এই শান্তির সাথে ফোনে ৩০-৪০ মিনিট কথা বললেও তুলনা চলে না। ধন্যবাদ স্কাইপি। যুগে যুগে বেচে থাকো।

তবে এই আনন্দ মুখরিত দিনের ভেতরেই অনেক শুন্যতা ভিড় করে। ইস যে কাজ গুলা জীবনে করতে চাইছিলাম তা যদি সফলভাবে করতে পারতাম। এখন ফুল্টাইম মনের মতো একটা চাকরী পেতাম। বাবা মা কে ইদে কিছু নিজের টাকায় কেনা উপহার দিতে পারতাম। এইসব নানা অপ্রাপ্তি জীবনকে বিষিয়ে তুলে। মনে হয় এই জীবনের মুল্য কি যদি যারা তাদের সব কিছু দিয়ে আমাকে বড় করে তুললো তাদের কিছুই দিতে পারলাম না। সামান্য একটু বকা দেয় তাও সহ্য করতে পারি না। নিজেকে নিয়েই নিজে বিরক্ত। কবে একটা কিছু করবো কবে নিজে খুশি হবো অন্যকে খুশী করবো তা ভেবে কুল পাই না।

এইভাবেই নায়ক ফারুকের মতোই সুবীর নন্দীর গানের মতো বলি দিন যায় কথা থাকে!

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মেসবাহ য়াযাদ's picture


লেখাটা ছাড়িস না শান্ত। তুই কি জানিস, দিন দিন তোর লেখার হাত খুব ভালো হচ্ছে... অনেকে ব্লগে লেখাকে তেমন গুরুত্ব দেয় না... বাট অনেস্টলি, আই ইনজয় দিস লাইফ... ব্লগ আছে বলেই ২/৪ লাইন ছাই পাশ লিখি আজো... লেখা চলুক... ভালো থাক

রাসেল আশরাফ's picture


সুস্বাদু লেখা।

লাবণী's picture


গ্রামীনের নেট দিয়ে স্কাইপি চালানো!! এই শিক্ষা আমারো হয়েছে! Angry
=================
ইস! সবাই কি সুন্দর গুছিয়ে মনে কথাগুলো অনায়াসে লিখে ফেলে! কোক

জ্যোতি's picture


তোমার লেখা পড়তে সবসময়ই ভালো লাগে।
আমি জিপি দিয় স্কাইপি চালাই।:( তোমার ওল্লোর কাহিনীটা এফবি মেসেজে একটু ডিটেইল জানাও তো!

রন's picture


লেখা অনেক ভাল লেগেছে! শেষের প্যারার ইচ্ছা গুলো খুব দ্রুত পূরণ হউক, এই কামনা করি!

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


বিষাদ চলে যাক, দিনগুলি আনন্দেই কাটুক !
লেখা ভাল হয়েছে।

টুটুল's picture


শান্তরে ভালা পাই Smile

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


টিপ সই

শেষের প্যারার ইচ্ছা গুলো খুব দ্রুত পূরণ হউক, এই কামনা করি!

রন্টি চৌধুরী's picture


আমি টিএন্ডটির লাইন দিয়ে স্কাইপে খুবই ক্লিয়ার কথা বলতাম। ৫২৬ কেবির লাইন। খুব ভালই চলছিল। গত মাসখানিক ধরে পারছি না। কেটে কেটে যায়। আমাদের শহরে মোবাইল কোম্পানী ছাড়া টিএন্ডটিই সম্বল। ৫২৬ থেকে ১ এমবি নিতে হবে মনে হচ্ছে।

১০

বিষাক্ত মানুষ's picture


ওল্লো কেমন ?

১১

আরাফাত শান্ত's picture


খুব ভালো। ইউজার কম তো তাই প্যাকেজ অনুসারে সার্ভিস কিউবির চেয়ে ভাল!

১২

সাবেকা's picture


এত হতাশ হলে কি চল, আজ পারছেন না একদিন নিশ্চয় প্রিয়জনদের জন্য যা যা করতে চাইছেন তার সব না হলেও অনেক কিছুই করতে পারবেন Smile

১৩

তানবীরা's picture


এইভাবেই নায়ক ফারুকের মতোই সুবীর নন্দীর গানের মতো বলি দিন যায় কথা থাকে!

একদিন সব চলে যাবে শুধু কথা র‌য়ে যাবে

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!